ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সাক্ষাৎকার
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন; বেসরকারি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)-এর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান। সংস্থাটির ইতিহাসে আমলাদের বাইরে তিনিই প্রথম শিক্ষাবিদ প্রধান নির্বাহী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেট, এর বাস্তবায়নযোগ্যতা, রাজস্ব খাতের সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির নানাবিধ চ্যালেঞ্জ এবং ক্ষুদ্রঋণ খাতের সম্ভাবনা ও নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
মুজাহিদুল ইসলাম

স্ট্রিম: আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে। একজন উন্নয়ন অর্থনীতিবিদের দৃষ্টিকোণ থেকে আপনি একে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? এটি কি বাস্তবসম্মত নাকি উচ্চাভিলাষী?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা ও পাবলিক সার্ভিসের মান অনুযায়ী চিন্তা করলে বাজেটের আকার আরও কয়েক গুণ বড় হওয়া উচিত। সেদিক থেকে বাজেটের আকার বড় হতেই পারে। কিন্তু আমাদের প্রধান সমস্যা হলো সম্পদের ঘাটতি। অর্থায়নের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলে বড় বাজেট নিয়ে আমরা কী করব?
সরকারের আয়ের প্রধান উৎস হলো রাজস্ব বা কর। কয়েক বছর আগে আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত ৯ শতাংশের ওপরে থাকলেও এখন তা ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আদায় না বাড়লে বড় বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমরা অন্যান্য দেশের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখব, ভারতের বাজেট তাদের জিডিপির প্রায় ১৩.৬ থেকে ১৪ শতাংশ। নেপালের ক্ষেত্রে এটি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে থাকে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো, যেমন যুক্তরাজ্যে এটি প্রায় ৪৫ শতাংশ। সে তুলনায় আমাদের বাজেটের আকার ছোট। তাছাড়া ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করতে হলেও বাজেটের আকার বাড়ানো অপরিহার্য। নইলে আগের বছরের সমপরিমাণ উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হয় না।
স্ট্রিম: নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হিসেবে এতে নির্বাচনী ইশতেহারের কোনো প্রতিফলন কী আপনি দেখতে পাচ্ছেন? সম্পদের ঘাটতির বাস্তবতায় এই বিশাল বাজেটের অর্থায়ন ও বাস্তবায়নযোগ্যতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: সাধারণত নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে বাজেটের খুব একটা মিল থাকে না। তবে এই বাজেটে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি রক্ষার চেষ্টা দেখা গেছে। ফ্যামিলি কার্ডসহ প্রান্তিক মানুষের জন্য সহায়তা এবং পে-স্কেলের চাপের কারণে বাজেটে ব্যয়ের চাপ ছিল। সব মিলিয়ে বাজেটের এই আকারকে আমি ‘উচ্চাভিলাষী’ না বলে ‘প্রয়োজনীয়’ বলব।
তবে আমাদের অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। আমার স্মরণকালে কখনো আয় বা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি অর্জিত হতে দেখিনি। এবারও সম্পদ কোথা থেকে আসবে, তার কোনো উপায় আমি দেখছি না। বিদেশ থেকে বিপুল ঋণ আনা সম্ভব নয়। আবার অভ্যন্তরীণ উৎস বা ব্যাংক খাতের অবস্থাও নাজুক। পরিসংখ্যানে দেখেছি, প্রায় ২৯টি ব্যাংকের আমানত প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক এবং ১৪টি ব্যাংকের ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধিও নেতিবাচক। ব্যাংকগুলো যদি আমানত ধরে রাখতে ও ঋণ দিতে না পারে, তবে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়বে না। কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ না হলে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। আর প্রবৃদ্ধি না হলে রাজস্ব আয়েও বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই বলা যায়, এই বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন হওয়া কঠিন।
স্ট্রিম: রাজস্ব আদায় বাড়াতে ডিজিটালাইজেশনসহ বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো কি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যথেষ্ট?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: একেবারেই না। রাজস্ব আদায়ে বড় উল্লম্ফন আনতে যে ধরনের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, বাজেটে তা নেই। ছোটখাটো পরিবর্তনের ফলে হয়তো কয়েক হাজার কোটি টাকার এদিক-সেদিক হতে পারে। কিন্তু এক-দেড় লাখ কোটি টাকার বড় পরিবর্তন আনার মতো কোনো উদ্যোগ নেই। তাছাড়া এ ধরনের সংস্কার করা হলেও তার সুফল পেতে কয়েক বছর সময় লাগে। তাই আগামী জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া বাজেটে রাতারাতি বড় কোনো পরিবর্তনের কারণ আমি দেখছি না।
স্ট্রিম: ১৯৯১-৯২ সালে সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রী হয়ে প্রথম বছরেই ভ্যাট চালুর মতো একটি বড় সংস্কার করেছিলেন। এবারের বাজেটে কি সেরকম কোনো সংস্কার দেখতে পেয়েছেন?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: সাইফুর রহমানের সময় বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য উদারীকরণের কারণে শুল্ক থেকে আয় কমে যাওয়ার একটি ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। শুল্ক কমানোর বিকল্প হিসেবে তখন জরুরিভিত্তিতে ভ্যাট চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে সেরকম স্পষ্ট কোনো বিকল্প বা তাগিদ দেখা যাচ্ছে না।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ক্ষেত্রে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন বিভাগ আলাদা করার কথা থাকলেও সেটি এখনো কার্যকর হয়নি। এছাড়া আমাদের কর প্রশাসন এখনো পুরোপুরি শহরকেন্দ্রিক। গ্রামেগঞ্জে বা বিভিন্ন গ্রোথ সেন্টারে এখন অনেক মানুষের করযোগ্য আয় রয়েছে। কিন্তু তারা কর দেওয়ার কথা ভাবেও না। কর কর্মকর্তারা শহরকেন্দ্রিক। তারা প্রান্তিক অঞ্চলে গিয়ে করের আওতা বাড়াচ্ছেন না। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষকে করের আওতায় এনে রাজস্ব আদায়ে বড় কোনো উল্লম্ফনের সম্ভাবনা এই বাজেটে দেখা যাচ্ছে না।
