সাহাব এনাম খানের সাক্ষাৎকার
ড. সাহাব এনাম খান; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে উগ্রবাদের শঙ্কা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা এবং নতুন সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার কৌশল বিষয়ে ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
মুজাহিদুল ইসলাম

স্ট্রিম: সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বকাপ চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাদা-কালো রঙের কালেমা খচিত পতাকা উড়তে দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। আপনি এ বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
সাহাব এনাম খান: ধন্যবাদ। এটি নিঃসন্দেহে চিন্তার উদ্রেক করে। বাংলাদেশের বর্তমান স্থিতিশীলতার জন্য বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের জন্য এটি একটি বড় শঙ্কার জায়গা। বর্তমানে আমরা অর্থনীতি পুনর্নির্মাণের যে চেষ্টা করছি, সেখানে এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের ভাবমূর্তি ও আস্থার জায়গায় বড় ধরনের হোঁচট তৈরি করবে। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করে থাকে, তবে আন্তর্জাতিক মহল তা ভালোভাবে নেবে না। যারা এসব করছেন, তারা সম্ভবত দেশের বৃহত্তর স্বার্থটি বোঝার চেষ্টা করছেন না।
আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশে হোলি আর্টিজানের মতো ঘটনা ঘটে গেছে। পরবর্তী সময়ে জঙ্গিবাদ বা চরমপন্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করায় আমাদের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল। তার মানে এই নয় যে, চরমপন্থার বীজ সমাজ থেকে পুরোপুরি নির্মূল হয়ে গেছে। তাই রাজনৈতিক দল ও নিরাপত্তা বাহিনীকে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মূল স্পিরিট ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং সকল মত ও চিন্তার একযোগে প্রকাশের জায়গা তৈরি করা। সুতরাং এই চেতনাকে যদি কেউ কোনো কারণে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান, তবে তারা এ ধরনের বার্তা দিতে পারেন। আমরা যদি প্রতীকের দিক থেকেও দেখি, তবে এটি খুব একটা সুখকর বা স্বস্তিদায়ক বিষয় নয়। আবার রাজনৈতিক দিক থেকে বিবেচনা করলেও এটি বাংলাদেশের সমাজে চলমান বহুত্ববাদের ওপর একটি ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা। তাই আমি এখনই বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি শঙ্কিত না হলেও, এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে থাকলে নিশ্চিতভাবেই আমাদের শঙ্কার জায়গা তৈরি হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনেক নিরপরাধ মানুষ যেমন মুক্তি পেয়েছেন, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে সত্যিকারের চরমপন্থিরাও ছাড় পেয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। এর দায়ভার সেই সরকার পুরোপুরি এড়াতে পারবে না। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনই অতিমাত্রায় প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। যারা এসব করছেন, তাদের চিহ্নিত করে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়াটা এখন সবচেয়ে বেশি সমীচীন হবে বলে আমি মনে করি।
স্ট্রিম: আপনি যথার্থই বলেছেন। তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশ এক ধরণের প্রচারণার চেষ্টা চালিয়েছে যে, বাংলাদেশে উগ্র ডানপন্থি দলের উত্থান ঘটছে। এ ধরনের মিছিল বা পতাকা কি তাদের এই প্রচারণায় নতুন করে ইন্ধন বা অস্ত্র তুলে দেবে?
সাহাব এনাম খান: বাংলাদেশকে উগ্রবাদী রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা কেবল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই নয়, আগেও বিভিন্নভাবে হয়েছে। হোলি আর্টিজান হামলার পর বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের ওপর যে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছিল, তা আমাদের বিদেশি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত হেনেছিল। সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এর কারণে নানা বাধার মুখে পড়েছেন, যা মোটেও সুখকর ছিল না।
আয়তনে ছোট হলেও বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের উপস্থিতি বা 'গ্লোবাল ফুটপ্রিন্ট' বিশাল। বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর সব জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন। এই প্রবাসী শ্রমজীবী মানুষেরাই আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন। আমাদের যদি আন্তর্জাতিক মহলে উগ্রবাদী হিসেবে তুলে ধরা যায়, তবে এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিদেশের শ্রমবাজার ও আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর।
তাই যারা এসব কর্মকাণ্ড করছেন, তাদের উচিত প্রবাসীদের কথা এবং দেশের অর্থনীতির কথা অন্তত চিন্তা করা। তারা হয়তো অজান্তেই সেই প্রতিবেশী দেশগুলোর পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছেন, যারা আমাদের নেতিবাচকভাবে তুলে ধরতে চায়। আমার মনে হয়, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিকভাবে চিন্তাভাবনা করা দরকার এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়ারও প্রয়োজন হতে পারে।
স্ট্রিম: ৫ আগস্টের পর দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের কোনো কোনো ধর্মীয় সংগঠন আফগানিস্তানে তালেবানের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের ব্যবস্থার প্রশংসা করছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের কিছু উগ্রপন্থি দলের সঙ্গেও তাদের বৈঠকের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
সাহাব এনাম খান: দেখুন, প্রত্যেকেরই বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। সুতরাং, কেবল একজন ব্যক্তির বা সংগঠনের বৈঠকের মাধ্যমেই যে একটি রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তিত হয়ে যাবে, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। তবে এটাও সত্য যে, আমরা যদি কয়েকটি উদাহরণ দেখি—ভারত, পাকিস্তান বা কাতার—সবাই কিন্তু আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্ক তৈরিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমি বলছি না যে, এটি নিশ্চিতভাবেই আমাদের জন্য একটি বড় উদাহরণ। আসলে, আফগানিস্তান এখনো পর্যন্ত কারোর জন্যই অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠতে পারেনি।
আফগানিস্তানকে এখন মূলত ভূ-রাজনৈতিক কারণেই সবাই গুরুত্ব দিচ্ছে। সেন্ট্রাল ও সাউথ এশিয়ার মাঝখানে এবং চীনের পাশে হওয়ায় আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং তাদের প্রাকৃতিক সম্পদের (যেমন: রেয়ার আর্থ) কারণে দেশগুলোর নিজস্ব ভূ-কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। তালেবানের আদর্শগত অবস্থানের প্রতি বিশ্বনেতাদের তেমন কোনো আগ্রহ নেই, বরং অর্থনৈতিক স্বার্থটাই এখানে মুখ্য। তা ছাড়া তালেবানের বর্তমান যে অবস্থান, সেটি এখনো পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছে বলে আমার মনে হয় না। অন্তত এখনো পর্যন্ত আমরা সে ধরনের কোনো সূচক বা ইন্ডিকেটর দেখতে পাচ্ছি না।
তবে এটা ঠিক যে, তালেবান সরকার পপি চাষ বা মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুষম সম্পদ বণ্টন এবং দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে কিছুটা সাফল্য দেখিয়েছে। কিন্তু এগুলো কোনো আদর্শিক বিষয় নয়, বরং এটি পুরোপুরি সুশাসনের অংশ। সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো সরকারই এটি করতে পারে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান বা ইউরোপীয় দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন, সেখানে ধর্মের চেয়ে সুশাসন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি ধর্মনিরপেক্ষ হয়েও শুধু সুশাসনের জোরে চীন আজ সুপারপাওয়ার। তাই আমাদের এমন কোনো উদাহরণ টানা উচিত নয়, যা আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়।
স্ট্রিম: নির্বাচনের আগে গত বছর এক সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডানপন্থীদের উত্থানের বিষয়ে সতর্কতা উচ্চারণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, ডানপন্থীদের এই উত্থান নিয়ে তিনি কিছুটা শঙ্কিত বা ভীত। এখন যেহেতু বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আছে এবং দেশ পরিচালনা করছে; সে ক্ষেত্রে আপনার কী মনে হয়, সরকারের আসলে কীভাবে এই বিষয়গুলো মোকাবিলা করা উচিত?
