আতাউর রহমান রাইহান

রাজধানীতে মশার উপদ্রব চরমে পৌঁছালেও হেলদোল নেই দুই সিটি করপোরেশনের। ফলে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন নগরবাসী। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু সংক্রমণের পিক সময় ধরা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবহাওয়ার পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি ও তীব্র গরমের কারণে বেড়েছে সংক্রমণের সময়। কখনো তা মে-জুনে শুরু হয়ে চলছে নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত।
মশক নিধনে ফগিংয়ে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ না নিলে সামনের দিনগুলোতে ডেঙ্গুসহ ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। যদিও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন প্রশাসকরা দায়িত্ব নেওয়ার পর মশা কমেছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে, রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪ জন। এ সময়ে কারও মৃত্যু হয়নি। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৪৮; মারা গেছেন চারজন।
ঝাঁকে ঝাঁকে মশা, নেই পদক্ষেপ
বনশ্রীর এফ ব্লকের বাসিন্দা সুরাইয়া সুলতানা বলছিলেন, মশার যন্ত্রণায় সন্ধ্যার পর শিশুদের পড়ায় বসাতে পারছি না। উড়িয়ে নেবে মনে হয়। নড়াইখাল বদ্ধ জলাশয়। মশা বাড়লেও সরকারের কার্যক্রম নেই। ফগার দেখা যাচ্ছে কালেভদ্রে।
মিরপুরের বাসিন্দা তৌফিক হাসান বলেন, রাস্তায় দুই মিনিটি দাঁড়াতে পারি না। ঝাঁকে ঝাঁকে মশা এসে ঘিরে ধরে। মশকনিধনে কোনো কাজ করছে না সিটি করপোরেশন। আগে সপ্তাহে একবার মশার ওষুধ ছিটালেও, এখন মাসে একবারও হচ্ছে না।
তবে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ফগিং মেশিনে মশা মারা হচ্ছে। আবর্জনা, ডোবা, নালা পরিষ্কার হলে মশা আরও কমবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘টিমের তদারকিতে মশা অনেক কমেছে। এখন মনোযোগ কার্যকর ফগিংয়ে।’ উত্তর সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহমুদা আলী বলেন, ‘হটস্পট নির্দিষ্ট করে আমরা কাজ করছি। প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। মশা নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।’
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপি নেতা আবদুস সালাম এবং শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত মশার উপদ্রব বেড়েছিল। এখন অনেক কমে গেছে। তারপরও ডাস্টবিন, সুয়ারেজ লাইন, খালগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, মশকনিধন আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের অধীন। নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।
ঘাটতি বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ
কর্মকর্তারা মশা কমার কথা বললেও বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও খ্যাতনামা কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়েছে, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মশার ঘনত্ব ৪০ শতাংশ বেড়েছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশ কিউলেক্স প্রজাতির।
গবেষণায় বলা হয়, এক ঘণ্টায় পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই তা উদ্বেগজনক। সেখানে ঢাকায় ৮৫০টি মশা কামড়াতে আসে। রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, শনিরআখড়া, শ্যামপুর, রায়েরবাজার, উত্তরা এবং সাভার এলাকায় লার্ভা ও পূর্ণবয়স্ক মশার ঘনত্ব বেশি। শাহবাগ ও পরীবাগে তুলনামূলক কম।
অধ্যাপক কবিরুল বাশার স্ট্রিমকে বলেছেন, ঢাকা শহরে আমরা ম্যালেরিয়ার বাহক মশা পাইনি। তবে ভবিষ্যতে ঢাকায় এটি হবে না, তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ বিষয়ে আরও গবেষণা দরকার।
শুধু ফগিংয়ে কাজ হবে না। বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে সমন্বিত মশক ব্যবস্থাপনার প্রয়োগের ঘাটতি দূর করা না গেলে বিপদ অপেক্ষা করছে জানিয়ে অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ম্যালেরিয়ার মশা এক রকম, তার প্রজনন ও নিয়ন্ত্রণ এক রকম। এডিসের ক্ষেত্রে ভিন্ন, কিউলেক্সের ক্ষেত্রে ভিন্ন। প্রতিটি মশার স্বভাব-আচরণের ওপর গবেষণা করে তার বিজ্ঞানভিত্তিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সারা বছর প্রয়োগ করতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান ও রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেছেন, মশা নিয়ন্ত্রণ পুরো নগর পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। আমাদের যেভাবে নগরায়ন হয়েছে, তা মূলত কংক্রিটনির্ভর। অতিরিক্ত কংক্রিটের বিপরীতে সবুজ ও জলাশয় হারিয়ে যাওয়ায় তাপমাত্রা বেড়েছে। সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে মশাও।
ওষুধের কার্যকারিতা শতভাগ, মিলছে না ফল
