একেএম শামসুদ্দিন

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আলোচনামঞ্চে একটি বিষয় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চৈতলী চক্রবর্তী নামের এক সনাতনী নারী আইনজীবী, যিনি বিদেশি সহায়তায় বাংলাদেশে একটি পৃথক ‘হিন্দু প্রদেশ’ প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপন করেছেন। তাঁর এই দাবি ঘিরে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে এটিকে বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামো ও জাতীয় ঐক্যের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশের মতো একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও একক রাষ্ট্রের জন্য ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দেশের কোনো অংশকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পৃথক রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জনপরিসরে আলোচিত হলে তা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক, আইনি ও নিরাপত্তাগত প্রশ্নের জন্ম দেয়।
বাংলাদেশের গাইবান্ধায় রামমূর্তি নির্মাণ বন্ধের প্রতিবাদে সম্প্রতি ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সনাতনী সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। বিক্ষোভ চলাকালে চৈতালী চক্রবর্তী সেখানে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘মসজিদ থাকার পরও আপনারা যখন রাস্তায় নামাজ পড়েন, তখন কি আমরা কখনো বলেছি যে এই রাস্তায় নামাজ পড়া যাবে না? এই রাস্তাটা তো আমাদেরও। কিন্তু আমরা মানবিকতা দেখাই। আপনাদের মধ্যে কোনো মানবিকতা নেই। আমার মন্দিরে, আমার বাড়িতে আমি কীভাবে রাম দেবতাকে স্থাপন করব, কত উঁচু করব, এর কৈফিয়ত নিশ্চয়ই আমি দেব না। আপনি কোথাকার ‘হরিদাস পাল’ যে, আপনাকে কৈফিয়ত দিতে হবে?’
এটুকু বলেই তিনি থেমে থাকেননি। রামমূর্তি নির্মাণ বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘লেখাপড়া তো করেন না, মাদ্রাসায় থাকেন, এখনো সময় আছে ভালো হয়ে যান, আর ভালো যদি হতে না পারেন তাহলে পাকিস্তানে চলে যান।’
এরপর তিনি যা বলেছেন, তা ছিল আরও বিস্ময়কর, ‘আপনারা যদি বেশি বাড়াবাড়ি করেন, তাহলে আমরা বাংলাদেশকে বিভক্ত করতে চাই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সাহায্য চেয়ে আমরা বাংলাদেশে একটা প্রদেশ করব শুধু সনাতনীদের জন্য। তবে আমরা সেটা চাই না। কিন্তু আপনারা যা করছেন, তাতে এক সময় এরকমই হবে। সনাতনীদের জন্য আলাদা একটা প্রদেশ হয়ে যাবে।’
চৈতালীর এমন বক্তব্য শুনে অনেকেই স্তম্ভিত। মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে এর আগে এত চড়া ও উঁচু স্বরে দেশভাগের এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার সাহস কেউ দেখিয়েছিলেন কিনা জানা নেই।
চৈতালীর এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের সঙ্গে কিছুদিন আগে ভারতের বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের মিল দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ ব্যায়াম দিবস অনুষ্ঠান আয়োজন উপলক্ষে কলকাতার ‘রেড রোড’ সাতদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অথচ কিছুদিন আগেই গাড়ি চলাচল ও জনগণের অসুবিধার কথা বলে ওই রোডে মুসলিমদের ঈদের নামাজ পড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কলকাতার রেড রোডে ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও যোগ দিবস অনুষ্ঠানের জন্য রাস্তা বন্ধ করা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দিলীপ ঘোষ মুসলিমদের প্রতি ইঙ্গিত করে কড়া ভাষায় বলেছিলেন, ‘ওরা কোন হরিদাস পাল যে তাদের জন্য রাস্তা আটকে রাখবে।’ নামাজ পড়তে হলে মুসলিমদের তিনি বাংলাদেশ-পাকিস্তানে চলে যাওয়ার কথাও বলেন।
দিলীপ ঘোষ ও চৈতালীর বক্তব্যের এমন মিল দেখে অবাক হওয়াটাই স্বাভাবিক। ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অবিরাম বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য ও নেতিবাচক আচরণের সঙ্গে চৈতালীর দম্ভোক্তির কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, এ প্রশ্ন উঠতেই পারে।
বাংলাদেশ কোনো ফেডারেল রাষ্ট্র নয়; এটি একটি একক রাষ্ট্রব্যবস্থার দেশ। ফলে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পৃথক প্রদেশ গঠনের ধারণা বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে রাষ্ট্রের কোনো অংশকে বিশেষ ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা করার দাবি জাতীয় ঐক্যের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
চৈতালীর এমন লাগামহীন বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এখন থেকে প্রায় সাত বছর আগে আরও একজন বাংলাদেশি হিন্দু নারীর দেশবিরোধী বক্তব্যের কথা মনে পড়ে গেল। আমার বিশ্বাস, পাঠকদের অনেকেরই ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’-এর অন্যতম সদস্য প্রিয়া সাহার কথা স্মরণে আছে। ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় প্রিয়া সাহা অভিযোগ করেছিলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার এবং প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান বাংলাদেশ থেকে নিখোঁজ অথবা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেছিলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সাধারণ জনগণের ভেতর এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিলে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এ উপলক্ষে তৎকালীন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’, ‘মনগড়া’ এবং ‘দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। অবশ্য শেখ হাসিনা অনুমতি না দেওয়ায় প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি।
চৈতালী চক্রবর্তী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রিয়া সাহার বক্তব্যের চেয়েও মারাত্মক ও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ‘দেশদ্রোহী’ বলা যায়। আগেই উল্লেখ করেছি, চৈতলীর বক্তব্য নিয়ে সাধারণ মানুষের ভেতর ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এমনকি সনাতনী অনেকে এ ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছেন। অথচ এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট নয়। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, সরকার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাচ্ছে না। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য শুনে তাই মনে হয়েছে। তিনি চৈতালীর বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব টাং’ হতে পারে বলে জানিয়েছেন। চৈতালীর বক্তব্যকে তিনি ‘অতিউৎসাহী বক্তব্য’ বলেও বর্ণনা করেছেন।
মন্ত্রী মহোদয়ের কথা শুনে বোঝা গেল না, তিনি কোন দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝলেন যে চৈতালীর আক্রমণাত্মক বক্তব্যটি স্রেফ ‘স্লিপ অব টাং’ ছিল! আশ্চর্যের সঙ্গে লক্ষ করেছি, মন্ত্রী মহোদয় এভাবে কথা বললেও চৈতালী কিন্তু তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি এবং এখন পর্যন্ত তিনি স্বীকার করেননি যে, তাঁর বক্তব্য ছিল শুধুই ‘স্লিপ অব টাং!’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে নাগরিকদের ভেতর অজানা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে স্বাভাবিক নয়, একজন সাধারণ নাগরিকও তা উপলব্ধি করতে পারছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর যে স্বার্থান্বেষী মহলটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা যে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দিতে চাচ্ছে, তা বোঝার জন্য বোধকরি মাথা ঘামাতে হয় না। শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ যে বলয়ের ভেতর আটকে ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব পন্থায় এগিয়ে যাওয়ার পথকে বাধাগ্রস্ত করতে যা যা করা প্রয়োজন, এখন তাই করা হচ্ছে। এর কিছু আলামত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অতি সম্প্রতি দেশব্যাপী আল-কায়েদা, আইএস, হিজবুত তাহরীরের মতো সংগঠনের পতাকাসদৃশ পতাকা উত্তোলন, বাংলাদেশে হামাস সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে দিল্লিতে বসে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের আপত্তিকর বিবৃতি, বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে হঠাৎ করে ‘পুশইন’ তৎপরতা বৃদ্ধি, গাইবান্ধার মতো জায়গা বেছে নিয়ে অতি সন্তর্পণে হিন্দু দেবতার মূর্তি গড়া, মূর্তি গড়াকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে চৈতালী চক্রবর্তীদের উগ্র আচরণ বলা যায় একই সূত্রে গাঁথা।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এত কিছু যে ঘটে যাচ্ছে, তা মোকাবেলায় সরকারের কী পরিকল্পনা, সেটা স্পষ্ট নয়। এসব নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মুখে যে বক্তব্য শোনা যায়, তা জনগণকে বেশি সন্তুষ্ট করতে পারছে বলে মনে হয় না। বরং এ সমস্ত ঘটনাকে হালকা করে দেখানোর প্রবণতা মানুষকে সন্দিহান করে তুলছে। পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে; তাতে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে কিনা, তা নিয়েও সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে।
মনে রাখা প্রয়োজন, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয় জড়িত, সেখানে আপসকামী মনোভাব নিয়ে কাজ করলে চলবে না। কারণ যারা সর্বনাশ চায়, তারা বসে নেই। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর পরিস্থিতি ম্যানেজ করার মধ্যেও কোনো বাহাদুরি নেই। বরং ঘটনা ঘটার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত জড়ো করে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া জরুরি এবং তা সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই করা বাঞ্চনীয়। কোনো অবস্থাতেই পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে যেতে দেওয়া যাবে না।
বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে মৌলিক ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাষ্ট্রের সকল নাগরিক ধর্ম, বর্ণ, জাতি বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সমান মর্যাদা ও অধিকার ভোগ করবেন; এটিও সংবিধানের অন্যতম মৌলিক নীতি।
বাংলাদেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সহাবস্থান করে আসছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সমঅধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবি একটি বৈধ নাগরিক ও সাংবিধানিক প্রশ্ন। কিন্তু রাষ্ট্রের ভৌগোলিক কাঠামো পরিবর্তন বা পৃথক ভূখণ্ডের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা যেমন প্রয়োজন, তেমনি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মাঝেমধ্যে যে ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় না, তা নয়। কিন্তু ধর্মভিত্তিক ভূখণ্ডের দাবি ইতোপূর্বে কখনো শোনা যায়নি। দেশে এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি যে, কোনো সংখ্যালঘু মানুষের মুখে এমন দাবি উঠতে পারে। পার্শ্ববর্তী দেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি যে নৃশংস আচরণ করা হচ্ছে, তাতে সেখানে পৃথক প্রদেশের দাবি যদি কেউ উচ্চারণ করে, তার যে কী পরিণতি হতে পারে, তা কল্পনাও করা যায় না।
বাংলাদেশে যদি কোনো ব্যক্তি কেবল রাজনৈতিক মত প্রকাশ করেন, তাহলে সেটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় আসতে পারে। কিন্তু যদি তিনি রাষ্ট্র ভাঙার দাবি তুলে বক্তব্য দেন, বিদেশি শক্তির সহায়তার কথা বলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে দুর্বল করার প্রতি ইঙ্গিত করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে গুরুতর অভিযোগ তোলা যায়। যখন কোনো বিদেশি শক্তির সম্পৃক্ততার কথা উত্থাপিত হয়, তখন সেটাকে সরল দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ থাকে না। ভুলে গেলে চলবে না, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে উসকে দিতে বহিরাগত স্বার্থগোষ্ঠী সক্রিয় থাকতেই পারে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এটি অস্বাভাবিক নয় যে, শক্তিধর রাষ্ট্র অপেক্ষাকৃত ছোট দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। এ কারণেই এ ধরনের বিতর্কিত বক্তব্যকে হালকাভাবে না নিয়ে তদন্ত, প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
লেখক: সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও কলাম লেখক

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আলোচনামঞ্চে একটি বিষয় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চৈতলী চক্রবর্তী নামের এক সনাতনী নারী আইনজীবী, যিনি বিদেশি সহায়তায় বাংলাদেশে একটি পৃথক ‘হিন্দু প্রদেশ’ প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপন করেছেন। তাঁর এই দাবি ঘিরে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে এটিকে বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামো ও জাতীয় ঐক্যের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশের মতো একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও একক রাষ্ট্রের জন্য ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দেশের কোনো অংশকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পৃথক রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জনপরিসরে আলোচিত হলে তা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক, আইনি ও নিরাপত্তাগত প্রশ্নের জন্ম দেয়।
বাংলাদেশের গাইবান্ধায় রামমূর্তি নির্মাণ বন্ধের প্রতিবাদে সম্প্রতি ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সনাতনী সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। বিক্ষোভ চলাকালে চৈতালী চক্রবর্তী সেখানে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘মসজিদ থাকার পরও আপনারা যখন রাস্তায় নামাজ পড়েন, তখন কি আমরা কখনো বলেছি যে এই রাস্তায় নামাজ পড়া যাবে না? এই রাস্তাটা তো আমাদেরও। কিন্তু আমরা মানবিকতা দেখাই। আপনাদের মধ্যে কোনো মানবিকতা নেই। আমার মন্দিরে, আমার বাড়িতে আমি কীভাবে রাম দেবতাকে স্থাপন করব, কত উঁচু করব, এর কৈফিয়ত নিশ্চয়ই আমি দেব না। আপনি কোথাকার ‘হরিদাস পাল’ যে, আপনাকে কৈফিয়ত দিতে হবে?’
এটুকু বলেই তিনি থেমে থাকেননি। রামমূর্তি নির্মাণ বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘লেখাপড়া তো করেন না, মাদ্রাসায় থাকেন, এখনো সময় আছে ভালো হয়ে যান, আর ভালো যদি হতে না পারেন তাহলে পাকিস্তানে চলে যান।’
এরপর তিনি যা বলেছেন, তা ছিল আরও বিস্ময়কর, ‘আপনারা যদি বেশি বাড়াবাড়ি করেন, তাহলে আমরা বাংলাদেশকে বিভক্ত করতে চাই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সাহায্য চেয়ে আমরা বাংলাদেশে একটা প্রদেশ করব শুধু সনাতনীদের জন্য। তবে আমরা সেটা চাই না। কিন্তু আপনারা যা করছেন, তাতে এক সময় এরকমই হবে। সনাতনীদের জন্য আলাদা একটা প্রদেশ হয়ে যাবে।’
চৈতালীর এমন বক্তব্য শুনে অনেকেই স্তম্ভিত। মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে এর আগে এত চড়া ও উঁচু স্বরে দেশভাগের এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার সাহস কেউ দেখিয়েছিলেন কিনা জানা নেই।
চৈতালীর এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের সঙ্গে কিছুদিন আগে ভারতের বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের মিল দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ ব্যায়াম দিবস অনুষ্ঠান আয়োজন উপলক্ষে কলকাতার ‘রেড রোড’ সাতদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অথচ কিছুদিন আগেই গাড়ি চলাচল ও জনগণের অসুবিধার কথা বলে ওই রোডে মুসলিমদের ঈদের নামাজ পড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কলকাতার রেড রোডে ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও যোগ দিবস অনুষ্ঠানের জন্য রাস্তা বন্ধ করা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দিলীপ ঘোষ মুসলিমদের প্রতি ইঙ্গিত করে কড়া ভাষায় বলেছিলেন, ‘ওরা কোন হরিদাস পাল যে তাদের জন্য রাস্তা আটকে রাখবে।’ নামাজ পড়তে হলে মুসলিমদের তিনি বাংলাদেশ-পাকিস্তানে চলে যাওয়ার কথাও বলেন।
দিলীপ ঘোষ ও চৈতালীর বক্তব্যের এমন মিল দেখে অবাক হওয়াটাই স্বাভাবিক। ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অবিরাম বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য ও নেতিবাচক আচরণের সঙ্গে চৈতালীর দম্ভোক্তির কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, এ প্রশ্ন উঠতেই পারে।
বাংলাদেশ কোনো ফেডারেল রাষ্ট্র নয়; এটি একটি একক রাষ্ট্রব্যবস্থার দেশ। ফলে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পৃথক প্রদেশ গঠনের ধারণা বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে রাষ্ট্রের কোনো অংশকে বিশেষ ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা করার দাবি জাতীয় ঐক্যের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
চৈতালীর এমন লাগামহীন বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এখন থেকে প্রায় সাত বছর আগে আরও একজন বাংলাদেশি হিন্দু নারীর দেশবিরোধী বক্তব্যের কথা মনে পড়ে গেল। আমার বিশ্বাস, পাঠকদের অনেকেরই ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’-এর অন্যতম সদস্য প্রিয়া সাহার কথা স্মরণে আছে। ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় প্রিয়া সাহা অভিযোগ করেছিলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার এবং প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান বাংলাদেশ থেকে নিখোঁজ অথবা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেছিলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সাধারণ জনগণের ভেতর এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিলে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এ উপলক্ষে তৎকালীন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’, ‘মনগড়া’ এবং ‘দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। অবশ্য শেখ হাসিনা অনুমতি না দেওয়ায় প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি।
চৈতালী চক্রবর্তী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রিয়া সাহার বক্তব্যের চেয়েও মারাত্মক ও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ‘দেশদ্রোহী’ বলা যায়। আগেই উল্লেখ করেছি, চৈতলীর বক্তব্য নিয়ে সাধারণ মানুষের ভেতর ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এমনকি সনাতনী অনেকে এ ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছেন। অথচ এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট নয়। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, সরকার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাচ্ছে না। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য শুনে তাই মনে হয়েছে। তিনি চৈতালীর বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব টাং’ হতে পারে বলে জানিয়েছেন। চৈতালীর বক্তব্যকে তিনি ‘অতিউৎসাহী বক্তব্য’ বলেও বর্ণনা করেছেন।
মন্ত্রী মহোদয়ের কথা শুনে বোঝা গেল না, তিনি কোন দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝলেন যে চৈতালীর আক্রমণাত্মক বক্তব্যটি স্রেফ ‘স্লিপ অব টাং’ ছিল! আশ্চর্যের সঙ্গে লক্ষ করেছি, মন্ত্রী মহোদয় এভাবে কথা বললেও চৈতালী কিন্তু তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি এবং এখন পর্যন্ত তিনি স্বীকার করেননি যে, তাঁর বক্তব্য ছিল শুধুই ‘স্লিপ অব টাং!’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে নাগরিকদের ভেতর অজানা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে স্বাভাবিক নয়, একজন সাধারণ নাগরিকও তা উপলব্ধি করতে পারছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর যে স্বার্থান্বেষী মহলটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা যে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দিতে চাচ্ছে, তা বোঝার জন্য বোধকরি মাথা ঘামাতে হয় না। শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ যে বলয়ের ভেতর আটকে ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব পন্থায় এগিয়ে যাওয়ার পথকে বাধাগ্রস্ত করতে যা যা করা প্রয়োজন, এখন তাই করা হচ্ছে। এর কিছু আলামত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অতি সম্প্রতি দেশব্যাপী আল-কায়েদা, আইএস, হিজবুত তাহরীরের মতো সংগঠনের পতাকাসদৃশ পতাকা উত্তোলন, বাংলাদেশে হামাস সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে দিল্লিতে বসে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের আপত্তিকর বিবৃতি, বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে হঠাৎ করে ‘পুশইন’ তৎপরতা বৃদ্ধি, গাইবান্ধার মতো জায়গা বেছে নিয়ে অতি সন্তর্পণে হিন্দু দেবতার মূর্তি গড়া, মূর্তি গড়াকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে চৈতালী চক্রবর্তীদের উগ্র আচরণ বলা যায় একই সূত্রে গাঁথা।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এত কিছু যে ঘটে যাচ্ছে, তা মোকাবেলায় সরকারের কী পরিকল্পনা, সেটা স্পষ্ট নয়। এসব নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মুখে যে বক্তব্য শোনা যায়, তা জনগণকে বেশি সন্তুষ্ট করতে পারছে বলে মনে হয় না। বরং এ সমস্ত ঘটনাকে হালকা করে দেখানোর প্রবণতা মানুষকে সন্দিহান করে তুলছে। পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে; তাতে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে কিনা, তা নিয়েও সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে।
মনে রাখা প্রয়োজন, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয় জড়িত, সেখানে আপসকামী মনোভাব নিয়ে কাজ করলে চলবে না। কারণ যারা সর্বনাশ চায়, তারা বসে নেই। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর পরিস্থিতি ম্যানেজ করার মধ্যেও কোনো বাহাদুরি নেই। বরং ঘটনা ঘটার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত জড়ো করে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া জরুরি এবং তা সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই করা বাঞ্চনীয়। কোনো অবস্থাতেই পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে যেতে দেওয়া যাবে না।
বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে মৌলিক ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাষ্ট্রের সকল নাগরিক ধর্ম, বর্ণ, জাতি বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সমান মর্যাদা ও অধিকার ভোগ করবেন; এটিও সংবিধানের অন্যতম মৌলিক নীতি।
বাংলাদেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সহাবস্থান করে আসছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সমঅধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবি একটি বৈধ নাগরিক ও সাংবিধানিক প্রশ্ন। কিন্তু রাষ্ট্রের ভৌগোলিক কাঠামো পরিবর্তন বা পৃথক ভূখণ্ডের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা যেমন প্রয়োজন, তেমনি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মাঝেমধ্যে যে ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় না, তা নয়। কিন্তু ধর্মভিত্তিক ভূখণ্ডের দাবি ইতোপূর্বে কখনো শোনা যায়নি। দেশে এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি যে, কোনো সংখ্যালঘু মানুষের মুখে এমন দাবি উঠতে পারে। পার্শ্ববর্তী দেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি যে নৃশংস আচরণ করা হচ্ছে, তাতে সেখানে পৃথক প্রদেশের দাবি যদি কেউ উচ্চারণ করে, তার যে কী পরিণতি হতে পারে, তা কল্পনাও করা যায় না।
বাংলাদেশে যদি কোনো ব্যক্তি কেবল রাজনৈতিক মত প্রকাশ করেন, তাহলে সেটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় আসতে পারে। কিন্তু যদি তিনি রাষ্ট্র ভাঙার দাবি তুলে বক্তব্য দেন, বিদেশি শক্তির সহায়তার কথা বলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে দুর্বল করার প্রতি ইঙ্গিত করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে গুরুতর অভিযোগ তোলা যায়। যখন কোনো বিদেশি শক্তির সম্পৃক্ততার কথা উত্থাপিত হয়, তখন সেটাকে সরল দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ থাকে না। ভুলে গেলে চলবে না, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে উসকে দিতে বহিরাগত স্বার্থগোষ্ঠী সক্রিয় থাকতেই পারে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এটি অস্বাভাবিক নয় যে, শক্তিধর রাষ্ট্র অপেক্ষাকৃত ছোট দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। এ কারণেই এ ধরনের বিতর্কিত বক্তব্যকে হালকাভাবে না নিয়ে তদন্ত, প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
লেখক: সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও কলাম লেখক
.png)

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড-সম্পর্কিত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল যে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। গত মাসে একই কমিশন আবারও অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে, ইসরায়েলি পদক্ষেপগুলোর উদ্দেশ্য হলো, গাজার
২ মিনিট আগে
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর আলোচনার পথ খুলেছে। যুদ্ধবিরতির পর চলছে রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা। এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
আগস্টের সম্ভাব্য ঢেউ মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ জেলার হাসপাতালে চিকিৎসাসামগ্রী, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স প্রস্তুত রাখতে হবে। নইলে এবার ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হতে পারে ঢাকার বাইরের মানুষকে।
২০ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশে মাদক আর শুধু সামাজিক সমস্যা নয়; এটিকে বলা যায় জাতীয় নিরাপত্তা সংকট। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ জরিপ বলছে, প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদক সেবন করছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। সিনথেটিক মাদকের ব্যাপ্তিও দ্রুত বাড়ছে। আর মাদকাসক্তদের ৬০ শতাংশেরও বেশি তরুণ।
২১ ঘণ্টা আগে