leadT1ad

ডিএনসিসির নির্দেশিকা

বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি ২ বছরের আগে নয়, দিতে হবে ছাদ ও গেটের চাবি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

নির্দেশিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানে কথা বলেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। ছবি: সংগৃহীত

ভাড়াটিয়াকে ছাদের ও মূল গেটের চাবি শর্তসাপেক্ষে দিতে হবে। আর দুই বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে না ভাড়া। ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিশ্চিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রকাশিত নির্দেশিকায় এমনটাই বলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এই নির্দেশিকা প্রকাশ করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

সংবাদ সম্মেলনে এজাজ বলেন, ‘ঢাকা প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের আবাসস্থল। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে আমরা যদি হিসাব করি, তবে দেখা যায় ২০ থেকে ২৫ লাখের বেশি বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের আয়ের ৫০ শতাংশ থেকে ৬৫ শতাংশই বাড়ি ভাড়ায় খরচ হয়ে যায়। এর একটি বড় কারণ হলো ১৯৯১ সালের বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়া এবং আইনের অস্পষ্টতা।’

আইনটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে সাধারণত লোকাল গভর্নমেন্ট বা স্থানীয় সরকার থাকার কথা উল্লেখ করে এজাজ বলেন, ‘কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীর ও নিস্ক্রিয়। ফলে ভাড়াটিয়াদের ভোগান্তি বেড়েছে এবং বাড়িওয়ালাদের অধিকার নিয়েও কিছু ক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকে যায়। এসব বিষয় মাথায় রেখে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন একটি নির্দেশিকা তৈরি করেছে। আমরা ভাড়াটিয়া, বাড়িওয়ালা, ছাত্র এবং বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে এই নির্দেশিকাটি তৈরি করেছি। আশা করছি এর মাধ্যমে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা হবে।’

ভাড়াটিয়া অধিকার নিশ্চিতে বাড়া ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ নিয়ন্ত্রকের পক্ষে ডিএনসিসি প্রদত্ত নির্দেশিকায় বলা হয়—

১। বাড়ির মালিক অবশ্যই তার বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করে রাখবেন।

২। বাড়িতে ইউটিলিটি সার্ভিসেস (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি) এর নিরবচ্ছিন্ন কানেকশন, দৈনিক গৃহস্থালি বর্জ্য কালেকশনসহ অন্যান্য সকল সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করতে হবে। এর কোন ব্যত্যয় বা কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে ভাড়াটিয়া সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালাকে অবগত করবেন এবং বাড়িওয়ালা অতিসত্বর সেই সমস্যার সমাধান করবেন।

৩। বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া ( বাড়িওয়ালার প্রাক অনুমোদন সাপেক্ষে) বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং বাড়ির সামনের উন্মুক্ত স্থানে সবুজায়ন (ফুল/ফল/সবজি) করবেন।

৪। সাম্প্রতিককালে ভবনে অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প ইত্যাদি নানা ধরনের মনুষ্য সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে, যার ফলে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানিসহ সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্থায়, নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িওয়ালা তার প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে ছাদের ও মূল গেইটের চাবি শর্তসাপেক্ষে প্রদান করবেন।

৫। ভাড়াটিয়া মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাড়িওয়ালাকে ভাড়া প্রদান করবেন। বাড়িওয়ালাদের অবশ্যই প্রমাণ কপি হিসেবে ভাড়াটিয়াকে প্রতিমাসে মাসিক ভাড়ার লিখিত রশিদ প্রদান করতে হবে এবং প্রতি মাসের ভাড়া দেওয়ার সময় ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ভাড়া প্রাপ্তির স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রশিদ সংগ্রহ করবেন।

৬। বাড়িতে ভাড়াটিয়ার যেকোনো সময়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে। বাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বাড়িওয়ালা কোন পদক্ষেপ নিলে অবশ্যই ভাড়াটিয়াকে অবগত করবেন এবং বাস্তবায়নের পূর্বে মতামত গ্রহণ করবেন। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে যুক্তি/ন্যায় সঙ্গত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৭। মানসম্মত ভাড়া কার্যকরী হবার তারিখ হতে দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ভাড়া বৃদ্ধির সময় হবে জুন-জুলাই।

৮। দুই বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই বাড়ির ভাড়া বাড়ানো যাবে না। দুই বছর পর মানসম্মত/ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সাপেক্ষে ভাড়ার পরিবর্তন করা যাবে।

৯। নির্দিষ্ট সময় ভাড়াটিয়া ভাড়া প্রদান করতে ব্যর্থ হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে মৌখিক ভাবে সতর্ক করবেন এবং নিয়মিত ভাড়া প্রদানের জন্য তাগাদা দিবেন। তাতে ও কাজ না হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে সমস্ত বকেয়া প্রদান করে ২ মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার জন্য লিখিত সতর্কতা মূলক নোটিশ প্রদান করবেন এবং ভাড়াটিয়ার সাথে পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে উচ্ছেদ করতে পারবেন।

১০। আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে, বাড়ি ভাড়ার চুক্তি বাতিল করতে হলে দুই মাসের নোটিশ দিয়ে উভয় পক্ষ ভাড়া চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।

১১। মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করা ও ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ি ভাড়ার বাজার মূল্যের শতকরা ১৫ ভাগের বেশি হবে না।

১২। বাড়িওয়ালার সঙ্গে লিখিত চুক্তিতে কী কী শর্তে ভাড়া দেয়া হলো এবং করণীয় কী, সে সব নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। চুক্তিপত্রে ভাড়া বাড়ানো, অগ্রিম জমা ও কখন বাড়ি ছাড়বেন তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

১৩। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় ১-৩ মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেয়া যাবে না।

১৪। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতি গঠন করতে হবে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাড়ার বিবাদের সালিশে থাকবেন।

১৫। যেকোনো সমস্যা ওয়ার্ড/ জোন ভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতির আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। যদি সমাধান না হয়, পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জানাতে হবে।

১৬। ভাড়াটিয়ার অধিকার নিশ্চিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ নিয়ন্ত্রকের পক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রদত্ত নির্দেশিকা ভাড়াটিয়া এবং বাড়িওয়ালাদের মেনে চলার জন্য সচেতন করা, এ ব্যাপারে কোনো জটিলতার সৃষ্টি হলে সিটি কর্পোরেশন এর জোনভিত্তিক মত বিনিময় ও আলোচনা সভা করা।

সংবাদ সম্মেলনে কত স্কয়ার ফিট বাসার জন্য কত ভাড়া নির্ধারণ করা হবে; আর ভাড়া নির্ধারণের মাপকাটি কী হবে সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে এজাজ বলেন, ‘প্রতিটি বাড়ির লোকেশন, ফিটিংস এবং সুযোগ-সুবিধার ওপর ভিত্তি করে ভ্যালুয়েশন আলাদা হয়। তবে ১৯৯১ সালের আইন অনুযায়ী বাড়ির সম্পত্তির মূল্যের বার্ষিক ১৫ শতাংশের বেশি ভাড়া নেওয়া যাবে না। এটিই আমাদের ভিত্তি।’

ঢাকার অনেক এলাকায় রাত ১১টার পর গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে জরুরি প্রয়োজনে মানুষের সমস্যা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এজাজ বলেন, ‘আমাদের নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা আছে, ভাড়াটিয়ার যেকোনো সময় প্রবেশের অধিকার আছে। বাড়িওয়ালারা চাইলে চাবি দিয়ে রাখতে পারেন বা দারোয়ান রাখতে পারেন, কিন্তু একতরফাভাবে গেট বন্ধ রাখা যাবে না।’

ইউটিলিটি বিল নিয়ে অনেক সময় বাড়িওয়ালারা বাড়তি টাকা নেন। এটি নিয়ন্ত্রণের উপায় কী প্রশ্ন করলে এজাজ বলেন, ‘ইউটিলিটি বিল হবে প্রকৃত খরচের ভিত্তিতে। কোনো বাড়িওয়ালা এখান থেকে লাভ করতে পারবেন না। এই বিষয়টিও আমাদের নির্দেশিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত