লেখা:

আজ আমি বই পড়ার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলব। বলব যে আনন্দ পাওয়ার জন্য বা নিছক শখের বশে কথাসাহিত্য পড়া মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
স্বভাবতই আমি নিরপেক্ষ নই। আমি একজন লেখক। কথাসাহিত্য লিখে থাকি। ছোট ও বড় সবার জন্যই আমার লেখা। গত ৩০ বছর ধরে আমি আমার শব্দগুলোকে সম্বল করেই জীবিকা নির্বাহ করছি। মানুষ যেন বই পড়ে, বিশেষ করে কথাসাহিত্য পড়ে—সেটি তো অবশ্যই আমার স্বার্থেরই বিষয়। আর লাইব্রেরি যেন টিকে থাকে, তারা যেন বই পড়ার প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে সাহায্য করে, এমন পরিবেশ নিশ্চিত হয় যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে পড়তে পারে—সেটিও আমার আগ্রহের জায়গা।
সুতরাং, লেখক হিসেবে আমি পক্ষপাতদুষ্ট। তবে পাঠক হিসেবে আমার এই পক্ষপাত আরও অনেক অনেক বেশি। আমি বিশ্বাস করি আর সবাইকে বলি যে অ্যামরা যখন পড়ি, তখন সবকিছু বদলে যেতে শুরু করে।
একবার নিউ ইয়র্কে গিয়েছিলাম। সেখানে বেসরকারি কারাগার নির্মাণের ওপর একটি আলোচনা শুনছিলাম। আমেরিকায় এটি একটি বড় উদীয়মান শিল্প। এই কারাগার শিল্প ভবিষ্যতে কতটা বাড়তে পারে তা নিয়ে আগাম পরিকল্পনা করতে হয়। মানে, তাদের আসলে কারাগারে কতগুলো সেল প্রয়োজন? ১৫ বছর পর কতজন বন্দী থাকবে? তারা দেখল, এটি খুব সহজে অনুমান করা সম্ভব। একটি সাধারণ গাণিতিক হিসাব বা অ্যালগরিদম ব্যবহার করে তারা এটা বের করে ফেলা যায়। সেই অ্যালগরিদমের ভিত্তি হচ্ছে, ১০ ও ১১ বছর বয়সী কত শতাংশ শিশু বই পড়তে পারে না। আর যারা আনন্দ পাওয়ার জন্য বই পড়ে না, তাদের কথা তো বলাই বাহুল্য।
আমি বলছি না যে, সব শিক্ষিত সমাজ অপরাধমুক্ত। তবে না পড়ার সঙ্গে এর অনেক গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
এবার কথাসাহিত্য নিয়ে কয়েকটা কথা বলা যাক।
প্রথমত, কথাসাহিত্য বই পড়ার জগতে প্রবেশের চাবিকাঠি। এরপর কী ঘটবে তা জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষা, পাতা উল্টানোর ইচ্ছা, কষ্ট হলেও পড়ে যাওয়ার তাগিদ কেন হয়? কারণ কাহিনির কোনো চরিত্র বিপদে আছে আর আপনি জানতে চান শেষ পর্যন্ত কী হয়। এই তাগিদ খুব বাস্তব। এই তাড়না আপনাকে নতুন নতুন শব্দ শিখতে, নতুন চিন্তাভাবনা করতে এবং লেগে থাকতে বাধ্য করে। আপনি আবিষ্কার করেন যে, পড়ার মাঝেও আনন্দ আছে। একবার সেই আনন্দ পেয়ে গেলে, আপনি সব ধরনের বই পড়ার পথে এগিয়ে যান।