সাহাব এনাম খান: এক্ষেত্রে সবার আগে বিগত সরকারের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। জঙ্গিবাদ বা চরমপন্থা দমনের নামে বিষয়টিকে যখনই রাজনীতিকীকরণ করা হবে, তখনই তা আর কাজ করবে না; বরং তা দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে রূপ নেবে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে: প্রথমত, কমিউনিটি বা তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ (সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স) গড়ে তোলা এবং তা আরও শক্তিশালী করা। আমার মনে হয়, বিগত অনেক বছর ধরে এই জায়গায় আমরা যথেষ্ট উন্নতি করেছি, তবে একে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক ও সামাজিক সহনশীলতা বাড়ানো। আমাদের সমাজে, বিশেষ করে পাড়া-মহল্লায় যে অসহিষ্ণুতা দেখা যায়, তা কমিয়ে সামাজিক ও ধর্মীয় বহুমাত্রিকতা আরও জোরালোভাবে প্রচার করা জরুরি।
তৃতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শক্তিশালী করা। এর মানে শুধু অস্ত্র হাতে দৌড়াদৌড়ি নয়; বরং সমস্যা বা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, তাদের সাথে সংলাপ বা ডায়ালগে যাওয়া, পরামর্শ করা এবং সম্পৃক্ততা বাড়ানো। আমার মনে হয়, এসব পদক্ষেপ নিলে আমরা অনেক বেশি সফল হতে পারব।
তবে এখানে একটি আন্তঃদেশীয় বা ট্রান্সন্যাশনাল বিষয়ও জড়িত থাকে। বাংলাদেশের অনেক মানুষই একটি জিনিস বুঝতে চান না; তারা মনে করেন সবকিছু হয়তো দেশের ভেতর থেকেই হচ্ছে। কিন্তু এর পেছনে যে বাইরের প্রভাব থাকে, তা একটু গবেষণা করলেই বোঝা যায়। আমাদের সমাজে একটা প্রবণতা আছে যে, কেউ ইংরেজিতে বা আরবিতে কিছু বললেই আমরা সেটাকে অন্ধভাবে সঠিক বলে ধরে নিই। এই জায়গাটিতে প্রশ্ন করার মানসিকতা বা সামাজিক সক্ষমতা বাড়ানো দরকার।
আমি মাঝে মাঝেই বিভিন্ন জায়গায় শুনি—নারী, ধর্ম, সুশাসন বা ব্যক্তি বিষয়ে এমন সব বক্তব্য দেওয়া হয়, যেগুলোকে আপনি যদি দেশের সাধারণ আইনের মাপকাঠিতে বিচার করেন, এমনকি ইসলামী আইনের দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখেন, তার প্রতিটিই কিন্তু বেআইনি এবং এগুলো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং, আমার মনে হয় ধর্মীয় জ্ঞানের পরিধিকে আরও উন্মুক্ত করে দেওয়া দরকার, যাতে সাধারণ মানুষ খুব সহজে ধর্মীয় জ্ঞানের সঠিক ও বহুমুখী তথ্যসূত্র সংগ্রহ করতে পারেন।
বর্তমানে ইউটিউব বা অনলাইনে প্রতিনিয়ত প্রচুর প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। কেউ এর প্রতিবাদ করলেই বট বাহিনী বা ট্রল করে তাকে হেনস্তা করা হয়। এই জায়গাগুলোতে সমাজকেও দায়িত্ব নিতে হবে। আর সমাজ তখনই সঠিক দায়িত্ব নিতে পারবে, যখন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত হবে। চরমপন্থি উপাদান পৃথিবীর সব দেশেই থাকে; ইউরোপ-আমেরিকাতেও মসজিদ বা প্যাগোডায় হামলার ঘটনা আমরা দেখেছি। তাই বিষয়গুলো মানুষের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। গত ১৫ বছরে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন করুণ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যে, এটিকে সংস্কার করে সঠিক পথে আনা বর্তমান সরকারের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।
স্ট্রিম: কোনো আইন বা সংস্কার করতে গেলে সাধারণত বাধার সম্মুখীন হতে হয়। যেমন গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়, নারী সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব জমা দেওয়ার আগেই বিভিন্ন পক্ষের চাপে পড়ে সেটি বাতিল করতে হয়েছিল। এখন বর্তমান যে সরকার ক্ষমতায় আছে, তারাও যখন কোনো সংস্কার করতে চাইবে, সেখানে যে বাধা আসবে না— এমন নিশ্চয়তা আছে কি?
