বিশেষ সাক্ষাৎকারে আদিল মুহাম্মদ খান
আদিল মুহাম্মদ খান। নগর পরিকল্পনাবিদ ও শিক্ষাবিদ। অধ্যাপনা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে। ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক এবং কমনওয়েলথ এসোসিয়েশন অফ প্ল্যানার্স এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজ মেম্বার এর দায়িত্বে আছেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনা রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর পূর্তিতে ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুজাহিদুল ইসলাম।
মুজাহিদুল ইসলাম

স্ট্রিম: রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর পেরিয়ে গেল। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই শিল্প দুর্ঘটনাকে একজন নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে আজ কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
আদিল মুহাম্মদ খান: রানা প্লাজার এই ঘটনাটিকে আমরা ‘দুর্ঘটনা’ না বলে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ বলব। যে স্থানে রানা প্লাজা ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটি মূলত একটি জলাশয় ছিল। একটি জলাভূমির ওপর ভবনটি তৈরি করা হলেও সেখানে প্রকৌশলগত নিরাপত্তার যথাযথ মানদণ্ড মানা হয়নি। জলাশয় ভরাট করে নির্মিত হওয়ায় ভবনের মাটি ছিল অস্থিতিশীল ও নরম। তা বহুতল ভবনের জন্য উপযুক্ত ছিল না। এমনকি ভবনটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। পুরো ভবনটিই আসলে এমন একটি বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রস্তুত ছিল। ধসে পড়ার আগে ভবনে ফাটলসহ ছোটখাটো কিছু লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও সেখানে কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমাদের চরম খামখেয়ালিপনার কারণেই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই শিল্প বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় এগারোশোর বেশি শ্রমিক প্রাণ হারান। তাদের বেশিরভাগই ছিলেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক। আহত হন আরও দুই হাজারের বেশি মানুষ। বিশ্বের ভয়াবহতম শিল্প দুর্যোগের একটি হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া ওই ভবন-ধসের মর্মান্তিক ঘটনাটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য চিরকাল একটি বেদনাদায়ক ক্ষত হয়ে থাকবে।
স্ট্রিম: এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে কোন কাঠামোগত বা পরিকল্পনার ত্রুটিকে আপনি সবচেয়ে বেশি দায়ী করবেন?
আদিল মুহাম্মদ খান: সত্যিকার অর্থে ‘প্ল্যানিং স্ট্যান্ডার্ড’ এবং ‘বিল্ডিং কোড’ মেনে চললে এমন বিপর্যয় এড়ানো যেত। প্রথমত, জলাভূমির ওপর এত বড় বহুতল ভবন নির্মাণ করাটাই ছিল বেআইনি। এরপর অনুমোদন নেওয়ার পরও সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মালামাল ও ভারী যন্ত্রপাতি বা ইকুইপমেন্ট বসানো হয়েছিল। এতে ভবনের ওপর বিপুল পরিমাণ লাইভ লোড তৈরি হয়েছিল। এমনকি ভবনের নকশা লঙ্ঘন করে অনুমতি ছাড়াই কয়েকটি তলা নির্মাণ করা হয়েছিল।
যখন প্ল্যানিং স্ট্যান্ডার্ড, বিল্ডিং কোড ও সুস্পষ্ট বিধিমালা থাকার পরও আমরা সেগুলো ক্রমাগত লঙ্ঘন করতে থাকি, তখন এমন বিপর্যয় অবধারিত হয়ে পড়ে। আমরা যে অতীতের দুর্ঘটনা থেকে কোনো শিক্ষা নিচ্ছি না, এটি আমাদের চরম কাঠামোগত ব্যর্থতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
স্ট্রিম: রানা প্লাজা একটি বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে অনুমোদন পেয়েছিল। কিন্তু সেখানে ভারী যন্ত্রপাতিসহ পাঁচটি পোশাক কারখানা স্থাপন করা হয়েছিল। নগর পরিকল্পনার দৃষ্টিকোণ থেকে ভবনের এই ‘অপরিকল্পিত ও বেআইনি ব্যবহার’ ঠেকানো যাচ্ছে কি?
আদিল মুহাম্মদ খান: রানা প্লাজার পরেও তো হাশেম ফুড ফ্যাক্টরি থেকে শুরু করে আরও অনেক শিল্প কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এগুলোর প্রত্যেকটিতেই দেখা গেছে, সেখানে বিল্ডিং কোড বা শ্রম আইন সহ নানা ধরনের বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ছিল। আমরা এভাবেই একের পর এক মৃত্যুকূপ তৈরি করে চলেছি। এর সর্বশেষ উদাহরণ হলো কিছুদিন আগে কেরানীগঞ্জের একটি আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা গ্যাস লাইটার ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। সেখানেও বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। অথচ আবাসিক এলাকায় এই ধরনের কারখানা স্থাপনের কোনো সুযোগই আইন বা নগর পরিকল্পনায় নেই।
উন্নত কোনো দেশে এত বড় একটি শিল্প দুর্ঘটনার পর পুরো দেশের শিল্প খাত নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা হতো। পরিকল্পনার কোথায় কোথায় লঙ্ঘন হচ্ছে, কীভাবে নিরাপত্তা ও নিয়মশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা যাবে, বিল্ডিং কোড বা মাস্টার প্ল্যান কীভাবে কার্যকর করা যায়—সেগুলো নিয়ে তারা কাজ করত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা সেই শিক্ষাটা নিতে পারিনি।
স্ট্রিম: রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর পর, আমাদের শিল্প পরিবেশে কোনো দৃশ্যমান বা গুণগত পরিবর্তন কি আপনি দেখতে পান?