স্ট্রিম: এবার চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ পেশাজীবী শ্রেণি এবং ঢাকা শহরের বাড়ির মালিকদের করের আওতায় আনার কথা বলা হচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: ঢাকা শহরে বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের কর ফাঁকি দেওয়া হয়। অনেক বাড়ির মালিক নগদ টাকায় ভাড়া নেন যাতে আয়ের হিসাব লুকাতে পারেন। বিপুল সম্পদের মালিকদের ওপর ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’বা সম্পদ কর আরোপ করা কিছুটা জটিল হতে পারে। কারণ, অনেক সম্পদ থেকে সরাসরি আয় আসে না বা সম্পদের মূল্য সবসময় বাড়ে না। কিন্তু যে সম্পদ থেকে স্পষ্টত আয় আসছে, যেমন বাড়িভাড়া, সেখান থেকে তো আমরা কর আদায় করতে পারি।
দুঃখজনকভাবে, বড় ধরনের উল্লম্ফন আনার মতো কর সংস্কার দেখা যায়নি। সরকারের প্রথম বছর হিসেবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ থাকলেও সম্পদ আহরণে সৃজনশীল হতে হবে। এখানে শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করলে চলবে না। কারণ, রাষ্ট্র যদি পর্যাপ্ত রাজস্ব আদায় করতে না পারে এবং পাবলিক সার্ভিস ভেঙে পড়ে, তবে শেষ পর্যন্ত প্রান্তিক মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্ট্রিম: অনেক অর্থনীতিবিদ বলছেন, আমাদের বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের চেয়ে অনুন্নয়ন বা পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এই ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সুযোগ আছে কী?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: এটি একদম সঠিক কথা। আমাদের মোট রাজস্ব আয়ের পুরোটাই চলে যায় সরকারের পরিচালন বা চলতি ব্যয়ে। আর উন্নয়ন বাজেটের পুরোটাই বাস্তবায়ন হয় দেশি-বিদেশি ঋণ দিয়ে। কর্মসংস্থান তৈরির নামে সরকার বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিচ্ছে এবং পে-স্কেল বাড়াচ্ছে। কিন্তু সরকারি খাতে দেশের মোট কর্মসংস্থানের এক শতাংশেরও কম মানুষ কাজ করে। অথচ সরকারের আকার বড় করতে গিয়ে যে বিপুল পরিচালন ব্যয় হচ্ছে, তা উন্নয়ন বাজেটের ওপর নেতিবাচক চাপ ফেলছে।
প্রকৃত কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে বেসরকারি খাতকে গতিশীল করা প্রয়োজন। অথচ সরকার নিজের ব্যয় মেটাতে ব্যাংক থেকে বিপুল ঋণ নেওয়ায় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের উচিত নতুন নিয়োগ কমিয়ে বিদ্যমান জনবলের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে সরকারের আকার কমানো এবং বেসরকারি খাতকে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।
স্ট্রিম: পাটকল বা চিনিকলের মতো বন্ধ থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই ব্যপার নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: আমি মনে করি, সরকারের কোনোভাবেই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকা উচিত নয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই লোকসানি। সেখানে কোনো কার্যকর প্রণোদনা কাঠামো নেই। এসব কারখানায় বিপুল জমি ও সম্পদ অব্যবহৃত পড়ে থেকে রাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে।
এসব প্রতিষ্ঠান লিজ দেওয়া বা পুরোপুরি বেসরকারিকরণ করা অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রের কাজ হলো ভৌত ও জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণ এবং উপযুক্ত নীতিমালার মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে সহায়তা করা। রাষ্ট্র নিজে ব্যবসা করতে গেলে সম্পদের অপচয় হয়, দুর্নীতি বাড়ে এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়।
স্ট্রিম: বাজেট বক্তৃতায় একে ‘বৈষম্যহীন ও টেকসই অর্থনীতির বাজেট’বলা হয়েছে। বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে এই বাজেটে আপনি কী ইতিবাচক দিক দেখছেন এবং কীসের ঘাটতি রয়েছে?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এটা ইতিবাচক। তবে বৈষম্য কমাতে হলে শুধু ভাতার ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রান্তিক মানুষের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান ও জীবনজীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাজারে পণ্যের দাম এবং শ্রমিকের মজুরির মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে। মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী হলো মূলত বিপদে পড়া বা অক্ষম মানুষদের রক্ষার একটি বেষ্টনি। কিন্তু মূল ফোকাস হওয়া উচিত সক্ষম মানুষদের জন্য মানসম্মত আয়ের ব্যবস্থা করা।
অর্থনীতির বিকাশমান পর্যায়ে কিছুটা বৈষম্য বাড়তেই পারে। যিনি সামনে আছেন তিনি হয়তো দ্রুত দৌড়াচ্ছেন, আর পেছনের জন একটু ধীরে। মূল কথা হলো, পেছনের মানুষটিও সামনে এগোচ্ছে কি না। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও আয়বৈষম্য রয়েছে। তাই শুধু বৈষম্য কমানোর চেয়েও দরিদ্রদের জীবনমান উন্নয়নের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।
রাষ্ট্র চাইলে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের মডেলে কাজ করতে পারে। ধনীদের ওপর বেশি হারে কর আরোপ করে সেই টাকায় প্রান্তিক মানুষকে বিনামূল্যে বা অল্প খরচে মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব। এতে মানুষের আয় কম থাকলেও জীবনযাত্রার মানে বড় কোনো বৈষম্য থাকবে না। ইউরোপের দেশগুলোতে এই নীতি অনুসরণ করা হয়।
এছাড়া, যিনি হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান করছেন, সেই উদ্যোক্তার আয় সাধারণ কর্মীর চেয়ে বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। সৃজনশীলতার এই পুরস্কারটুকু না থাকলে কেউ উদ্যোক্তা হতে চাইবেন না এবং কর্মসংস্থানও তৈরি হবে না। তাই ধনীদের ঢালাওভাবে দোষারোপ না করে, তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে যেন তারা অর্থ বিদেশে পাচার না করে দেশের কল্যাণে বা জনহিতকর কাজে বিনিয়োগ করেন।
স্ট্রিম: বাজেটে এবারও মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি। এটি কেন কমানো যাচ্ছে না?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: এর একটি বড় কারণ হলো উৎপাদন উপকরণের সীমাবদ্ধতা। আমরা যদি বেশি প্রবৃদ্ধি চাই এবং উপকরণের ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদন বাড়াতে চাই, তখন উপকরণের চাহিদা বেড়ে যায়। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে মূল্যস্ফীতিতে।
