ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে পদার্পণ করলেও, নতুন সরকারের জন্য মসৃণ পথের চেয়ে কাঁটা বিছানো চ্যালেঞ্জই বেশি বলে মনে করি। গত ১৭ মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য এক অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে মব সন্ত্রাসের সংস্কৃতি জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা গেছে, এই সময়ে মব সন্ত্রাসে অন্তত ২৫৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতির এক ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে থানা থেকে লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ, যার একটি বড় অংশ এখনো অপরাধীদের হাতে থাকায় জননিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে।
বিএনপির সামনে এখন বড় পরীক্ষা—তারেক রহমানের ঘোষিত ‘প্ল্যান’ বাস্তবায়নে দলীয় কর্মীদের দখলদারি ও সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা। কয়েক জায়গায় নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অবশ্য নিজ দলের কিছু নেতাকর্মীর শৃংখলা ভঙ্গের কারণে ব্যবস্থা নিয়েছেন।
ঢাকা চেম্বারসহ ব্যবসায়িক মহল স্পষ্ট জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন ছাড়া অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয়। ফলে কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং সমাজ থেকে ‘মব সন্ত্রাস’ নির্মূল করে নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নতুন প্রশাসনের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। সাধারণ মানুষ এখন ব্যালটের সুরক্ষার পাশাপাশি রাজপথে নির্ভয়ে চলাচলের বাস্তব পরিবেশ দেখতে চায়।
মব সন্ত্রাসের বিভীষিকা: আইন হাতে তুলে নেয়ার সংস্কৃতি
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মব সন্ত্রাসে অন্তত ২৫৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতির এক ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে থানা থেকে লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ, যার প্রায় ১৫ শতাংশ অস্ত্র ও ৩০ শতাংশ গুলি এখনো অপরাধীদের হাতে থাকায় জননিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে। নবনির্বাচিত দল হিসেবে বিএনপির সামনে এখন বড় পরীক্ষা— জনাব তারেক রহমানের ঘোষিত ‘প্ল্যান’ বাস্তবায়নে দলীয় কর্মীদের দখলদারি ও সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা। তিনি এবিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিভিন্ন জায়গায় তা পালিত হতে দেখা গিয়েছে।
তারেক রহমান তার এক সাক্ষাৎকারে দেশে আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো এবং জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই তার প্রথম কাজ হবে বলে উল্লেখ করেছেন।
লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি: জননিরাপত্তায় প্রধান অন্তরায়
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল সময়ে থানা ও পুলিশ স্থাপনা থেকে লুণ্ঠিত অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ বর্তমানে জননিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, লুণ্ঠিত মোট ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ৮৫ শতাংশ বা ৪ হাজার ৪২৮টি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ১ হাজার ৩৩৫টি মারণাস্ত্র অপরাধীদের হাতে রয়ে গেছে।
গোলাবারুদের চিত্র আরও ভয়াবহ। লুট হওয়া ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গুলির মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ উদ্ধার হয়েছে, যার অর্থ এখনো ২ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি তাজা বুলেট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
এই নিখোঁজ অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে আধুনিক পিস্তল, সাব-মেশিনগান ও স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, যা বর্তমানে পেশাদার অপরাধী, উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক ক্যাডারদের ডেরায় মজুত থাকার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সীমান্ত পথে আসা অবৈধ ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র ও আইইডি তৈরির সরঞ্জামের আশঙ্কাজনক অনুপ্রবেশ, যা গত এক বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চলমান রয়েছে, তবুও এই বিশাল পরিমাণ উদ্ধারহীন অস্ত্র ও গুলি সাধারণ ভোটার এবং জনমনে গভীর আস্থার সংকট তৈরি করেছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা অপরাধীরা এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে নাশকতা চালাতে পারে। বিশেষ করে আড়াই লাখের বেশি তাজা বুলেটের হদিস না পাওয়া যেকোনো মুহূর্তের বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই কেবল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, বরং এই অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি থামিয়ে জনজীবনে স্বস্তি ফেরানোই নতুন সরকারের জন্য এখন এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষা।
রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা: ‘প্ল্যান’ বনাম মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে তারেক রহমান একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশের ‘প্ল্যান’ পেশ করলেও মাঠপর্যায়ে দলীয় কর্মীদের বিশৃঙ্খলা এখন নতুন সরকারের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ। গত ১৭ মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহিংসতার একটি বিশাল অংশই ছিল বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, যেখানে ১৯২টি সংঘর্ষে ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ৩৮০ জন।
নির্বাচনের পরপরই মুন্সীগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থককে হত্যার অভিযোগ এবং দেশজুড়ে ৬৬টি সহিংস ঘটনায় ৭৩ জন আহত হওয়ার খবর সংকেত দিচ্ছে যে, কেন্দ্রের কঠোর বার্তা মাঠপর্যায়ে এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। আধিপত্য বিস্তার, দখলদারি ও প্রতিশোধপরায়ণতার এই চিত্র তারেক রহমানের ঘোষিত জনবান্ধব রূপকল্পকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার মূল সুর হলো—পরিবর্তন। মানুষ কেবল কাগজে-কলমে গণতন্ত্র চায় না, বরং রাজপথে ও দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তার শতভাগ গ্যারান্টি চায়। মব সন্ত্রাস যখন সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে ছাপিয়ে যায়, তখন রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।
২০০২ সালে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মাধ্যমে নিজের দলের অপরাধী নেতা-কর্মীদের দমনের যে ঐতিহাসিক উদাহরণ বিএনপি তৈরি করেছিল, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তেমন কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রশাসনের জন্য এখন বাধ্যতামূলক। দল ও সরকারকে আলাদা সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে কর্মীদের এই লাগামহীন আচরণ নতুন সরকারের সব অর্জনকে ম্লান করে দিতে পারে।
তারেক রহমান ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নত্তরে ‘রুল অভ ল’ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। তবে তা অন্যান্যদলের ন্যায় নিজদলের নেতাকর্মীদের জন্যও সমানহারে প্রযোজ্য হতে হবে।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও ব্যবসায়িক আস্থা
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কেবল সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর নয়, বরং সরাসরি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির ওপর নির্ভরশীল। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স (ডিসিসিআই) স্পষ্ট করেছে যে, দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে বিদেশি বিনিয়োগ থমকে যাবে এবং দেশীয় সাপ্লাই চেইন বা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতায় বেসরকারি খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পুষিয়ে নিতে একটি ব্যবসাবান্ধব ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই নতুন সরকারকে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকার: উত্তরণের পথ
রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন সরকারের উচিত হবে কোনো কালক্ষেপণ না করে প্রথম ১০০ দিনের জন্য একটি বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ হাতে নেওয়া। জননিরাপত্তা পুনরুদ্ধার, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার এবং মব সন্ত্রাস বন্ধের মাধ্যমে আইনের শাসনের প্রতি জনগণের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনাই হবে এই মেয়াদের মূল লক্ষ্য। কেবল প্রশাসনিক সংস্কার ও অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমেই একটি স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা সম্ভব।
পুলিশ বাহিনীর সংস্কার
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতির জন্য পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে একটি স্বাধীন ও পেশাদার সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। দলীয় লেজুড়বৃত্তির অবসান ঘটিয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাহিনীর ভেতরে চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনতে হবে। কেবল জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক পুলিশি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের মধ্যে হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার এবং মব কালচার প্রতিরোধ করা সম্ভব।
অস্ত্র উদ্ধার অভিযান
জননিরাপত্তার প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত নিখোঁজ ১ হাজার ৩৩৫টি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং আড়াই লাখের বেশি তাজা গোলাবারুদ উদ্ধারে দেশব্যাপী বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর মতো সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে চিহ্নিত অপরাধীদের আস্তানা থেকে লুণ্ঠিত এই মারণাস্ত্রগুলো উদ্ধার করা এখন সময়ের দাবি। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে এই অভিযানে গতি আনা সম্ভব হলে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি থামিয়ে জনমনে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল
মব সন্ত্রাসের মতো নৃশংস অপরাধ দমনে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আইনি প্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি পেলে মানুষের মধ্যে ‘আইন হাতে তুলে নেয়া’র বিপজ্জনক প্রবণতা হ্রাস পাবে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই হবে নতুন সরকারের প্রধান দায়বদ্ধতা।
দলীয় শৃঙ্খলা
রাজনৈতিক দল ও সরকারকে একীভূত করার চিরাচরিত সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে দলীয় পরিচয়ে চাঁদাবাজি বা সহিংসতায় জড়িতদের সরাসরি আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই—এই কঠোর বার্তাটি কেবল কাগজ-কলমে নয়, বরং দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করা নতুন সরকারের জন্য অপরিহার্য। দলীয় ক্যাডারদের লাগামহীন আচরণ কঠোরভাবে দমন করা সম্ভব হলে সাধারণ মানুষের মাঝে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ফিরবে। এটি নিশ্চিত করা গেলে নতুন সরকারের সব জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা সার্থকতা পাবে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার মূল সুর হলো—পরিবর্তন। মানুষ কেবল কাগজে-কলমে গণতন্ত্র চায় না, বরং রাজপথে ও দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তার শতভাগ গ্যারান্টি চায়। মব সন্ত্রাস যখন সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে ছাপিয়ে যায়, তখন রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। তাই নবনির্বাচিত সরকারের সামনে এটি কেবল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নয়, বরং একটি সুশৃঙ্খল ও আইনের শাসনে পরিচালিত বাংলাদেশ গড়ার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
নতুন প্রশাসনের উচিত হবে দ্রুততম সময়ে লুণ্ঠিত অস্ত্রের ঝনঝনানি থামানো এবং মব কালচার চিরতরে বিদায় করতে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সঙ্গে দলীয় প্রভাবমুক্ত পুলিশি ব্যবস্থা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই জনমনে আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়া গেলেই ১২ ফেব্রুয়ারির এই ঐতিহাসিক গণরায়ের প্রকৃত সার্থকতা আসবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক দৃঢ়তাই হতে পারে এই সংকট উত্তরণের একমাত্র রক্ষাকবচ।
- সুমন সুবহান: কবি ও কথাশিল্পী