আদিল মুহাম্মদ খান: বাংলাদেশে দৃশ্যমান পরিবর্তন সেভাবে আসেনি। যতটুকু উন্নতি হয়েছে, তা অত্যন্ত সীমিত পরিসরে। আর তা শুধুমাত্র তৈরি পোশাক বা গার্মেন্টস খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। রানা প্লাজার পর বিদেশি ক্রেতাদের জোট ‘অ্যাকর্ড’ ও ‘অ্যালায়েন্স’-এর চাপে পড়ে গার্মেন্টস খাতে নিরাপত্তার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কারণ তারা শর্ত দিয়েছিল যে, কমপ্লায়েন্স না মানলে তারা পোশাক কিনবে না।
কিন্তু গার্মেন্টস ছাড়াও বাংলাদেশে আরও অনেক শিল্প এলাকা ও শিল্প ভবন রয়েছে। প্রশ্ন হলো, সেই ভবনগুলোর নিরাপত্তা কি বেড়েছে? উত্তর হলো—না, বাড়েনি। তৈরি পোশাক খাতের বাইরের অন্য শিল্পগুলোর ক্ষেত্রে আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিনি। তাই ১৩ বছর পর দাঁড়িয়েও আক্ষেপের সাথে বলতে হয়, আমাদের দেশের শ্রমিকদের জীবন এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতেই রয়ে গেছে।
স্ট্রিম: শ্রমিকদের জীবন এখনো ঝুঁকিপূর্ণ থাকার কথা বললেন। একটি শিল্প বা বাণিজ্যিক ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ব্যবহারের ছাড়পত্র পেতে আসলে কী কী আইনি ও কাঠামোগত শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে?
আদিল মুহাম্মদ খান: নিয়ম অনুযায়ী, একটি বাণিজ্যিক ভবনের ‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’, মানে ব্যবহারের ছাড়পত্র পাওয়ার আগে অনেকগুলো কমপ্লায়েন্স বা শর্ত পূরণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এখানে বিল্ডিং কোড এবং ফায়ার সেফটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জড়িত। ফায়ার সেফটি অনুযায়ী একটি ভবনে সর্বোচ্চ কতজন মানুষ অবস্থান করতে পারবে, সেই কর্মী সংখ্যা অনুযায়ী কী কী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক তা নির্ধারণ করা থাকে।
পাশাপাশি, যখন বড় বড় যন্ত্রপাতি বসানো হয়, তখন সেগুলোর লাইভ লোড ক্যালকুলেট করতে হয়। এর ফলে ভবনটি কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হবে কি না, তা উপযুক্ত প্রকৌশলী দ্বারা যাচাই-বাছাই করানো বাধ্যতামূলক। সর্বোপরি, যে এলাকায় ভবনটি নির্মিত হচ্ছে, সেখানে ওই নির্দিষ্ট কাজে ভবনটির ব্যবহার নিরাপদ কি না এবং তা নগর পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের অধিকাংশ শিল্প কারখানা অননুমোদিত এলাকায় অবস্থিত, যেখানে শিল্প কারখানা স্থাপনের কোনো বৈধতা নেই। খোদ ঢাকা শহরের ৭০ ভাগের বেশি শিল্প কারখানা নির্ধারিত শিল্প জোনের বাইরে অবস্থিত। হয়তো কোনো আবাসিক এলাকার ভেতরেই এসব কারখানা অনুমোদনহীন গড়ে উঠেছে। দেশের অন্যান্য জায়গার চিত্রও একই। দেশের অনেক ইকোনমিক জোন বা বিসিক শিল্প নগরীর প্লট খালি পড়ে আছে, অথচ মানুষ বেআইনিভাবে কৃষিজমি ভরাট করে কিংবা আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবৈধভাবে শিল্প ভবন তৈরি করছে। ফলে এই অনিরাপদ ভবনগুলোতে অগ্নিকাণ্ড, ভবন ধসসহ নানা দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্ট্রিম: ভবন নির্মাণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড’ (বিএনবিসি) প্রয়োগ এবং নজরদারির ক্ষেত্রে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাগুলো ঠিক কোথায়?
