জসিম আল-আজাওয়ি

পশ্চিমা নীতিনির্ধারকরা পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজ, নিষেধাজ্ঞা আর প্রক্সি মিলিশিয়া নিয়েই সবসময় ব্যস্ত থাকেন। তারা ইরানের অস্তিত্বের সবথেকে বড় হুমকি চিহ্নিত করতে পারছেন না। এই হুমকি খোদ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিজের সন্তানেরা। ইরান এখন আর সেই বিপ্লবী রাষ্ট্র নেই। বর্তমানে ইরান ভীত ও কোণঠাসা ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। তারা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইছে। শাসকরা এখন শুধু আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ বা ইসরায়েলি বিমানকে ভয় পায় না। তাদের আসল ভয় স্মার্টফোন হাতে থাকা কিশোর-কিশোরীদের। এদের চোখে দেশ বদলানোর স্বপ্ন। বাবা-মায়ের পরাধীনতার শিকল নিজের পায়ে জড়াতে এরা নারাজ।
ইরানের মোট জনসংখ্যার ষাট শতাংশেরই বয়স ত্রিশের নিচে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লব তারা দেখেনি। প্যারিস থেকে খোমেনির ফিরে আসার সময় তারা স্লোগান দেয়নি। তাদের কাছে পাগড়ির মধ্যে কোনো পবিত্রতা নেই। শহীদদের কবরে তারা কোনো মুক্তি খোঁজে না। ক্ষোভে লাল হয়ে থাকা চোখে তারা কেবল চরম ব্যর্থতাই দেখতে পায়। এই প্রজন্ম বড় হয়েছে ভাঙা প্রতিশ্রুতির মধ্যে। তাদের চোখের সামনে স্বপ্নগুলো মিলিয়ে গেছে। তারা মুদ্রার মান ধসে পড়তে দেখেছে। একনায়কতন্ত্রের ভণ্ডামি তাদের কাছে পরিষ্কার। তারা দেখছে একদল শাসক শ্রেণি দেশ চালানোর থেকে মানুষের চুল পাহারা দিতেই বেশি ব্যস্ত। এই শাসকরা মানুষের আনন্দ হত্যা করতে তৎপর।
২০২২ সালে নীতি পুলিশের হেফাজতে মাশা আমিনির মৃত্যু ঘটনায় ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশ্ববাসী ভেবেছিল এই বিক্ষোভ কেবল হিজাব আইনের বিরুদ্ধে। কিন্তু আসলে বিষয় তা ছিল না, ছিল এক প্রজন্মের বিদ্রোহ। তরুণীরা তাদের হিজাব বা স্কার্ফ ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল। তারা কেবল পোশাকের নিয়ম অমান্য করেনি। তারা পুরো ধর্মীয় কর্তৃত্বকেই প্রত্যাখ্যান করেছিল। পুরো ইরানজুড়ে যে স্লোগান ধ্বনিত হয়েছিল তা এক টুকরো কাপড় নিয়ে ছিল না, ছিল মুক্তির স্লোগান। তাদের না বলা ও মাঝে মাঝে চিৎকার করে বলা সত্যটা ছিল স্পষ্ট। তারা বুঝিয়ে দিয়েছিল, ‘তোমাদের এই ইসলামি প্রজাতন্ত্র আমরা চাই না।’
ইরানের শাসকরা এই বিপদ বুঝতে পেরেছে। সেই আতঙ্কে তারা অস্থির। এ কারণেই তারা জনকল্যাণের চেয়ে দমন-পীড়নে বেশি অর্থ ও সময় ব্যয় করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন সামরিক ঘাঁটির মতো হয়ে গেছে। জানাজার নামাজগুলো একেকটা সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়। ফুটবল স্টেডিয়ামগুলো হয়ে উঠেছে রণক্ষেত্র। শাসকদের দুঃস্বপ্নই তাদের এমন নিষ্ঠুরতার কারণ। এক বিশাল জনসমুদ্র জেগে উঠেছে। তারা ক্ষমতার মসনদ গুঁড়িয়ে দিতে এগিয়ে আসছে।
ইরানে জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। তরুণদের বেকারত্বের হার পঁচিশ শতাংশের কাছাকাছি। প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবী তরুণ দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ইরানের নেতৃত্বের গড় বয়স কেবল বাড়ছেই। অন্যদিকে তরুণদের ধৈর্য ফুরিয়ে গিয়ে তা ক্ষোভে পরিণত হচ্ছে। কোনো শাসকগোষ্ঠী দেশটা চালাচ্ছে না। একদল বৃদ্ধ অভিজাততন্ত্র ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছে। অথচ দেশটির ভবিষ্যৎ বাঁচার জন্য অক্সিজেন খুঁজছে।