এর সমাধান হলো প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা বা উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা একই পরিমাণ উপকরণ দিয়ে আগের চেয়ে বেশি উৎপাদন করতে পারি। উদাহরণস্বরূপ, আমরা ইলিশ মাছ ২২০০-৩০০০ টাকায় কিনি, কিন্তু পাঙ্গাস বা তেলাপিয়া ১৫০-২০০ টাকায় পাই। এর কারণ কী? প্লাবনভূমিতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কম খরচে বিপুল পরিমাণ পাঙ্গাস বা তেলাপিয়া উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। আমরা প্রায়ই শুধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দোষ দিই। কিন্তু পাঙ্গাস বা পোল্ট্রির ক্ষেত্রেও মধ্যস্বত্বভোগী থাকা সত্বেও সেখানে দাম নাগালের মধ্যে থাকছে। মূলত প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমাতে পারলে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
অন্যদিকে, সামষ্টিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি মূল্যস্ফীতির আরেকটি বড় কারণ। প্রতি বছর জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সার্বিক চাহিদাও বাড়ে। কিন্তু সেই ৫ শতাংশ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহের প্রবৃদ্ধি যদি ১ বা ২ শতাংশ হয়, তখনই মূল্যস্ফীতি ঘটে। সম্প্রতি ডলারের রিজার্ভ ধরে রাখতে গিয়ে সরকার কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। আমাদের আমদানির ৭৫ শতাংশই শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি। ফলে আমদানিতে লাগাম টানার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।
স্ট্রিম: দেশের ৩ কোটির বেশি ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতার জন্য বাজেটে যে নীতি সহায়তা বা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা কি চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: দেশের মানুষের সঞ্চয়ের সিংহভাগ যায় মূলধারার ব্যাংকে। কিন্তু বড় ঋণগ্রহীতারা সেই অর্থ নিয়ে ব্যাংকিং খাতকে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। অথচ ক্ষুদ্র ঋণ খাতে সেই অনুপাতে অর্থ যায় না।
আকর্ষণীয় বিষয় হলো, অনানুষ্ঠানিক খাত, এসএমই বা ক্ষুদ্র ঋণের ওপর নির্ভরশীল মানুষরা রাজনীতি নিয়ে ভাবে না। ক্ষমতায় কে আছে, তা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। তাদের সারা বছর কাজ করে খেতে হয়। বর্তমানে অনেক বড় উদ্যোক্তা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে চাপে আছেন অথবা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বিনিয়োগ থামিয়ে রেখেছেন। তাহলে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ কোথা থেকে আসবে? আমি মনে করি, এই সময়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে অনানুষ্ঠানিক খাত ও এসএমই-কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাদের জন্য মূলধনের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ফান্ডের টাকা অলস ফেলে না রেখে যথাযথভাবে বিতরণ করতে হবে। এই খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে পারলে অর্থনীতি দ্রুত গতিশীল হবে।
স্ট্রিম: ব্যবসা-বাণিজ্য পুনর্গঠনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। করোনার সময় প্রণোদনা প্যাকেজের অর্ধেকের বেশি টাকা ফেরত আসেনি। এবারও কি সেই ঝুঁকি আছে? কীভাবে এটি ব্যবস্থাপনা করা উচিত?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: প্রথম কথা হলো, এই অর্থ আকাশ থেকে আসেনি। তাই ঋণ অবশ্যই ফেরত আসতে হবে। সরকার হয়তো ছাড় দিয়ে বা কম সুদে ঋণ দিচ্ছে। কিন্তু এটি অনুদান নয়। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে। ঢালাওভাবে সবাইকে এই টাকা দেওয়া যাবে না।
এমন যেন না হয় যে, কোনো কারখানা এমনিতেই লোকসানে বন্ধ হয়ে যেত, কিন্তু ভর্তুকির ঋণ পাওয়ার আশায় তারা আবেদন করছে। যাদের সত্যিই প্রয়োজন এবং যাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা ও সম্ভাবনা আছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই করে শুধু তাদেরকেই এই ঋণ দেওয়া উচিত। তা না হলে এটি ব্যাংকিং খাতকে আরও বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে। কঠোর শর্ত ও মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই ফান্ডের অর্থ ছাড় করা উচিত।
স্ট্রিম: বাজেটে ক্ষুদ্র ঋণ খাতের জন্য সুস্পষ্ট কোনো নীতি কাঠামো নেই। এক্ষেত্রে কি করা যায়?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: ক্ষুদ্র ঋণের জন্য বাজেটে বরাদ্দ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। সরকার পিকেএসএফ-এর মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলেছে। কিন্তু আমাদের দেশের মোট ক্ষুদ্র ঋণের মাত্র ৬ শতাংশ আসে পিকেএসএফ-এর মাধ্যমে। তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মাত্র দুই শতাধিক। বাকি ৯৪ শতাংশ ঋণ পরিচালিত হয় পিকেএসএফ-এর বাইরে থাকা হাজার হাজার এনজিও বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। তাই শুধু পিকেএসএফ-কে অর্থ দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। অনানুষ্ঠানিক খাতের বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে হলে, পিকেএসএফ-এর বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বাজেটে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই তৃণমূলের অর্থনীতিতে একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
স্ট্রিম: ক্ষুদ্রঋণ খাতের আমানতকারীদের সুদের ওপর কর ধার্যের বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: সুদের আয়ের ওপর কর দেওয়াটাই স্বাভাবিক নিয়ম। সরকার চাইলে প্রান্তিক মানুষের কথা বিবেচনা করে এখানে করছাড় (রিবেট) দিতে পারে। ছাড় না দিলে সবাইকে করজালের আওতায় আসতে হবে, তবে এর নেতিবাচক প্রভাব যেন কম হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সামগ্রিকভাবে বাজেট যদি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে, তবে প্রান্তিক মানুষের আয় বাড়বে এবং ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ আদায়ও সহজ হবে। কোভিড, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে ক্ষুদ্র ঋণ খাত বর্তমানে কিছুটা চাপে রয়েছে। তবে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার এই খাতের সঙ্গে মূল অর্থনীতির গভীর মিথস্ক্রিয়া রয়েছে। সামগ্রিক অর্থনীতি গতিশীল হলে এই খাত যেমন লাভবান হবে, তেমনি ক্ষুদ্র ঋণ খাত এগোলে অর্থনীতিও বেগবান হবে।
স্ট্রিম: অভিযোগ আছে ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফআই) সুদের হার অনেক বেশি। তা কমানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া যায় কি?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের নেতৃত্বে একটি টেকনিক্যাল কমিটি এই বিষয়টি মূল্যায়ন করছে। বর্তমানে ক্ষুদ্র ঋণে সার্ভিস চার্জের সর্বোচ্চ সীমা ২৪ শতাংশ (আগে এটি ২৭ শতাংশ ছিল)। ব্র্যাক বা আশার মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব বড় তহবিল থাকায় তাদের খরচ কম। কিন্তু ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল সংগ্রহ ব্যয় তুলনামূলক বেশি। আমরা সবার গড় খরচ মূল্যায়ন করছি। তহবিল সংগ্রহ বা 'কস্ট অব ফান্ড' কমে এলে সার্ভিস চার্জের হার আরও কমিয়ে আনা হবে।
স্ট্রিম: কৃষি ও পল্লি অর্থায়নে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল এবং কৃষক কার্ডের সুবিধা প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছানো কতটা সম্ভব বলে মনে করেন?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: সরকারি সুবিধা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সবসময়ই কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতি থাকে। তবে এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সদিচ্ছা অত্যন্ত দৃঢ় বলে মনে হচ্ছে। এখন বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের গাফিলতি থাকলে সমস্যা হবে। তাই কোথায় লিকেজ বা ঘাটতি আছে, তা খুঁজে বের করে সমাধান করতে হবে। রাজস্ব ঘাটতির মধ্যেও সরকারের বরাদ্দ ঠিকমতো কৃষকের কাছে না পৌঁছালে অর্থনীতি উল্টো আরও চাপে পড়বে।
স্ট্রিম: ক্ষুদ্র ঋণ থেকে এসএমই খাতে উত্তরণ এবং সরকারের ৫ বছরে ৫ কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে আপনার মত কী?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: আমাদের আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত এবং সময়সাপেক্ষ। কিন্তু অর্থনীতির ৮০ শতাংশের বেশি অনানুষ্ঠানিক খাত। এই খাতকে গতিশীল করতে পারলে বিপুল আত্মকর্মসংস্থান তৈরি হবে। এমআরএ-এর দায়িত্বে থেকে আমরা ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বেগবান করার চেষ্টা করছি। সরকারের উচিত মূলধারার ব্যাংকিংয়ের বাইরে থাকা এই প্রান্তিক মানুষদের অর্থায়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। ৫ কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত না হলেও, অনানুষ্ঠানিক খাতের মাধ্যমে ২-৩ কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারলেও তা হবে বিশাল অর্জন।
স্ট্রিম: এমআরএ-এর দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্ষুদ্র ঋণ নীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে চাইছেন?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের বড় ঘাটতি আছে। আমরা সেগুলো দূর করতে চাই। ফান্ডের টাকা যেন জমি কেনা বা সম্পদ বানানোর মতো মুনাফামুখী কাজে ব্যবহার না হয়ে প্রকৃত ক্ষুদ্র ঋণের স্বার্থে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশি দাতাসংস্থাগুলোর অনুদান কমে আসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থের একটি বড় অংশ সামাজিক খাতে ব্যয়ের ওপর আমরা জোর দিচ্ছি। পাশাপাশি, গ্রামের মানুষের সঞ্চয় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শহরে এসে বড় ঋণখেলাপিদের হাতে পাচার না হয়ে, যেন এমএফআইগুলোর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবেই বিনিয়োগ হয়, সেই আইনি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছি। এতে এই খাতে স্বল্প খরচের তহবিলের প্রবাহ বাড়বে।
স্ট্রিম: আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বাজেট ব্যবস্থায় কোন তিনটি সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: প্রথমত, সরকারি ব্যয়ের গুণগত মান ও উৎকর্ষতা বাড়ানো। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধ করে যোগ্য প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিতে হবে। এতে একই খরচে অনেক বেশি কাজ করা সম্ভব হবে।
দ্বিতীয়ত, রাজস্ব খাতের কাঠামোগত সংস্কার। দেশের অবকাঠামোগত চাহিদা মেটাতে কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৪-১৫ শতাংশে উন্নীত করতেই হবে।
তৃতীয়ত, বৈশ্বিক ধাক্কা সামলাতে অভ্যন্তরীণ নীতির সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানো। জ্বালানি খাতে দেশীয় উৎসের ব্যবহার বাড়িয়ে বৈচিত্র্য আনতে হবে। আমাদের জমি, শ্রম ও মূলধনের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। তৈরি পোশাক ও প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে অদক্ষ শ্রমিকের বদলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে।
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী দক্ষতা শেখাতে হবে। সর্বোপরি, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কোনোভাবেই ‘মব কালচার’ বা উচ্ছৃঙ্খলতা মেনে নেওয়া যাবে না। এটি অর্থনীতির সব ধরনের ইতিবাচক প্রণোদনাকে ধ্বংস করে দেয়।
স্ট্রিম: ঢাকা স্ট্রিমকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: ধন্যবাদ আপনাদেরকেও।

ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন; বেসরকারি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)-এর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান। সংস্থাটির ইতিহাসে আমলাদের বাইরে তিনিই প্রথম শিক্ষাবিদ প্রধান নির্বাহী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেট, এর বাস্তবায়নযোগ্যতা, রাজস্ব খাতের সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির নানাবিধ চ্যালেঞ্জ এবং ক্ষুদ্রঋণ খাতের সম্ভাবনা ও নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
.png)
স্ট্রিম: আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে। একজন উন্নয়ন অর্থনীতিবিদের দৃষ্টিকোণ থেকে আপনি একে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? এটি কি বাস্তবসম্মত নাকি উচ্চাভিলাষী?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা ও পাবলিক সার্ভিসের মান অনুযায়ী চিন্তা করলে বাজেটের আকার আরও কয়েক গুণ বড় হওয়া উচিত। সেদিক থেকে বাজেটের আকার বড় হতেই পারে। কিন্তু আমাদের প্রধান সমস্যা হলো সম্পদের ঘাটতি। অর্থায়নের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলে বড় বাজেট নিয়ে আমরা কী করব?