আদিল মুহাম্মদ খান: নিয়মকানুন না মেনে এবং অপরিকল্পিতভাবে কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মান ও ব্যবহার অহরহ চলছে। পরিকল্পনার দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো সম্পূর্ণ বেআইনি। এখন প্রশ্ন হলো, আইন না থাকার পরও এগুলো কীভাবে চলছে? এর উত্তর হলো—আইন প্রয়োগের ব্যর্থতা, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের অনৈতিক প্রভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পর্যায়ের দুর্নীতি। কারখানার মালিকরা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করে এসব করছে। এমনকি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন বা শ্রম মন্ত্রণালয়ের মতো তদারককারী সংস্থাগুলোকেও যদি ম্যানেজ করে এভাবে একের পর এক অনৈতিকভাবে শিল্পকারখানা চলতে থাকে, তবে সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি কোনোভাবেই নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বরং আমাদের দেশের সস্তা শ্রমকে পুঁজি করা হচ্ছে। আইনি কাঠামোর দুর্বলতা, আইন প্রয়োগে শিথিলতা ও বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে আমরা শিল্প শ্রমিকদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছি। এই কারখানাগুলোর বেশিরভাগই কোনো না কোনো আবাসিক এলাকার কাছাকাছি অবস্থিত। তাই আমরা আশপাশের সাধারণ মানুষের জীবনকেও চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছি।
স্ট্রিম: রানা প্লাজার পর গার্মেন্টস সেক্টরে দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন এলেও অন্যান্য শিল্প খাতে সেই পরিবর্তন হচ্ছে না কেন?
আদিল মুহাম্মদ খান: রানা প্লাজার পর গার্মেন্টস সেক্টরে যে পরিবর্তনটুকু এসেছে তা যে খুব স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এসেছে তা নয়। আমদানিকারীরা নিজেদের ব্যবসা ও রপ্তানি নিশ্চিত করতেই কিছু শর্ত ও বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিল। বাংলাদেশের মালিকপক্ষ বাধ্য হয়ে সেগুলো মেনে নিয়েছে। সরকারও তখন তাদের সহায়তা করেছে। এর থেকে একটি বিষয় অন্তত প্রমাণিত হয় যে—সরকার, মালিকপক্ষ এবং বিদেশি ক্রেতারা যদি একত্রিত হয়, তবে যেকোনো খাতেই গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
অন্য খাতগুলোতে রপ্তানিমুখী শিল্পের মতো বিদেশি ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স (নিরাপত্তা ও মানদণ্ড) মানার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তাছাড়া আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রও যথাযথভাবে কাজ করছে না। যারা তদারকির দায়িত্বে আছেন, তাদের অনেকেই দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। আমাদের দেশে শ্রম অত্যন্ত সস্তা হওয়ায় শ্রমিকের জীবনের মূল্য প্রায় নেই বললেই চলে। কোনো শ্রমিক মারা গেলে সর্বোচ্চ দুই-তিন লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে পার পাওয়া যায়, আর ছোটখাটো দুর্ঘটনায় তো কোনো ক্ষতিপূরণই দেওয়া হয় না।
স্ট্রিম: কারখানার স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিয়মগুলো মানতে মালিকপক্ষ কেন অনীহা দেখাচ্ছে? আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোই বা কেন এত অসহায়?
আদিল মুহাম্মদ খান: নগর পরিকল্পনার ভাষায় আমরা ‘জোনিং’-এর কথা বলি। অর্থাৎ, কোথায় কী ধরনের ভূমি ব্যবহার হবে তা নির্দিষ্ট করা থাকে। শিল্পকারখানা অবশ্যই নির্ধারিত ‘শিল্প জোনে’ থাকতে হবে। দেশের অনেক জায়গায় এই জোনিংয়ের নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। মূল শহরের বাইরে, বিশেষ করে মফস্বল বা গ্রামীণ এলাকায়ও এখন অপরিকল্পিতভাবে অনেক শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে। সেসব এলাকায় এসব কারখানার কমপ্লায়েন্স যাচাই করার মতো কোনো উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বা অন্য কোন উপযুক্ত সংস্থা নেই। তদারকি ও সক্ষমতার এই ঘাটতির সুযোগ নিচ্ছে একশ্রেণির শিল্পমালিক।
তারা নিজেদের ‘সিআইপি’ দাবি করে এবং সরকারকে দেওয়া ট্যাক্সের দোহাই দিয়ে নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের সাথে আঁতাত করছে। এর ফলে একদিকে যেমন ভূমি ব্যবহারের নিয়মনীতি লঙ্ঘিত হচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমিকের জীবন ও আশেপাশের জলাশয়, পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়ছে। এমনকি শিল্প এলাকার পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকার মানুষের জীবনমান এবং জনস্বাস্থ্যে যে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসছে, সেটিকেও সরকার খুব একটা আমলে নিচ্ছে না। এটি মূলত আমাদের পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের চরম ব্যর্থতারই একটি বড় দৃষ্টান্ত।
স্ট্রিম: ভবিষ্যতে রানা প্লাজার মতো দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দীর্ঘমেয়াদী নগর ও শিল্পাঞ্চল পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি আপনার প্রধান পরামর্শ কী?