ইরানে ধর্মীয় নেতারা তাদের শাসন টিকিয়ে রেখেছে মূলত দুটি খুঁটির ওপর। প্রথমটি হলো ভয়। বাসিজ ও রেভল্যুশনারি গার্ডের লোহার মুষ্টি দিয়ে এই ভয় দেখানো হয়। দ্বিতীয়টি হলো ঐশ্বরিক বিপ্লবের মিথ বা কল্পকাহিনি। এই মিথ ব্যবহার করে তারা আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে পবিত্র যুদ্ধের বুলি আওড়ায়। কিন্তু প্রাত্যহিক জীবন যখন দুর্দশায় ভরে ওঠে তখন মিথ মারা যায়। দমন-পীড়ন যখন অভ্যাসে পরিণত হয় তখন ভয় কেটে যায়। যে প্রজন্মের হারানোর আর কিছুই নেই তাদের ভয় দেখিয়ে বশ করা যায় না।
ইরানের ভেতরের বিশ্লেষক ও সমালোচকরা সমাজব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছেন। তাদের মতে সমাজ ভেতর থেকেই পচে যাচ্ছে। দুর্নীতি সেখানে আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং কাঠামোগত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্মতাত্ত্বিকরা খোদাভীতির ওয়াজ করেন অথচ তাদের সন্তানরা টরন্টো আর ইস্তাম্বুলে বিলাসবহুল ভিলা কেনে। কর্মকর্তারা প্রতিরোধের কথা বলেন কিন্তু নিজেরা বিদেশে টাকা পাচার করেন। যখন কোটি কোটি টাকা হাওয়া হয়ে যায় তখন সাধারণ নাগরিককেই এর খেসারত দিতে হয়। এই ব্যবস্থাকে কোনোভাবেই ইসলামি ন্যায়বিচার বলা চলে না। ধর্মের আড়ালে একে সংঘবদ্ধ চুরি বলাই শ্রেয়।
এই কারণেই ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা কাউকে উজ্জীবিত কিংবা অনুপ্রাণিত করতে পারে না। তারা কেবল ভয়ই দেখাতে পারে। তবুও সেই ভীতি প্রদর্শনও এখন ভেঙে পড়ছে। নিরাপত্তা রাষ্ট্র হিসেবে ইরান ক্লান্ত। বুড়িয়ে যাওয়া সৈন্যরা নামমাত্র বেতনে বেঁচে আছে। নীতি পুলিশ দিয়ে তো আর পুরো একটা প্রজন্মকে গ্রেপ্তার করা যায় না। সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করতে পারে কিন্তু মানুষের স্মৃতি তারা মুছে দিতে পারে না। যে আদর্শকে ইরানের শাসনগোষ্ঠী নিজেই কবর দিয়েছে তা বিশ্বাস করার জন্য তরুণদের জোর করা অসম্ভব।
বিশ্ব বা আমেরিকার নীতির জন্য এর অর্থ কী দাঁড়ায়? আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যই বা এর মানে কী? ইরান বর্তমানে কোনো উদীয়মান শক্তিশালী বিপ্লব নয় বরং ভঙ্গুর ও পচনশীল ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থা। তারা নিজেদের তৈরি জনতাত্ত্বিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। বিদেশের মাটিতে তাদের সামরিক অভিযান কোনো শক্তির প্রমাণ নয়, এই সব অভিযান আসলে নিরাপত্তাহীনতার উৎস ও অর্থনীতির ওপর বোঝা। তারা বাইরের দিকে তর্জন-গর্জন করে কারণ তারা ভেতরে ধসে পড়ার ভয় পায়। আদর্শ রপ্তানির নেশায় তারা বিভ্রান্ত অথচ নিজেদের নাগরিকরাই ক্ষোভে জ্বলছে।
ওয়াশিংটন এখনো ইরানের এই দুর্বল জায়গা ধরতে পারেনি। ভিয়েনার আলোচনা বা ইসরায়েলের সঙ্গে ছায়াযুদ্ধ ইরানের ভাগ্য ঠিক করবে না। ইরানের ভাগ্য লেখা হবে শ্রেণিকক্ষ আর ছাত্রাবাসে, কলেজ ক্যাম্পাস আর গোপন আড্ডায়। এনক্রিপ্ট করা চ্যাট রুম আর তেহরানের শীতের রাতের ফিসফিসানি এর গতিপথ ঠিক করে দেবে। তরুণ ইরানিরাই সিদ্ধান্ত নেবে, তারা তাদের ভবিষ্যৎ কোনো পুরোনো ধর্মীয় মোড়লের হাতে সঁপে দিতে নারাজ।
ইরানে ইসলামি রাজনীতি এতটাই বুড়ো হয়ে গেছে যে, তা এখন ভেঙে পড়ছে ও পচে যাচ্ছে। সারা দেশে আন্দোলনরত তরুণ প্রজন্ম সংস্কারের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছে না। তারা কাঁপতে থাকা এই ইমারত ধসিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ইরানের শাসকরা ভিন্নমতাবলম্বীদের বন্দি করতে পারে, শহর অচল করতে পারে এমনকি রক্ত ঝরাতে পারে কিন্তু তারা ভালোবাসা আদায় করতে পারে না। কোনো শাসনব্যবস্থা যদি তার নিজের সন্তানদের ঘৃণার পাত্র হয় তবে তা টেকে না। আগাগোড়া সশস্ত্র হলেও তাদের রক্ষা নেই। বিষয়টা কোনো কৌশল নয়, এটাই ইতিহাস। সেই ইতিহাস ইতিমধ্যেই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দরজায় কড়া নাড়ছে।
লেখক: এমবিসি, আবুধাবি টিভি ও আল জাজিরাসহ বেশ কিছু সংবাদ প্রতিষ্ঠানে সংবাদ উপস্থাপক, অনুষ্ঠান উপস্থাপক ও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন।

পশ্চিমা নীতিনির্ধারকরা পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজ, নিষেধাজ্ঞা আর প্রক্সি মিলিশিয়া নিয়েই সবসময় ব্যস্ত থাকেন। তারা ইরানের অস্তিত্বের সবথেকে বড় হুমকি চিহ্নিত করতে পারছেন না। এই হুমকি খোদ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিজের সন্তানেরা। ইরান এখন আর সেই বিপ্লবী রাষ্ট্র নেই। বর্তমানে ইরান ভীত ও কোণঠাসা ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। তারা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইছে। শাসকরা এখন শুধু আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ বা ইসরায়েলি বিমানকে ভয় পায় না। তাদের আসল ভয় স্মার্টফোন হাতে থাকা কিশোর-কিশোরীদের। এদের চোখে দেশ বদলানোর স্বপ্ন। বাবা-মায়ের পরাধীনতার শিকল নিজের পায়ে জড়াতে এরা নারাজ।
ইরানের মোট জনসংখ্যার ষাট শতাংশেরই বয়স ত্রিশের নিচে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লব তারা দেখেনি। প্যারিস থেকে খোমেনির ফিরে আসার সময় তারা স্লোগান দেয়নি। তাদের কাছে পাগড়ির মধ্যে কোনো পবিত্রতা নেই। শহীদদের কবরে তারা কোনো মুক্তি খোঁজে না। ক্ষোভে লাল হয়ে থাকা চোখে তারা কেবল চরম ব্যর্থতাই দেখতে পায়। এই প্রজন্ম বড় হয়েছে ভাঙা প্রতিশ্রুতির মধ্যে। তাদের চোখের সামনে স্বপ্নগুলো মিলিয়ে গেছে। তারা মুদ্রার মান ধসে পড়তে দেখেছে। একনায়কতন্ত্রের ভণ্ডামি তাদের কাছে পরিষ্কার। তারা দেখছে একদল শাসক শ্রেণি দেশ চালানোর থেকে মানুষের চুল পাহারা দিতেই বেশি ব্যস্ত। এই শাসকরা মানুষের আনন্দ হত্যা করতে তৎপর।
২০২২ সালে নীতি পুলিশের হেফাজতে মাশা আমিনির মৃত্যু ঘটনায় ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশ্ববাসী ভেবেছিল এই বিক্ষোভ কেবল হিজাব আইনের বিরুদ্ধে। কিন্তু আসলে বিষয় তা ছিল না, ছিল এক প্রজন্মের বিদ্রোহ। তরুণীরা তাদের হিজাব বা স্কার্ফ ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল। তারা কেবল পোশাকের নিয়ম অমান্য করেনি। তারা পুরো ধর্মীয় কর্তৃত্বকেই প্রত্যাখ্যান করেছিল। পুরো ইরানজুড়ে যে স্লোগান ধ্বনিত হয়েছিল তা এক টুকরো কাপড় নিয়ে ছিল না, ছিল মুক্তির স্লোগান। তাদের না বলা ও মাঝে মাঝে চিৎকার করে বলা সত্যটা ছিল স্পষ্ট। তারা বুঝিয়ে দিয়েছিল, ‘তোমাদের এই ইসলামি প্রজাতন্ত্র আমরা চাই না।’
ইরানের শাসকরা এই বিপদ বুঝতে পেরেছে। সেই আতঙ্কে তারা অস্থির। এ কারণেই তারা জনকল্যাণের চেয়ে দমন-পীড়নে বেশি অর্থ ও সময় ব্যয় করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন সামরিক ঘাঁটির মতো হয়ে গেছে। জানাজার নামাজগুলো একেকটা সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়। ফুটবল স্টেডিয়ামগুলো হয়ে উঠেছে রণক্ষেত্র। শাসকদের দুঃস্বপ্নই তাদের এমন নিষ্ঠুরতার কারণ। এক বিশাল জনসমুদ্র জেগে উঠেছে। তারা ক্ষমতার মসনদ গুঁড়িয়ে দিতে এগিয়ে আসছে।
ইরানে জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। তরুণদের বেকারত্বের হার পঁচিশ শতাংশের কাছাকাছি। প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবী তরুণ দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ইরানের নেতৃত্বের গড় বয়স কেবল বাড়ছেই। অন্যদিকে তরুণদের ধৈর্য ফুরিয়ে গিয়ে তা ক্ষোভে পরিণত হচ্ছে। কোনো শাসকগোষ্ঠী দেশটা চালাচ্ছে না। একদল বৃদ্ধ অভিজাততন্ত্র ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছে। অথচ দেশটির ভবিষ্যৎ বাঁচার জন্য অক্সিজেন খুঁজছে।
ইরানে ধর্মীয় নেতারা তাদের শাসন টিকিয়ে রেখেছে মূলত দুটি খুঁটির ওপর। প্রথমটি হলো ভয়। বাসিজ ও রেভল্যুশনারি গার্ডের লোহার মুষ্টি দিয়ে এই ভয় দেখানো হয়। দ্বিতীয়টি হলো ঐশ্বরিক বিপ্লবের মিথ বা কল্পকাহিনি। এই মিথ ব্যবহার করে তারা আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে পবিত্র যুদ্ধের বুলি আওড়ায়। কিন্তু প্রাত্যহিক জীবন যখন দুর্দশায় ভরে ওঠে তখন মিথ মারা যায়। দমন-পীড়ন যখন অভ্যাসে পরিণত হয় তখন ভয় কেটে যায়। যে প্রজন্মের হারানোর আর কিছুই নেই তাদের ভয় দেখিয়ে বশ করা যায় না।
ইরানের ভেতরের বিশ্লেষক ও সমালোচকরা সমাজব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছেন। তাদের মতে সমাজ ভেতর থেকেই পচে যাচ্ছে। দুর্নীতি সেখানে আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং কাঠামোগত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্মতাত্ত্বিকরা খোদাভীতির ওয়াজ করেন অথচ তাদের সন্তানরা টরন্টো আর ইস্তাম্বুলে বিলাসবহুল ভিলা কেনে। কর্মকর্তারা প্রতিরোধের কথা বলেন কিন্তু নিজেরা বিদেশে টাকা পাচার করেন। যখন কোটি কোটি টাকা হাওয়া হয়ে যায় তখন সাধারণ নাগরিককেই এর খেসারত দিতে হয়। এই ব্যবস্থাকে কোনোভাবেই ইসলামি ন্যায়বিচার বলা চলে না। ধর্মের আড়ালে একে সংঘবদ্ধ চুরি বলাই শ্রেয়।
এই কারণেই ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা কাউকে উজ্জীবিত কিংবা অনুপ্রাণিত করতে পারে না। তারা কেবল ভয়ই দেখাতে পারে। তবুও সেই ভীতি প্রদর্শনও এখন ভেঙে পড়ছে। নিরাপত্তা রাষ্ট্র হিসেবে ইরান ক্লান্ত। বুড়িয়ে যাওয়া সৈন্যরা নামমাত্র বেতনে বেঁচে আছে। নীতি পুলিশ দিয়ে তো আর পুরো একটা প্রজন্মকে গ্রেপ্তার করা যায় না। সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করতে পারে কিন্তু মানুষের স্মৃতি তারা মুছে দিতে পারে না। যে আদর্শকে ইরানের শাসনগোষ্ঠী নিজেই কবর দিয়েছে তা বিশ্বাস করার জন্য তরুণদের জোর করা অসম্ভব।
বিশ্ব বা আমেরিকার নীতির জন্য এর অর্থ কী দাঁড়ায়? আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যই বা এর মানে কী? ইরান বর্তমানে কোনো উদীয়মান শক্তিশালী বিপ্লব নয় বরং ভঙ্গুর ও পচনশীল ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থা। তারা নিজেদের তৈরি জনতাত্ত্বিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। বিদেশের মাটিতে তাদের সামরিক অভিযান কোনো শক্তির প্রমাণ নয়, এই সব অভিযান আসলে নিরাপত্তাহীনতার উৎস ও অর্থনীতির ওপর বোঝা। তারা বাইরের দিকে তর্জন-গর্জন করে কারণ তারা ভেতরে ধসে পড়ার ভয় পায়। আদর্শ রপ্তানির নেশায় তারা বিভ্রান্ত অথচ নিজেদের নাগরিকরাই ক্ষোভে জ্বলছে।
ওয়াশিংটন এখনো ইরানের এই দুর্বল জায়গা ধরতে পারেনি। ভিয়েনার আলোচনা বা ইসরায়েলের সঙ্গে ছায়াযুদ্ধ ইরানের ভাগ্য ঠিক করবে না। ইরানের ভাগ্য লেখা হবে শ্রেণিকক্ষ আর ছাত্রাবাসে, কলেজ ক্যাম্পাস আর গোপন আড্ডায়। এনক্রিপ্ট করা চ্যাট রুম আর তেহরানের শীতের রাতের ফিসফিসানি এর গতিপথ ঠিক করে দেবে। তরুণ ইরানিরাই সিদ্ধান্ত নেবে, তারা তাদের ভবিষ্যৎ কোনো পুরোনো ধর্মীয় মোড়লের হাতে সঁপে দিতে নারাজ।
ইরানে ইসলামি রাজনীতি এতটাই বুড়ো হয়ে গেছে যে, তা এখন ভেঙে পড়ছে ও পচে যাচ্ছে। সারা দেশে আন্দোলনরত তরুণ প্রজন্ম সংস্কারের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছে না। তারা কাঁপতে থাকা এই ইমারত ধসিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ইরানের শাসকরা ভিন্নমতাবলম্বীদের বন্দি করতে পারে, শহর অচল করতে পারে এমনকি রক্ত ঝরাতে পারে কিন্তু তারা ভালোবাসা আদায় করতে পারে না। কোনো শাসনব্যবস্থা যদি তার নিজের সন্তানদের ঘৃণার পাত্র হয় তবে তা টেকে না। আগাগোড়া সশস্ত্র হলেও তাদের রক্ষা নেই। বিষয়টা কোনো কৌশল নয়, এটাই ইতিহাস। সেই ইতিহাস ইতিমধ্যেই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দরজায় কড়া নাড়ছে।
লেখক: এমবিসি, আবুধাবি টিভি ও আল জাজিরাসহ বেশ কিছু সংবাদ প্রতিষ্ঠানে সংবাদ উপস্থাপক, অনুষ্ঠান উপস্থাপক ও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন।

এই মুহূর্তে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের নতুন সংলাপের সম্ভাবনা কম। কিন্তু লড়াই কোনো সমাধান নয়। বরং কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যস্থতায় আলোচনার টেবিলে বসে অন্তত নিজেদের সীমারেখা একে অপরকে জানাতে পারে দুই দেশ। এমন আলোচনায় উভয় পক্ষের ধৈর্য প্রয়োজন হবে। তবে বিকল্প হিস
১৫ ঘণ্টা আগে
পৃথিবীর নানা প্রান্তের মেধাবী শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বিদ্যুৎকে কেন্দ্র করে গবেষণা চালিয়ে ইলেকট্রনিক্স বিজ্ঞানের ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করেন।
২১ ঘণ্টা আগে
শ্রেণিকক্ষ এবং কর্মক্ষেত্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দূরত্ব ঘোচাতে আমাদের দেশে বর্তমানে কোনো ‘জাতীয় শিক্ষানবিশ আইন’ নেই। শিক্ষা ব্যবস্থার ফলাফলকে প্রকৃত বাজার চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এখন আর কোনো বিকল্প নয়, বরং জাতীয় অর্থনৈতিক টিকে থাকার স্বার্থে এটি এখন অপরিহার্য।
১ দিন আগে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস মূলত নানা রাজনৈতিক জটিলতা ও ক্রান্তিকালের ইতিহাস। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশকে জাতি গঠনের নানা জটিল সমীকরণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এ সময় আমাদের যেমন নানাবিধ সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে, তেমনি দেশ গঠনের অনেক সুযোগও আমাদের সামনে এসেছে।
২ দিন আগে