সরকারের আয়ের প্রধান উৎস হলো রাজস্ব বা কর। কয়েক বছর আগে আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত ৯ শতাংশের ওপরে থাকলেও এখন তা ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আদায় না বাড়লে বড় বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমরা অন্যান্য দেশের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখব, ভারতের বাজেট তাদের জিডিপির প্রায় ১৩.৬ থেকে ১৪ শতাংশ। নেপালের ক্ষেত্রে এটি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে থাকে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো, যেমন যুক্তরাজ্যে এটি প্রায় ৪৫ শতাংশ। সে তুলনায় আমাদের বাজেটের আকার ছোট। তাছাড়া ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করতে হলেও বাজেটের আকার বাড়ানো অপরিহার্য। নইলে আগের বছরের সমপরিমাণ উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হয় না।
স্ট্রিম: নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হিসেবে এতে নির্বাচনী ইশতেহারের কোনো প্রতিফলন কী আপনি দেখতে পাচ্ছেন? সম্পদের ঘাটতির বাস্তবতায় এই বিশাল বাজেটের অর্থায়ন ও বাস্তবায়নযোগ্যতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: সাধারণত নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে বাজেটের খুব একটা মিল থাকে না। তবে এই বাজেটে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি রক্ষার চেষ্টা দেখা গেছে। ফ্যামিলি কার্ডসহ প্রান্তিক মানুষের জন্য সহায়তা এবং পে-স্কেলের চাপের কারণে বাজেটে ব্যয়ের চাপ ছিল। সব মিলিয়ে বাজেটের এই আকারকে আমি ‘উচ্চাভিলাষী’ না বলে ‘প্রয়োজনীয়’ বলব।
তবে আমাদের অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। আমার স্মরণকালে কখনো আয় বা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি অর্জিত হতে দেখিনি। এবারও সম্পদ কোথা থেকে আসবে, তার কোনো উপায় আমি দেখছি না। বিদেশ থেকে বিপুল ঋণ আনা সম্ভব নয়। আবার অভ্যন্তরীণ উৎস বা ব্যাংক খাতের অবস্থাও নাজুক। পরিসংখ্যানে দেখেছি, প্রায় ২৯টি ব্যাংকের আমানত প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক এবং ১৪টি ব্যাংকের ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধিও নেতিবাচক। ব্যাংকগুলো যদি আমানত ধরে রাখতে ও ঋণ দিতে না পারে, তবে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়বে না। কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ না হলে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। আর প্রবৃদ্ধি না হলে রাজস্ব আয়েও বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই বলা যায়, এই বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন হওয়া কঠিন।
স্ট্রিম: রাজস্ব আদায় বাড়াতে ডিজিটালাইজেশনসহ বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো কি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যথেষ্ট?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: একেবারেই না। রাজস্ব আদায়ে বড় উল্লম্ফন আনতে যে ধরনের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, বাজেটে তা নেই। ছোটখাটো পরিবর্তনের ফলে হয়তো কয়েক হাজার কোটি টাকার এদিক-সেদিক হতে পারে। কিন্তু এক-দেড় লাখ কোটি টাকার বড় পরিবর্তন আনার মতো কোনো উদ্যোগ নেই। তাছাড়া এ ধরনের সংস্কার করা হলেও তার সুফল পেতে কয়েক বছর সময় লাগে। তাই আগামী জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া বাজেটে রাতারাতি বড় কোনো পরিবর্তনের কারণ আমি দেখছি না।
স্ট্রিম: ১৯৯১-৯২ সালে সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রী হয়ে প্রথম বছরেই ভ্যাট চালুর মতো একটি বড় সংস্কার করেছিলেন। এবারের বাজেটে কি সেরকম কোনো সংস্কার দেখতে পেয়েছেন?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: সাইফুর রহমানের সময় বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য উদারীকরণের কারণে শুল্ক থেকে আয় কমে যাওয়ার একটি ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। শুল্ক কমানোর বিকল্প হিসেবে তখন জরুরিভিত্তিতে ভ্যাট চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে সেরকম স্পষ্ট কোনো বিকল্প বা তাগিদ দেখা যাচ্ছে না।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ক্ষেত্রে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন বিভাগ আলাদা করার কথা থাকলেও সেটি এখনো কার্যকর হয়নি। এছাড়া আমাদের কর প্রশাসন এখনো পুরোপুরি শহরকেন্দ্রিক। গ্রামেগঞ্জে বা বিভিন্ন গ্রোথ সেন্টারে এখন অনেক মানুষের করযোগ্য আয় রয়েছে। কিন্তু তারা কর দেওয়ার কথা ভাবেও না। কর কর্মকর্তারা শহরকেন্দ্রিক। তারা প্রান্তিক অঞ্চলে গিয়ে করের আওতা বাড়াচ্ছেন না। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষকে করের আওতায় এনে রাজস্ব আদায়ে বড় কোনো উল্লম্ফনের সম্ভাবনা এই বাজেটে দেখা যাচ্ছে না।
স্ট্রিম: এবার চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ পেশাজীবী শ্রেণি এবং ঢাকা শহরের বাড়ির মালিকদের করের আওতায় আনার কথা বলা হচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: ঢাকা শহরে বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের কর ফাঁকি দেওয়া হয়। অনেক বাড়ির মালিক নগদ টাকায় ভাড়া নেন যাতে আয়ের হিসাব লুকাতে পারেন। বিপুল সম্পদের মালিকদের ওপর ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’বা সম্পদ কর আরোপ করা কিছুটা জটিল হতে পারে। কারণ, অনেক সম্পদ থেকে সরাসরি আয় আসে না বা সম্পদের মূল্য সবসময় বাড়ে না। কিন্তু যে সম্পদ থেকে স্পষ্টত আয় আসছে, যেমন বাড়িভাড়া, সেখান থেকে তো আমরা কর আদায় করতে পারি।