সাহাব এনাম খান: এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে—অন্তর্বর্তী সরকার মূলত দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য গঠিত একটি সরকার ছিল। কিন্তু তারা এমন কিছু কাজ করার চেষ্টা করেছিল, যার কোনো রাজনৈতিক ম্যান্ডেট তাদের ছিল না। ফলে সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
বর্তমান সরকার সংস্কারের যে উদ্যোগ নিচ্ছে, সেখানে বাধা আসাটা খুবই স্বাভাবিক। এই বাধা অতিক্রম করা পুরোপুরি নির্ভর করে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং বিরোধী দলগুলোর সহযোগিতার ওপর। রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া সরকার একা এগোতে চাইলে বারবার হোঁচট খাবে। এই বিষয়গুলো সংসদে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। বর্তমান সংসদটি তুলনামূলকভাবে বেশ তরুণদের সংসদ হলেও এর সদস্যরা গত ১৫ বছর ধরে চরম রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। ফলে পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের চেয়ে ভালো ধারণা আর কারও নেই।
খুব সহজে বলতে গেলে, চরমপন্থার বিরুদ্ধে একটি শক্ত কাউন্টার-ন্যারেটিভ বা পাল্টা বয়ান তৈরি করতে হবে। এই বয়ান সমাজ থেকেই আসতে হবে। এই কাউন্টার ন্যারেটিভ তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন তা সমাজ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসবে। আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজন বা ইসলামিক ফাউন্ডেশন দিয়ে নিজেদের মতো কাউন্টার-ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করেছিল, যা সাধারণ মানুষ গ্রহণ করেনি। এর জন্য একটি সুশিক্ষিত, সচেতন ও প্রকৃত সুশীল সমাজ প্রয়োজন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের মতো সুশীল সমাজ দিয়ে এটি হবে না। তাই, বর্তমান সুশীল সমাজকে একেবারেই ভিন্ন ও কার্যকর হতে হবে।
স্ট্রিম: হিজবুত তাহরীরের মতো সংগঠন তো বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। কিন্তু তারা বিভিন্ন সময় কর্মসূচি পালন করেছে; গত বছরও করেছে এবং এখনো করছে। রাষ্ট্র কি এগুলো এভাবে চলতে দিতে পারে? এখানে রাষ্ট্রের করণীয় কী?
সাহাব এনাম খান: যেকোনো ধরনের চরমপন্থি মতবাদকেই নিরুৎসাহিত করা উচিত—তা আইনিভাবেই হোক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমেই হোক। যেসব সংগঠনকে অতীতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এখনও যারা নিষিদ্ধের তালিকায় রয়েছে, তাদের বিষয়ে রাষ্ট্রের আইনি অবস্থান কঠোর হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে সরকারের উচিত তাদের কৌশল ও অবস্থান পরিষ্কার করা; অন্যথায় জনমনে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। আমি মনে করি, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংসদীয় কমিটি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সমন্বয় থাকা দরকার এবং সে অনুযায়ীই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
স্ট্রিম: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে এর কোনো প্রভাব পড়বে বলে কি আপনি মনে করেন?
সাহাব এনাম খান: প্রভাব তো একটি পড়বেই। কারণ, সেখানে পরিবর্তনের পরপরই আমরা দেখেছি বাংলাদেশের ওপর কীভাবে চাপ বাড়ানো হয়েছিল। যদিও বিএসএফ-বিজিবি বৈঠকের পর তা কিছুটা কমেছে। মূল সমস্যা হলো, ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাংলাদেশকে নানাভাবে ব্যবহার করে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বয়ান দাঁড় করায়। কাল যদি বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ বা রেয়ার আর্থ নিয়ে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে, তখন ভারতের মিডিয়া প্রচার শুরু করবে যে বাংলাদেশ সরকার তালেবান হয়ে গেছে। ড. ইউনূসের মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বকেও তো তারা তালেবান আখ্যা দিয়েছে!
আমি মনে করি, এসব নিয়ে বাংলাদেশের আসলে খুব বেশি ভাবার কারণ নেই। আমাদের উচিত শুধু নিজেদের জাতীয় স্বার্থের দিকে নজর দেওয়া। ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বা তাদের বয়ান আমাদের কখনোই স্বস্তি দেয়নি। ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশকে যেভাবে তুলে ধরে, তা তারা নিজেরাও বোঝে। ভারতের মিডিয়া কতটা 'স্বাধীন', তা গ্লোবাল প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স দেখলেই বোঝা যায়—তারা সূচকের তলানিতে এখন আফগানিস্তানের সাথে পাল্লা দিচ্ছে! পাকিস্তান যেমন একসময় নিজেদের তৈরি জঙ্গিবাদের শিকার হয়েছিল, ভারত এখন শিকার হচ্ছে তাদের নিজেদের উগ্র মিডিয়ার।
সুতরাং, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত না হয়ে ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক হওয়া উচিত পুরোপুরি স্বার্থ বা আদান-প্রদান ভিত্তিক। দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের জায়গাগুলোতে আমরা সহযোগিতা করব। আমি সবসময় একটি কথা বলি, সম্পর্কটিকে আদান-প্রদানমূলক বা 'ট্রানজ্যাকশনাল' রাখুন, তাহলে সবই ঠিক থাকবে। সম্পর্ক ট্রানজ্যাকশনাল না রাখলেই পুরনো ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি শুরু হয়। বিজেপির মূল রাজনীতিই হলো পেছনের দিকে হাঁটা—তারা এখন রাস্তাঘাট বা শহরের নাম পরিবর্তন নিয়ে ব্যস্ত। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সামনের দিকে এগোতে চায়; দুটি দেশের রাজনৈতিক দর্শন এখন দুই রকম।
বর্তমানে বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভারত যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক নিয়ে একটি জটিল সমীকরণে আছে। তারা পাকিস্তানকে একঘরে করতে গিয়ে উল্টো পাকিস্তানকেই বৈশ্বিক রাজনীতির বড় খেলোয়াড় বানিয়ে দিয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক রাখাটা আমাদের জন্য যেমন জরুরি, ভারত চাইলে তারাও রাখবে। বাংলাদেশের মানুষের ভারত নিয়ে মেতে থাকার কিছু নেই; তাদের মিডিয়া যা করছে সেগুলো মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির খোরাক। তাই বাংলাদেশের উচিত এসব প্রোপাগান্ডায় কান না দিয়ে নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অবিচল থাকা।
স্ট্রিম: এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসতে চাই। একটি প্রথা দাঁড়িয়ে গিয়েছিল যে, বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে প্রথমেই ভারত সফরে যান। কিন্তু এবার প্রথা ভেঙে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীনে গেলেন। এটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন এবং দিল্লি, ওয়াশিংটন ও বেইজিংকে নিয়ে এই ভারসাম্য নীতি কতটা কার্যকর হবে?
