জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

হরমুজ প্রণালী সংকট: বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ১৫: ১৯
স্ট্রিম গ্রাফিক

একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক। মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো অস্থিরতা মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেয়। বর্তমানে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (যুক্তরাষ্ট্র) ও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ (ইসরায়েল) শুরু করে।

এই যুদ্ধের মূল লক্ষ্য হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস এবং শাসক পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। যুদ্ধের শুরুতেই তেহরানে বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হয়েছেন। বর্তমানে যুদ্ধটি দ্বিতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে এবং ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ ধ্বংস করার দাবি করেছে। ইরান পাল্টা জবাবে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এবং ইরান কর্তৃক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ দুর্যোগের বার্তা দিচ্ছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল এবং আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই সংকট কেবল তেলের দাম বৃদ্ধি নয়, বরং শিল্প উৎপাদন, বাণিজ্য এবং সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এক অশনিসংকেত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

হরমুজ প্রণালীকে বলা হয় বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ‘ধমনি’। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই প্রণালীটি মাত্র ২১ থেকে ৩৩ মাইল প্রশস্ত । এই সরু সমুদ্রপথটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা কেবল সামরিক কোনো পদক্ষেপ নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্ত্র। চলমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইরানের এই কৌশলের পেছনে গভীর ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত উদ্দেশ্য রয়েছে। বিশ্বের মোট সমুদ্রজাত তেলের প্রায় ২১ শতাংশ এবং এলএনজির শতাংশ এই সরু পথ দিয়ে যায়। ইরান জানে যে এই পথটি বন্ধ করলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে, যা আমেরিকা ও তার মিত্রদের অর্থনীতিতে ধস নামাবে।

ইরান এই পথটিকে অসম যুদ্ধের কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করছে। আমেরিকার বিশাল নৌবহরের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জেতা কঠিন হলেও, ইরান তার ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা নিয়ে ছোট বোট, ড্রোন এবং মাইন ব্যবহার করে সহজেই এই পথটি অকেজো করে দিতে পারে এবং ইরান সেই পদক্ষেপই গ্রহণ করেছে। এটি ইরানকে একটি ‘বারগেইনিং চিপ’ বা দর কষাকষির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারেও এই পদক্ষেপটি গুরুত্বপূর্ণ।

হরমুজ প্রণালী বন্ধের মাধ্যমে ইরান মূলত সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার এবং আরব আমিরাতকে বার্তা দিতে চায় যে, তারা যদি আমেরিকাকে সহায়তা করে, তবে তাদের প্রধান বাণিজ্যিক পথটি অনিরাপদ হয়ে পড়বে। যুদ্ধাবস্থায় এই পথটি বন্ধ হওয়া মানে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধস নামা। বর্তমান সংঘাতে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যেই ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮০-৮২ ডলারে পৌঁছেছে, যা দীর্ঘস্থায়ী হলে ১২০-১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালীর এই পথটি অনিরাপদ হওয়ার সাথে সঙ্গে জাহাজগুলোর ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। অনেক কোম্পানি তাদের জাহাজ এই পথে পাঠাতে চাচ্ছে না, ফলে সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং ভারতের মতো আমেরিকার মিত্ররা তাদের জ্বালানির বড় অংশের জন্য এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। এটি বন্ধ হওয়া মানে এই দেশগুলোর শিল্প উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়া, যা পরোক্ষভাবে আমেরিকার বৈশ্বিক মিত্র জোটকে দুর্বল করে দিবে।

সামুদ্রিক পরিবহন ব্যয় বা শিপিং চার্জ বেড়ে গেলে রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে সবজি ও হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি ব্যাহত হলে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকেরাও উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জ্বালানি ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের প্রায় ১০০ শতাংশ এবং এলএনজির একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে মেটায়। বিশেষ করে সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতার থেকে আসা জ্বালানি এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই বাংলাদেশে পৌঁছায়।

বর্তমানে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস এই প্রণালীর বিভিন্ন পয়েন্টে সামরিক নজরদারি বৃদ্ধি করায় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের জাহাজের রুট পরিবর্তন করে আফ্রিকার ‘কেপ অফ গুড হোপ’ দিয়ে ঘুরে যাচ্ছে, তবে এটি মূল পথের চেয়ে প্রায় ৮ হাজার-১০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ, যা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পণ্য আনা-নেওয়ার খরচ ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে দেবে। তেলের উচ্চমূল্যের কারণে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে। বর্তমান বাংলাদেশ যখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে, তখন জ্বালানি বাবদ অতিরিক্ত ডলার পরিশোধ করতে গিয়ে রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হবে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি একটি ‘ডোমিনো ইফেক্ট’ তৈরি করে। বাংলাদেশের জ্বালানির বড় অংশ আমদানিনির্ভর। রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন অনুযায়ী দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বা সরবরাহ ব্যাহত হলে দেশের বাজারে দ্রুত চাপ তৈরি হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের কারণে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশে আতঙ্কজনিত কেনাকাটা শুরু হয়েছে এবং সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি বিক্রিতে দৈনিক সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে যাতে জ্বালানির সংকট না হয়, তাই ৮ মার্চ রবিবার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতি মন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তাই বলা যায় যে জ্বালানি সংকট কেবল দাম নয়, সরবরাহ ব্যবস্থাকেও অস্থির করে তোলবে।

ডিজেল বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জ্বালানি। মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৭৩ শতাংশ ডিজেল। পরিবহন খাতের ৯০ শতাংশের বেশি যানবাহন ডিজেলনির্ভর, ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে তাৎক্ষনিক প্রভাব পড়ে পরিবহন খাতে। এর প্রভাবে বাস ও ট্রাক ভাড়া, পণ্য পরিবহন ব্যয় ও লজিস্টিক খরচ বৃদ্ধি পায়। ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে যে জ্বালানির দাম বাড়লে ফ্রেইট খরচ বেড়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে। বাংলাদেশের বাজারে অধিকাংশ পণ্য গ্রাম থেকে শহরে আসে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে সেই খরচ সরাসরি পণ্যের দামে যুক্ত হয়।

ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে সব ধরনের পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে সবজি, ফল, চাল, ডাল ইত্যাদি খাদ্যপণ্যের মূল্য দ্রুত বাড়ে। কারণ ব্যবসায়ীরা পরিবহন খরচ বৃদ্ধিকে মূল্য বৃদ্ধির যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করেন। বাংলাদেশের কৃষি খাতে ডিজেলের ব্যবহার ব্যাপক। ডিজেল ব্যবহার হয়-সেচ পাম্পে,ধান মাড়াই মেশিনে, কৃষিযন্ত্রে। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে সেচ ব্যয় ও কৃষি উৎপাদন খরচ বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্যের বাজারমূল্য বৃদ্ধি করে। এর ফলে সম্ভাব্য প্রভাবে খাদ্য উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কৃষকের লাভ কমে যাওয়া, খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

শিল্প খাতেও জ্বালানির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি শিল্প উৎপাদনের ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে অনেক ক্ষেত্রে শিল্প উৎপাদন ব্যয় ১০-১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বহু কারখানাকে বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটরের উপর নির্ভর করতে হয়, যা উৎপাদন খরচকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এর ফলশ্রুতিতে রপ্তানি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস পায় এবং শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের ওপরও চাপ সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রাকৃতিক গ্যাস ও আমদানিকৃত জ্বালানিনির্ভর। বিশেষত আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ফার্নেস অয়েল বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলএনজি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যেতে পারে এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ে উৎপাদনশীল খাতে, বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পে। তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনেক কারখানাকে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হয়। জ্বালানির দাম বাড়লে এই বিকল্প ব্যবস্থার ব্যয়ও দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা পোশাক উৎপাদনের মোট খরচ বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবহৃত অনেক সিনথেটিক ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তু মূলত পেট্রোকেমিক্যালভিত্তিক হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে এসব কাঁচামালের দামও বৃদ্ধি পায়। ফলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের মূল্য প্রতিযোগিতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার শংকা রয়েছে। যদিও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রধান নৌপথ সরাসরি হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরশীল নয়, তবুও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংকটের কারণে বৈশ্বিক শিপিং বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।

সামুদ্রিক পরিবহন ব্যয় বা শিপিং চার্জ বেড়ে গেলে রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে সবজি ও হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি ব্যাহত হলে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকেরাও উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করে। কারণ পরিবহন খরচ, উৎপাদন খরচ, খাদ্যদ্রব্যের দাম এবং শিল্প খাতে ব্যয় বাড়ে। এই সম্মিলিত প্রভাবকে অর্থনীতিবিদরা ‘কস্ট-পুশ ইনফ্লেশন’ (উৎপাদন ব্যয়জনিত মুদ্রাস্ফীতি) বলে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সমগ্র অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করবে। শেষ পর্যন্ত এই সব প্রভাব এসে পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। যার ফলে বাস ভাড়া, বাজার খরচ, বিদ্যুৎ ও ভাড়াবাড়ির খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রকৃত আয় কমে যাবে। যদি মজুরি একই থাকে, তাহলে বাস্তবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে।

হরমুজ প্রণালীর সংকট বাংলাদেশের সামনে এক বহুমুখী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারকে দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পরিকল্পনা করতে হবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। ভূ-রাজনৈতিক এই অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা ও সঠিক অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই।

লেখক: শিক্ষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সম্পর্কিত