দুঃখজনকভাবে, বড় ধরনের উল্লম্ফন আনার মতো কর সংস্কার দেখা যায়নি। সরকারের প্রথম বছর হিসেবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ থাকলেও সম্পদ আহরণে সৃজনশীল হতে হবে। এখানে শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করলে চলবে না। কারণ, রাষ্ট্র যদি পর্যাপ্ত রাজস্ব আদায় করতে না পারে এবং পাবলিক সার্ভিস ভেঙে পড়ে, তবে শেষ পর্যন্ত প্রান্তিক মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্ট্রিম: অনেক অর্থনীতিবিদ বলছেন, আমাদের বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের চেয়ে অনুন্নয়ন বা পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এই ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সুযোগ আছে কী?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: এটি একদম সঠিক কথা। আমাদের মোট রাজস্ব আয়ের পুরোটাই চলে যায় সরকারের পরিচালন বা চলতি ব্যয়ে। আর উন্নয়ন বাজেটের পুরোটাই বাস্তবায়ন হয় দেশি-বিদেশি ঋণ দিয়ে। কর্মসংস্থান তৈরির নামে সরকার বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিচ্ছে এবং পে-স্কেল বাড়াচ্ছে। কিন্তু সরকারি খাতে দেশের মোট কর্মসংস্থানের এক শতাংশেরও কম মানুষ কাজ করে। অথচ সরকারের আকার বড় করতে গিয়ে যে বিপুল পরিচালন ব্যয় হচ্ছে, তা উন্নয়ন বাজেটের ওপর নেতিবাচক চাপ ফেলছে।
প্রকৃত কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে বেসরকারি খাতকে গতিশীল করা প্রয়োজন। অথচ সরকার নিজের ব্যয় মেটাতে ব্যাংক থেকে বিপুল ঋণ নেওয়ায় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের উচিত নতুন নিয়োগ কমিয়ে বিদ্যমান জনবলের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে সরকারের আকার কমানো এবং বেসরকারি খাতকে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।
স্ট্রিম: পাটকল বা চিনিকলের মতো বন্ধ থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই ব্যপার নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: আমি মনে করি, সরকারের কোনোভাবেই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকা উচিত নয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই লোকসানি। সেখানে কোনো কার্যকর প্রণোদনা কাঠামো নেই। এসব কারখানায় বিপুল জমি ও সম্পদ অব্যবহৃত পড়ে থেকে রাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে।
এসব প্রতিষ্ঠান লিজ দেওয়া বা পুরোপুরি বেসরকারিকরণ করা অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রের কাজ হলো ভৌত ও জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণ এবং উপযুক্ত নীতিমালার মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে সহায়তা করা। রাষ্ট্র নিজে ব্যবসা করতে গেলে সম্পদের অপচয় হয়, দুর্নীতি বাড়ে এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়।
স্ট্রিম: বাজেট বক্তৃতায় একে ‘বৈষম্যহীন ও টেকসই অর্থনীতির বাজেট’বলা হয়েছে। বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে এই বাজেটে আপনি কী ইতিবাচক দিক দেখছেন এবং কীসের ঘাটতি রয়েছে?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এটা ইতিবাচক। তবে বৈষম্য কমাতে হলে শুধু ভাতার ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রান্তিক মানুষের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান ও জীবনজীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাজারে পণ্যের দাম এবং শ্রমিকের মজুরির মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে। মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী হলো মূলত বিপদে পড়া বা অক্ষম মানুষদের রক্ষার একটি বেষ্টনি। কিন্তু মূল ফোকাস হওয়া উচিত সক্ষম মানুষদের জন্য মানসম্মত আয়ের ব্যবস্থা করা।
অর্থনীতির বিকাশমান পর্যায়ে কিছুটা বৈষম্য বাড়তেই পারে। যিনি সামনে আছেন তিনি হয়তো দ্রুত দৌড়াচ্ছেন, আর পেছনের জন একটু ধীরে। মূল কথা হলো, পেছনের মানুষটিও সামনে এগোচ্ছে কি না। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও আয়বৈষম্য রয়েছে। তাই শুধু বৈষম্য কমানোর চেয়েও দরিদ্রদের জীবনমান উন্নয়নের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।
রাষ্ট্র চাইলে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের মডেলে কাজ করতে পারে। ধনীদের ওপর বেশি হারে কর আরোপ করে সেই টাকায় প্রান্তিক মানুষকে বিনামূল্যে বা অল্প খরচে মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব। এতে মানুষের আয় কম থাকলেও জীবনযাত্রার মানে বড় কোনো বৈষম্য থাকবে না। ইউরোপের দেশগুলোতে এই নীতি অনুসরণ করা হয়।
এছাড়া, যিনি হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান করছেন, সেই উদ্যোক্তার আয় সাধারণ কর্মীর চেয়ে বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। সৃজনশীলতার এই পুরস্কারটুকু না থাকলে কেউ উদ্যোক্তা হতে চাইবেন না এবং কর্মসংস্থানও তৈরি হবে না। তাই ধনীদের ঢালাওভাবে দোষারোপ না করে, তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে যেন তারা অর্থ বিদেশে পাচার না করে দেশের কল্যাণে বা জনহিতকর কাজে বিনিয়োগ করেন।
স্ট্রিম: বাজেটে এবারও মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি। এটি কেন কমানো যাচ্ছে না?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: এর একটি বড় কারণ হলো উৎপাদন উপকরণের সীমাবদ্ধতা। আমরা যদি বেশি প্রবৃদ্ধি চাই এবং উপকরণের ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদন বাড়াতে চাই, তখন উপকরণের চাহিদা বেড়ে যায়। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে মূল্যস্ফীতিতে।
এর সমাধান হলো প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা বা উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা একই পরিমাণ উপকরণ দিয়ে আগের চেয়ে বেশি উৎপাদন করতে পারি। উদাহরণস্বরূপ, আমরা ইলিশ মাছ ২২০০-৩০০০ টাকায় কিনি, কিন্তু পাঙ্গাস বা তেলাপিয়া ১৫০-২০০ টাকায় পাই। এর কারণ কী? প্লাবনভূমিতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কম খরচে বিপুল পরিমাণ পাঙ্গাস বা তেলাপিয়া উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। আমরা প্রায়ই শুধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দোষ দিই। কিন্তু পাঙ্গাস বা পোল্ট্রির ক্ষেত্রেও মধ্যস্বত্বভোগী থাকা সত্বেও সেখানে দাম নাগালের মধ্যে থাকছে। মূলত প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমাতে পারলে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
