ওলিউর রহমান

রমজান কোরআন নাযিলের মাস। রমজানে রাসূল (সা.) অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। বিশিষ্ট সাহাবী উসমানের (রা.) ব্যাপারে উল্লেখ আছে, তিনি রমজানে কখনো কখনো এক রাতেই পুরো কোরআন তেলাওয়াত করতেন৷ অপর সাহাবী ইবনে উমর (রা.) রমজানে প্রতি তিন দিনে একবার কোরআন খতম করতেন। বিশিষ্ট ধর্মতাত্ত্বিক ইমাম শাফেয়ীর (রহ.) ব্যাপারে উল্লেখ আছে, তিনি রমজানে ৬০ বার কোরআন খতম করতেন।
রমজানে বর্তমানেও বিশ্বব্যাপী কোরআনকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজন হয়ে থাকে।
এ বছর মদীনার ঐতিহাসিক কুবা মসজিদে বিশেষ কোরআন শিক্ষা কোর্স পরিচালনা করা হচ্ছে। মদীনার ধর্মমন্ত্রণালয়ের তত্ত্ববধানে পরিচালিত এই কোর্সে রমজানে প্রতি নামাজের পর কোরআন তেলাওয়াত এবং তাফসিরের ওপর বিশেষ ক্লাস হয়।
কুবা ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মসজিদ। এ মসজিদ ছাড়াও মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে নববীতে বছরজুড়েই কোরআন তেলাওয়াত এবং তাফসিরের বিশেষ প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়৷ রমজানে সেগুলো আরও জোরদারভাবে পরিচালিত হয়।
কাতারের রাজধানী দোহার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ফানার ইসলামিক সেন্টারে প্রতিবছরের মতো এ বছর আয়োজন করা হচ্ছে কোরআন তাফসিরের মজলিস। নাইজেরিয়ান মুসলিম কমিউনিটি প্রতি বছর এ আয়োজন করে থাকে।
এ প্রোগ্রামে প্রতিদিন কোরআনের নির্দিষ্ট অংশের তাফসির করেন বৃহত্তর আফ্রিকার সুপরিচিত ধর্মতাত্ত্বিক শায়েখ ইদরিস আহমেদ। প্রবাসী আফ্রিকানরা বিশেষ গুরুত্বের সাথে এ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে৷
রমজান মাস এলেই মরক্কোতে বিশেষ গুরুত্ব পায় ‘দুরুস আল-হুসাইনিয়া’ নামে পরিচিত রাজকীয় রমজান লেকচার। মরক্কোর রাজা নিজে এই মর্যাদাপূর্ণ ধর্মীয় আলোচনা আয়োজন করেন। যেখানে দেশি-বিদেশি আলেম ও গবেষকরা কোরআন ও ইসলামি শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
এ বছরের রমজানেও রাজধানী রাবাতের রয়্যাল প্যালেসে রাজা মোহাম্মদ ষষ্ঠ উদ্বোধনী লেকচারের সভাপতিত্ব করেন। টেলিভিশন ও রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এই অনুষ্ঠান।
এই ঐতিহ্যের সূচনা হয় ষোল শতকে আলাউই রাজবংশের আমলে। তখন রজব থেকে রমজান পর্যন্ত সময়জুড়ে ফিকহ ও শরিয়ত বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হতো। ১৯৬০-এর দশকে বর্তমান এই প্রথা পুনরুজ্জীবিত করেন মরক্কোর প্রয়াত রাজা হাসান দ্বিতীয় ।
পরবর্তীতে এই লেকচার আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলেমরা এতে অংশ নেন এবং কোরআনের শিক্ষা, সমাজের নৈতিক চ্যালেঞ্জ ও সমসাময়িক ইসলামী চিন্তাধারা নিয়ে আলোচনা করেন।
তুরস্কের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের দিয়ারবাকির প্রদেশের সিলভান জেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক সালাহউদ্দিন আইয়ুবি মসজিদে প্রায় নয় শতাব্দী ধরে রমজান মাসে মোকাবেলা প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
সমবেত মুসুল্লিদের একসাথে কোরআন তেলাওয়াত করার বিশেষ ঐতিহ্য দেশটিতে মোকাবেলা নামে পরিচিত।
রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন জোহর ও আসরের নামাজের পর এখানে মুকাবালার আয়োজন করা হয়। মুসল্লিরা মসজিদের ইমাম ও ক্বারিদের তিলাওয়াত অনুসরণ করে কোরআন পাঠ করেন, আর যারা তিলাওয়াত জানেন না তারা মনোযোগ দিয়ে কোরআনের আয়াত শ্রবণ করেন।
ইতিহাসের নানা কালপর্ব পেরিয়েও এই মসজিদে রমজানের তারাবি ও মোকাবালার ঐতিহ্য অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনের নামাজে এখানে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি সমবেত হন, বিশেষ করে জোহর ও আসরের নামাজে উপস্থিতি বেশি দেখা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া রমজানে কোরআন কেন্দ্রিক অভিনব এক প্রোগ্রাম আয়োজন করছে ওয়ার্ল্ড কোরআন আওর নামে। প্রতিদিন ভার্চুয়ালি ১ ঘন্টার কোরআন তেলাওয়াত ও গবেষণা প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। এবং প্রদেশ বা গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে একদিন স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে কোরআনের তাফসিরে অংশগ্রহণ করেন ওয়ার্ল্ড কোরআন আওরের সাবস্ক্রাইবাররা৷