আদিল মুহাম্মদ খান: আমার কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ রয়েছে:
প্রথমত, যেকোনো শিল্পকারখানাকে, বিশেষ করে ভারী ও শ্রমঘন শিল্পগুলোকে অবশ্যই নির্ধারিত ‘শিল্প জোনে’ স্থানান্তর করতে হবে। যত্রতত্র এসব কারখানা গড়ে তোলার কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না।
দ্বিতীয়ত, আমাদের শ্রম নিরাপত্তা আইন এবং ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড’-এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিল্ডিং কোডে অগ্নি নিরাপত্তা এবং কাঠামোগত নিরাপত্তার বিষয়ে বিস্তারিত গাইডলাইন দেওয়া আছে। শিল্পমালিকদের দায়িত্ব হবে এই কোডগুলো সম্পূর্ণভাবে মেনে চলা। যারা কমপ্লায়েন্সের বাইরে আছেন, তারা কীভাবে নিয়মের মধ্যে আসতে পারেন, সে বিষয়ে সরকারের সহায়তা নিতে পারেন।
তৃতীয়ত, যেসব শ্রমঘন শিল্পকারখানা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আবাসিক বা বাণিজ্যিক এলাকায় গড়ে উঠেছে, সেগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া উচিত, যাতে তারা নির্ধারিত শিল্প জোনে চলে যায়। যেমনটি আমরা দেখেছি, ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সময় বেঁধে দিয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে। শিল্পের ক্ষেত্রেও এই নীতি প্রয়োগ করতে হবে।
চতুর্থত, সরকারের ‘সেফটি অডিট’ ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও বাধ্যতামূলক করতে হবে। অডিটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কি না, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজনে পরিদর্শকদের জনবল বাড়াতে হবে, কিন্তু শ্রমিকের নিরাপত্তা ও কমপ্লায়েন্সের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
সবশেষে, যেসব কারখানা চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আবাসিক বা বাণিজ্যিক এলাকায় কার্যক্রম চালাচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইন প্রয়োগ করে বন্ধ করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা দেখালে তারা এভাবেই অনিরাপদ উৎপাদন চালিয়ে যাবে। তবে যেগুলো তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ, তাদের সেফটি স্ট্যান্ডার্ডে উন্নীত হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া যেতে পারে। এই পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে শ্রম মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সিটি কর্পোরেশনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি কমাতে ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে শ্রম সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।
স্ট্রিম: কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কথা বললেন। কিন্তু মানসিকতা বা দৃষ্টিভঙ্গির জায়গা থেকে আমাদের কতটা পরিবর্তন প্রয়োজন? রানা প্লাজার ট্র্যাজেডি থেকে আমরা কি জাতি হিসেবে কোনো স্থায়ী শিক্ষা নিতে পেরেছি?
আদিল মুহাম্মদ খান: অবশ্যই, সবার আগে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। আমাদের দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের জীবনের যে একটি অমূল্য দাম আছে, সেটি রাষ্ট্র ও শিল্পমালিকদের বুঝতে হবে। উন্নত বিশ্বে আমরা দেখি, কোনো কারণে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হলে কয়েক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। আর আমাদের দেশে সেটি মাত্র কয়েক লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। যতক্ষণ পর্যন্ত শ্রমিকের জীবনের এই আর্থিক ও মানবিক মূল্যায়ন বাড়ানো না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মালিকপক্ষ এভাবেই অনিরাপদ ভবনে কারখানা চালাবে আর শ্রমিকরা প্রাণ হারাবেন।
সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, এত বড় একটি ট্র্যাজেডির পরও আমরা রানা প্লাজার স্মৃতি ধরে রাখিনি। আজ রানা প্লাজার সেই স্থানে গেলে বোঝার উপায় নেই যে সেখানে বিশ্বের অন্যতম বড় একটি শিল্প বিপর্যয় ঘটেছিল। দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মানুষের যেখানে এসে এই ট্র্যাজেডি সম্পর্কে জানার কথা। সেখানে আজ তার কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট নেই। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র এবং শিল্পমালিকেরা মূলত এই ভয়াবহ ঘটনাকে বেমালুম গায়েব করে দিতে চেয়েছে। এটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, রাষ্ট্র আসলে শ্রমিকের জীবনকে কতটা তুচ্ছ মনে করে!
স্ট্রিম: অতীতের এই চরম ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে নিরাপদ ও টেকসই শিল্পায়নের ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী?