অন্যদিকে, সামষ্টিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি মূল্যস্ফীতির আরেকটি বড় কারণ। প্রতি বছর জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সার্বিক চাহিদাও বাড়ে। কিন্তু সেই ৫ শতাংশ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহের প্রবৃদ্ধি যদি ১ বা ২ শতাংশ হয়, তখনই মূল্যস্ফীতি ঘটে। সম্প্রতি ডলারের রিজার্ভ ধরে রাখতে গিয়ে সরকার কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। আমাদের আমদানির ৭৫ শতাংশই শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি। ফলে আমদানিতে লাগাম টানার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।
স্ট্রিম: দেশের ৩ কোটির বেশি ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতার জন্য বাজেটে যে নীতি সহায়তা বা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা কি চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: দেশের মানুষের সঞ্চয়ের সিংহভাগ যায় মূলধারার ব্যাংকে। কিন্তু বড় ঋণগ্রহীতারা সেই অর্থ নিয়ে ব্যাংকিং খাতকে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। অথচ ক্ষুদ্র ঋণ খাতে সেই অনুপাতে অর্থ যায় না।
আকর্ষণীয় বিষয় হলো, অনানুষ্ঠানিক খাত, এসএমই বা ক্ষুদ্র ঋণের ওপর নির্ভরশীল মানুষরা রাজনীতি নিয়ে ভাবে না। ক্ষমতায় কে আছে, তা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। তাদের সারা বছর কাজ করে খেতে হয়। বর্তমানে অনেক বড় উদ্যোক্তা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে চাপে আছেন অথবা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বিনিয়োগ থামিয়ে রেখেছেন। তাহলে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ কোথা থেকে আসবে? আমি মনে করি, এই সময়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে অনানুষ্ঠানিক খাত ও এসএমই-কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাদের জন্য মূলধনের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ফান্ডের টাকা অলস ফেলে না রেখে যথাযথভাবে বিতরণ করতে হবে। এই খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে পারলে অর্থনীতি দ্রুত গতিশীল হবে।
স্ট্রিম: ব্যবসা-বাণিজ্য পুনর্গঠনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। করোনার সময় প্রণোদনা প্যাকেজের অর্ধেকের বেশি টাকা ফেরত আসেনি। এবারও কি সেই ঝুঁকি আছে? কীভাবে এটি ব্যবস্থাপনা করা উচিত?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: প্রথম কথা হলো, এই অর্থ আকাশ থেকে আসেনি। তাই ঋণ অবশ্যই ফেরত আসতে হবে। সরকার হয়তো ছাড় দিয়ে বা কম সুদে ঋণ দিচ্ছে। কিন্তু এটি অনুদান নয়। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে। ঢালাওভাবে সবাইকে এই টাকা দেওয়া যাবে না।
এমন যেন না হয় যে, কোনো কারখানা এমনিতেই লোকসানে বন্ধ হয়ে যেত, কিন্তু ভর্তুকির ঋণ পাওয়ার আশায় তারা আবেদন করছে। যাদের সত্যিই প্রয়োজন এবং যাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা ও সম্ভাবনা আছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই করে শুধু তাদেরকেই এই ঋণ দেওয়া উচিত। তা না হলে এটি ব্যাংকিং খাতকে আরও বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে। কঠোর শর্ত ও মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই ফান্ডের অর্থ ছাড় করা উচিত।
স্ট্রিম: বাজেটে ক্ষুদ্র ঋণ খাতের জন্য সুস্পষ্ট কোনো নীতি কাঠামো নেই। এক্ষেত্রে কি করা যায়?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: ক্ষুদ্র ঋণের জন্য বাজেটে বরাদ্দ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। সরকার পিকেএসএফ-এর মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলেছে। কিন্তু আমাদের দেশের মোট ক্ষুদ্র ঋণের মাত্র ৬ শতাংশ আসে পিকেএসএফ-এর মাধ্যমে। তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মাত্র দুই শতাধিক। বাকি ৯৪ শতাংশ ঋণ পরিচালিত হয় পিকেএসএফ-এর বাইরে থাকা হাজার হাজার এনজিও বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। তাই শুধু পিকেএসএফ-কে অর্থ দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। অনানুষ্ঠানিক খাতের বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে হলে, পিকেএসএফ-এর বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বাজেটে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই তৃণমূলের অর্থনীতিতে একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
স্ট্রিম: ক্ষুদ্রঋণ খাতের আমানতকারীদের সুদের ওপর কর ধার্যের বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: সুদের আয়ের ওপর কর দেওয়াটাই স্বাভাবিক নিয়ম। সরকার চাইলে প্রান্তিক মানুষের কথা বিবেচনা করে এখানে করছাড় (রিবেট) দিতে পারে। ছাড় না দিলে সবাইকে করজালের আওতায় আসতে হবে, তবে এর নেতিবাচক প্রভাব যেন কম হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সামগ্রিকভাবে বাজেট যদি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে, তবে প্রান্তিক মানুষের আয় বাড়বে এবং ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ আদায়ও সহজ হবে। কোভিড, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে ক্ষুদ্র ঋণ খাত বর্তমানে কিছুটা চাপে রয়েছে। তবে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার এই খাতের সঙ্গে মূল অর্থনীতির গভীর মিথস্ক্রিয়া রয়েছে। সামগ্রিক অর্থনীতি গতিশীল হলে এই খাত যেমন লাভবান হবে, তেমনি ক্ষুদ্র ঋণ খাত এগোলে অর্থনীতিও বেগবান হবে।
স্ট্রিম: অভিযোগ আছে ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফআই) সুদের হার অনেক বেশি। তা কমানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া যায় কি?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের নেতৃত্বে একটি টেকনিক্যাল কমিটি এই বিষয়টি মূল্যায়ন করছে। বর্তমানে ক্ষুদ্র ঋণে সার্ভিস চার্জের সর্বোচ্চ সীমা ২৪ শতাংশ (আগে এটি ২৭ শতাংশ ছিল)। ব্র্যাক বা আশার মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব বড় তহবিল থাকায় তাদের খরচ কম। কিন্তু ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল সংগ্রহ ব্যয় তুলনামূলক বেশি। আমরা সবার গড় খরচ মূল্যায়ন করছি। তহবিল সংগ্রহ বা 'কস্ট অব ফান্ড' কমে এলে সার্ভিস চার্জের হার আরও কমিয়ে আনা হবে।