কয়েক বছর আগে কিছু কথা শোনা গিয়েছিল যে, আমরা নাকি এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে সাক্ষরতার প্রয়োজন ফুরিয়ে এসেছে, যেখানে লিখিত শব্দ থেকে অর্থ খুঁজে বের করার ক্ষমতা অপ্রয়োজনীয়। কিন্তু দিন শেষে দেখা যাচ্ছে যে শব্দ এখন আগের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শব্দ দিয়েই এই জগতকে চালনা করি। জগত যেহেতু এখন ইন্টারনেটের পাতায় চলে এসেছে, তাই আমাদের সেখানেও যোগাযোগ করতে আর যা পড়ছি তা বুঝতে শব্দের প্রয়োজন। মানুষ যদি একে অপরকে বুঝতে না পারে, তবে তারা মতবিনিময় করতে পারবে না, যোগাযোগ করতে পারবে না, আর অনুবাদের সফটওয়্যার সব ক্ষেত্রে কাজ করে না।
আমাদের সন্তানদের শিক্ষিত করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো তাদের পড়তে শেখানো এবং দেখানো যে বই পড়া একটি আনন্দদায়ক কাজ। সহজ কথায় এর অর্থ হলো, তাদের পছন্দের বই খুঁজে দেওয়া, সেই বইগুলো তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া আর তাদের তা পড়তে দেওয়া।
কথাসাহিত্য মানুষের মধ্যে সহানুভূতি তৈরি করে। আপনি যখন টিভি বা সিনেমা দেখেন, তখন অন্যের ওপর ঘটা ঘটনাগুলো দেখেন। কথাসাহিত্য হলো কিছু অক্ষর আর অল্প কিছু যতিচিহ্নের সমন্বয়ে তৈরি একটি জগত। এই জগত আপনি আপনার কল্পনাশক্তি দিয়ে নিজেই গড়ে তোলেন। সেখানে চরিত্র বসান। অন্যের চোখ দিয়ে জগতকে দেখার চেষ্টা করেন। আপনি এমন সব অনুভূতি পান, এমন সব জায়গায় বা জগতে যান যা পাঠ না করলে আপনি কখনো জানতেই পারতেন না। পড়ার মধ্যে দিয়ে আপনি শিখতে পারেন যে অন্যরাও আপনার মতোই একজন 'আমি'। আপনি যখন অন্য কেউ হয়ে আবার নিজের জগতে ফিরে আসেন, তখন আপনি আগের চেয়ে সামান্য হলেও বদলে যান।
এই হচ্ছে সহানুভূতির শুরু। এই সহানুভূতি আমাদের কেবল নিজের স্বার্থ নিয়ে মগ্ন থাকা মানুষ থেকে বেরিয়ে এসে একে অপরের সাথে মিলেমিশে কাজ করতে সাহায্য করে।
বই পড়ার সময় আপনি আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খুঁজে পান যা জীবনে চলার পথে খুব দরকারি। আর তা হলো: জগতটা সবসময় এমন ছিল না, বা এমন থাকার প্রয়োজন নেই। পরিস্থিতি বদলে ফেলা সম্ভব।
আমি ২০০৭ সালে চীনে গিয়েছিলাম। চীনা ইতিহাসে প্রথম সরকারি অনুমোদিত সায়েন্স ফিকশন ও ফ্যান্টাসি সম্মেলনে। এক পর্যায়ে আমি এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে একান্তে জিজ্ঞেস করলাম, সায়েন্স ফিকশন তো চীনে অনেক দিন নিষিদ্ধ ছিল। এখন আপনারা তা নিয়ে সম্মেলন করছেন? কী এমন বদলে গেল?
তিনি আমাকে খুব সহজ উত্তর দিলেন। তিনি বললেন, চীনারা কোনো কিছু তৈরি করায় দারুণ দক্ষ, যদি অন্যরা তাদের নকশা এনে দেয়। কিন্তু তারা নতুন কিছু তৈরি করতে পারত না। তারা কল্পনা করতে জানত না। তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রে এক প্রতিনিধি দল পাঠাল—অ্যাপল, মাইক্রোসফট, গুগলের কাছে—জানতে চাইল যারা ভবিষ্যৎ উদ্ভাবন করছে, তারা আসলে কারা? তারা দেখল, তাদের সবাই ছোটবেলায় সায়েন্স ফিকশন পড়ত।
কথাসাহিত্য আপনাকে একটি ভিন্ন জগত দেখাতে পারে। সে আপনাকে এমন কোথাও নিয়ে যেতে পারে যেখানে আপনি আগে কখনও যাননি। একবার আপনি অন্য কোনো জগত থেকে ঘুরে এলে, আপনি আর কখনোই শুধু নিজের জগতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট থাকতে পারবেন না। অসন্তুষ্টি একটি ভালো জিনিস। অসন্তুষ্ট মানুষই পারে জগতকে বদলাতে, তাকে আরও ভালো করে তুলতে আর নতুন কিছু রেখে যেতে।
কিন্তু বই পড়া কি তাহলে বাস্তব জগত থেকে পালিয়ে যাওয়া? এই শব্দটি এমনভাবে ব্যবহার করা হয় যেন এটি খুব খারাপ কিছু। আপনি যদি কোনো অপ্রীতিকর জায়গায় থাকেন, আর কেউ যদি আপনাকে সাময়িক পালানোর পথ দেখায়, তবে আপনি কেন তা নেবেন না? আপনার সেই পলায়নের সময় বই আপনাকে জগত ও আপনার পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞান দেয়, আপনাকে অস্ত্র দেয়, বর্ম দেয়। সেই সব অস্ত্র নিয়ে আপনি আপনার কারাগারে ফিরে আসতে পারেন। এগুলো আপনি বাস্তবে পালানোর জন্য ব্যবহার করতে পারেন।
জে.আর.আর. টলকিয়েন আমাদের মনে করিয়ে দিয়ে গেছেন, একমাত্র জেলারেরাই পালানোর বিরুদ্ধে কথা বলে।
লেখক ব্রিটিশ কথাসাহিত্যিক। লেখাটি গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া।

আজ আমি বই পড়ার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলব। বলব যে আনন্দ পাওয়ার জন্য বা নিছক শখের বশে কথাসাহিত্য পড়া মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
স্বভাবতই আমি নিরপেক্ষ নই। আমি একজন লেখক। কথাসাহিত্য লিখে থাকি। ছোট ও বড় সবার জন্যই আমার লেখা। গত ৩০ বছর ধরে আমি আমার শব্দগুলোকে সম্বল করেই জীবিকা নির্বাহ করছি। মানুষ যেন বই পড়ে, বিশেষ করে কথাসাহিত্য পড়ে—সেটি তো অবশ্যই আমার স্বার্থেরই বিষয়। আর লাইব্রেরি যেন টিকে থাকে, তারা যেন বই পড়ার প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে সাহায্য করে, এমন পরিবেশ নিশ্চিত হয় যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে পড়তে পারে—সেটিও আমার আগ্রহের জায়গা।
সুতরাং, লেখক হিসেবে আমি পক্ষপাতদুষ্ট। তবে পাঠক হিসেবে আমার এই পক্ষপাত আরও অনেক অনেক বেশি। আমি বিশ্বাস করি আর সবাইকে বলি যে অ্যামরা যখন পড়ি, তখন সবকিছু বদলে যেতে শুরু করে।
একবার নিউ ইয়র্কে গিয়েছিলাম। সেখানে বেসরকারি কারাগার নির্মাণের ওপর একটি আলোচনা শুনছিলাম। আমেরিকায় এটি একটি বড় উদীয়মান শিল্প। এই কারাগার শিল্প ভবিষ্যতে কতটা বাড়তে পারে তা নিয়ে আগাম পরিকল্পনা করতে হয়। মানে, তাদের আসলে কারাগারে কতগুলো সেল প্রয়োজন? ১৫ বছর পর কতজন বন্দী থাকবে? তারা দেখল, এটি খুব সহজে অনুমান করা সম্ভব। একটি সাধারণ গাণিতিক হিসাব বা অ্যালগরিদম ব্যবহার করে তারা এটা বের করে ফেলা যায়। সেই অ্যালগরিদমের ভিত্তি হচ্ছে, ১০ ও ১১ বছর বয়সী কত শতাংশ শিশু বই পড়তে পারে না। আর যারা আনন্দ পাওয়ার জন্য বই পড়ে না, তাদের কথা তো বলাই বাহুল্য।
আমি বলছি না যে, সব শিক্ষিত সমাজ অপরাধমুক্ত। তবে না পড়ার সঙ্গে এর অনেক গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
এবার কথাসাহিত্য নিয়ে কয়েকটা কথা বলা যাক।
প্রথমত, কথাসাহিত্য বই পড়ার জগতে প্রবেশের চাবিকাঠি। এরপর কী ঘটবে তা জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষা, পাতা উল্টানোর ইচ্ছা, কষ্ট হলেও পড়ে যাওয়ার তাগিদ কেন হয়? কারণ কাহিনির কোনো চরিত্র বিপদে আছে আর আপনি জানতে চান শেষ পর্যন্ত কী হয়। এই তাগিদ খুব বাস্তব। এই তাড়না আপনাকে নতুন নতুন শব্দ শিখতে, নতুন চিন্তাভাবনা করতে এবং লেগে থাকতে বাধ্য করে। আপনি আবিষ্কার করেন যে, পড়ার মাঝেও আনন্দ আছে। একবার সেই আনন্দ পেয়ে গেলে, আপনি সব ধরনের বই পড়ার পথে এগিয়ে যান।
কয়েক বছর আগে কিছু কথা শোনা গিয়েছিল যে, আমরা নাকি এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে সাক্ষরতার প্রয়োজন ফুরিয়ে এসেছে, যেখানে লিখিত শব্দ থেকে অর্থ খুঁজে বের করার ক্ষমতা অপ্রয়োজনীয়। কিন্তু দিন শেষে দেখা যাচ্ছে যে শব্দ এখন আগের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শব্দ দিয়েই এই জগতকে চালনা করি। জগত যেহেতু এখন ইন্টারনেটের পাতায় চলে এসেছে, তাই আমাদের সেখানেও যোগাযোগ করতে আর যা পড়ছি তা বুঝতে শব্দের প্রয়োজন। মানুষ যদি একে অপরকে বুঝতে না পারে, তবে তারা মতবিনিময় করতে পারবে না, যোগাযোগ করতে পারবে না, আর অনুবাদের সফটওয়্যার সব ক্ষেত্রে কাজ করে না।
আমাদের সন্তানদের শিক্ষিত করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো তাদের পড়তে শেখানো এবং দেখানো যে বই পড়া একটি আনন্দদায়ক কাজ। সহজ কথায় এর অর্থ হলো, তাদের পছন্দের বই খুঁজে দেওয়া, সেই বইগুলো তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া আর তাদের তা পড়তে দেওয়া।
কথাসাহিত্য মানুষের মধ্যে সহানুভূতি তৈরি করে। আপনি যখন টিভি বা সিনেমা দেখেন, তখন অন্যের ওপর ঘটা ঘটনাগুলো দেখেন। কথাসাহিত্য হলো কিছু অক্ষর আর অল্প কিছু যতিচিহ্নের সমন্বয়ে তৈরি একটি জগত। এই জগত আপনি আপনার কল্পনাশক্তি দিয়ে নিজেই গড়ে তোলেন। সেখানে চরিত্র বসান। অন্যের চোখ দিয়ে জগতকে দেখার চেষ্টা করেন। আপনি এমন সব অনুভূতি পান, এমন সব জায়গায় বা জগতে যান যা পাঠ না করলে আপনি কখনো জানতেই পারতেন না। পড়ার মধ্যে দিয়ে আপনি শিখতে পারেন যে অন্যরাও আপনার মতোই একজন 'আমি'। আপনি যখন অন্য কেউ হয়ে আবার নিজের জগতে ফিরে আসেন, তখন আপনি আগের চেয়ে সামান্য হলেও বদলে যান।
এই হচ্ছে সহানুভূতির শুরু। এই সহানুভূতি আমাদের কেবল নিজের স্বার্থ নিয়ে মগ্ন থাকা মানুষ থেকে বেরিয়ে এসে একে অপরের সাথে মিলেমিশে কাজ করতে সাহায্য করে।
বই পড়ার সময় আপনি আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খুঁজে পান যা জীবনে চলার পথে খুব দরকারি। আর তা হলো: জগতটা সবসময় এমন ছিল না, বা এমন থাকার প্রয়োজন নেই। পরিস্থিতি বদলে ফেলা সম্ভব।
আমি ২০০৭ সালে চীনে গিয়েছিলাম। চীনা ইতিহাসে প্রথম সরকারি অনুমোদিত সায়েন্স ফিকশন ও ফ্যান্টাসি সম্মেলনে। এক পর্যায়ে আমি এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে একান্তে জিজ্ঞেস করলাম, সায়েন্স ফিকশন তো চীনে অনেক দিন নিষিদ্ধ ছিল। এখন আপনারা তা নিয়ে সম্মেলন করছেন? কী এমন বদলে গেল?