আদিল মুহাম্মদ খান: আমাদের উচিত ছিল রানা প্লাজার সেই ধ্বংসস্তূপের স্থানে একটি স্মৃতিচিহ্ন তৈরি করা, যা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং শিল্পমালিকেরা শিক্ষা নিতে পারত। এটিকে সামনে রেখেই আমাদের নতুন শিল্পবিপ্লব এবং কারখানার নিরাপত্তার ‘স্টার্টিং পয়েন্ট’ তৈরি হতে পারত। কিন্তু আমরা সেই অমূল্য সুযোগটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছি। তবে আমি আশাবাদী, দেশে যে নতুন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে, বর্তমান সরকার চাইলে জনগণের জীবনের সঠিক মূল্যায়ন করতে পারে। শিল্প নিরাপত্তা এবং নগর পরিকল্পনার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে যে শিল্পায়ন হবে, সেটিই দেশের প্রকৃত ও টেকসই উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
স্ট্রিম: ঢাকা স্ট্রিমকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আদিল মুহাম্মদ খান: ধন্যবাদ ঢাকা স্ট্রিম ও স্ট্রিমের পাঠকদেরও।

আদিল মুহাম্মদ খান। নগর পরিকল্পনাবিদ ও শিক্ষাবিদ। অধ্যাপনা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে। ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক এবং কমনওয়েলথ এসোসিয়েশন অফ প্ল্যানার্স এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজ মেম্বার এর দায়িত্বে আছেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনা রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর পূর্তিতে ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুজাহিদুল ইসলাম।
স্ট্রিম: রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর পেরিয়ে গেল। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই শিল্প দুর্ঘটনাকে একজন নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে আজ কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
আদিল মুহাম্মদ খান: রানা প্লাজার এই ঘটনাটিকে আমরা ‘দুর্ঘটনা’ না বলে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ বলব। যে স্থানে রানা প্লাজা ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটি মূলত একটি জলাশয় ছিল। একটি জলাভূমির ওপর ভবনটি তৈরি করা হলেও সেখানে প্রকৌশলগত নিরাপত্তার যথাযথ মানদণ্ড মানা হয়নি। জলাশয় ভরাট করে নির্মিত হওয়ায় ভবনের মাটি ছিল অস্থিতিশীল ও নরম। তা বহুতল ভবনের জন্য উপযুক্ত ছিল না। এমনকি ভবনটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। পুরো ভবনটিই আসলে এমন একটি বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রস্তুত ছিল। ধসে পড়ার আগে ভবনে ফাটলসহ ছোটখাটো কিছু লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও সেখানে কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমাদের চরম খামখেয়ালিপনার কারণেই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই শিল্প বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় এগারোশোর বেশি শ্রমিক প্রাণ হারান। তাদের বেশিরভাগই ছিলেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক। আহত হন আরও দুই হাজারের বেশি মানুষ। বিশ্বের ভয়াবহতম শিল্প দুর্যোগের একটি হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া ওই ভবন-ধসের মর্মান্তিক ঘটনাটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য চিরকাল একটি বেদনাদায়ক ক্ষত হয়ে থাকবে।
স্ট্রিম: এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে কোন কাঠামোগত বা পরিকল্পনার ত্রুটিকে আপনি সবচেয়ে বেশি দায়ী করবেন?
আদিল মুহাম্মদ খান: সত্যিকার অর্থে ‘প্ল্যানিং স্ট্যান্ডার্ড’ এবং ‘বিল্ডিং কোড’ মেনে চললে এমন বিপর্যয় এড়ানো যেত। প্রথমত, জলাভূমির ওপর এত বড় বহুতল ভবন নির্মাণ করাটাই ছিল বেআইনি। এরপর অনুমোদন নেওয়ার পরও সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মালামাল ও ভারী যন্ত্রপাতি বা ইকুইপমেন্ট বসানো হয়েছিল। এতে ভবনের ওপর বিপুল পরিমাণ লাইভ লোড তৈরি হয়েছিল। এমনকি ভবনের নকশা লঙ্ঘন করে অনুমতি ছাড়াই কয়েকটি তলা নির্মাণ করা হয়েছিল।
যখন প্ল্যানিং স্ট্যান্ডার্ড, বিল্ডিং কোড ও সুস্পষ্ট বিধিমালা থাকার পরও আমরা সেগুলো ক্রমাগত লঙ্ঘন করতে থাকি, তখন এমন বিপর্যয় অবধারিত হয়ে পড়ে। আমরা যে অতীতের দুর্ঘটনা থেকে কোনো শিক্ষা নিচ্ছি না, এটি আমাদের চরম কাঠামোগত ব্যর্থতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
স্ট্রিম: রানা প্লাজা একটি বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে অনুমোদন পেয়েছিল। কিন্তু সেখানে ভারী যন্ত্রপাতিসহ পাঁচটি পোশাক কারখানা স্থাপন করা হয়েছিল। নগর পরিকল্পনার দৃষ্টিকোণ থেকে ভবনের এই ‘অপরিকল্পিত ও বেআইনি ব্যবহার’ ঠেকানো যাচ্ছে কি?
আদিল মুহাম্মদ খান: রানা প্লাজার পরেও তো হাশেম ফুড ফ্যাক্টরি থেকে শুরু করে আরও অনেক শিল্প কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এগুলোর প্রত্যেকটিতেই দেখা গেছে, সেখানে বিল্ডিং কোড বা শ্রম আইন সহ নানা ধরনের বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ছিল। আমরা এভাবেই একের পর এক মৃত্যুকূপ তৈরি করে চলেছি। এর সর্বশেষ উদাহরণ হলো কিছুদিন আগে কেরানীগঞ্জের একটি আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা গ্যাস লাইটার ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। সেখানেও বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। অথচ আবাসিক এলাকায় এই ধরনের কারখানা স্থাপনের কোনো সুযোগই আইন বা নগর পরিকল্পনায় নেই।
উন্নত কোনো দেশে এত বড় একটি শিল্প দুর্ঘটনার পর পুরো দেশের শিল্প খাত নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা হতো। পরিকল্পনার কোথায় কোথায় লঙ্ঘন হচ্ছে, কীভাবে নিরাপত্তা ও নিয়মশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা যাবে, বিল্ডিং কোড বা মাস্টার প্ল্যান কীভাবে কার্যকর করা যায়—সেগুলো নিয়ে তারা কাজ করত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা সেই শিক্ষাটা নিতে পারিনি।
স্ট্রিম: রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর পর, আমাদের শিল্প পরিবেশে কোনো দৃশ্যমান বা গুণগত পরিবর্তন কি আপনি দেখতে পান?
আদিল মুহাম্মদ খান: বাংলাদেশে দৃশ্যমান পরিবর্তন সেভাবে আসেনি। যতটুকু উন্নতি হয়েছে, তা অত্যন্ত সীমিত পরিসরে। আর তা শুধুমাত্র তৈরি পোশাক বা গার্মেন্টস খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। রানা প্লাজার পর বিদেশি ক্রেতাদের জোট ‘অ্যাকর্ড’ ও ‘অ্যালায়েন্স’-এর চাপে পড়ে গার্মেন্টস খাতে নিরাপত্তার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কারণ তারা শর্ত দিয়েছিল যে, কমপ্লায়েন্স না মানলে তারা পোশাক কিনবে না।
কিন্তু গার্মেন্টস ছাড়াও বাংলাদেশে আরও অনেক শিল্প এলাকা ও শিল্প ভবন রয়েছে। প্রশ্ন হলো, সেই ভবনগুলোর নিরাপত্তা কি বেড়েছে? উত্তর হলো—না, বাড়েনি। তৈরি পোশাক খাতের বাইরের অন্য শিল্পগুলোর ক্ষেত্রে আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিনি। তাই ১৩ বছর পর দাঁড়িয়েও আক্ষেপের সাথে বলতে হয়, আমাদের দেশের শ্রমিকদের জীবন এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতেই রয়ে গেছে।
স্ট্রিম: শ্রমিকদের জীবন এখনো ঝুঁকিপূর্ণ থাকার কথা বললেন। একটি শিল্প বা বাণিজ্যিক ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ব্যবহারের ছাড়পত্র পেতে আসলে কী কী আইনি ও কাঠামোগত শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে?
আদিল মুহাম্মদ খান: নিয়ম অনুযায়ী, একটি বাণিজ্যিক ভবনের ‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’, মানে ব্যবহারের ছাড়পত্র পাওয়ার আগে অনেকগুলো কমপ্লায়েন্স বা শর্ত পূরণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এখানে বিল্ডিং কোড এবং ফায়ার সেফটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জড়িত। ফায়ার সেফটি অনুযায়ী একটি ভবনে সর্বোচ্চ কতজন মানুষ অবস্থান করতে পারবে, সেই কর্মী সংখ্যা অনুযায়ী কী কী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক তা নির্ধারণ করা থাকে।
পাশাপাশি, যখন বড় বড় যন্ত্রপাতি বসানো হয়, তখন সেগুলোর লাইভ লোড ক্যালকুলেট করতে হয়। এর ফলে ভবনটি কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হবে কি না, তা উপযুক্ত প্রকৌশলী দ্বারা যাচাই-বাছাই করানো বাধ্যতামূলক। সর্বোপরি, যে এলাকায় ভবনটি নির্মিত হচ্ছে, সেখানে ওই নির্দিষ্ট কাজে ভবনটির ব্যবহার নিরাপদ কি না এবং তা নগর পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের অধিকাংশ শিল্প কারখানা অননুমোদিত এলাকায় অবস্থিত, যেখানে শিল্প কারখানা স্থাপনের কোনো বৈধতা নেই। খোদ ঢাকা শহরের ৭০ ভাগের বেশি শিল্প কারখানা নির্ধারিত শিল্প জোনের বাইরে অবস্থিত। হয়তো কোনো আবাসিক এলাকার ভেতরেই এসব কারখানা অনুমোদনহীন গড়ে উঠেছে। দেশের অন্যান্য জায়গার চিত্রও একই। দেশের অনেক ইকোনমিক জোন বা বিসিক শিল্প নগরীর প্লট খালি পড়ে আছে, অথচ মানুষ বেআইনিভাবে কৃষিজমি ভরাট করে কিংবা আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবৈধভাবে শিল্প ভবন তৈরি করছে। ফলে এই অনিরাপদ ভবনগুলোতে অগ্নিকাণ্ড, ভবন ধসসহ নানা দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্ট্রিম: ভবন নির্মাণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড’ (বিএনবিসি) প্রয়োগ এবং নজরদারির ক্ষেত্রে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাগুলো ঠিক কোথায়?
আদিল মুহাম্মদ খান: নিয়মকানুন না মেনে এবং অপরিকল্পিতভাবে কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মান ও ব্যবহার অহরহ চলছে। পরিকল্পনার দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো সম্পূর্ণ বেআইনি। এখন প্রশ্ন হলো, আইন না থাকার পরও এগুলো কীভাবে চলছে? এর উত্তর হলো—আইন প্রয়োগের ব্যর্থতা, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের অনৈতিক প্রভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পর্যায়ের দুর্নীতি। কারখানার মালিকরা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করে এসব করছে। এমনকি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন বা শ্রম মন্ত্রণালয়ের মতো তদারককারী সংস্থাগুলোকেও যদি ম্যানেজ করে এভাবে একের পর এক অনৈতিকভাবে শিল্পকারখানা চলতে থাকে, তবে সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি কোনোভাবেই নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বরং আমাদের দেশের সস্তা শ্রমকে পুঁজি করা হচ্ছে। আইনি কাঠামোর দুর্বলতা, আইন প্রয়োগে শিথিলতা ও বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে আমরা শিল্প শ্রমিকদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছি। এই কারখানাগুলোর বেশিরভাগই কোনো না কোনো আবাসিক এলাকার কাছাকাছি অবস্থিত। তাই আমরা আশপাশের সাধারণ মানুষের জীবনকেও চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছি।
স্ট্রিম: রানা প্লাজার পর গার্মেন্টস সেক্টরে দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন এলেও অন্যান্য শিল্প খাতে সেই পরিবর্তন হচ্ছে না কেন?