গত ১০ বছর ধরে চলছে এ আয়োজন৷ গত বছর ২০২৫ সালের রমজানে ৭৬টি দেশ থেকে মালয় প্রবাসীরা অংশগ্রহণ করেছিল ভার্চুয়াল এই প্রোগ্রামটিতে। এ বছর মালয় ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতেও সম্প্রচার করা হচ্ছে কোরআন আওর প্রোগ্রাম।
রমজানে বাংলাদেশেও কোরআন কেন্দ্রিক অনেক আয়োজন হয়। সাম্প্রতিক সময়ে রমজানে ইফতারের পূর্ব মুহূর্তের কোরআন প্রতিযোগিতার টিভি অনুষ্ঠানগুলো বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এসব প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণরা পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে থাকে৷
গত দুই বছর ধরে বর্তমান সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্তৃক আয়োজিত কোরআন প্রতিযোগিতাও বেশ প্রশংসা অর্জন করেছে।
এছাড়াও প্রতিবছর রমজানে ইউরোপের ক্ষুদ্র মুসলিম কমিউনিটি থেকে শুরু করে আফ্রিকার বড় বড় মুসলিম দেশগুলোতে ব্যাপক আড়ম্বরপূর্ণ কোরআনিক প্রোগ্রাম হয়। আল্লাহ আমাদের রমজানকে কোরআনের বরকতে ভরপুর করে দিন।

রমজান কোরআন নাযিলের মাস। রমজানে রাসূল (সা.) অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। বিশিষ্ট সাহাবী উসমানের (রা.) ব্যাপারে উল্লেখ আছে, তিনি রমজানে কখনো কখনো এক রাতেই পুরো কোরআন তেলাওয়াত করতেন৷ অপর সাহাবী ইবনে উমর (রা.) রমজানে প্রতি তিন দিনে একবার কোরআন খতম করতেন। বিশিষ্ট ধর্মতাত্ত্বিক ইমাম শাফেয়ীর (রহ.) ব্যাপারে উল্লেখ আছে, তিনি রমজানে ৬০ বার কোরআন খতম করতেন।
রমজানে বর্তমানেও বিশ্বব্যাপী কোরআনকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজন হয়ে থাকে।
এ বছর মদীনার ঐতিহাসিক কুবা মসজিদে বিশেষ কোরআন শিক্ষা কোর্স পরিচালনা করা হচ্ছে। মদীনার ধর্মমন্ত্রণালয়ের তত্ত্ববধানে পরিচালিত এই কোর্সে রমজানে প্রতি নামাজের পর কোরআন তেলাওয়াত এবং তাফসিরের ওপর বিশেষ ক্লাস হয়।
কুবা ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মসজিদ। এ মসজিদ ছাড়াও মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে নববীতে বছরজুড়েই কোরআন তেলাওয়াত এবং তাফসিরের বিশেষ প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়৷ রমজানে সেগুলো আরও জোরদারভাবে পরিচালিত হয়।
কাতারের রাজধানী দোহার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ফানার ইসলামিক সেন্টারে প্রতিবছরের মতো এ বছর আয়োজন করা হচ্ছে কোরআন তাফসিরের মজলিস। নাইজেরিয়ান মুসলিম কমিউনিটি প্রতি বছর এ আয়োজন করে থাকে।
এ প্রোগ্রামে প্রতিদিন কোরআনের নির্দিষ্ট অংশের তাফসির করেন বৃহত্তর আফ্রিকার সুপরিচিত ধর্মতাত্ত্বিক শায়েখ ইদরিস আহমেদ। প্রবাসী আফ্রিকানরা বিশেষ গুরুত্বের সাথে এ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে৷
রমজান মাস এলেই মরক্কোতে বিশেষ গুরুত্ব পায় ‘দুরুস আল-হুসাইনিয়া’ নামে পরিচিত রাজকীয় রমজান লেকচার। মরক্কোর রাজা নিজে এই মর্যাদাপূর্ণ ধর্মীয় আলোচনা আয়োজন করেন। যেখানে দেশি-বিদেশি আলেম ও গবেষকরা কোরআন ও ইসলামি শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
এ বছরের রমজানেও রাজধানী রাবাতের রয়্যাল প্যালেসে রাজা মোহাম্মদ ষষ্ঠ উদ্বোধনী লেকচারের সভাপতিত্ব করেন। টেলিভিশন ও রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এই অনুষ্ঠান।
এই ঐতিহ্যের সূচনা হয় ষোল শতকে আলাউই রাজবংশের আমলে। তখন রজব থেকে রমজান পর্যন্ত সময়জুড়ে ফিকহ ও শরিয়ত বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হতো। ১৯৬০-এর দশকে বর্তমান এই প্রথা পুনরুজ্জীবিত করেন মরক্কোর প্রয়াত রাজা হাসান দ্বিতীয় ।
পরবর্তীতে এই লেকচার আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলেমরা এতে অংশ নেন এবং কোরআনের শিক্ষা, সমাজের নৈতিক চ্যালেঞ্জ ও সমসাময়িক ইসলামী চিন্তাধারা নিয়ে আলোচনা করেন।