তিনি আমাকে খুব সহজ উত্তর দিলেন। তিনি বললেন, চীনারা কোনো কিছু তৈরি করায় দারুণ দক্ষ, যদি অন্যরা তাদের নকশা এনে দেয়। কিন্তু তারা নতুন কিছু তৈরি করতে পারত না। তারা কল্পনা করতে জানত না। তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রে এক প্রতিনিধি দল পাঠাল—অ্যাপল, মাইক্রোসফট, গুগলের কাছে—জানতে চাইল যারা ভবিষ্যৎ উদ্ভাবন করছে, তারা আসলে কারা? তারা দেখল, তাদের সবাই ছোটবেলায় সায়েন্স ফিকশন পড়ত।
কথাসাহিত্য আপনাকে একটি ভিন্ন জগত দেখাতে পারে। সে আপনাকে এমন কোথাও নিয়ে যেতে পারে যেখানে আপনি আগে কখনও যাননি। একবার আপনি অন্য কোনো জগত থেকে ঘুরে এলে, আপনি আর কখনোই শুধু নিজের জগতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট থাকতে পারবেন না। অসন্তুষ্টি একটি ভালো জিনিস। অসন্তুষ্ট মানুষই পারে জগতকে বদলাতে, তাকে আরও ভালো করে তুলতে আর নতুন কিছু রেখে যেতে।
কিন্তু বই পড়া কি তাহলে বাস্তব জগত থেকে পালিয়ে যাওয়া? এই শব্দটি এমনভাবে ব্যবহার করা হয় যেন এটি খুব খারাপ কিছু। আপনি যদি কোনো অপ্রীতিকর জায়গায় থাকেন, আর কেউ যদি আপনাকে সাময়িক পালানোর পথ দেখায়, তবে আপনি কেন তা নেবেন না? আপনার সেই পলায়নের সময় বই আপনাকে জগত ও আপনার পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞান দেয়, আপনাকে অস্ত্র দেয়, বর্ম দেয়। সেই সব অস্ত্র নিয়ে আপনি আপনার কারাগারে ফিরে আসতে পারেন। এগুলো আপনি বাস্তবে পালানোর জন্য ব্যবহার করতে পারেন।
জে.আর.আর. টলকিয়েন আমাদের মনে করিয়ে দিয়ে গেছেন, একমাত্র জেলারেরাই পালানোর বিরুদ্ধে কথা বলে।
লেখক ব্রিটিশ কথাসাহিত্যিক। লেখাটি গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া।

রাজপথের নেত্রীদের মূল্যায়ন ভবিষ্যতে নারীদের ছাত্ররাজনীতিতে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করেন আরিফা সুলতানা রুমা।
৪১ মিনিট আগে
সম্প্রতি ফেসবুকে বিএনপির প্যাডে প্রকাশিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, এতে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিটি সঠিক নয়।
১ ঘণ্টা আগে
২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের নিযুক্ত বান্দরবান জেলার সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাধবী। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে নোটারি পাবলিক হিসেবে নিয়োগ পান।
২ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে নির্বাচিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন একটি আসন। এই আসনে তাঁরা মনোনয়ন দিয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেত্রী সুলতানা জেসমিন জুঁইকে।
৩ ঘণ্টা আগে