সাহাব এনাম খান: আমি এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সফর হিসেবে দেখছি। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার; সৌদি আরবের পর সেখানেই সবচেয়ে বেশি (প্রায় আট লাখ) বাংলাদেশি কাজ করেন। মালয়েশিয়ার আগামী পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় (২০২৬-২০৩১) বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা কমানোর একটি লক্ষ্য রয়েছে, যা আমাদের জন্য সরাসরি চিন্তার বিষয়। তাই এই মুহূর্তে মালয়েশিয়ার সাথে শ্রম কূটনীতি আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল এবং এই সফর সেখানে বড় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া, বাংলাদেশের কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রেও এটি একটি দারুণ উদ্যোগ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে আমাদের পুরোনো সম্পর্ক রয়েছে। আসিয়ান-এর সাথে সম্পর্ক জোরদার করা এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মালয়েশিয়া আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, কারণ থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াও এই সংকটের ভুক্তভোগী। পাশাপাশি প্রযুক্তির ভূ-রাজনীতিতেও মালয়েশিয়া ভালো করছে। সব মিলিয়ে এটি একটি যুগান্তকারী সফর, যা আমাদের কূটনীতিতে বহুমুখীকরণের একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়।
ভারসাম্য নীতির কথায় যদি আসি, বর্তমান সরকারের মূল নীতি হলো 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' বা সবার আগে দেশের স্বার্থ। প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ভারত, চীন নাকি যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন—সেটা বড় কথা নয়; বরং এই মুহূর্তে দেশের জাতীয় স্বার্থে কোন দেশটির সাথে কাজ করা সবচেয়ে বেশি জরুরি, সেটাই মুখ্য বিষয়। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য চীনের সাথে সম্পর্ক জোরদার করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের সম্পর্ক আগে থেকেই সুপ্রতিষ্ঠিত; নির্বাচনের আগেই তাদের সাথে একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। তাছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প বা মার্কো রুবিওর মতো শীর্ষ মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা এখন মধ্যপ্রাচ্য বা গালফ ক্রাইসিস নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে, তাদের সাথে চাইলেই দ্রুত সাক্ষাৎ করা সম্ভব নয়। লজিস্টিকসেরও একটি বিষয় থাকে।
আর ভারতের বিষয়ে বলব, গত দেড়-দুই বছরে তাদের সাথে আমাদের দূরত্বের কারণে যে খুব বড় কোনো ক্ষতি হয়ে গেছে, তা কিন্তু নয়। ভারত আমাদের চিরস্থায়ী প্রতিবেশী। আমরা প্রতিবেশী বদলাতে পারব না, কিন্তু নতুন বাড়িতে উঠলেই যে প্রথমে প্রতিবেশীর বাসাতেই যেতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। নিজের অন্যান্য জরুরি কাজও আগে করা যেতে পারে। প্রতিবেশী হিসেবে পরে যেকোনো সময় ভারতে যাওয়া যাবে। সুতরাং, ভারত সফরের বিষয়টিকে ঠিক এই দৃষ্টিকোণ থেকেই চিন্তা করা যাবে।
স্ট্রিম: যেসব প্রকল্পে ভারতের উদ্বেগ (কনসার্ন) ছিল—যেমন তিস্তা ব্যারেজ, গঙ্গা ও পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প—সেগুলোতে চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এবার সফরে সেগুলো নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আপনি বিষয়গুলোকে কীভাবে দেখছেন? বিশেষ করে, এবার প্রায় ১৫ থেকে ১৭টির মতো সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এগুলোকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
সাহাব এনাম খান: কিছু কিছু চুক্তি থাকে, যেগুলো স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমা দেশগুলোর ভ্রু কুঁচকে দিতে পারে। যেমন ধরুন, প্রযুক্তিগত চুক্তির বিষয়টি। পশ্চিমা দেশগুলো মনে করে যে এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি করা হতে পারে বা তথ্য পাচার হয়ে যেতে পারে—এমন নানা রকম শঙ্কা তাদের থাকে। খুব স্বাভাবিকভাবেই এসব জায়গায় আমাদের একটু সচেতন বা সাবধানতা অবলম্বন করা ভালো এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা উচিত। যেহেতু কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, আমার মনে হয় অন্যান্য দেশগুলোকে স্বচ্ছতার সাথে জানিয়ে দেওয়া ভালো যে এখানে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বা দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
পাশাপাশি বন্দর সংক্রান্ত চুক্তিগুলো সবসময়ই কৌশলগতভাবে স্পর্শকাতর। ভূ-কৌশলগত কারণে অন্য দেশগুলোর উদ্বেগ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে আমি মনে করি, সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে এসব উদ্বেগের সমাধান করা সম্ভব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আমাদের জ্বালানি রূপান্তর। হরমুজ প্রণালির সংকটের পর আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, জ্বালানির জন্য আমদানিনির্ভরতা যেকোনো সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে। আজকে হরমুজে সংকট হচ্ছে, কাল মালাক্কা প্রণালিতে হতে পারে। তাই আমাদের বিকল্প পথ খোলা রাখতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে আমাদের দ্রুত নবায়নযোগ্য শক্তি বা গ্রিন ইকোনমির দিকে যেতে হবে। কারণ ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানির মজুত কমবে এবং ডলার ও জ্বালানি—উভয়েরই দাম বাড়তে থাকবে। ভারত বা নেপাল থেকে বিদ্যুৎ এনে হয়তো ৫-১৫ বছর পার করা যাবে, কিন্তু পরবর্তী প্রজন্ম তখন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। তাই সবুজ প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে চীনের কাছ থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বড় ধরনের সহায়তা পাওয়াটা এই মুহূর্তে আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।
স্ট্রিম: সার্বিকভাবে এই সফরটিকে কতটা সফল বলে মনে করছেন?
সাহাব এনাম খান: আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে এটি নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত ভালো ও সফল সফর ছিল। অন্ততপক্ষে বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার কাছে মনে হয়নি যে এখানে ব্যর্থ হওয়ার মতো কোনো জায়গা আছে।
স্ট্রিম: ঢাকা স্ট্রিমকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
সাহাব এনাম খান: আপনাকেও ধন্যবাদ।

ড. সাহাব এনাম খান; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে উগ্রবাদের শঙ্কা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা এবং নতুন সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার কৌশল বিষয়ে ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
.png)
স্ট্রিম: সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বকাপ চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাদা-কালো রঙের কালেমা খচিত পতাকা উড়তে দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। আপনি এ বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
সাহাব এনাম খান: ধন্যবাদ। এটি নিঃসন্দেহে চিন্তার উদ্রেক করে। বাংলাদেশের বর্তমান স্থিতিশীলতার জন্য বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের জন্য এটি একটি বড় শঙ্কার জায়গা। বর্তমানে আমরা অর্থনীতি পুনর্নির্মাণের যে চেষ্টা করছি, সেখানে এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের ভাবমূর্তি ও আস্থার জায়গায় বড় ধরনের হোঁচট তৈরি করবে। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করে থাকে, তবে আন্তর্জাতিক মহল তা ভালোভাবে নেবে না। যারা এসব করছেন, তারা সম্ভবত দেশের বৃহত্তর স্বার্থটি বোঝার চেষ্টা করছেন না।
আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশে হোলি আর্টিজানের মতো ঘটনা ঘটে গেছে। পরবর্তী সময়ে জঙ্গিবাদ বা চরমপন্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করায় আমাদের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল। তার মানে এই নয় যে, চরমপন্থার বীজ সমাজ থেকে পুরোপুরি নির্মূল হয়ে গেছে। তাই রাজনৈতিক দল ও নিরাপত্তা বাহিনীকে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মূল স্পিরিট ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং সকল মত ও চিন্তার একযোগে প্রকাশের জায়গা তৈরি করা। সুতরাং এই চেতনাকে যদি কেউ কোনো কারণে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান, তবে তারা এ ধরনের বার্তা দিতে পারেন। আমরা যদি প্রতীকের দিক থেকেও দেখি, তবে এটি খুব একটা সুখকর বা স্বস্তিদায়ক বিষয় নয়। আবার রাজনৈতিক দিক থেকে বিবেচনা করলেও এটি বাংলাদেশের সমাজে চলমান বহুত্ববাদের ওপর একটি ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা। তাই আমি এখনই বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি শঙ্কিত না হলেও, এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে থাকলে নিশ্চিতভাবেই আমাদের শঙ্কার জায়গা তৈরি হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনেক নিরপরাধ মানুষ যেমন মুক্তি পেয়েছেন, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে সত্যিকারের চরমপন্থিরাও ছাড় পেয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। এর দায়ভার সেই সরকার পুরোপুরি এড়াতে পারবে না। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনই অতিমাত্রায় প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। যারা এসব করছেন, তাদের চিহ্নিত করে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়াটা এখন সবচেয়ে বেশি সমীচীন হবে বলে আমি মনে করি।
স্ট্রিম: আপনি যথার্থই বলেছেন। তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশ এক ধরণের প্রচারণার চেষ্টা চালিয়েছে যে, বাংলাদেশে উগ্র ডানপন্থি দলের উত্থান ঘটছে। এ ধরনের মিছিল বা পতাকা কি তাদের এই প্রচারণায় নতুন করে ইন্ধন বা অস্ত্র তুলে দেবে?
সাহাব এনাম খান: বাংলাদেশকে উগ্রবাদী রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা কেবল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই নয়, আগেও বিভিন্নভাবে হয়েছে। হোলি আর্টিজান হামলার পর বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের ওপর যে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছিল, তা আমাদের বিদেশি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত হেনেছিল। সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এর কারণে নানা বাধার মুখে পড়েছেন, যা মোটেও সুখকর ছিল না।
আয়তনে ছোট হলেও বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের উপস্থিতি বা 'গ্লোবাল ফুটপ্রিন্ট' বিশাল। বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর সব জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন। এই প্রবাসী শ্রমজীবী মানুষেরাই আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন। আমাদের যদি আন্তর্জাতিক মহলে উগ্রবাদী হিসেবে তুলে ধরা যায়, তবে এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিদেশের শ্রমবাজার ও আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর।
তাই যারা এসব কর্মকাণ্ড করছেন, তাদের উচিত প্রবাসীদের কথা এবং দেশের অর্থনীতির কথা অন্তত চিন্তা করা। তারা হয়তো অজান্তেই সেই প্রতিবেশী দেশগুলোর পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছেন, যারা আমাদের নেতিবাচকভাবে তুলে ধরতে চায়। আমার মনে হয়, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিকভাবে চিন্তাভাবনা করা দরকার এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়ারও প্রয়োজন হতে পারে।
স্ট্রিম: ৫ আগস্টের পর দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের কোনো কোনো ধর্মীয় সংগঠন আফগানিস্তানে তালেবানের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের ব্যবস্থার প্রশংসা করছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের কিছু উগ্রপন্থি দলের সঙ্গেও তাদের বৈঠকের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
সাহাব এনাম খান: দেখুন, প্রত্যেকেরই বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। সুতরাং, কেবল একজন ব্যক্তির বা সংগঠনের বৈঠকের মাধ্যমেই যে একটি রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তিত হয়ে যাবে, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। তবে এটাও সত্য যে, আমরা যদি কয়েকটি উদাহরণ দেখি—ভারত, পাকিস্তান বা কাতার—সবাই কিন্তু আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্ক তৈরিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমি বলছি না যে, এটি নিশ্চিতভাবেই আমাদের জন্য একটি বড় উদাহরণ। আসলে, আফগানিস্তান এখনো পর্যন্ত কারোর জন্যই অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠতে পারেনি।
আফগানিস্তানকে এখন মূলত ভূ-রাজনৈতিক কারণেই সবাই গুরুত্ব দিচ্ছে। সেন্ট্রাল ও সাউথ এশিয়ার মাঝখানে এবং চীনের পাশে হওয়ায় আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং তাদের প্রাকৃতিক সম্পদের (যেমন: রেয়ার আর্থ) কারণে দেশগুলোর নিজস্ব ভূ-কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। তালেবানের আদর্শগত অবস্থানের প্রতি বিশ্বনেতাদের তেমন কোনো আগ্রহ নেই, বরং অর্থনৈতিক স্বার্থটাই এখানে মুখ্য। তা ছাড়া তালেবানের বর্তমান যে অবস্থান, সেটি এখনো পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছে বলে আমার মনে হয় না। অন্তত এখনো পর্যন্ত আমরা সে ধরনের কোনো সূচক বা ইন্ডিকেটর দেখতে পাচ্ছি না।
তবে এটা ঠিক যে, তালেবান সরকার পপি চাষ বা মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুষম সম্পদ বণ্টন এবং দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে কিছুটা সাফল্য দেখিয়েছে। কিন্তু এগুলো কোনো আদর্শিক বিষয় নয়, বরং এটি পুরোপুরি সুশাসনের অংশ। সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো সরকারই এটি করতে পারে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান বা ইউরোপীয় দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন, সেখানে ধর্মের চেয়ে সুশাসন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি ধর্মনিরপেক্ষ হয়েও শুধু সুশাসনের জোরে চীন আজ সুপারপাওয়ার। তাই আমাদের এমন কোনো উদাহরণ টানা উচিত নয়, যা আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়।
স্ট্রিম: নির্বাচনের আগে গত বছর এক সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডানপন্থীদের উত্থানের বিষয়ে সতর্কতা উচ্চারণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, ডানপন্থীদের এই উত্থান নিয়ে তিনি কিছুটা শঙ্কিত বা ভীত। এখন যেহেতু বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আছে এবং দেশ পরিচালনা করছে; সে ক্ষেত্রে আপনার কী মনে হয়, সরকারের আসলে কীভাবে এই বিষয়গুলো মোকাবিলা করা উচিত?
সাহাব এনাম খান: এক্ষেত্রে সবার আগে বিগত সরকারের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। জঙ্গিবাদ বা চরমপন্থা দমনের নামে বিষয়টিকে যখনই রাজনীতিকীকরণ করা হবে, তখনই তা আর কাজ করবে না; বরং তা দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে রূপ নেবে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে: প্রথমত, কমিউনিটি বা তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ (সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স) গড়ে তোলা এবং তা আরও শক্তিশালী করা। আমার মনে হয়, বিগত অনেক বছর ধরে এই জায়গায় আমরা যথেষ্ট উন্নতি করেছি, তবে একে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক ও সামাজিক সহনশীলতা বাড়ানো। আমাদের সমাজে, বিশেষ করে পাড়া-মহল্লায় যে অসহিষ্ণুতা দেখা যায়, তা কমিয়ে সামাজিক ও ধর্মীয় বহুমাত্রিকতা আরও জোরালোভাবে প্রচার করা জরুরি।
তৃতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শক্তিশালী করা। এর মানে শুধু অস্ত্র হাতে দৌড়াদৌড়ি নয়; বরং সমস্যা বা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, তাদের সাথে সংলাপ বা ডায়ালগে যাওয়া, পরামর্শ করা এবং সম্পৃক্ততা বাড়ানো। আমার মনে হয়, এসব পদক্ষেপ নিলে আমরা অনেক বেশি সফল হতে পারব।
তবে এখানে একটি আন্তঃদেশীয় বা ট্রান্সন্যাশনাল বিষয়ও জড়িত থাকে। বাংলাদেশের অনেক মানুষই একটি জিনিস বুঝতে চান না; তারা মনে করেন সবকিছু হয়তো দেশের ভেতর থেকেই হচ্ছে। কিন্তু এর পেছনে যে বাইরের প্রভাব থাকে, তা একটু গবেষণা করলেই বোঝা যায়। আমাদের সমাজে একটা প্রবণতা আছে যে, কেউ ইংরেজিতে বা আরবিতে কিছু বললেই আমরা সেটাকে অন্ধভাবে সঠিক বলে ধরে নিই। এই জায়গাটিতে প্রশ্ন করার মানসিকতা বা সামাজিক সক্ষমতা বাড়ানো দরকার।
আমি মাঝে মাঝেই বিভিন্ন জায়গায় শুনি—নারী, ধর্ম, সুশাসন বা ব্যক্তি বিষয়ে এমন সব বক্তব্য দেওয়া হয়, যেগুলোকে আপনি যদি দেশের সাধারণ আইনের মাপকাঠিতে বিচার করেন, এমনকি ইসলামী আইনের দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখেন, তার প্রতিটিই কিন্তু বেআইনি এবং এগুলো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং, আমার মনে হয় ধর্মীয় জ্ঞানের পরিধিকে আরও উন্মুক্ত করে দেওয়া দরকার, যাতে সাধারণ মানুষ খুব সহজে ধর্মীয় জ্ঞানের সঠিক ও বহুমুখী তথ্যসূত্র সংগ্রহ করতে পারেন।
বর্তমানে ইউটিউব বা অনলাইনে প্রতিনিয়ত প্রচুর প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। কেউ এর প্রতিবাদ করলেই বট বাহিনী বা ট্রল করে তাকে হেনস্তা করা হয়। এই জায়গাগুলোতে সমাজকেও দায়িত্ব নিতে হবে। আর সমাজ তখনই সঠিক দায়িত্ব নিতে পারবে, যখন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত হবে। চরমপন্থি উপাদান পৃথিবীর সব দেশেই থাকে; ইউরোপ-আমেরিকাতেও মসজিদ বা প্যাগোডায় হামলার ঘটনা আমরা দেখেছি। তাই বিষয়গুলো মানুষের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। গত ১৫ বছরে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন করুণ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যে, এটিকে সংস্কার করে সঠিক পথে আনা বর্তমান সরকারের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।
স্ট্রিম: কোনো আইন বা সংস্কার করতে গেলে সাধারণত বাধার সম্মুখীন হতে হয়। যেমন গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়, নারী সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব জমা দেওয়ার আগেই বিভিন্ন পক্ষের চাপে পড়ে সেটি বাতিল করতে হয়েছিল। এখন বর্তমান যে সরকার ক্ষমতায় আছে, তারাও যখন কোনো সংস্কার করতে চাইবে, সেখানে যে বাধা আসবে না— এমন নিশ্চয়তা আছে কি?
সাহাব এনাম খান: এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে—অন্তর্বর্তী সরকার মূলত দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য গঠিত একটি সরকার ছিল। কিন্তু তারা এমন কিছু কাজ করার চেষ্টা করেছিল, যার কোনো রাজনৈতিক ম্যান্ডেট তাদের ছিল না। ফলে সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
বর্তমান সরকার সংস্কারের যে উদ্যোগ নিচ্ছে, সেখানে বাধা আসাটা খুবই স্বাভাবিক। এই বাধা অতিক্রম করা পুরোপুরি নির্ভর করে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং বিরোধী দলগুলোর সহযোগিতার ওপর। রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া সরকার একা এগোতে চাইলে বারবার হোঁচট খাবে। এই বিষয়গুলো সংসদে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। বর্তমান সংসদটি তুলনামূলকভাবে বেশ তরুণদের সংসদ হলেও এর সদস্যরা গত ১৫ বছর ধরে চরম রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। ফলে পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের চেয়ে ভালো ধারণা আর কারও নেই।
খুব সহজে বলতে গেলে, চরমপন্থার বিরুদ্ধে একটি শক্ত কাউন্টার-ন্যারেটিভ বা পাল্টা বয়ান তৈরি করতে হবে। এই বয়ান সমাজ থেকেই আসতে হবে। এই কাউন্টার ন্যারেটিভ তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন তা সমাজ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসবে। আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজন বা ইসলামিক ফাউন্ডেশন দিয়ে নিজেদের মতো কাউন্টার-ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করেছিল, যা সাধারণ মানুষ গ্রহণ করেনি। এর জন্য একটি সুশিক্ষিত, সচেতন ও প্রকৃত সুশীল সমাজ প্রয়োজন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের মতো সুশীল সমাজ দিয়ে এটি হবে না। তাই, বর্তমান সুশীল সমাজকে একেবারেই ভিন্ন ও কার্যকর হতে হবে।
স্ট্রিম: হিজবুত তাহরীরের মতো সংগঠন তো বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। কিন্তু তারা বিভিন্ন সময় কর্মসূচি পালন করেছে; গত বছরও করেছে এবং এখনো করছে। রাষ্ট্র কি এগুলো এভাবে চলতে দিতে পারে? এখানে রাষ্ট্রের করণীয় কী?