তুরস্কের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের দিয়ারবাকির প্রদেশের সিলভান জেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক সালাহউদ্দিন আইয়ুবি মসজিদে প্রায় নয় শতাব্দী ধরে রমজান মাসে মোকাবেলা প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
সমবেত মুসুল্লিদের একসাথে কোরআন তেলাওয়াত করার বিশেষ ঐতিহ্য দেশটিতে মোকাবেলা নামে পরিচিত।
রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন জোহর ও আসরের নামাজের পর এখানে মুকাবালার আয়োজন করা হয়। মুসল্লিরা মসজিদের ইমাম ও ক্বারিদের তিলাওয়াত অনুসরণ করে কোরআন পাঠ করেন, আর যারা তিলাওয়াত জানেন না তারা মনোযোগ দিয়ে কোরআনের আয়াত শ্রবণ করেন।
ইতিহাসের নানা কালপর্ব পেরিয়েও এই মসজিদে রমজানের তারাবি ও মোকাবালার ঐতিহ্য অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনের নামাজে এখানে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি সমবেত হন, বিশেষ করে জোহর ও আসরের নামাজে উপস্থিতি বেশি দেখা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া রমজানে কোরআন কেন্দ্রিক অভিনব এক প্রোগ্রাম আয়োজন করছে ওয়ার্ল্ড কোরআন আওর নামে। প্রতিদিন ভার্চুয়ালি ১ ঘন্টার কোরআন তেলাওয়াত ও গবেষণা প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। এবং প্রদেশ বা গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে একদিন স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে কোরআনের তাফসিরে অংশগ্রহণ করেন ওয়ার্ল্ড কোরআন আওরের সাবস্ক্রাইবাররা৷
গত ১০ বছর ধরে চলছে এ আয়োজন৷ গত বছর ২০২৫ সালের রমজানে ৭৬টি দেশ থেকে মালয় প্রবাসীরা অংশগ্রহণ করেছিল ভার্চুয়াল এই প্রোগ্রামটিতে। এ বছর মালয় ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতেও সম্প্রচার করা হচ্ছে কোরআন আওর প্রোগ্রাম।
রমজানে বাংলাদেশেও কোরআন কেন্দ্রিক অনেক আয়োজন হয়। সাম্প্রতিক সময়ে রমজানে ইফতারের পূর্ব মুহূর্তের কোরআন প্রতিযোগিতার টিভি অনুষ্ঠানগুলো বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এসব প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণরা পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে থাকে৷
গত দুই বছর ধরে বর্তমান সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্তৃক আয়োজিত কোরআন প্রতিযোগিতাও বেশ প্রশংসা অর্জন করেছে।
এছাড়াও প্রতিবছর রমজানে ইউরোপের ক্ষুদ্র মুসলিম কমিউনিটি থেকে শুরু করে আফ্রিকার বড় বড় মুসলিম দেশগুলোতে ব্যাপক আড়ম্বরপূর্ণ কোরআনিক প্রোগ্রাম হয়। আল্লাহ আমাদের রমজানকে কোরআনের বরকতে ভরপুর করে দিন।

ইসলাম আবির্ভাবের আগের যুগে আরব সমাজে নারীর অবস্থা অত্যন্ত সীমিত ও বৈষম্যমূলক ছিল। পরিবারে মেয়ের জন্মকে অপমানজনক মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবিত পুতে ফেলা হতো। পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর কোনো ভূমিকা ছিল না। সম্পত্তিতে তাদের কোনো অধিকার ছিল না। নারীকে প্রায়শই কেবল যৌন সম্ভোগের সঙ্গী হিসেবে দে
১ দিন আগে
আজ ১৭ রমজান। বদর দিবস। ইসলামের ইতিহাসের প্রথম এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বদর যুদ্ধ। দ্বিতীয় হিজরির রমজান মাসে এ যুদ্ধ হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) ৩১৩ সাহাবীর অতি সাধারণ এক বাহিনী নিয়ে বদর প্রান্তরে মক্কা থেকে আগত এক হাজার অস্ত্রসজ্জিত সেনাদলের মুখোমুখি হন।
২ দিন আগে
জাকাত ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান। ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি রোকনের (আমলের) একটি। কোরআনে অনেক জায়গায় আল্লাহ তাআলা জাকাত প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে রাসুল সা. যারা জাকাত প্রদান করে না, তাদেরকে ভয়াবহ শাস্তির সতর্কবার্তা জানিয়েছেন।
৪ দিন আগে
রমজানের ১৫ তারিখ রাত। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ। চাঁদের মৃদু আলোতে বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত মহল্লার কচিকাঁচার দল হল্লা করতে করতে ছুটছে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে। দরজায় কড়া নেড়ে সবাইকে জানাচ্ছে রমজানের মধ্যভাগের শুভেচ্ছা।
৫ দিন আগে