লেখা:

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে বিএনপি। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদে ছিলেন। হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী সরকারের আমলে ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪-এর নির্বাচন নিয়ে রয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। তাই এবার ভোটের গুরুত্ব অন্য যেকোনো সময়ের থেকে আলাদা।
চীনের কাছে এই নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক ঘটনা নয় বরং পর্যবেক্ষণের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল। এর প্রভাব বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যতের ওপর পড়বে।
১৩ ফেব্রুয়ারি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক সাংবাদিকের প্রশ্নে বলেন, চীন লক্ষ্য করেছে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে জয়ের জন্য তিনি বিএনপিকে অভিনন্দন জানান। লিন আরও জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ঢাকার সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক। লিনের এই মন্তব্য পরে চীনের পিপলস ডেইলি পত্রিকায় ছাপা হয়। এর মাধ্যমে কূটনৈতিক বার্তা ও মূলধারার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা হয়েছে।
এরপর চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠান। লি চীন ও বাংলাদেশকে ঘনিষ্ঠ দীর্ঘদিনের বন্ধু ও কৌশলগত সহযোগী অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি নতুন সরকারের সুষ্ঠু পরিচালনার প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। লি জানান তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে ইচ্ছুক। তাঁর লক্ষ্য হলো বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) আওতায় সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন খাতে বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়ানো।
চীন তাদের বিবৃতিতে মূলত ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার’ নীতির ওপর জোর দিয়েছে। অর্থাৎ অন্য দেশের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘটনা নিয়ে তারা কোনো ভালো-মন্দ বিচার বা ‘ভ্যালু জাজমেন্ট’ দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।
১৯৭৫ সালের ৪ অক্টোবর কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। বেইজিং বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্প পার্ক নির্মাণে যুক্ত। এসব সহযোগিতার বড় অংশই বিআরআই কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়।
২০২১ সালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। তখন দুই দেশের আমদানি-রপ্তানির মোট মূল্য ছিল প্রায় ২৫ দশমিক ১৫ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৫১৫ কোটি ডলার। পরবর্তী বছরগুলোতে কিছুটা ওঠানামা হলেও বাণিজ্যের সামগ্রিক পরিমাণ ঐতিহাসিকভাবে উঁচুই ছিল। ২০২৫ সালে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৪ দশমিক ১৪ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৪১৪ কোটি ডলার।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এই প্রকল্প চীনা প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করেছে। চীন বাংলাদেশের নির্মাণ খাতে পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ‘গ্রিন ডেভেলপমেন্ট’ও উল্লেখযোগ্য সহায়তা দিয়েছে। তারা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রযুক্তি এবং কংক্রিটে ফ্লাই অ্যাশ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশের সঙ্গে শেয়ার করেছে।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্কের পর বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা উন্নয়ন অগ্রাধিকারকে ধীরে ধীরে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এই সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির এক বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যে প্রোথিত। বাংলাদেশ দীর্ঘ দিন ধরে বহুপাক্ষিক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল অনুসরণ করছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ঢাকা তার নীতিগত নমনীয়তা বা ‘পলিসি ম্যানুভারিবিলিটি’ বজায় রেখেছে।
চীনের এই সহযোগিতা বাংলাদেশকে কোনো ধরনের জোটে টানার কৌশল নয়। এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে অর্থনৈতিক রূপান্তর, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্প আধুনিকায়নের নিজস্ব প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তে। এই উন্নয়ন-কেন্দ্রিক সহযোগিতার কাঠামো বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির যুক্তির সঙ্গে মিলে যায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিও বটে।
সরকারি বিবৃতির তুলনায় চীনা থিংক ট্যাংক ও শিক্ষাবিদদের আলোচনায় বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কাঠামোগত বিশ্লেষণের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়করণের (ইনস্টিটিউশনাল কনসলিডেশন) এক নতুন পর্বে প্রবেশ করেছে। যেহেতু বিএনপি কোনো ব্যবস্থা-বহির্ভূত (এক্সট্রা-সিস্টেমিক) শক্তি নয় বরং বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোরই অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই চীনা পণ্ডিতরা মনে করেন তাদের সরকারে আসার ফলে নীতিতে বড় কোনো ফাটল বা ‘স্ট্র্যাটেজিক রাপচার’ তৈরি হবে না। বরং নতুন সরকারের নীতিতে সমন্বয় ও ধারাবাহিকতাই দেখা যাবে।
সাংহাই ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের দক্ষিণ এশিয়া স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক লিউ জংই মনে করেন, বিএনপি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির নীতিই চালিয়ে যাবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, ঋণ পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা এবং শিল্পে আধুনিকায়নের বাধা (বটলনেক) রয়ে গেছে। সরকার বদলের ফলে অবকাঠামো অর্থায়ন ও উৎপাদন খাতের সহায়তার চাহিদা কমেনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সমন্বয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো তাদের নীতির পরিসর ঠিক করে দেবে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের ফলে চীন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মৌলিক কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং অর্থনৈতিক চাপ ও পরাশক্তির প্রতিযোগিতার এই পরিবেশে দ্বিপক্ষীয় বাস্তবসম্মত সহযোগিতা শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এটা সহজেই অনুমেয় যে, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক তার কাঠামোগত ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে বিএনপি। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদে ছিলেন। হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী সরকারের আমলে ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪-এর নির্বাচন নিয়ে রয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। তাই এবার ভোটের গুরুত্ব অন্য যেকোনো সময়ের থেকে আলাদা।
চীনের কাছে এই নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক ঘটনা নয় বরং পর্যবেক্ষণের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল। এর প্রভাব বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যতের ওপর পড়বে।
১৩ ফেব্রুয়ারি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক সাংবাদিকের প্রশ্নে বলেন, চীন লক্ষ্য করেছে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে জয়ের জন্য তিনি বিএনপিকে অভিনন্দন জানান। লিন আরও জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ঢাকার সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক। লিনের এই মন্তব্য পরে চীনের পিপলস ডেইলি পত্রিকায় ছাপা হয়। এর মাধ্যমে কূটনৈতিক বার্তা ও মূলধারার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা হয়েছে।
এরপর চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠান। লি চীন ও বাংলাদেশকে ঘনিষ্ঠ দীর্ঘদিনের বন্ধু ও কৌশলগত সহযোগী অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি নতুন সরকারের সুষ্ঠু পরিচালনার প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। লি জানান তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে ইচ্ছুক। তাঁর লক্ষ্য হলো বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) আওতায় সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন খাতে বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়ানো।
চীন তাদের বিবৃতিতে মূলত ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার’ নীতির ওপর জোর দিয়েছে। অর্থাৎ অন্য দেশের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘটনা নিয়ে তারা কোনো ভালো-মন্দ বিচার বা ‘ভ্যালু জাজমেন্ট’ দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।
১৯৭৫ সালের ৪ অক্টোবর কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। বেইজিং বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্প পার্ক নির্মাণে যুক্ত। এসব সহযোগিতার বড় অংশই বিআরআই কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়।
২০২১ সালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। তখন দুই দেশের আমদানি-রপ্তানির মোট মূল্য ছিল প্রায় ২৫ দশমিক ১৫ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৫১৫ কোটি ডলার। পরবর্তী বছরগুলোতে কিছুটা ওঠানামা হলেও বাণিজ্যের সামগ্রিক পরিমাণ ঐতিহাসিকভাবে উঁচুই ছিল। ২০২৫ সালে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৪ দশমিক ১৪ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৪১৪ কোটি ডলার।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এই প্রকল্প চীনা প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করেছে। চীন বাংলাদেশের নির্মাণ খাতে পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ‘গ্রিন ডেভেলপমেন্ট’ও উল্লেখযোগ্য সহায়তা দিয়েছে। তারা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রযুক্তি এবং কংক্রিটে ফ্লাই অ্যাশ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশের সঙ্গে শেয়ার করেছে।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্কের পর বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা উন্নয়ন অগ্রাধিকারকে ধীরে ধীরে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এই সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির এক বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যে প্রোথিত। বাংলাদেশ দীর্ঘ দিন ধরে বহুপাক্ষিক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল অনুসরণ করছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ঢাকা তার নীতিগত নমনীয়তা বা ‘পলিসি ম্যানুভারিবিলিটি’ বজায় রেখেছে।
চীনের এই সহযোগিতা বাংলাদেশকে কোনো ধরনের জোটে টানার কৌশল নয়। এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে অর্থনৈতিক রূপান্তর, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্প আধুনিকায়নের নিজস্ব প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তে। এই উন্নয়ন-কেন্দ্রিক সহযোগিতার কাঠামো বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির যুক্তির সঙ্গে মিলে যায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিও বটে।
সরকারি বিবৃতির তুলনায় চীনা থিংক ট্যাংক ও শিক্ষাবিদদের আলোচনায় বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কাঠামোগত বিশ্লেষণের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়করণের (ইনস্টিটিউশনাল কনসলিডেশন) এক নতুন পর্বে প্রবেশ করেছে। যেহেতু বিএনপি কোনো ব্যবস্থা-বহির্ভূত (এক্সট্রা-সিস্টেমিক) শক্তি নয় বরং বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোরই অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই চীনা পণ্ডিতরা মনে করেন তাদের সরকারে আসার ফলে নীতিতে বড় কোনো ফাটল বা ‘স্ট্র্যাটেজিক রাপচার’ তৈরি হবে না। বরং নতুন সরকারের নীতিতে সমন্বয় ও ধারাবাহিকতাই দেখা যাবে।
সাংহাই ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের দক্ষিণ এশিয়া স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক লিউ জংই মনে করেন, বিএনপি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির নীতিই চালিয়ে যাবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, ঋণ পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা এবং শিল্পে আধুনিকায়নের বাধা (বটলনেক) রয়ে গেছে। সরকার বদলের ফলে অবকাঠামো অর্থায়ন ও উৎপাদন খাতের সহায়তার চাহিদা কমেনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সমন্বয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো তাদের নীতির পরিসর ঠিক করে দেবে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের ফলে চীন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মৌলিক কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং অর্থনৈতিক চাপ ও পরাশক্তির প্রতিযোগিতার এই পরিবেশে দ্বিপক্ষীয় বাস্তবসম্মত সহযোগিতা শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এটা সহজেই অনুমেয় যে, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক তার কাঠামোগত ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

ভাষা শহীদরা কিন্তু রক্ত দিয়েছিলেন আমাদের কথা বলার অধিকারের জন্য, আমাদের পরিচয়ের জন্য। তারা কি জানতেন, একদিন তাদের স্মৃতির মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে কে কোন দিকে মুখ ফিরিয়ে দোয়া করবে, তা নিয়ে একটা গোটা জাতি দুই ভাগ হয়ে যাবে?
১ দিন আগে
ফেব্রুয়ারি মাস এলেই বাংলাদেশে একটা অদ্ভুত উত্তাপ তৈরি হয়। বাংলা একাডেমি আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে তখন ঠোকাঠুকির শব্দ, কাঠমিস্ত্রির হাতুড়ি, রঙের গন্ধ আর নতুন বইয়ের সেই অপার্থিব সুবাস।
১ দিন আগে
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলেন। সেদিন সন্ধ্যায় আমি ভিয়েনার এক হোটেলে ছিলাম। সব ইঙ্গিত বলছিল ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং পারমাণবিক আলোচনার অন্য পক্ষগুলো একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেকেই আমাকে এমনটাই বলেছিলেন।
২ দিন আগে
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের আইনসভাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা তথা উচ্চকক্ষ গঠন আদৌ প্রয়োজন কি না, তা নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তবে এটাও ঠিক যে সংসদকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা তথা আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধনে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের লাগাম টানার উপায় কী—তা নিয়েও আলোচনার অবকাশ রয়েছে।
৩ দিন আগে