স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, পরীক্ষাগারে ওষুধের কার্যকারিতা ঠিক থাকলেও মাঠে প্রয়োগের পর কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। সকালে ডোবা, নালা-নর্দমা ও জমে থাকা পানিতে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। বিকেলে ফগিংয়ে দেখা যাচ্ছে, গায়ে ধোঁয়া না লাগলে মশা মরছে না।
তবে ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান বলেন, আমরা সকালে লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইড এবং বিকেলে বড় মশা নিধনে অ্যাডাল্টিসাইড দিই। এই ওষুধের নমুনা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং খামারবাড়িতে পরীক্ষা করে শতভাগ কার্যকারিতা পেয়েছি।
ডিএনসিসির উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমদাদুল হক বলেন, দরপত্রের মাধ্যমে ওষুধ কেনার সময় আমরা ফিল্ড, কেমিক্যাল ও বায়ো-এফিক্যাসি টেস্ট করি। নতুন প্রশাসকের অধীনে এই তিন টেস্টেই কার্যকর ফল মিলেছে।
এ ব্যাপারে ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ওষুধ পরীক্ষা করিয়েছি। বর্তমানে ম্যালাথিয়ন ব্যবহার হচ্ছে। এর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও উন্নত মানের ওষুধ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভাবনা এখন ডেঙ্গু নিয়ে
ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে রোগটি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও মন্ত্রণালয় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় বছরব্যাপী পরিকল্পনা হয়। মশার ঘনত্ব নির্ণয়ে আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে সপ্তাহব্যাপী জরিপ শুরু হবে। জরিপের ফল অনুযায়ী মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
ডিএনসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা উত্তরে কোনো ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়নি। এরপরও এখন ডেঙ্গু নিয়ে বেশি কাজ করা হচ্ছে।

রাজধানীতে মশার উপদ্রব চরমে পৌঁছালেও হেলদোল নেই দুই সিটি করপোরেশনের। ফলে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন নগরবাসী। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু সংক্রমণের পিক সময় ধরা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবহাওয়ার পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি ও তীব্র গরমের কারণে বেড়েছে সংক্রমণের সময়। কখনো তা মে-জুনে শুরু হয়ে চলছে নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত।
মশক নিধনে ফগিংয়ে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ না নিলে সামনের দিনগুলোতে ডেঙ্গুসহ ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। যদিও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন প্রশাসকরা দায়িত্ব নেওয়ার পর মশা কমেছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে, রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪ জন। এ সময়ে কারও মৃত্যু হয়নি। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৪৮; মারা গেছেন চারজন।
ঝাঁকে ঝাঁকে মশা, নেই পদক্ষেপ
বনশ্রীর এফ ব্লকের বাসিন্দা সুরাইয়া সুলতানা বলছিলেন, মশার যন্ত্রণায় সন্ধ্যার পর শিশুদের পড়ায় বসাতে পারছি না। উড়িয়ে নেবে মনে হয়। নড়াইখাল বদ্ধ জলাশয়। মশা বাড়লেও সরকারের কার্যক্রম নেই। ফগার দেখা যাচ্ছে কালেভদ্রে।
মিরপুরের বাসিন্দা তৌফিক হাসান বলেন, রাস্তায় দুই মিনিটি দাঁড়াতে পারি না। ঝাঁকে ঝাঁকে মশা এসে ঘিরে ধরে। মশকনিধনে কোনো কাজ করছে না সিটি করপোরেশন। আগে সপ্তাহে একবার মশার ওষুধ ছিটালেও, এখন মাসে একবারও হচ্ছে না।
তবে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ফগিং মেশিনে মশা মারা হচ্ছে। আবর্জনা, ডোবা, নালা পরিষ্কার হলে মশা আরও কমবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘টিমের তদারকিতে মশা অনেক কমেছে। এখন মনোযোগ কার্যকর ফগিংয়ে।’ উত্তর সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহমুদা আলী বলেন, ‘হটস্পট নির্দিষ্ট করে আমরা কাজ করছি। প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। মশা নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।’
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপি নেতা আবদুস সালাম এবং শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত মশার উপদ্রব বেড়েছিল। এখন অনেক কমে গেছে। তারপরও ডাস্টবিন, সুয়ারেজ লাইন, খালগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, মশকনিধন আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের অধীন। নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।
ঘাটতি বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ
কর্মকর্তারা মশা কমার কথা বললেও বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও খ্যাতনামা কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়েছে, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মশার ঘনত্ব ৪০ শতাংশ বেড়েছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশ কিউলেক্স প্রজাতির।
