মাইকেল বি. জি. ফ্রোম্যান

অনেকে বলছেন দাভোস বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের দিন শেষ। এই বার্ষিক বৈঠককে ধরা হয় বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালীদের আড্ডাখানা বা ‘গ্লোবাল এস্টাবলিশমেন্ট’-এর প্রতীক হিসেবে। কিন্তু এর মৃত্যু বা অকেজো হওয়ার খবর বড্ড বাড়িয়ে বলা হচ্ছে। অন্তত বলা যায় এখনই এমন রায় দেওয়ার সময় আসেনি।
আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মতো দাভোসও এখন এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনই ঠিক করবে এটি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে কি না বা নিজের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে পারবে কি না। সোমবার শুরু হওয়া এবারের বার্ষিক বৈঠক ভবিষ্যতের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেবে। বোঝা যাবে দাভোস এবং পুরো বিশ্ব ব্যবস্থা আমেরিকার সঙ্গে কাজ করতে কতটা শিখেছে। কারণ আমেরিকা এখন সহযোগিতার সংজ্ঞা পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
ইউরোপিয়ান ম্যানেজমেন্ট ফোরাম হিসেবে যাত্রার শুরু থেকে দাভোস অনেক বদলেছে। শুরুতে দাভোস ছিল ইউরোপের একত্রীকরণ নিয়ে নিছক সাদামাটা আয়োজন। কিন্তু এখন এর যে রূপবদল ঘটছে তা মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাত ধরেই হচ্ছে। এই বদল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত ও স্পষ্ট। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি নিয়ে বছরের পর বছর যে জোর দেওয়া হতো তা উধাও। প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য সরকারের স্থানীয় সংস্থার ওপর নির্ভর করার আলাপও এখন শোনা যাচ্ছে না। স্টেকহোল্ডার ক্যাপিটালিজম কিংবা পরিবেশ ও সমাজের মঙ্গলের আলাপও হয়তো এবার পেছনের সিটে চলে যাবে।
পুরনো দাভোসের মৃত্যু হয়েছে। নতুন দাভোস এখন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। এর ভবিষ্যৎ নিজের মতো করে গড়তে চাইছেন ট্রাম্প। ধারণা করা হচ্ছে এবার যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিনিধিদল এই বার্ষিক সভায় অংশ নেবে। সেই দলে থাকবেন ক্যাবিনেট সচিব এবং সিনিয়র উপদেষ্টার এবং নেতৃত্ব দেবেন খোদ প্রেসিডেন্ট। অন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সাধারণত দাভোস এড়িয়ে চলতেন। দেশের ভেতরের সমস্যা রেখে বিশ্বলগ্নিপতির সঙ্গে আড্ডা দেওয়াকে তাঁরা ভালো চোখে দেখতেন না। লোক দেখানো এসব কাজ থেকে তাঁরা দূরেই থাকতেন।
এবার ট্রাম্পের তৃতীয় দাভোস সফর। এর আগে ২০০০ সালে বিল ক্লিনটন সেখানে গিয়েছিলেন। ক্লিনটন যখন গিয়েছিলেন তখন বিশ্বায়ন নিয়ে সবার মাঝে ছিল তুমুল উৎসাহ। আর ট্রাম্প যাচ্ছেন এমন এক সময়ে যখন বিশ্বায়ন খাদে পড়ে গেছে। আর এই পরিস্থিতির পেছনে ট্রাম্পের নিজেরও হাত আছে। তিনি এই পতন উদযাপনও করেছেন।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি সেখানে আবাসন ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে কথা বলবেন। বাণিজ্য ও অভিবাসন নিয়ে অন্য দেশগুলো যাতে আমেরিকার সঙ্গে কাজ করে সেই দাবিও তিনি ফোরামে তুলতে পারেন। তবে এ বছর প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য কেবল নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তিনি আসলে আসরের সুর বেঁধে দিতে চাইছেন। তিনি সুইজারল্যান্ডে অন্যের কথা শুনতে যাচ্ছেন না। তিনি যাচ্ছেন এই প্রত্যাশা নিয়ে যে সবাই তাঁর কথা শুনবে। সবাই তাঁর লাইনে এসে দাঁড়াবে।
তাই এবারের এই জমায়েত বাকি বিশ্বের জন্য এক বড় পরীক্ষা। বিশ্বায়নের এই ‘ট্রাম্পীয় সংস্করণ’-এর সঙ্গে তারা মানিয়ে নিতে পারবে কি না সেটাই দেখার বিষয়। গত পাঁচ দশক ধরে দাভোসের মূল মন্ত্র ছিল পারস্পরিক সুবিধা ও সহযোগিতা। দেশ ও খাতের মধ্যে এই সহযোগিতা মহামারি বা জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যা মোকাবিলায় জরুরি মনে করা হতো। এখনো দাভোসের এজেন্ডায় সহযোগিতা আছে। কিন্তু এর সুর বদলে গেছে। ট্রাম্প এখন আর বাকি বিশ্বের কাছে সহযোগিতা চাইবেন না, বরং দাবি করবেন।
দাভোস আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার একটি অংশ মাত্র, যা পুরো ব্যবস্থাকে সংজ্ঞায়িত করে না। তাই টিকে থাকার জন্য নিজেকে বদলানো এই ফোরামের জন্য এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। দুই বড় অর্থনীতির দেশ আমেরিকা ও চীন এখন নিজেদের নিয়মে খেলছে। এমন পৃথিবীতে নিয়মভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা কীভাবে চলবে তা নিয়ে দাভোস ভূমিকা রাখতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বা উন্নয়ন সহায়তার সংস্কার নিয়েও আলাপ হতে পারে। বিশ্বব্যাপী অভিবাসন নিয়ে মতভেদ দূর করার মঞ্চও হতে পারে দাভোস। যদি এই জরুরি বিতর্কগুলো উসকে দেওয়ার মতো ক্ষিপ্রতা দেখাতে পারে তবেই দাভোস টিকে থাকবে ও উন্নতি করবে।
কেন আমাদের দাভোসকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত? এর আনুষ্ঠানিক এজেন্ডা যা-ই হোক না কেন দাভোসের আলাদা কদর আছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিশ্বনেতারা এখানে উপস্থিত হওয়া প্রয়োজন মনে করেন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এখানে আসেন। তাঁরা একে অন্যের সঙ্গে দেখা করেন ও নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলেন এবং বড় বড় চুক্তি করেন।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায় গ্রিস ও তুরস্কের কথা। ১৯৮৮ সালে তারা দাভোস ঘোষণা সই করেছিল। সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য দাভোস চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। এই ভূমিকা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। এমনকি আলোচনার বিষয়বস্তু বদলে গেলেও এর গুরুত্ব কমে না।
ট্রাম্প তাঁর বিশাল লটবহর ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে দাভোসে হাজির হচ্ছেন। আমার ধারণা এতে অন্য দেশের সরকার ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি আরও বাড়বে। সুশীল সমাজের নেতারাও ভিড় করবেন। কারণ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ৩০ সেকেন্ডের দেখা পাওয়ার জন্য বা একান্তে একটু কথা বলার জন্য অনেকেই উদগ্রীব হয়ে থাকবেন।
ঐতিহাসিকভাবে দাভোসের মূল আবহটা বোঝা যেত এর শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে হাঁটলেই। বরফজমা সেই রাস্তায় একেক বছর একেক দেশের আধিপত্য দেখা যেত। কোনো বছর রাশিয়া আবার কখনো চীন বা ভারত নিজেদের জাহির করতে চাইত। পাশাপাশি রাজত্ব করত সময়ের সেরা প্রযুক্তি। ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে শুরু করে মেটাভার্স বা অধুনা কোনো এআই কোম্পানি।
দাভোসে নিজের পতাকা গেড়ে ট্রাম্প বার্তা দিচ্ছেন, তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী নন। তিনি বাকি বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হতে প্রস্তুত এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে ভেঙে নিজের মতো করে গড়তে চান। এক এক করে তিনি সেই পথেই এগোচ্ছেন, ফলে দাভোসও তাঁর নজর থেকে বাদ যাচ্ছে না। ট্রাম্প শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান বা না পান একটি বিষয় ট্রাম্প জোর দিয়েই বলতে পারেন, প্রায় নোবেলের সমান খ্যাতিসম্পন্ন নাম বা তকমা অর্জন করেছেন। ট্রাম্পই এখন ‘দাভোস মানব’ বা ‘দাভোস ম্যান’।
লেখক: কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সভাপতি।

অনেকে বলছেন দাভোস বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের দিন শেষ। এই বার্ষিক বৈঠককে ধরা হয় বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালীদের আড্ডাখানা বা ‘গ্লোবাল এস্টাবলিশমেন্ট’-এর প্রতীক হিসেবে। কিন্তু এর মৃত্যু বা অকেজো হওয়ার খবর বড্ড বাড়িয়ে বলা হচ্ছে। অন্তত বলা যায় এখনই এমন রায় দেওয়ার সময় আসেনি।
আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মতো দাভোসও এখন এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনই ঠিক করবে এটি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে কি না বা নিজের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে পারবে কি না। সোমবার শুরু হওয়া এবারের বার্ষিক বৈঠক ভবিষ্যতের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেবে। বোঝা যাবে দাভোস এবং পুরো বিশ্ব ব্যবস্থা আমেরিকার সঙ্গে কাজ করতে কতটা শিখেছে। কারণ আমেরিকা এখন সহযোগিতার সংজ্ঞা পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
ইউরোপিয়ান ম্যানেজমেন্ট ফোরাম হিসেবে যাত্রার শুরু থেকে দাভোস অনেক বদলেছে। শুরুতে দাভোস ছিল ইউরোপের একত্রীকরণ নিয়ে নিছক সাদামাটা আয়োজন। কিন্তু এখন এর যে রূপবদল ঘটছে তা মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাত ধরেই হচ্ছে। এই বদল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত ও স্পষ্ট। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি নিয়ে বছরের পর বছর যে জোর দেওয়া হতো তা উধাও। প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য সরকারের স্থানীয় সংস্থার ওপর নির্ভর করার আলাপও এখন শোনা যাচ্ছে না। স্টেকহোল্ডার ক্যাপিটালিজম কিংবা পরিবেশ ও সমাজের মঙ্গলের আলাপও হয়তো এবার পেছনের সিটে চলে যাবে।
পুরনো দাভোসের মৃত্যু হয়েছে। নতুন দাভোস এখন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। এর ভবিষ্যৎ নিজের মতো করে গড়তে চাইছেন ট্রাম্প। ধারণা করা হচ্ছে এবার যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিনিধিদল এই বার্ষিক সভায় অংশ নেবে। সেই দলে থাকবেন ক্যাবিনেট সচিব এবং সিনিয়র উপদেষ্টার এবং নেতৃত্ব দেবেন খোদ প্রেসিডেন্ট। অন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সাধারণত দাভোস এড়িয়ে চলতেন। দেশের ভেতরের সমস্যা রেখে বিশ্বলগ্নিপতির সঙ্গে আড্ডা দেওয়াকে তাঁরা ভালো চোখে দেখতেন না। লোক দেখানো এসব কাজ থেকে তাঁরা দূরেই থাকতেন।
এবার ট্রাম্পের তৃতীয় দাভোস সফর। এর আগে ২০০০ সালে বিল ক্লিনটন সেখানে গিয়েছিলেন। ক্লিনটন যখন গিয়েছিলেন তখন বিশ্বায়ন নিয়ে সবার মাঝে ছিল তুমুল উৎসাহ। আর ট্রাম্প যাচ্ছেন এমন এক সময়ে যখন বিশ্বায়ন খাদে পড়ে গেছে। আর এই পরিস্থিতির পেছনে ট্রাম্পের নিজেরও হাত আছে। তিনি এই পতন উদযাপনও করেছেন।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি সেখানে আবাসন ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে কথা বলবেন। বাণিজ্য ও অভিবাসন নিয়ে অন্য দেশগুলো যাতে আমেরিকার সঙ্গে কাজ করে সেই দাবিও তিনি ফোরামে তুলতে পারেন। তবে এ বছর প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য কেবল নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তিনি আসলে আসরের সুর বেঁধে দিতে চাইছেন। তিনি সুইজারল্যান্ডে অন্যের কথা শুনতে যাচ্ছেন না। তিনি যাচ্ছেন এই প্রত্যাশা নিয়ে যে সবাই তাঁর কথা শুনবে। সবাই তাঁর লাইনে এসে দাঁড়াবে।
তাই এবারের এই জমায়েত বাকি বিশ্বের জন্য এক বড় পরীক্ষা। বিশ্বায়নের এই ‘ট্রাম্পীয় সংস্করণ’-এর সঙ্গে তারা মানিয়ে নিতে পারবে কি না সেটাই দেখার বিষয়। গত পাঁচ দশক ধরে দাভোসের মূল মন্ত্র ছিল পারস্পরিক সুবিধা ও সহযোগিতা। দেশ ও খাতের মধ্যে এই সহযোগিতা মহামারি বা জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যা মোকাবিলায় জরুরি মনে করা হতো। এখনো দাভোসের এজেন্ডায় সহযোগিতা আছে। কিন্তু এর সুর বদলে গেছে। ট্রাম্প এখন আর বাকি বিশ্বের কাছে সহযোগিতা চাইবেন না, বরং দাবি করবেন।
দাভোস আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার একটি অংশ মাত্র, যা পুরো ব্যবস্থাকে সংজ্ঞায়িত করে না। তাই টিকে থাকার জন্য নিজেকে বদলানো এই ফোরামের জন্য এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। দুই বড় অর্থনীতির দেশ আমেরিকা ও চীন এখন নিজেদের নিয়মে খেলছে। এমন পৃথিবীতে নিয়মভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা কীভাবে চলবে তা নিয়ে দাভোস ভূমিকা রাখতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বা উন্নয়ন সহায়তার সংস্কার নিয়েও আলাপ হতে পারে। বিশ্বব্যাপী অভিবাসন নিয়ে মতভেদ দূর করার মঞ্চও হতে পারে দাভোস। যদি এই জরুরি বিতর্কগুলো উসকে দেওয়ার মতো ক্ষিপ্রতা দেখাতে পারে তবেই দাভোস টিকে থাকবে ও উন্নতি করবে।
কেন আমাদের দাভোসকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত? এর আনুষ্ঠানিক এজেন্ডা যা-ই হোক না কেন দাভোসের আলাদা কদর আছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিশ্বনেতারা এখানে উপস্থিত হওয়া প্রয়োজন মনে করেন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এখানে আসেন। তাঁরা একে অন্যের সঙ্গে দেখা করেন ও নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলেন এবং বড় বড় চুক্তি করেন।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায় গ্রিস ও তুরস্কের কথা। ১৯৮৮ সালে তারা দাভোস ঘোষণা সই করেছিল। সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য দাভোস চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। এই ভূমিকা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। এমনকি আলোচনার বিষয়বস্তু বদলে গেলেও এর গুরুত্ব কমে না।
ট্রাম্প তাঁর বিশাল লটবহর ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে দাভোসে হাজির হচ্ছেন। আমার ধারণা এতে অন্য দেশের সরকার ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি আরও বাড়বে। সুশীল সমাজের নেতারাও ভিড় করবেন। কারণ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ৩০ সেকেন্ডের দেখা পাওয়ার জন্য বা একান্তে একটু কথা বলার জন্য অনেকেই উদগ্রীব হয়ে থাকবেন।
ঐতিহাসিকভাবে দাভোসের মূল আবহটা বোঝা যেত এর শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে হাঁটলেই। বরফজমা সেই রাস্তায় একেক বছর একেক দেশের আধিপত্য দেখা যেত। কোনো বছর রাশিয়া আবার কখনো চীন বা ভারত নিজেদের জাহির করতে চাইত। পাশাপাশি রাজত্ব করত সময়ের সেরা প্রযুক্তি। ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে শুরু করে মেটাভার্স বা অধুনা কোনো এআই কোম্পানি।
দাভোসে নিজের পতাকা গেড়ে ট্রাম্প বার্তা দিচ্ছেন, তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী নন। তিনি বাকি বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হতে প্রস্তুত এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে ভেঙে নিজের মতো করে গড়তে চান। এক এক করে তিনি সেই পথেই এগোচ্ছেন, ফলে দাভোসও তাঁর নজর থেকে বাদ যাচ্ছে না। ট্রাম্প শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান বা না পান একটি বিষয় ট্রাম্প জোর দিয়েই বলতে পারেন, প্রায় নোবেলের সমান খ্যাতিসম্পন্ন নাম বা তকমা অর্জন করেছেন। ট্রাম্পই এখন ‘দাভোস মানব’ বা ‘দাভোস ম্যান’।
লেখক: কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সভাপতি।

মানুষের জীবন কোনো নিরবচ্ছিন্ন সাফল্যের গল্প নয়। জীবন মূলত একটি দীর্ঘ যুদ্ধ—যেখানে প্রতিটি মুহূর্তেই লড়াই আছে, সিদ্ধান্ত আছে, হার–জিত আছে। কিন্তু এই যুদ্ধের প্রকৃত লক্ষ্য কী? প্রতিটি ছোট লড়াইয়ে জয়ী হওয়া, নাকি সামগ্রিকভাবে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকা ও মানুষ হিসেবে বিকশিত হওয়া?
৩ ঘণ্টা আগে
ঢাকায় এখন জ্বলজ্বলে আলো, মাথার ওপর দিয়ে শাঁই শাঁই করে উড়ে যাচ্ছে মেট্রোরেল, উঁচু উঁচু দালানের শীর্ষমুখী অভিসার ঢেকে ফেলছে সমস্ত আকাশ, মেট্রোপলিটন থেকে আমাদের ঢাকাই মন আজ কসমোপলিটনের দিকে; অন্তহীন সভা ও সমাবেশের এই নগরীতে আজ পালিত হচ্ছে মুসলিম সাহিত্য সমাজের শতবর্ষপূর্তি।
১ দিন আগে
পৃথিবীর অনেক গণতান্ত্রিক দেশে গণভোটের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সরকার সেখানে সবসময়ই ‘নিরপেক্ষ দর্শক’ নয়। অনেক সময় তারা ‘সক্রিয় পক্ষ’। ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট গণভোটের উদাহরণটি এক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক এবং শক্তিশালী দলিল হতে পারে।
১ দিন আগে
স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অনেকটাই ভারত এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বারা প্রভাবিত ছিল। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও প্রসারিত করেন এবং অন্যান্য দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করার ইতিবাচক প্রচেষ্টা হাতে নেন।
১ দিন আগে