ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ৩২, আহত ৭০০

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ১৩: ১৫
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবন থেকে উদ্ধার করা আহত একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন মারা গেছেন। আহতের সংখ্যা ৭০০ জনের বেশি। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই তথ্য দিয়েছেন। ভূমিকম্পে হতাহত নিয়ে এটিই প্রথম সরকারি পরিসংখ্যান। খবর বিবিসির।

স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় লাতিন আমেরিকার দেশটিতে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির একাধিক রাজ্যে অনেক ভবন ধসে যায়। বহুতল ভবন ধসে নিচে আটকা পড়েন অনেকে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা–ইউএসজিএসের তথ্যমতে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.২। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ইয়ারাকুই রাজ্যের সান ফেলিপে এলাকায়। প্রথম ঝাঁকুনির রেশ না কাটতেই মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আঘাত হানে দ্বিতীয়টি। এবারেরটি আরও শক্তিশালী–৭.৫ মাত্রার। এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ইউমারে শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। এ কারণে এই আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউএসজিএস তাদের ‘প্যাজার’ সিস্টেমের বিশ্লেষণ দিয়ে জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ৩০ শতাংশ।

কারাকাসে ভূমিকম্পে যেন মাটিতে মিশে গেছে ভবন। ছবি: সংগৃহীত
কারাকাসে ভূমিকম্পে যেন মাটিতে মিশে গেছে ভবন। ছবি: সংগৃহীত

বুধবার ভেনিজুয়েলায় সরকারি ছুটি থাকায় ভূমিকম্প আঘাতের সময় অধিকাংশ মানুষই নিজ নিজ বাসস্থানে ছিলেন। এ কারণে হতাহতের সংখ্যা বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পরপরই ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো জানান, কারাকাসসহ ট্রুজিলো, ইয়ারাকুই, কারাবোবো, আরাগুয়া, মিরান্ডা এবং লা গুয়াইরা রাজ্য মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীর ধনী ও মধ্যবিত্ত অধ্যুষিত এলাকা ‘প্যালোস গ্র্যান্ডেস’ এবং ‘আলতামিরা’য় ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকায় একাধিক ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ চাপা পড়েছে এবং সেখান থেকে আর্তনাদের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।

এদিকে, ভূমিকম্পের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভেনেজুয়েলার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় মানুষ আতঙ্কে বিমানবন্দরের করিডোর দিয়ে ছুটে পালাচ্ছেন।

কারাকাসের প্রবীণ বাসিন্দারা এবারের ঘটনাকে ১৯৬৭ সালের ভূমিকম্পের চেয়েও মারাত্মক বলে বর্ণনা করছেন। ১৯৬৭ সালে কারাকাসে ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। কাকতালীয়ভাবে, সেবারও প্যালোস গ্র্যান্ডেস ও আলতামিরা এলাকা দুটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং সেই বছরও বাসিন্দারা জোড়া কম্পন অনুভব করেছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত