লেখা:

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যুদ্ধ শুরু হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির বাড়ি ও কার্যালয়ে বিমান হামলার মধ্য দিয়ে। হামলার সময় খামেনি তাঁর উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। এই আকস্মিক হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এই সুনির্দিষ্ট হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারণা ছিল খামেনিকে হঠাৎ সরিয়ে দিলে ইরানের ইসলামি সরকার দুর্বল হয়ে পড়বে। লিবিয়ায় মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফি ও সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পর রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঘটনার সঙ্গে এই যুক্তি মিলতে পারে। সেখানে রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল একান্তই ব্যক্তিগত এবং একক শাসকের ওপর নির্ভরশীল।
তবে ইরানের কাঠামো সম্পূর্ণ ভিন্ন। খুব কম আধুনিক রাষ্ট্রই তাদের সর্বোচ্চ নেতার হাতে এত বেশি দৃশ্যমান ক্ষমতা রাখে। ধর্মীয় নেতৃত্ব, সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্ব এবং চূড়ান্ত রাজনৈতিক মধ্যস্থতা—সবই এই পদে একীভূত। কিন্তু এই পদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কেবল নেতাকে সেবা দেওয়ার জন্য নয়, বরং তাঁকে নিয়ন্ত্রণ, তদারকি এবং প্রয়োজনে তাঁর অবর্তমানেও টিকে থাকার জন্য তৈরি।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোনো ধর্মীয় পোশাকে ঢাকা ব্যক্তিগত শাসন নয়, এটি একটি বিপ্লবী ব্যবস্থা—যা নিজের দুর্বলতা সম্পর্কে খুব সচেতন। নেতৃত্বের সংকটের জন্য তারা প্রচুর প্রস্তুতি নিয়েছে। চাপের মুখে এই কাঠামো ভেঙে পড়ার বদলে আরও সংহত হওয়ার জন্য নকশা করা হয়েছে।
ইরানের রাজনৈতিক আচরণ বুঝতে হলে দেশটির শাসকগোষ্ঠী ইতিহাসকে কতটা গভীরভাবে ধারণ করে তা বুঝতে হবে। ইরানি রাষ্ট্র শত শত বছর ধরে বারবার রাজনৈতিক শূন্যতার মুখোমুখি হয়েছে। এই ঐতিহাসিক অধ্যায়গুলো এখনো তাঁদের চিন্তাধারায় প্রভাব ফেলে। তারা বর্তমানের সংকটগুলোকে অতীতের পতনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে।
কাজার রাজবংশের পতন, ইসফাহান দখলের পর সাফাভিদদের পতন, নাদের শাহের মৃত্যুর পর বিশৃঙ্খলা এবং করিম খান জন্দের মৃত্যুর পর গৃহযুদ্ধ—সবই একই শিক্ষা দেয়। উত্তরাধিকারের ব্যবস্থা ছাড়া নেতৃত্ব শূন্য হলে দেশ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এগুলো ইতিহাসের কোনো ধুলো জমা পাদটীকা নয়। ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব দশকের পর দশক ধরে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। এখন তারা বাস্তব সময়ে সেই প্রস্তুতির পরীক্ষা দিতে বাধ্য হচ্ছে।
ইরানে অভিভাবক পরিষদ বা গার্ডিয়ান কাউন্সিল তৈরি করা হয়েছিল আদর্শিক বিচ্যুতি রোধ এবং ইসলামি নীতির সঙ্গে সংগতি নিশ্চিত করতে। বিশেষজ্ঞ পরিষদ বা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সর্বোচ্চ নেতাকে নির্বাচন ও তদারকি করার, যাতে ক্ষমতার অনিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীকরণ রোধ করা যায়।
এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিল বা মসলহাত পরিষদ তৈরি করা হয়েছিল যাতে প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থা নিরসন করা যায় এবং বিরোধের সময়ও শাসনকাজ চলতে পারে। বিপ্লবকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক হুমকি থেকে রক্ষার জন্য ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বা আইআরজিসি এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৈরি করা হয়েছিল।
এই পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল প্রাতিষ্ঠানিক নকশার উদ্দেশ্য ছিল সহনশীলতা বা রেজিলিয়েন্স তৈরি করা। একটি অংশ ব্যর্থ হলে অন্যরা তা পূরণ করতে পারে। উদ্দেশ্য পরিষ্কার—রাষ্ট্রের টিকে থাকা কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। খামেনি তাই বলতেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র রক্ষা করা যেকোনো নেতাকে রক্ষা করার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নেতৃত্বের ওপর সরাসরি সামরিক হামলার মুখে এই পুরো ব্যবস্থা এখন একযোগে সক্রিয় হচ্ছে। এই ব্যবস্থা আগেও একবার বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছিল। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট আবুল হাসান বনিসদর অভিশংসিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলি রাজাই এবং প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ বাহোনার কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে নিহত হন।
তবুও মাত্র ৫০ দিনের মধ্যে আলি খামেনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আট বছর পর ওই সময়ের সুপ্রিম লিডার রুহুল্লাহ খোমেনি মারা গেলেও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। আয়াতুল্লাহ খামেনি তখন রুহুল্লাহ খোমেনির মতো ক্যারিশমা কিংবা ধর্মীয় নেতার মর্যাদায় ছিলেন না। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁর ওপর একমত হয়েছিল।
রাষ্ট্রের বার্তা ছিল—ব্যবস্থা অবশ্যই ব্যক্তির চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হবে। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর এই নীতি আবার সামনে আসে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়াগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় করা হয়। ক্ষমতা মসৃণভাবে হস্তান্তরিত হয়। নির্বাচন সময়মতো হয় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা পায়। বিশৃঙ্খলার বদলে এই ঘটনা আকস্মিক নেতৃত্ব হারানোর মহড়া হিসেবে কাজ করে।
ইরানের সংবিধানে এখন কী হবে তার সুনির্দিষ্ট উত্তর আছে। ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা মারা গেলে বা অক্ষম হলে ক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে একটি অন্তর্বর্তী পরিষদের হাতে ন্যস্ত হয়। এই পরিষদে থাকেন প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং মসলহাত পরিষদের একজন আলেম।
নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষজ্ঞ পরিষদ উত্তরাধিকারের বিষয়ে ভোট দেয়। কিন্তু জনসমক্ষে সিদ্ধান্তের অনেক আগেই ঐকমত্য তৈরি হয়। অনানুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা ছোট করা হয়। আইআরজিসি নেতা নির্বাচন করে না। কিন্তু তারা কোন ঝুঁকিগুলো গ্রহণযোগ্য নয় তা নির্ধারণ করে প্রভাব খাটায়। জাতীয় সংহতি বা নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে হয় এমন ব্যক্তিরা সাধারণত এগোতে পারেন না।
সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আইআরজিসি গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিতভাবেই অভ্যন্তরীণ নজরদারি জোরদার করেছে। অন্যদিকে পদাতিক বাহিনী বা গ্রাউন্ড ফোর্সেস অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সংস্থাটির স্বার্থ একই সঙ্গে আদর্শিক ও বস্তুগত। তারা তাঁদের স্বায়ত্তশাসন ও অর্থনৈতিক প্রভাব ধরে রাখতে চায়।
ইরানকে প্রায়ই এমন রাষ্ট্র হিসেবে চিত্রিত করা হয় যা একজন ব্যক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। অথচ ১৯৭৯ সালের পরের কাঠামো ভিন্ন এক যুক্তির প্রতিফলন। খোমেনির ইসলামি প্রজাতন্ত্র রক্ষা করা যেকোনো ব্যক্তিকে রক্ষা করার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নীতির প্রতিফলনই দেখা গেছে প্রত্যেকবার। তবে সরাসরি সামরিক হামলার মুখে ইরান এই নীতি ধরে রাখতে পারে কি না তা-ই হবে সংঘাতের পরবর্তী ধাপের নির্ণায়ক।
লেখক: সাংবাদিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ
এশিয়া টাইমস থেকে অনূদিত

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যুদ্ধ শুরু হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির বাড়ি ও কার্যালয়ে বিমান হামলার মধ্য দিয়ে। হামলার সময় খামেনি তাঁর উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। এই আকস্মিক হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এই সুনির্দিষ্ট হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারণা ছিল খামেনিকে হঠাৎ সরিয়ে দিলে ইরানের ইসলামি সরকার দুর্বল হয়ে পড়বে। লিবিয়ায় মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফি ও সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পর রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঘটনার সঙ্গে এই যুক্তি মিলতে পারে। সেখানে রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল একান্তই ব্যক্তিগত এবং একক শাসকের ওপর নির্ভরশীল।
তবে ইরানের কাঠামো সম্পূর্ণ ভিন্ন। খুব কম আধুনিক রাষ্ট্রই তাদের সর্বোচ্চ নেতার হাতে এত বেশি দৃশ্যমান ক্ষমতা রাখে। ধর্মীয় নেতৃত্ব, সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্ব এবং চূড়ান্ত রাজনৈতিক মধ্যস্থতা—সবই এই পদে একীভূত। কিন্তু এই পদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কেবল নেতাকে সেবা দেওয়ার জন্য নয়, বরং তাঁকে নিয়ন্ত্রণ, তদারকি এবং প্রয়োজনে তাঁর অবর্তমানেও টিকে থাকার জন্য তৈরি।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোনো ধর্মীয় পোশাকে ঢাকা ব্যক্তিগত শাসন নয়, এটি একটি বিপ্লবী ব্যবস্থা—যা নিজের দুর্বলতা সম্পর্কে খুব সচেতন। নেতৃত্বের সংকটের জন্য তারা প্রচুর প্রস্তুতি নিয়েছে। চাপের মুখে এই কাঠামো ভেঙে পড়ার বদলে আরও সংহত হওয়ার জন্য নকশা করা হয়েছে।
ইরানের রাজনৈতিক আচরণ বুঝতে হলে দেশটির শাসকগোষ্ঠী ইতিহাসকে কতটা গভীরভাবে ধারণ করে তা বুঝতে হবে। ইরানি রাষ্ট্র শত শত বছর ধরে বারবার রাজনৈতিক শূন্যতার মুখোমুখি হয়েছে। এই ঐতিহাসিক অধ্যায়গুলো এখনো তাঁদের চিন্তাধারায় প্রভাব ফেলে। তারা বর্তমানের সংকটগুলোকে অতীতের পতনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে।
কাজার রাজবংশের পতন, ইসফাহান দখলের পর সাফাভিদদের পতন, নাদের শাহের মৃত্যুর পর বিশৃঙ্খলা এবং করিম খান জন্দের মৃত্যুর পর গৃহযুদ্ধ—সবই একই শিক্ষা দেয়। উত্তরাধিকারের ব্যবস্থা ছাড়া নেতৃত্ব শূন্য হলে দেশ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এগুলো ইতিহাসের কোনো ধুলো জমা পাদটীকা নয়। ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব দশকের পর দশক ধরে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। এখন তারা বাস্তব সময়ে সেই প্রস্তুতির পরীক্ষা দিতে বাধ্য হচ্ছে।
ইরানে অভিভাবক পরিষদ বা গার্ডিয়ান কাউন্সিল তৈরি করা হয়েছিল আদর্শিক বিচ্যুতি রোধ এবং ইসলামি নীতির সঙ্গে সংগতি নিশ্চিত করতে। বিশেষজ্ঞ পরিষদ বা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সর্বোচ্চ নেতাকে নির্বাচন ও তদারকি করার, যাতে ক্ষমতার অনিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীকরণ রোধ করা যায়।
এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিল বা মসলহাত পরিষদ তৈরি করা হয়েছিল যাতে প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থা নিরসন করা যায় এবং বিরোধের সময়ও শাসনকাজ চলতে পারে। বিপ্লবকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক হুমকি থেকে রক্ষার জন্য ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বা আইআরজিসি এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৈরি করা হয়েছিল।
এই পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল প্রাতিষ্ঠানিক নকশার উদ্দেশ্য ছিল সহনশীলতা বা রেজিলিয়েন্স তৈরি করা। একটি অংশ ব্যর্থ হলে অন্যরা তা পূরণ করতে পারে। উদ্দেশ্য পরিষ্কার—রাষ্ট্রের টিকে থাকা কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। খামেনি তাই বলতেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র রক্ষা করা যেকোনো নেতাকে রক্ষা করার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নেতৃত্বের ওপর সরাসরি সামরিক হামলার মুখে এই পুরো ব্যবস্থা এখন একযোগে সক্রিয় হচ্ছে। এই ব্যবস্থা আগেও একবার বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছিল। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট আবুল হাসান বনিসদর অভিশংসিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলি রাজাই এবং প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ বাহোনার কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে নিহত হন।
তবুও মাত্র ৫০ দিনের মধ্যে আলি খামেনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আট বছর পর ওই সময়ের সুপ্রিম লিডার রুহুল্লাহ খোমেনি মারা গেলেও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। আয়াতুল্লাহ খামেনি তখন রুহুল্লাহ খোমেনির মতো ক্যারিশমা কিংবা ধর্মীয় নেতার মর্যাদায় ছিলেন না। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁর ওপর একমত হয়েছিল।
রাষ্ট্রের বার্তা ছিল—ব্যবস্থা অবশ্যই ব্যক্তির চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হবে। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর এই নীতি আবার সামনে আসে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়াগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় করা হয়। ক্ষমতা মসৃণভাবে হস্তান্তরিত হয়। নির্বাচন সময়মতো হয় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা পায়। বিশৃঙ্খলার বদলে এই ঘটনা আকস্মিক নেতৃত্ব হারানোর মহড়া হিসেবে কাজ করে।
ইরানের সংবিধানে এখন কী হবে তার সুনির্দিষ্ট উত্তর আছে। ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা মারা গেলে বা অক্ষম হলে ক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে একটি অন্তর্বর্তী পরিষদের হাতে ন্যস্ত হয়। এই পরিষদে থাকেন প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং মসলহাত পরিষদের একজন আলেম।
নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষজ্ঞ পরিষদ উত্তরাধিকারের বিষয়ে ভোট দেয়। কিন্তু জনসমক্ষে সিদ্ধান্তের অনেক আগেই ঐকমত্য তৈরি হয়। অনানুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা ছোট করা হয়। আইআরজিসি নেতা নির্বাচন করে না। কিন্তু তারা কোন ঝুঁকিগুলো গ্রহণযোগ্য নয় তা নির্ধারণ করে প্রভাব খাটায়। জাতীয় সংহতি বা নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে হয় এমন ব্যক্তিরা সাধারণত এগোতে পারেন না।
সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আইআরজিসি গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিতভাবেই অভ্যন্তরীণ নজরদারি জোরদার করেছে। অন্যদিকে পদাতিক বাহিনী বা গ্রাউন্ড ফোর্সেস অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সংস্থাটির স্বার্থ একই সঙ্গে আদর্শিক ও বস্তুগত। তারা তাঁদের স্বায়ত্তশাসন ও অর্থনৈতিক প্রভাব ধরে রাখতে চায়।
ইরানকে প্রায়ই এমন রাষ্ট্র হিসেবে চিত্রিত করা হয় যা একজন ব্যক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। অথচ ১৯৭৯ সালের পরের কাঠামো ভিন্ন এক যুক্তির প্রতিফলন। খোমেনির ইসলামি প্রজাতন্ত্র রক্ষা করা যেকোনো ব্যক্তিকে রক্ষা করার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নীতির প্রতিফলনই দেখা গেছে প্রত্যেকবার। তবে সরাসরি সামরিক হামলার মুখে ইরান এই নীতি ধরে রাখতে পারে কি না তা-ই হবে সংঘাতের পরবর্তী ধাপের নির্ণায়ক।
লেখক: সাংবাদিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ
এশিয়া টাইমস থেকে অনূদিত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যখন দোহা, দুবাই এবং মানামার আকাশসীমা ভেদ করে শহরগুলোতে আছড়ে পড়ল, তখন কেবল কাচ আর কংক্রিটের ভবনই চূর্ণ হয়নি, ভেঙে গেছে উপসাগরীয় দেশগুলোর বহু যত্নে গড়া স্থিতিশীলতার দুর্গ।
৫ ঘণ্টা আগে
বহু বছর ধরে পশ্চিমারা একটি যুক্তি দিয়ে আসছিলেন। তাদের মতে, ইরানে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার কারণে যে দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক অবক্ষয় এবং সামাজিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তার দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি বাইরে থেকে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ‘রেজিম চেঞ্জের’ ঝুঁকির চেয়েও বেশি।
৫ ঘণ্টা আগে
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক বিধ্বংসী যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দেহাবসান কেবল একটি রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতার মৃত্যু নয়, বরং এটি সমসাময়িক ভূ-রাজনীতির ইতিহাসে এক প্রলয়ঙ্কারী মোড়।
৯ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ইরান থেকে সরাসরি গ্যাস আমদানি করে না। তবুও দেশটি উপসাগরীয় এলএনজি প্রবাহের ওপর কাঠামোগতভাবে নির্ভরশীল। এই এলএনজি হরমুজ হয়েই আসে। অর্থাৎ সমস্যাটা দ্বিপাক্ষীয় নয়; সমস্যাটা পদ্ধতিগত।
১ দিন আগে