গবেষণায় বলা হয়, এক ঘণ্টায় পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই তা উদ্বেগজনক। সেখানে ঢাকায় ৮৫০টি মশা কামড়াতে আসে। রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, শনিরআখড়া, শ্যামপুর, রায়েরবাজার, উত্তরা এবং সাভার এলাকায় লার্ভা ও পূর্ণবয়স্ক মশার ঘনত্ব বেশি। শাহবাগ ও পরীবাগে তুলনামূলক কম।
অধ্যাপক কবিরুল বাশার স্ট্রিমকে বলেছেন, ঢাকা শহরে আমরা ম্যালেরিয়ার বাহক মশা পাইনি। তবে ভবিষ্যতে ঢাকায় এটি হবে না, তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ বিষয়ে আরও গবেষণা দরকার।
শুধু ফগিংয়ে কাজ হবে না। বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে সমন্বিত মশক ব্যবস্থাপনার প্রয়োগের ঘাটতি দূর করা না গেলে বিপদ অপেক্ষা করছে জানিয়ে অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ম্যালেরিয়ার মশা এক রকম, তার প্রজনন ও নিয়ন্ত্রণ এক রকম। এডিসের ক্ষেত্রে ভিন্ন, কিউলেক্সের ক্ষেত্রে ভিন্ন। প্রতিটি মশার স্বভাব-আচরণের ওপর গবেষণা করে তার বিজ্ঞানভিত্তিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সারা বছর প্রয়োগ করতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান ও রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেছেন, মশা নিয়ন্ত্রণ পুরো নগর পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। আমাদের যেভাবে নগরায়ন হয়েছে, তা মূলত কংক্রিটনির্ভর। অতিরিক্ত কংক্রিটের বিপরীতে সবুজ ও জলাশয় হারিয়ে যাওয়ায় তাপমাত্রা বেড়েছে। সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে মশাও।
ওষুধের কার্যকারিতা শতভাগ, মিলছে না ফল
স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, পরীক্ষাগারে ওষুধের কার্যকারিতা ঠিক থাকলেও মাঠে প্রয়োগের পর কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। সকালে ডোবা, নালা-নর্দমা ও জমে থাকা পানিতে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। বিকেলে ফগিংয়ে দেখা যাচ্ছে, গায়ে ধোঁয়া না লাগলে মশা মরছে না।
তবে ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান বলেন, আমরা সকালে লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইড এবং বিকেলে বড় মশা নিধনে অ্যাডাল্টিসাইড দিই। এই ওষুধের নমুনা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং খামারবাড়িতে পরীক্ষা করে শতভাগ কার্যকারিতা পেয়েছি।
ডিএনসিসির উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমদাদুল হক বলেন, দরপত্রের মাধ্যমে ওষুধ কেনার সময় আমরা ফিল্ড, কেমিক্যাল ও বায়ো-এফিক্যাসি টেস্ট করি। নতুন প্রশাসকের অধীনে এই তিন টেস্টেই কার্যকর ফল মিলেছে।
এ ব্যাপারে ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ওষুধ পরীক্ষা করিয়েছি। বর্তমানে ম্যালাথিয়ন ব্যবহার হচ্ছে। এর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও উন্নত মানের ওষুধ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভাবনা এখন ডেঙ্গু নিয়ে
ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে রোগটি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও মন্ত্রণালয় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় বছরব্যাপী পরিকল্পনা হয়। মশার ঘনত্ব নির্ণয়ে আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে সপ্তাহব্যাপী জরিপ শুরু হবে। জরিপের ফল অনুযায়ী মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
ডিএনসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা উত্তরে কোনো ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়নি। এরপরও এখন ডেঙ্গু নিয়ে বেশি কাজ করা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ঘোষিত সাতজন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
এ ঘটনায় শুরুতে ১৬ জনের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। পুড়ে মারা যাওয়া জয় মিয়ার লাশ পাওয়া গেলেও কিন্তু মারজিয়া নিঁখোজ ছিলেন। জীবিত বা মৃত কোনোভাবেই পাওয়া যায়নি তাঁর হদিশ। কোনো উপায় না পেয়ে ঘটনার ১২ দিন পর অগ্নিদগ্ধ ভবনে নিজেই অভিযান চালান সুলতান নিজেই।
১ ঘণ্টা আগে
বিশেষ দিবসগুলোতে খানকা শরিফে মিলাদ-মাহফিলের পর ভান্ডারী গান করেন পীর আজিজুর রহমান। আগে এসব অনুষ্ঠানে কেউ বাধা না দিলেও এখন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন তিনি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁর খানকা শরিফটি ভেঙে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তিনি মামলা করেননি। সেই ঘটনার ছয় মাস পরও সেখানে অনুষ্ঠান করতে পারছেন না তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর বনানীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আহমদ হোসেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে এই হামলার শিকার হন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে