সরদার ফরিদ আহমদ

রাষ্ট্র পরিচালনার একটি মৌলিক সত্য আছে। ক্ষমতা কখনও চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু ক্ষমতায় থাকলে অনেকেই এ সহজ সত্য ভুলে যান। তখন সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা কমে যায়। বিরোধী মতকে দেখা হয় হুমকি হিসেবে। এখানেই শুরু হয় বিপদ। ইদানিং আমরা এমনই এক প্রবণতা দেখছি। সরকারের কোনো কাজের সমালোচনা করলেই তাকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রশ্ন তুললেই সন্দেহ। মত দিলেই অপবাদ। এটি শুধু অস্বস্তিকর নয়; আত্মঘাতীও। গণতন্ত্রে সমালোচনা অক্সিজেনের মতো। এটি না থাকলে ব্যবস্থাটি দম বন্ধ হয়ে মারা যায়।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। সমালোচনা মানেই সরকার বিরোধিতা নয়। সমালোচনা মানে ভুল ধরিয়ে দেওয়া। বিকল্প পথ দেখানো। সতর্ক করা। জন স্টুয়ার্ট মিল বলেছিলেন, ‘যে মতকে চ্যালেঞ্জ করা যায় না, তা সত্য হলেও জীবন্ত থাকে না।’ অর্থাৎ প্রশ্নহীনতা সত্যকেও দুর্বল করে দেয়। কিন্তু যখন রাষ্ট্র সমালোচনা সহ্য করতে পারে না, তখন সেটি নিজেই দুর্বল হয়ে পড়ে।
কেন সমালোচনা সহ্য করা হয় না? এর পেছনে থাকে ভয়। ক্ষমতা হারানোর ভয়। ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার ভয়। নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়। এ ভয় থেকেই আসে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করা। বিরোধী কণ্ঠ দমন করা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো। হান্নাহ আরনেন্ট বলেছিলেন, ‘ক্ষমতা ও সহিংসতা এক জিনিস নয়। যেখানে ক্ষমতা দুর্বল হয়, সেখানে সহিংসতা বাড়ে।’ সমালোচনা দমন করা সেই দুর্বলতারই লক্ষণ।
খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। আমরা দেখেছি, কীভাবে এক সময় সমালোচনার সব পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মিডিয়া হয়ে উঠেছিল দলীয় মুখপত্র। সাংবাদিকতা হারিয়েছিল নিরপেক্ষতা। ফল কী হয়েছিল? সত্য আড়ালে চলে গিয়েছিল। ভুলগুলো জমে জমে পাহাড় হয়েছিল। এক সময় সেই পাহাড় ভেঙে পড়ে। শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। ইতিহাসের একটি নির্মম নিয়ম আছে। আপনি যদি ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেন, ইতিহাস আপনাকে শিক্ষা দেবে।
আরেকটি বিপজ্জনক প্রবণতা হলো, দল ও সরকারকে একাকার করে ফেলা। রাষ্ট্র তো সবার। সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। দল একটি রাজনৈতিক সংগঠন। এ তিনটি জিনিস আলাদা হওয়া জরুরি। কিন্তু যখন দলই রাষ্ট্র হয়ে যায়, তখন শুরু হয় সমস্যা। ম্যাক্স ওয়েবার রাষ্ট্রকে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন একটি বৈধ কর্তৃত্বের কাঠামো হিসেবে। সেটি যদি দলীয় হয়ে যায়, তাহলে বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তখন প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকে না। আইনের প্রয়োগ হয় বেছে বেছে। বিচার হয়ে যায় পক্ষপাতদুষ্ট।
একটি সুস্থ গণতন্ত্রে পেশাজীবী সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। নীতির সমালোচনা করে। বিকল্প প্রস্তাব দেয়। কিন্তু যখন এ সংগঠনগুলো দলীয় অঙ্গ সংগঠনে পরিণত হয়, তখন তাদের স্বাধীনতা হারিয়ে যায়। তারা আর জনগণের পক্ষে কথা বলে না। দলের পক্ষে কথা বলে।
রবার্ট ডাল গণতন্ত্রের একটি শর্ত হিসেবে ‘পলিয়ার্কি’ বা বহুমতের উপস্থিতির কথা বলেছিলেন। অর্থাৎ বিভিন্ন শক্তি ও মতের ভারসাম্য থাকতে হবে। পেশাজীবী সংগঠনগুলো যদি একমুখী হয়ে যায়, তাতে সেই ভারসাম্য নষ্ট হয়। সেটি বিপুলভাবে হচ্ছে। ফলে পেশাজীবী সংগঠনগুলো মর্যাদা ও গুরুত্ব দুই-ই হারাচ্ছে।
বাকস্বাধীনতা গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড। এটি কেবল অধিকার নয়; একটি প্রয়োজন। যখন মানুষ কথা বলতে ভয় পায়, তখন সত্য চাপা পড়ে যায়। নোয়াম চমস্কি বলেছেন, ‘যদি আমরা এমন মত প্রকাশের স্বাধীনতা না দিই, যা অপছন্দ করি, তাহলে আমাদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস নেই।’ আজ যদি সমালোচনার অধিকার সংকুচিত হয়, কাল সেটি সম্পূর্ণ হারিয়ে যেতে পারে। আতঙ্কিত হচ্ছেন অনেকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করছে। মব হচ্ছে আজও। প্রশ্ন উঠেছে, পুরনো ধারা কি ফিরে আসবে? একটি নির্বাচিত সরকারের সময় এই প্রশ্ন উঠবে কেন? যখন সমালোচনা দমন করা হয়, তখন সমাজে নীরবতা তৈরি হয়। কেউ কথা বলে না। প্রশ্ন তোলে না। কিন্তু এ নীরবতা শান্তির নয়। এটি চাপা ক্ষোভের। ক্ষোভ এক সময় বিস্ফোরিত হয়।
ক্ষমতার চারপাশে সব সময় তোষামোদকারীরা থাকে। তারা ভুলকে ঠিক বলে। দুর্বলতাকে শক্তি বলে। শাসককে বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এটি শাসকের কাছে মিষ্টি লাগে। কিন্তু রাষ্ট্রের জন্য এটি বিষ। কারণ তোষামোদ সত্যকে ঢেকে দেয়। আমরা চারদিকে তোষামোদকারীর ভিড় দেখছি। এদের ভিড়ে ত্যাগীরা হারিয়ে যাচ্ছে।
একটি বড় অভিযোগ— আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করা হচ্ছে। সরকারি দলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের জবাব জনগণ পাচ্ছে না। গণতন্ত্রে জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নের উত্তর না দিলে সন্দেহও বাড়ে।
একজন শাসকের সবচেয়ে বড় শক্তি সমালোচনা শোনার ক্ষমতা। জাঁ জ্যাক রুশো বলেছিলেন, ‘সার্বভৌমত্ব জনগণের।’ অর্থাৎ জনগণের মতই শেষ কথা। জনগণ যদি কথা বলতে না পারে, তাহলে সেই সার্বভৌমত্ব অর্থহীন হয়ে যায়। বিরোধী কণ্ঠকে শত্রু ভাবা বড় ভুল। বরং এটি সম্পদ। বিরোধীরা ভুল ধরিয়ে দেয়। বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে। তাদের চুপ করিয়ে দিলে সরকার নিজেই অন্ধ হয়ে যায়।
মিডিয়া হলো গণতন্ত্রের প্রহরী। তাদের কাজ প্রশ্ন করা। তথ্য তুলে ধরা। সত্য প্রকাশ করা। যদি মিডিয়া দলীয় হয়ে যায়, তাহলে সেই প্রহরী অন্ধ হয়ে যায়। তখন রাষ্ট্রের ভেতরের সমস্যা বাইরে আসে না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, আমরা কি একই ভুল আবার করছি? ইতিহাসের চাকা কি একই জায়গায় ফিরে যাচ্ছে? যদি তাই হয়, তাহলে ফলও একই হতে পারে।
ক্ষমতার একটি সীমা আছে। সেটি হলো জনগণের আস্থা। তার আস্থা হারালে ক্ষমতা টেকে না। সমালোচনা দমন করে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা বুমেরাং হয়। সমাধান জটিল নয়; কিন্তু কঠিন। সরকারকে সমালোচনা গ্রহণ করতে হবে। ভিন্নমতকে সম্মান করতে হবে। দল ও রাষ্ট্রকে আলাদা রাখতে হবে। পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে স্বাধীন থাকতে দিতে হবে। মিডিয়াকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।
বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে। একদিকে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার সুযোগ। অন্যদিকে ভুল পথে হাঁটার ঝুঁকি। সমালোচনাকে শত্রু ভাবাটা হলো সেই ভুল পথের শুরু। ইতিহাস আমাদের আগেও সতর্ক করেছে। এখনও করছে। প্রশ্ন একটাই, সরকার কি সেই সতর্কবার্তা শুনবে? নাকি একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে? উত্তর নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।
লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন

রাষ্ট্র পরিচালনার একটি মৌলিক সত্য আছে। ক্ষমতা কখনও চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু ক্ষমতায় থাকলে অনেকেই এ সহজ সত্য ভুলে যান। তখন সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা কমে যায়। বিরোধী মতকে দেখা হয় হুমকি হিসেবে। এখানেই শুরু হয় বিপদ। ইদানিং আমরা এমনই এক প্রবণতা দেখছি। সরকারের কোনো কাজের সমালোচনা করলেই তাকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রশ্ন তুললেই সন্দেহ। মত দিলেই অপবাদ। এটি শুধু অস্বস্তিকর নয়; আত্মঘাতীও। গণতন্ত্রে সমালোচনা অক্সিজেনের মতো। এটি না থাকলে ব্যবস্থাটি দম বন্ধ হয়ে মারা যায়।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। সমালোচনা মানেই সরকার বিরোধিতা নয়। সমালোচনা মানে ভুল ধরিয়ে দেওয়া। বিকল্প পথ দেখানো। সতর্ক করা। জন স্টুয়ার্ট মিল বলেছিলেন, ‘যে মতকে চ্যালেঞ্জ করা যায় না, তা সত্য হলেও জীবন্ত থাকে না।’ অর্থাৎ প্রশ্নহীনতা সত্যকেও দুর্বল করে দেয়। কিন্তু যখন রাষ্ট্র সমালোচনা সহ্য করতে পারে না, তখন সেটি নিজেই দুর্বল হয়ে পড়ে।
কেন সমালোচনা সহ্য করা হয় না? এর পেছনে থাকে ভয়। ক্ষমতা হারানোর ভয়। ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার ভয়। নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়। এ ভয় থেকেই আসে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করা। বিরোধী কণ্ঠ দমন করা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো। হান্নাহ আরনেন্ট বলেছিলেন, ‘ক্ষমতা ও সহিংসতা এক জিনিস নয়। যেখানে ক্ষমতা দুর্বল হয়, সেখানে সহিংসতা বাড়ে।’ সমালোচনা দমন করা সেই দুর্বলতারই লক্ষণ।
খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। আমরা দেখেছি, কীভাবে এক সময় সমালোচনার সব পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মিডিয়া হয়ে উঠেছিল দলীয় মুখপত্র। সাংবাদিকতা হারিয়েছিল নিরপেক্ষতা। ফল কী হয়েছিল? সত্য আড়ালে চলে গিয়েছিল। ভুলগুলো জমে জমে পাহাড় হয়েছিল। এক সময় সেই পাহাড় ভেঙে পড়ে। শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। ইতিহাসের একটি নির্মম নিয়ম আছে। আপনি যদি ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেন, ইতিহাস আপনাকে শিক্ষা দেবে।
আরেকটি বিপজ্জনক প্রবণতা হলো, দল ও সরকারকে একাকার করে ফেলা। রাষ্ট্র তো সবার। সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। দল একটি রাজনৈতিক সংগঠন। এ তিনটি জিনিস আলাদা হওয়া জরুরি। কিন্তু যখন দলই রাষ্ট্র হয়ে যায়, তখন শুরু হয় সমস্যা। ম্যাক্স ওয়েবার রাষ্ট্রকে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন একটি বৈধ কর্তৃত্বের কাঠামো হিসেবে। সেটি যদি দলীয় হয়ে যায়, তাহলে বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তখন প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকে না। আইনের প্রয়োগ হয় বেছে বেছে। বিচার হয়ে যায় পক্ষপাতদুষ্ট।
একটি সুস্থ গণতন্ত্রে পেশাজীবী সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। নীতির সমালোচনা করে। বিকল্প প্রস্তাব দেয়। কিন্তু যখন এ সংগঠনগুলো দলীয় অঙ্গ সংগঠনে পরিণত হয়, তখন তাদের স্বাধীনতা হারিয়ে যায়। তারা আর জনগণের পক্ষে কথা বলে না। দলের পক্ষে কথা বলে।
রবার্ট ডাল গণতন্ত্রের একটি শর্ত হিসেবে ‘পলিয়ার্কি’ বা বহুমতের উপস্থিতির কথা বলেছিলেন। অর্থাৎ বিভিন্ন শক্তি ও মতের ভারসাম্য থাকতে হবে। পেশাজীবী সংগঠনগুলো যদি একমুখী হয়ে যায়, তাতে সেই ভারসাম্য নষ্ট হয়। সেটি বিপুলভাবে হচ্ছে। ফলে পেশাজীবী সংগঠনগুলো মর্যাদা ও গুরুত্ব দুই-ই হারাচ্ছে।
বাকস্বাধীনতা গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড। এটি কেবল অধিকার নয়; একটি প্রয়োজন। যখন মানুষ কথা বলতে ভয় পায়, তখন সত্য চাপা পড়ে যায়। নোয়াম চমস্কি বলেছেন, ‘যদি আমরা এমন মত প্রকাশের স্বাধীনতা না দিই, যা অপছন্দ করি, তাহলে আমাদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস নেই।’ আজ যদি সমালোচনার অধিকার সংকুচিত হয়, কাল সেটি সম্পূর্ণ হারিয়ে যেতে পারে। আতঙ্কিত হচ্ছেন অনেকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করছে। মব হচ্ছে আজও। প্রশ্ন উঠেছে, পুরনো ধারা কি ফিরে আসবে? একটি নির্বাচিত সরকারের সময় এই প্রশ্ন উঠবে কেন? যখন সমালোচনা দমন করা হয়, তখন সমাজে নীরবতা তৈরি হয়। কেউ কথা বলে না। প্রশ্ন তোলে না। কিন্তু এ নীরবতা শান্তির নয়। এটি চাপা ক্ষোভের। ক্ষোভ এক সময় বিস্ফোরিত হয়।
ক্ষমতার চারপাশে সব সময় তোষামোদকারীরা থাকে। তারা ভুলকে ঠিক বলে। দুর্বলতাকে শক্তি বলে। শাসককে বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এটি শাসকের কাছে মিষ্টি লাগে। কিন্তু রাষ্ট্রের জন্য এটি বিষ। কারণ তোষামোদ সত্যকে ঢেকে দেয়। আমরা চারদিকে তোষামোদকারীর ভিড় দেখছি। এদের ভিড়ে ত্যাগীরা হারিয়ে যাচ্ছে।
একটি বড় অভিযোগ— আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করা হচ্ছে। সরকারি দলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের জবাব জনগণ পাচ্ছে না। গণতন্ত্রে জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নের উত্তর না দিলে সন্দেহও বাড়ে।
একজন শাসকের সবচেয়ে বড় শক্তি সমালোচনা শোনার ক্ষমতা। জাঁ জ্যাক রুশো বলেছিলেন, ‘সার্বভৌমত্ব জনগণের।’ অর্থাৎ জনগণের মতই শেষ কথা। জনগণ যদি কথা বলতে না পারে, তাহলে সেই সার্বভৌমত্ব অর্থহীন হয়ে যায়। বিরোধী কণ্ঠকে শত্রু ভাবা বড় ভুল। বরং এটি সম্পদ। বিরোধীরা ভুল ধরিয়ে দেয়। বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে। তাদের চুপ করিয়ে দিলে সরকার নিজেই অন্ধ হয়ে যায়।
মিডিয়া হলো গণতন্ত্রের প্রহরী। তাদের কাজ প্রশ্ন করা। তথ্য তুলে ধরা। সত্য প্রকাশ করা। যদি মিডিয়া দলীয় হয়ে যায়, তাহলে সেই প্রহরী অন্ধ হয়ে যায়। তখন রাষ্ট্রের ভেতরের সমস্যা বাইরে আসে না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, আমরা কি একই ভুল আবার করছি? ইতিহাসের চাকা কি একই জায়গায় ফিরে যাচ্ছে? যদি তাই হয়, তাহলে ফলও একই হতে পারে।
ক্ষমতার একটি সীমা আছে। সেটি হলো জনগণের আস্থা। তার আস্থা হারালে ক্ষমতা টেকে না। সমালোচনা দমন করে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা বুমেরাং হয়। সমাধান জটিল নয়; কিন্তু কঠিন। সরকারকে সমালোচনা গ্রহণ করতে হবে। ভিন্নমতকে সম্মান করতে হবে। দল ও রাষ্ট্রকে আলাদা রাখতে হবে। পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে স্বাধীন থাকতে দিতে হবে। মিডিয়াকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।
বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে। একদিকে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার সুযোগ। অন্যদিকে ভুল পথে হাঁটার ঝুঁকি। সমালোচনাকে শত্রু ভাবাটা হলো সেই ভুল পথের শুরু। ইতিহাস আমাদের আগেও সতর্ক করেছে। এখনও করছে। প্রশ্ন একটাই, সরকার কি সেই সতর্কবার্তা শুনবে? নাকি একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে? উত্তর নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।
লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন

তীব্র গরমের কারণে জনজীবন ভোগান্তির মুখে পড়েছে। এটাকে বলা যায় এক ধরণের জনস্বাস্থ্যের বিপদ। চলমান এই তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ২০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
৫ ঘণ্টা আগে
২২ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে আর্থ ডে বা ‘ধরিত্রী দিবস’ পালিত হয়। তবে বাংলাদেশের জন্য এটি কেবল লোকদেখানো কোনো অনুষ্ঠান হওয়া উচিত নয়। জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর শুধু বিজ্ঞানীদের আলোচনার বিষয় নয়, এটি আমাদের প্রতিদিনের কঠিন বাস্তবতা।
৬ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ আজ এমন এক সাংস্কৃতিক ও আত্মিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে শুধু সংস্কৃতি নয়, জ্ঞান, বিশ্বাস এবং মানুষের নিজস্ব উপলব্ধির পথও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে
বিএনপির সঙ্গে বছরের পর বছর আমাদের জোট ছিল। তো ১১-দলীয় ঐক্যের জোটও দীর্ঘমেয়াদি হবে– এটি আমরা প্রত্যাশা করি। জোটকে শুধু মজবুত নয়, টিকিয়ে রাখার স্বার্থেও সংরক্ষিত আসনে ছাড় দিয়েছে জামায়াত।
১২ ঘণ্টা আগে