স্ট্রিম: কৃষি ও পল্লি অর্থায়নে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল এবং কৃষক কার্ডের সুবিধা প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছানো কতটা সম্ভব বলে মনে করেন?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: সরকারি সুবিধা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সবসময়ই কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতি থাকে। তবে এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সদিচ্ছা অত্যন্ত দৃঢ় বলে মনে হচ্ছে। এখন বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের গাফিলতি থাকলে সমস্যা হবে। তাই কোথায় লিকেজ বা ঘাটতি আছে, তা খুঁজে বের করে সমাধান করতে হবে। রাজস্ব ঘাটতির মধ্যেও সরকারের বরাদ্দ ঠিকমতো কৃষকের কাছে না পৌঁছালে অর্থনীতি উল্টো আরও চাপে পড়বে।
স্ট্রিম: ক্ষুদ্র ঋণ থেকে এসএমই খাতে উত্তরণ এবং সরকারের ৫ বছরে ৫ কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে আপনার মত কী?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: আমাদের আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত এবং সময়সাপেক্ষ। কিন্তু অর্থনীতির ৮০ শতাংশের বেশি অনানুষ্ঠানিক খাত। এই খাতকে গতিশীল করতে পারলে বিপুল আত্মকর্মসংস্থান তৈরি হবে। এমআরএ-এর দায়িত্বে থেকে আমরা ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বেগবান করার চেষ্টা করছি। সরকারের উচিত মূলধারার ব্যাংকিংয়ের বাইরে থাকা এই প্রান্তিক মানুষদের অর্থায়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। ৫ কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত না হলেও, অনানুষ্ঠানিক খাতের মাধ্যমে ২-৩ কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারলেও তা হবে বিশাল অর্জন।
স্ট্রিম: এমআরএ-এর দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্ষুদ্র ঋণ নীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে চাইছেন?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের বড় ঘাটতি আছে। আমরা সেগুলো দূর করতে চাই। ফান্ডের টাকা যেন জমি কেনা বা সম্পদ বানানোর মতো মুনাফামুখী কাজে ব্যবহার না হয়ে প্রকৃত ক্ষুদ্র ঋণের স্বার্থে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশি দাতাসংস্থাগুলোর অনুদান কমে আসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থের একটি বড় অংশ সামাজিক খাতে ব্যয়ের ওপর আমরা জোর দিচ্ছি। পাশাপাশি, গ্রামের মানুষের সঞ্চয় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শহরে এসে বড় ঋণখেলাপিদের হাতে পাচার না হয়ে, যেন এমএফআইগুলোর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবেই বিনিয়োগ হয়, সেই আইনি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছি। এতে এই খাতে স্বল্প খরচের তহবিলের প্রবাহ বাড়বে।
স্ট্রিম: আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বাজেট ব্যবস্থায় কোন তিনটি সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন?
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: প্রথমত, সরকারি ব্যয়ের গুণগত মান ও উৎকর্ষতা বাড়ানো। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধ করে যোগ্য প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিতে হবে। এতে একই খরচে অনেক বেশি কাজ করা সম্ভব হবে।
দ্বিতীয়ত, রাজস্ব খাতের কাঠামোগত সংস্কার। দেশের অবকাঠামোগত চাহিদা মেটাতে কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৪-১৫ শতাংশে উন্নীত করতেই হবে।
তৃতীয়ত, বৈশ্বিক ধাক্কা সামলাতে অভ্যন্তরীণ নীতির সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানো। জ্বালানি খাতে দেশীয় উৎসের ব্যবহার বাড়িয়ে বৈচিত্র্য আনতে হবে। আমাদের জমি, শ্রম ও মূলধনের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। তৈরি পোশাক ও প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে অদক্ষ শ্রমিকের বদলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে।
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী দক্ষতা শেখাতে হবে। সর্বোপরি, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কোনোভাবেই ‘মব কালচার’ বা উচ্ছৃঙ্খলতা মেনে নেওয়া যাবে না। এটি অর্থনীতির সব ধরনের ইতিবাচক প্রণোদনাকে ধ্বংস করে দেয়।
স্ট্রিম: ঢাকা স্ট্রিমকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: ধন্যবাদ আপনাদেরকেও।
.png)
.png)

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড-সম্পর্কিত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল যে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। গত মাসে একই কমিশন আবারও অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে, ইসরায়েলি পদক্ষেপগুলোর উদ্দেশ্য হলো, গাজার
৩ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আলোচনামঞ্চে একটি বিষয় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চৈতলী চক্রবর্তী নামের এক সনাতনী নারী আইনজীবী, যিনি বিদেশি সহায়তায় বাংলাদেশে একটি পৃথক ‘হিন্দু প্রদেশ’ প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপন করেছেন। তাঁর এই দাবি ঘিরে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর আলোচনার পথ খুলেছে। যুদ্ধবিরতির পর চলছে রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা। এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে
আগস্টের সম্ভাব্য ঢেউ মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ জেলার হাসপাতালে চিকিৎসাসামগ্রী, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স প্রস্তুত রাখতে হবে। নইলে এবার ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হতে পারে ঢাকার বাইরের মানুষকে।
১ দিন আগে