জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই পুরস্কার নিতে চান কবি মোহন রায়হান

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬: ৫৬
জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কবি মোহন রায়হান। স্ট্রিম ছবি

নানা নাটকীয়তার পর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন কবি মোহন রায়হান। তবে মর্যাদাপূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই পুরস্কারটি নিতে চান বলে জানিয়েছেন।

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। মোহন রায়হান বলেন, ‘আমি জানি—এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকবে। তবুও আমি বিশ্বাস করি, বিভাজনের চেয়ে ঐক্য, প্রতিহিংসার চেয়ে প্রজ্ঞা এবং অপমানের চেয়ে মর্যাদা বেছে নেওয়াই আমাদের কর্তব্য।’

পাশাপাশি তিনি জানান, পুরস্কারের আর্থিক মূল্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না; বরং তা কোনো সামর্থ্যহীন কবি, লেখক বা সাংস্কৃতিক কর্মীর কল্যাণে দেবেন।

এর আগে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের মধ্যে কবি মোহন রায়হানের নাম ঘোষণা করা হয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ওই পুরস্কার প্রদান এবং অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হাজিরও হন তিনি। তবে পুরস্কার বিতরণের সময় অনুষ্ঠান মঞ্চে তার নাম ঘোষণা করা হয়নি।

সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরে জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে আগামী ২ মার্চ তাকে পুরস্কার দেওয়া হবে।

অনাকাঙ্ক্ষিত ওই পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরে এই কবি বলেন, তিনি কখনও পুরস্কারের জন্য তদবির করেননি। বাংলা একাডেমি স্বপ্রণোদিত হয়ে তাকে মনোনীত করেছিল। কিন্তু নাম ঘোষণার পর একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ২২ লেখক-সাংবাদিকের নামে একটি ভুয়া বিবৃতিও প্রচার করা হয়।

সব আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির পরও শেষমুহূর্তে ৪১ বছর আগের একটি কবিতাকে অজুহাত করে পুরস্কার স্থগিত করাকে ‘মুক্তচিন্তার প্রতি অবমাননা’ বলে আখ্যা দেন তিনি। তবে ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে অপশক্তির কাছে নতি স্বীকার না করে পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কবি মোহন রায়হান।

রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হওয়া আলোচনার কথা স্মরণ করে মোহন রায়হান বলেন, ‘আমাদের চাওয়া ছিল একটাই—কলমের ও কথা বলার স্বাধীনতা। তিনি বলেছিলেন—‘ভালো কাজে উৎসাহ দেবেন, ভুল করলে সমালোচনা করবেন।’ আমি সেই প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা রেখেই পুরস্কার নিচ্ছি।’

ভবিষ্যতে যেন এমন স্থগিত বা বিতর্কের সৃষ্টি না হয়, সেজন্য পুরস্কারের নীতিমালা সংস্কার করে স্বচ্ছ ও দলনিরপেক্ষ করার দাবি জানান মোহন রায়হান। এ ছাড়া প্রয়োজনে দিন পরিবর্তন করে হলেও যেন নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কারটি নিতে পারেন সেই ব্যবস্থার অনুরোধ জানান এই কবি।

সম্পর্কিত