আদিল মুহাম্মদ খান: রানা প্লাজার পর গার্মেন্টস সেক্টরে যে পরিবর্তনটুকু এসেছে তা যে খুব স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এসেছে তা নয়। আমদানিকারীরা নিজেদের ব্যবসা ও রপ্তানি নিশ্চিত করতেই কিছু শর্ত ও বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিল। বাংলাদেশের মালিকপক্ষ বাধ্য হয়ে সেগুলো মেনে নিয়েছে। সরকারও তখন তাদের সহায়তা করেছে। এর থেকে একটি বিষয় অন্তত প্রমাণিত হয় যে—সরকার, মালিকপক্ষ এবং বিদেশি ক্রেতারা যদি একত্রিত হয়, তবে যেকোনো খাতেই গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
অন্য খাতগুলোতে রপ্তানিমুখী শিল্পের মতো বিদেশি ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স (নিরাপত্তা ও মানদণ্ড) মানার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তাছাড়া আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রও যথাযথভাবে কাজ করছে না। যারা তদারকির দায়িত্বে আছেন, তাদের অনেকেই দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। আমাদের দেশে শ্রম অত্যন্ত সস্তা হওয়ায় শ্রমিকের জীবনের মূল্য প্রায় নেই বললেই চলে। কোনো শ্রমিক মারা গেলে সর্বোচ্চ দুই-তিন লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে পার পাওয়া যায়, আর ছোটখাটো দুর্ঘটনায় তো কোনো ক্ষতিপূরণই দেওয়া হয় না।
স্ট্রিম: কারখানার স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিয়মগুলো মানতে মালিকপক্ষ কেন অনীহা দেখাচ্ছে? আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোই বা কেন এত অসহায়?
আদিল মুহাম্মদ খান: নগর পরিকল্পনার ভাষায় আমরা ‘জোনিং’-এর কথা বলি। অর্থাৎ, কোথায় কী ধরনের ভূমি ব্যবহার হবে তা নির্দিষ্ট করা থাকে। শিল্পকারখানা অবশ্যই নির্ধারিত ‘শিল্প জোনে’ থাকতে হবে। দেশের অনেক জায়গায় এই জোনিংয়ের নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। মূল শহরের বাইরে, বিশেষ করে মফস্বল বা গ্রামীণ এলাকায়ও এখন অপরিকল্পিতভাবে অনেক শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে। সেসব এলাকায় এসব কারখানার কমপ্লায়েন্স যাচাই করার মতো কোনো উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বা অন্য কোন উপযুক্ত সংস্থা নেই। তদারকি ও সক্ষমতার এই ঘাটতির সুযোগ নিচ্ছে একশ্রেণির শিল্পমালিক।
তারা নিজেদের ‘সিআইপি’ দাবি করে এবং সরকারকে দেওয়া ট্যাক্সের দোহাই দিয়ে নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের সাথে আঁতাত করছে। এর ফলে একদিকে যেমন ভূমি ব্যবহারের নিয়মনীতি লঙ্ঘিত হচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমিকের জীবন ও আশেপাশের জলাশয়, পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়ছে। এমনকি শিল্প এলাকার পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকার মানুষের জীবনমান এবং জনস্বাস্থ্যে যে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসছে, সেটিকেও সরকার খুব একটা আমলে নিচ্ছে না। এটি মূলত আমাদের পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের চরম ব্যর্থতারই একটি বড় দৃষ্টান্ত।
স্ট্রিম: ভবিষ্যতে রানা প্লাজার মতো দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দীর্ঘমেয়াদী নগর ও শিল্পাঞ্চল পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি আপনার প্রধান পরামর্শ কী?
আদিল মুহাম্মদ খান: আমার কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ রয়েছে:
প্রথমত, যেকোনো শিল্পকারখানাকে, বিশেষ করে ভারী ও শ্রমঘন শিল্পগুলোকে অবশ্যই নির্ধারিত ‘শিল্প জোনে’ স্থানান্তর করতে হবে। যত্রতত্র এসব কারখানা গড়ে তোলার কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না।
দ্বিতীয়ত, আমাদের শ্রম নিরাপত্তা আইন এবং ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড’-এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিল্ডিং কোডে অগ্নি নিরাপত্তা এবং কাঠামোগত নিরাপত্তার বিষয়ে বিস্তারিত গাইডলাইন দেওয়া আছে। শিল্পমালিকদের দায়িত্ব হবে এই কোডগুলো সম্পূর্ণভাবে মেনে চলা। যারা কমপ্লায়েন্সের বাইরে আছেন, তারা কীভাবে নিয়মের মধ্যে আসতে পারেন, সে বিষয়ে সরকারের সহায়তা নিতে পারেন।
তৃতীয়ত, যেসব শ্রমঘন শিল্পকারখানা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আবাসিক বা বাণিজ্যিক এলাকায় গড়ে উঠেছে, সেগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া উচিত, যাতে তারা নির্ধারিত শিল্প জোনে চলে যায়। যেমনটি আমরা দেখেছি, ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সময় বেঁধে দিয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে। শিল্পের ক্ষেত্রেও এই নীতি প্রয়োগ করতে হবে।
চতুর্থত, সরকারের ‘সেফটি অডিট’ ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও বাধ্যতামূলক করতে হবে। অডিটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কি না, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজনে পরিদর্শকদের জনবল বাড়াতে হবে, কিন্তু শ্রমিকের নিরাপত্তা ও কমপ্লায়েন্সের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
সবশেষে, যেসব কারখানা চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আবাসিক বা বাণিজ্যিক এলাকায় কার্যক্রম চালাচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইন প্রয়োগ করে বন্ধ করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা দেখালে তারা এভাবেই অনিরাপদ উৎপাদন চালিয়ে যাবে। তবে যেগুলো তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ, তাদের সেফটি স্ট্যান্ডার্ডে উন্নীত হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া যেতে পারে। এই পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে শ্রম মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সিটি কর্পোরেশনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি কমাতে ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে শ্রম সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।
স্ট্রিম: কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কথা বললেন। কিন্তু মানসিকতা বা দৃষ্টিভঙ্গির জায়গা থেকে আমাদের কতটা পরিবর্তন প্রয়োজন? রানা প্লাজার ট্র্যাজেডি থেকে আমরা কি জাতি হিসেবে কোনো স্থায়ী শিক্ষা নিতে পেরেছি?
আদিল মুহাম্মদ খান: অবশ্যই, সবার আগে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। আমাদের দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের জীবনের যে একটি অমূল্য দাম আছে, সেটি রাষ্ট্র ও শিল্পমালিকদের বুঝতে হবে। উন্নত বিশ্বে আমরা দেখি, কোনো কারণে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হলে কয়েক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। আর আমাদের দেশে সেটি মাত্র কয়েক লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। যতক্ষণ পর্যন্ত শ্রমিকের জীবনের এই আর্থিক ও মানবিক মূল্যায়ন বাড়ানো না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মালিকপক্ষ এভাবেই অনিরাপদ ভবনে কারখানা চালাবে আর শ্রমিকরা প্রাণ হারাবেন।
সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, এত বড় একটি ট্র্যাজেডির পরও আমরা রানা প্লাজার স্মৃতি ধরে রাখিনি। আজ রানা প্লাজার সেই স্থানে গেলে বোঝার উপায় নেই যে সেখানে বিশ্বের অন্যতম বড় একটি শিল্প বিপর্যয় ঘটেছিল। দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মানুষের যেখানে এসে এই ট্র্যাজেডি সম্পর্কে জানার কথা। সেখানে আজ তার কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট নেই। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র এবং শিল্পমালিকেরা মূলত এই ভয়াবহ ঘটনাকে বেমালুম গায়েব করে দিতে চেয়েছে। এটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, রাষ্ট্র আসলে শ্রমিকের জীবনকে কতটা তুচ্ছ মনে করে!
স্ট্রিম: অতীতের এই চরম ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে নিরাপদ ও টেকসই শিল্পায়নের ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী?
আদিল মুহাম্মদ খান: আমাদের উচিত ছিল রানা প্লাজার সেই ধ্বংসস্তূপের স্থানে একটি স্মৃতিচিহ্ন তৈরি করা, যা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং শিল্পমালিকেরা শিক্ষা নিতে পারত। এটিকে সামনে রেখেই আমাদের নতুন শিল্পবিপ্লব এবং কারখানার নিরাপত্তার ‘স্টার্টিং পয়েন্ট’ তৈরি হতে পারত। কিন্তু আমরা সেই অমূল্য সুযোগটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছি। তবে আমি আশাবাদী, দেশে যে নতুন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে, বর্তমান সরকার চাইলে জনগণের জীবনের সঠিক মূল্যায়ন করতে পারে। শিল্প নিরাপত্তা এবং নগর পরিকল্পনার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে যে শিল্পায়ন হবে, সেটিই দেশের প্রকৃত ও টেকসই উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
স্ট্রিম: ঢাকা স্ট্রিমকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আদিল মুহাম্মদ খান: ধন্যবাদ ঢাকা স্ট্রিম ও স্ট্রিমের পাঠকদেরও।

রাজপথের নেত্রীদের মূল্যায়ন ভবিষ্যতে নারীদের ছাত্ররাজনীতিতে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করেন আরিফা সুলতানা রুমা।
১১ ঘণ্টা আগে
২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের নিযুক্ত বান্দরবান জেলার সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাধবী। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে নোটারি পাবলিক হিসেবে নিয়োগ পান।
১২ ঘণ্টা আগে
আজ আমি বই পড়ার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলব। বলব যে আনন্দ পাওয়ার জন্য বা নিছক শখের বশে কথাসাহিত্য পড়া মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
১২ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে নির্বাচিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন একটি আসন। এই আসনে তাঁরা মনোনয়ন দিয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেত্রী সুলতানা জেসমিন জুঁইকে।
১৩ ঘণ্টা আগে