ড. মো. হাদিউজ্জামান

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার অস্বাভাবিক মাত্রায় বেশি। বিশেষ করে ঈদ বা অন্যান্য উৎসবের ছুটিতে আমাদের সড়ক, রেল ও নৌপথে মৃত্যুর মিছিল দেখা যায়। এই দুর্ঘটনাগুলোর দিকে গভীর দৃষ্টি দিলে বোঝা যায়, এগুলো নিছক কোনো ‘দুর্ঘটনা’ বা দৈব দুর্বিপাক নয়। অসতর্কতা, আইন না মানার প্রবণতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এমন সব মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের পরিবহন ব্যবস্থায় এত দুর্ঘটনা কেন? এতে রাষ্ট্র, সরকার, ব্যবস্থা এবং সাধারণ নাগরিকদের দায় কতটুকু?
সড়ক ও রেলপথে ঝুঁকির ছড়াছড়ি
সামগ্রিকভাবে আমাদের সড়ক, নৌ বা রেল ব্যবস্থাপনার দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি খাতেই শত শত রকমের ঝুঁকি তৈরি হয়ে আছে। প্রথমে সড়কপথের কথা বলা যাক। রাস্তায় চলাচলকারী অসংখ্য বাসের কোনো ফিটনেস নেই। চালকের নেই উপযুক্ত লাইসেন্স বা প্রশিক্ষণ। এমনকি বাসমালিক ও চালকের মধ্যকার সম্পর্কও পেশাদারত্বের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। চালককে নিয়োগপত্র দেওয়া বা নির্দিষ্ট বেতনের আওতায় আনার মতো স্বাভাবিক নিয়মকানুনগুলোও উপেক্ষিত। অন্যদিকে, আমাদের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর অবস্থা আরও ভয়াবহ। যাদের কাজ ছিল পরিবহন খাতকে নিয়ন্ত্রণ করা, তারা নিজেরাই এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। পরিবহন খাতে এমন কিছু প্রভাবশালী মহল দাঁড়িয়ে গেছে, যারা বিক্ষিপ্তভাবে পুরো খাতটিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে গোটা সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা এক চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছে। আর যেখানে বিশৃঙ্খলা এবং ঝুঁকি থাকে, সেখানে দুর্ঘটনা ঘটাটাই স্বাভাবিক।
রেলপথের চিত্রও ভিন্ন নয়। রেলের ইঞ্জিনগুলোর ফিটনেস নেই। বয়োবৃদ্ধ এসব ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল বহু আগেই পেরিয়ে গেছে। কোচগুলোর অবস্থাও তথৈবচ, আর রেললাইনগুলো জরাজীর্ণ। এর ফলাফল হিসেবে আমরা প্রতিনিয়তই দেখছি ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়া বা ট্রেনে আগুন লাগার মতো ভয়াবহ ঘটনা। সাম্প্রতিক ঈদযাত্রাতেও আমরা নয়টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার মতো ঘটনা দেখেছি। এর পাশাপাশি লেভেল ক্রসিংগুলোতেও রয়েছে মৃত্যুর ফাঁদ।
নৌপথে চরম অব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাব
নৌপথের কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে ঘাট ব্যবস্থাপনার চরম অব্যবস্থাপনার কথা। ঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মূল মনোযোগ থাকে কোন গাড়িটি আগে ফেরিতে উঠবে, কোন গাড়ি পেছনে যাবে এবং কার কাছ থেকে কত চাঁদা আদায় করা যায়—এসবের দিকে। কিন্তু পন্টুন বা জেটির নিরাপত্তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।
নিয়ম অনুযায়ী, ফেরিতে ওঠার আগে বা পরে বাসের যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার কথা। যাত্রীরা এই নিয়ম না-ও জানতে পারেন, কিন্তু সুপারভাইজার তো জানেন। অথচ এই নিয়ম মানা হয় না। ফলে ফেরি থেকে যাত্রীবোঝাই বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। অধিকাংশ ফেরির আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। ফেরি ডুবে গেলে উদ্ধার করতে যে জাহাজ আসবে, সেটিরও ফিটনেস নেই। দৌলতদিয়া ঘাটে বাস পড়ে যাওয়ার পর ঘাটের নিজস্ব কোনো ডুবুরি ছিল না। সাত ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি এসে কাজ শুরু করে।
লঞ্চঘাটগুলোতেও চরম বিশৃঙ্খলা। লঞ্চ ছাড়ার সময় ডিঙি নৌকা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ফলে নৌকা দুই লঞ্চের চাপায় পড়ে। এভাবে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ঘাট কর্তৃপক্ষের এই অসাবধানতা, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজি পুরো পরিবহন খাতকে গ্রাস করে ফেলেছে।
সমস্যা টেকনিক্যাল, কিন্তু সমাধান রাজনৈতিক
আমাদের পরিবহন খাতের এই সমস্যাগুলো—যেমন বাসের ফিটনেস না থাকা, লাইসেন্সবিহীন চালক, জরাজীর্ণ অবকাঠামো—মূলত টেকনিক্যাল বা কারিগরি সমস্যা। এই একই সমস্যা যদি সিঙ্গাপুরে হতো, তবে তা কারিগরিভাবেই সমাধান করা যেত। কিন্তু আমাদের দেশের বড় ট্র্যাজেডি হলো, এখানকার সমস্যা টেকনিক্যাল হলেও এর সমাধান করতে হয় রাজনৈতিকভাবে।
যাদের নিয়ন্ত্রণ করার কথা—সেটা বিআরটিএ হোক, বিআইডব্লিউটিসি হোক বা বাংলাদেশ রেলওয়ে হোক—তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। এমনকি ন্যাশনাল রোড সেফটি কাউন্সিলের মতো জায়গায় বা আইন প্রণয়নের টেবিলে তারাই বসে আছেন, যাদের নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কথা। এটি একটি স্পষ্ট 'কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট' বা স্বার্থের সংঘাত। যারা নিয়ন্ত্রিত হবে, তারাই যদি নিয়ন্ত্রক হয়ে যায়, তবে এই বিশৃঙ্খলা কখনোই দূর হবে না। তাই অবকাঠামো বা পরিবহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা এবং ভালো চালক তৈরির জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোনো বিকল্প নেই।
নাগরিক দায় ও গণমাধ্যমের ভূমিকা
এই পুরো ব্যবস্থায় সাধারণ নাগরিকদেরও দায়-দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের সময় হুড়োহুড়ি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রবণতা পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি, গণমাধ্যমকে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। ফেরিঘাট বা রেলে যে অসংখ্য দুর্বলতা রয়েছে, সে সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। যেমন—ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীদের বাস থেকে নেমে যাওয়ার যে নিয়ম, তা গণমাধ্যমে বারবার প্রচার করা উচিত।
দীর্ঘমেয়াদী সমাধান: বিকেন্দ্রীকরণ
আমাদের পরিবহন খাতের এই সংকটের একটি বড় কারণ আমাদের ভুল রাষ্ট্রীয় নীতি। আমরা দেশের সমস্ত বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান ঢাকামুখী করে ফেলেছি। জীবিকার সন্ধানে সারা দেশের মানুষ ঢাকায় ছুটে আসছে। ঈদের সময় এই লাখ লাখ মানুষ যখন একসঙ্গে বাড়ি ফিরতে চায়। পৃথিবীর কোনো দেশের পরিবহন ব্যবস্থার পক্ষেই এত চাপ সামলানো সম্ভব নয়।
এর টেকসই সমাধান হলো পলিসির পরিবর্তন। ঢাকার ভেতরে বড় বড় মেগা অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বন্ধ করে, সেই বিনিয়োগ জেলার বা বিভাগীয় শহরগুলোতে করতে হবে। ঢাকার বাইরে কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে, যাতে মানুষকে জীবিকার জন্য ঢাকায় আসতে না হয়। ঢাকায় লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও যেমন যানজট কমানো যায়নি। তেমনি ঈদকেন্দ্রিক এই চাপও কমানো সম্ভব নয়। যতদিন না আমরা বিকেন্দ্রীকরণের পথে হাঁটব এবং পরিবহন খাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটাব, ততদিন আমাদের সড়কে, নৌপথে বা রেলপথে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো কঠিন হবে।
লেখক: পরিবহন বিশেষজ্ঞ; বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার অস্বাভাবিক মাত্রায় বেশি। বিশেষ করে ঈদ বা অন্যান্য উৎসবের ছুটিতে আমাদের সড়ক, রেল ও নৌপথে মৃত্যুর মিছিল দেখা যায়। এই দুর্ঘটনাগুলোর দিকে গভীর দৃষ্টি দিলে বোঝা যায়, এগুলো নিছক কোনো ‘দুর্ঘটনা’ বা দৈব দুর্বিপাক নয়। অসতর্কতা, আইন না মানার প্রবণতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এমন সব মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের পরিবহন ব্যবস্থায় এত দুর্ঘটনা কেন? এতে রাষ্ট্র, সরকার, ব্যবস্থা এবং সাধারণ নাগরিকদের দায় কতটুকু?
সড়ক ও রেলপথে ঝুঁকির ছড়াছড়ি
সামগ্রিকভাবে আমাদের সড়ক, নৌ বা রেল ব্যবস্থাপনার দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি খাতেই শত শত রকমের ঝুঁকি তৈরি হয়ে আছে। প্রথমে সড়কপথের কথা বলা যাক। রাস্তায় চলাচলকারী অসংখ্য বাসের কোনো ফিটনেস নেই। চালকের নেই উপযুক্ত লাইসেন্স বা প্রশিক্ষণ। এমনকি বাসমালিক ও চালকের মধ্যকার সম্পর্কও পেশাদারত্বের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। চালককে নিয়োগপত্র দেওয়া বা নির্দিষ্ট বেতনের আওতায় আনার মতো স্বাভাবিক নিয়মকানুনগুলোও উপেক্ষিত। অন্যদিকে, আমাদের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর অবস্থা আরও ভয়াবহ। যাদের কাজ ছিল পরিবহন খাতকে নিয়ন্ত্রণ করা, তারা নিজেরাই এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। পরিবহন খাতে এমন কিছু প্রভাবশালী মহল দাঁড়িয়ে গেছে, যারা বিক্ষিপ্তভাবে পুরো খাতটিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে গোটা সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা এক চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছে। আর যেখানে বিশৃঙ্খলা এবং ঝুঁকি থাকে, সেখানে দুর্ঘটনা ঘটাটাই স্বাভাবিক।
রেলপথের চিত্রও ভিন্ন নয়। রেলের ইঞ্জিনগুলোর ফিটনেস নেই। বয়োবৃদ্ধ এসব ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল বহু আগেই পেরিয়ে গেছে। কোচগুলোর অবস্থাও তথৈবচ, আর রেললাইনগুলো জরাজীর্ণ। এর ফলাফল হিসেবে আমরা প্রতিনিয়তই দেখছি ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়া বা ট্রেনে আগুন লাগার মতো ভয়াবহ ঘটনা। সাম্প্রতিক ঈদযাত্রাতেও আমরা নয়টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার মতো ঘটনা দেখেছি। এর পাশাপাশি লেভেল ক্রসিংগুলোতেও রয়েছে মৃত্যুর ফাঁদ।
নৌপথে চরম অব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাব
নৌপথের কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে ঘাট ব্যবস্থাপনার চরম অব্যবস্থাপনার কথা। ঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মূল মনোযোগ থাকে কোন গাড়িটি আগে ফেরিতে উঠবে, কোন গাড়ি পেছনে যাবে এবং কার কাছ থেকে কত চাঁদা আদায় করা যায়—এসবের দিকে। কিন্তু পন্টুন বা জেটির নিরাপত্তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।
নিয়ম অনুযায়ী, ফেরিতে ওঠার আগে বা পরে বাসের যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার কথা। যাত্রীরা এই নিয়ম না-ও জানতে পারেন, কিন্তু সুপারভাইজার তো জানেন। অথচ এই নিয়ম মানা হয় না। ফলে ফেরি থেকে যাত্রীবোঝাই বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। অধিকাংশ ফেরির আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। ফেরি ডুবে গেলে উদ্ধার করতে যে জাহাজ আসবে, সেটিরও ফিটনেস নেই। দৌলতদিয়া ঘাটে বাস পড়ে যাওয়ার পর ঘাটের নিজস্ব কোনো ডুবুরি ছিল না। সাত ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি এসে কাজ শুরু করে।
লঞ্চঘাটগুলোতেও চরম বিশৃঙ্খলা। লঞ্চ ছাড়ার সময় ডিঙি নৌকা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ফলে নৌকা দুই লঞ্চের চাপায় পড়ে। এভাবে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ঘাট কর্তৃপক্ষের এই অসাবধানতা, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজি পুরো পরিবহন খাতকে গ্রাস করে ফেলেছে।
সমস্যা টেকনিক্যাল, কিন্তু সমাধান রাজনৈতিক
আমাদের পরিবহন খাতের এই সমস্যাগুলো—যেমন বাসের ফিটনেস না থাকা, লাইসেন্সবিহীন চালক, জরাজীর্ণ অবকাঠামো—মূলত টেকনিক্যাল বা কারিগরি সমস্যা। এই একই সমস্যা যদি সিঙ্গাপুরে হতো, তবে তা কারিগরিভাবেই সমাধান করা যেত। কিন্তু আমাদের দেশের বড় ট্র্যাজেডি হলো, এখানকার সমস্যা টেকনিক্যাল হলেও এর সমাধান করতে হয় রাজনৈতিকভাবে।
যাদের নিয়ন্ত্রণ করার কথা—সেটা বিআরটিএ হোক, বিআইডব্লিউটিসি হোক বা বাংলাদেশ রেলওয়ে হোক—তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। এমনকি ন্যাশনাল রোড সেফটি কাউন্সিলের মতো জায়গায় বা আইন প্রণয়নের টেবিলে তারাই বসে আছেন, যাদের নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কথা। এটি একটি স্পষ্ট 'কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট' বা স্বার্থের সংঘাত। যারা নিয়ন্ত্রিত হবে, তারাই যদি নিয়ন্ত্রক হয়ে যায়, তবে এই বিশৃঙ্খলা কখনোই দূর হবে না। তাই অবকাঠামো বা পরিবহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা এবং ভালো চালক তৈরির জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোনো বিকল্প নেই।
নাগরিক দায় ও গণমাধ্যমের ভূমিকা
এই পুরো ব্যবস্থায় সাধারণ নাগরিকদেরও দায়-দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের সময় হুড়োহুড়ি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রবণতা পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি, গণমাধ্যমকে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। ফেরিঘাট বা রেলে যে অসংখ্য দুর্বলতা রয়েছে, সে সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। যেমন—ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীদের বাস থেকে নেমে যাওয়ার যে নিয়ম, তা গণমাধ্যমে বারবার প্রচার করা উচিত।
দীর্ঘমেয়াদী সমাধান: বিকেন্দ্রীকরণ
আমাদের পরিবহন খাতের এই সংকটের একটি বড় কারণ আমাদের ভুল রাষ্ট্রীয় নীতি। আমরা দেশের সমস্ত বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান ঢাকামুখী করে ফেলেছি। জীবিকার সন্ধানে সারা দেশের মানুষ ঢাকায় ছুটে আসছে। ঈদের সময় এই লাখ লাখ মানুষ যখন একসঙ্গে বাড়ি ফিরতে চায়। পৃথিবীর কোনো দেশের পরিবহন ব্যবস্থার পক্ষেই এত চাপ সামলানো সম্ভব নয়।
এর টেকসই সমাধান হলো পলিসির পরিবর্তন। ঢাকার ভেতরে বড় বড় মেগা অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বন্ধ করে, সেই বিনিয়োগ জেলার বা বিভাগীয় শহরগুলোতে করতে হবে। ঢাকার বাইরে কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে, যাতে মানুষকে জীবিকার জন্য ঢাকায় আসতে না হয়। ঢাকায় লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও যেমন যানজট কমানো যায়নি। তেমনি ঈদকেন্দ্রিক এই চাপও কমানো সম্ভব নয়। যতদিন না আমরা বিকেন্দ্রীকরণের পথে হাঁটব এবং পরিবহন খাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটাব, ততদিন আমাদের সড়কে, নৌপথে বা রেলপথে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো কঠিন হবে।
লেখক: পরিবহন বিশেষজ্ঞ; বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে কিছু কৌশলগত ভাষায় বোঝানো হয়। যেমন প্রতিরোধ, উত্তেজনা বৃদ্ধি, সামরিক চাপ, ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি, আর পারমাণবিক ঝুঁকি। এই শব্দগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু যুদ্ধের পুরো চিত্রটা তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট নয়।
২ ঘণ্টা আগে
বিশ্ব রাজনীতি কখনো কখনো ব্যক্তির হাতে বন্দি হয়ে পড়ে। তখন নীতি হারায়; প্রাধান্য পায় মেজাজ। প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়; ব্যক্তিত্ব ফুলে ওঠে। এই বাস্তবতা নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও নগ্নভাবে সামনে এসেছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
একুশ শতকের তৃতীয় দশকে বিশ্বরাজনীতি এক অভূতপূর্ব সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে ইউক্রেন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের অস্ত্রের ভান্ডার ও অর্থনীতিকে বিসর্জন দিচ্ছে। একদিকে কামানের গর্জন আর ক্ষেপণাস্ত্রের ঝিলিক যখন পরাশক্তিগুলোকে যুদ্ধের চোরাবালিতে নিমজ্জিত করছে, ঠিক তখনই হয়তো বেইজিংয়
১ দিন আগে
আমরা এখন পারস্য উপসাগরের নীল জলে। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিলিটারি কনটিনজেন্টের একদল সামরিক কর্মকর্তা ফেরিতে করে কুয়েত থেকে ২০ কিলোমিটার দূরবর্তী ফাইলাকা দ্বীপে ভ্রমণে চলেছি। ২০১০-এর জানুয়ারি। আমাদের পূর্ব দিকে ইরান। সেই দেশ থেকে উড়ে এসে একদল সাদা সীগাল আমাদের স্বাগত জানায়।
২ দিন আগে