সাহাব এনাম খান: যেকোনো ধরনের চরমপন্থি মতবাদকেই নিরুৎসাহিত করা উচিত—তা আইনিভাবেই হোক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমেই হোক। যেসব সংগঠনকে অতীতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এখনও যারা নিষিদ্ধের তালিকায় রয়েছে, তাদের বিষয়ে রাষ্ট্রের আইনি অবস্থান কঠোর হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে সরকারের উচিত তাদের কৌশল ও অবস্থান পরিষ্কার করা; অন্যথায় জনমনে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। আমি মনে করি, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংসদীয় কমিটি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সমন্বয় থাকা দরকার এবং সে অনুযায়ীই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
স্ট্রিম: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে এর কোনো প্রভাব পড়বে বলে কি আপনি মনে করেন?
সাহাব এনাম খান: প্রভাব তো একটি পড়বেই। কারণ, সেখানে পরিবর্তনের পরপরই আমরা দেখেছি বাংলাদেশের ওপর কীভাবে চাপ বাড়ানো হয়েছিল। যদিও বিএসএফ-বিজিবি বৈঠকের পর তা কিছুটা কমেছে। মূল সমস্যা হলো, ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাংলাদেশকে নানাভাবে ব্যবহার করে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বয়ান দাঁড় করায়। কাল যদি বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ বা রেয়ার আর্থ নিয়ে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে, তখন ভারতের মিডিয়া প্রচার শুরু করবে যে বাংলাদেশ সরকার তালেবান হয়ে গেছে। ড. ইউনূসের মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বকেও তো তারা তালেবান আখ্যা দিয়েছে!
আমি মনে করি, এসব নিয়ে বাংলাদেশের আসলে খুব বেশি ভাবার কারণ নেই। আমাদের উচিত শুধু নিজেদের জাতীয় স্বার্থের দিকে নজর দেওয়া। ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বা তাদের বয়ান আমাদের কখনোই স্বস্তি দেয়নি। ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশকে যেভাবে তুলে ধরে, তা তারা নিজেরাও বোঝে। ভারতের মিডিয়া কতটা 'স্বাধীন', তা গ্লোবাল প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স দেখলেই বোঝা যায়—তারা সূচকের তলানিতে এখন আফগানিস্তানের সাথে পাল্লা দিচ্ছে! পাকিস্তান যেমন একসময় নিজেদের তৈরি জঙ্গিবাদের শিকার হয়েছিল, ভারত এখন শিকার হচ্ছে তাদের নিজেদের উগ্র মিডিয়ার।
সুতরাং, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত না হয়ে ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক হওয়া উচিত পুরোপুরি স্বার্থ বা আদান-প্রদান ভিত্তিক। দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের জায়গাগুলোতে আমরা সহযোগিতা করব। আমি সবসময় একটি কথা বলি, সম্পর্কটিকে আদান-প্রদানমূলক বা 'ট্রানজ্যাকশনাল' রাখুন, তাহলে সবই ঠিক থাকবে। সম্পর্ক ট্রানজ্যাকশনাল না রাখলেই পুরনো ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি শুরু হয়। বিজেপির মূল রাজনীতিই হলো পেছনের দিকে হাঁটা—তারা এখন রাস্তাঘাট বা শহরের নাম পরিবর্তন নিয়ে ব্যস্ত। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সামনের দিকে এগোতে চায়; দুটি দেশের রাজনৈতিক দর্শন এখন দুই রকম।
বর্তমানে বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভারত যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক নিয়ে একটি জটিল সমীকরণে আছে। তারা পাকিস্তানকে একঘরে করতে গিয়ে উল্টো পাকিস্তানকেই বৈশ্বিক রাজনীতির বড় খেলোয়াড় বানিয়ে দিয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক রাখাটা আমাদের জন্য যেমন জরুরি, ভারত চাইলে তারাও রাখবে। বাংলাদেশের মানুষের ভারত নিয়ে মেতে থাকার কিছু নেই; তাদের মিডিয়া যা করছে সেগুলো মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির খোরাক। তাই বাংলাদেশের উচিত এসব প্রোপাগান্ডায় কান না দিয়ে নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অবিচল থাকা।
স্ট্রিম: এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসতে চাই। একটি প্রথা দাঁড়িয়ে গিয়েছিল যে, বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে প্রথমেই ভারত সফরে যান। কিন্তু এবার প্রথা ভেঙে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীনে গেলেন। এটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন এবং দিল্লি, ওয়াশিংটন ও বেইজিংকে নিয়ে এই ভারসাম্য নীতি কতটা কার্যকর হবে?
সাহাব এনাম খান: আমি এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সফর হিসেবে দেখছি। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার; সৌদি আরবের পর সেখানেই সবচেয়ে বেশি (প্রায় আট লাখ) বাংলাদেশি কাজ করেন। মালয়েশিয়ার আগামী পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় (২০২৬-২০৩১) বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা কমানোর একটি লক্ষ্য রয়েছে, যা আমাদের জন্য সরাসরি চিন্তার বিষয়। তাই এই মুহূর্তে মালয়েশিয়ার সাথে শ্রম কূটনীতি আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল এবং এই সফর সেখানে বড় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া, বাংলাদেশের কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রেও এটি একটি দারুণ উদ্যোগ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে আমাদের পুরোনো সম্পর্ক রয়েছে। আসিয়ান-এর সাথে সম্পর্ক জোরদার করা এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মালয়েশিয়া আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, কারণ থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াও এই সংকটের ভুক্তভোগী। পাশাপাশি প্রযুক্তির ভূ-রাজনীতিতেও মালয়েশিয়া ভালো করছে। সব মিলিয়ে এটি একটি যুগান্তকারী সফর, যা আমাদের কূটনীতিতে বহুমুখীকরণের একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়।
ভারসাম্য নীতির কথায় যদি আসি, বর্তমান সরকারের মূল নীতি হলো 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' বা সবার আগে দেশের স্বার্থ। প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ভারত, চীন নাকি যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন—সেটা বড় কথা নয়; বরং এই মুহূর্তে দেশের জাতীয় স্বার্থে কোন দেশটির সাথে কাজ করা সবচেয়ে বেশি জরুরি, সেটাই মুখ্য বিষয়। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য চীনের সাথে সম্পর্ক জোরদার করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের সম্পর্ক আগে থেকেই সুপ্রতিষ্ঠিত; নির্বাচনের আগেই তাদের সাথে একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। তাছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প বা মার্কো রুবিওর মতো শীর্ষ মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা এখন মধ্যপ্রাচ্য বা গালফ ক্রাইসিস নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে, তাদের সাথে চাইলেই দ্রুত সাক্ষাৎ করা সম্ভব নয়। লজিস্টিকসেরও একটি বিষয় থাকে।
আর ভারতের বিষয়ে বলব, গত দেড়-দুই বছরে তাদের সাথে আমাদের দূরত্বের কারণে যে খুব বড় কোনো ক্ষতি হয়ে গেছে, তা কিন্তু নয়। ভারত আমাদের চিরস্থায়ী প্রতিবেশী। আমরা প্রতিবেশী বদলাতে পারব না, কিন্তু নতুন বাড়িতে উঠলেই যে প্রথমে প্রতিবেশীর বাসাতেই যেতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। নিজের অন্যান্য জরুরি কাজও আগে করা যেতে পারে। প্রতিবেশী হিসেবে পরে যেকোনো সময় ভারতে যাওয়া যাবে। সুতরাং, ভারত সফরের বিষয়টিকে ঠিক এই দৃষ্টিকোণ থেকেই চিন্তা করা যাবে।
স্ট্রিম: যেসব প্রকল্পে ভারতের উদ্বেগ (কনসার্ন) ছিল—যেমন তিস্তা ব্যারেজ, গঙ্গা ও পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প—সেগুলোতে চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এবার সফরে সেগুলো নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আপনি বিষয়গুলোকে কীভাবে দেখছেন? বিশেষ করে, এবার প্রায় ১৫ থেকে ১৭টির মতো সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এগুলোকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
সাহাব এনাম খান: কিছু কিছু চুক্তি থাকে, যেগুলো স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমা দেশগুলোর ভ্রু কুঁচকে দিতে পারে। যেমন ধরুন, প্রযুক্তিগত চুক্তির বিষয়টি। পশ্চিমা দেশগুলো মনে করে যে এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি করা হতে পারে বা তথ্য পাচার হয়ে যেতে পারে—এমন নানা রকম শঙ্কা তাদের থাকে। খুব স্বাভাবিকভাবেই এসব জায়গায় আমাদের একটু সচেতন বা সাবধানতা অবলম্বন করা ভালো এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা উচিত। যেহেতু কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, আমার মনে হয় অন্যান্য দেশগুলোকে স্বচ্ছতার সাথে জানিয়ে দেওয়া ভালো যে এখানে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বা দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
পাশাপাশি বন্দর সংক্রান্ত চুক্তিগুলো সবসময়ই কৌশলগতভাবে স্পর্শকাতর। ভূ-কৌশলগত কারণে অন্য দেশগুলোর উদ্বেগ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে আমি মনে করি, সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে এসব উদ্বেগের সমাধান করা সম্ভব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আমাদের জ্বালানি রূপান্তর। হরমুজ প্রণালির সংকটের পর আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, জ্বালানির জন্য আমদানিনির্ভরতা যেকোনো সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে। আজকে হরমুজে সংকট হচ্ছে, কাল মালাক্কা প্রণালিতে হতে পারে। তাই আমাদের বিকল্প পথ খোলা রাখতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে আমাদের দ্রুত নবায়নযোগ্য শক্তি বা গ্রিন ইকোনমির দিকে যেতে হবে। কারণ ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানির মজুত কমবে এবং ডলার ও জ্বালানি—উভয়েরই দাম বাড়তে থাকবে। ভারত বা নেপাল থেকে বিদ্যুৎ এনে হয়তো ৫-১৫ বছর পার করা যাবে, কিন্তু পরবর্তী প্রজন্ম তখন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। তাই সবুজ প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে চীনের কাছ থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বড় ধরনের সহায়তা পাওয়াটা এই মুহূর্তে আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।
স্ট্রিম: সার্বিকভাবে এই সফরটিকে কতটা সফল বলে মনে করছেন?
সাহাব এনাম খান: আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে এটি নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত ভালো ও সফল সফর ছিল। অন্ততপক্ষে বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার কাছে মনে হয়নি যে এখানে ব্যর্থ হওয়ার মতো কোনো জায়গা আছে।
স্ট্রিম: ঢাকা স্ট্রিমকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
সাহাব এনাম খান: আপনাকেও ধন্যবাদ।
.png)
.png)

একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বরাজনীতিতে ভূ-অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতি একে অপরের পরিপূরক ও প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলটি বর্তমানে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
৩০ মিনিট আগে
নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর কোথায় হবে, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছিল। তারেক রহমানের সরকার অবশ্য শুরু থেকে বলছে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এটি তাঁর দলের নির্বাচনী প্রচারণায়ও ব্যবহৃত হয়েছে। জনগণেরও প্রত্যাশা, সরকার সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে। প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে বিশ
১৬ ঘণ্টা আগে
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন; বেসরকারি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)-এর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান। সংস্থাটির ইতিহাসে আমলাদের বাইরে তিনিই প্রথম শিক্ষাবিদ প্রধান নির্বাহী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক।
১৯ ঘণ্টা আগে
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড-সম্পর্কিত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল যে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। গত মাসে একই কমিশন আবারও অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে, ইসরায়েলি পদক্ষেপগুলোর উদ্দেশ্য হলো, গাজার
২০ ঘণ্টা আগে