জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সুনামগঞ্জ-১: হাওরবাসীর দাবি স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, মিলছে প্রতিশ্রুতি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রধান দুর্বলতা নৌপথ। স্ট্রিম ছবি

সুনামগঞ্জের হাওর বেষ্টিত উপজেলা তাহিরপুরের উজান গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান। হাওরে কৃষিকাজ করেই দিন কাটে তাঁর। ফসল কেটে গোলায় তোলা ও বাজারে নিতে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাঁকে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কথা জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন, ‘ভাই, আমরা হাওর এলাকার মানুষের কথা ভোট আইলেই নেতারা মনে করে। না হয় এত দুর্যোগ যায়, এত যুদ্ধ করি প্রকৃতির সাথে আমরা, তখন কেউ আমাদের খবর লয় না। তয় এবার যারা নির্বাচনের লড়ছেন, তারা বিগত দিনে হাওরবাসীর পাশে ছিলেন। আশা করছি, যে-ই নির্বাচিত হবে, আমাদের কষ্টগুলো সংসদে উত্তাপন করবেন।’

সীমান্ত ঘেঁষা জেলা সুনামগঞ্জে হাওর আছে প্রায় ৯৫টি। হাওর অধ্যুষিত ৪ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-১ আসন। এর মধ্যে আছে ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলা। হাওরাঞ্চলে কয়েক লাখ মানুষের বসবাস। তাঁদের সব চেয়ে দুর্ভোগে পোহাতে হয় স্বাস্থ্যসেবা পেতে। মুমূর্ষু ব্যক্তিকে হাসপাতাল পর্যন্ত নিতে না-নিতেই রোগীর অবস্থা নাজেহাল হয়ে পড়ে। প্রসূতি মা, শিশু, হৃদ্‌রোগী, সাপে কাটা ও পানিবাহিত রোগী বেশি মারা যায় এই অঞ্চলে।

হাওরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রধান দুর্বলতা নৌপথ। বর্ষায় নৌকা, হেমন্তে পায়ে হাঁটা ছাড়া আর কোনো বিকল্প রাস্তা নেই। দুর্গম হাওর এলাকায় বর্ষা ও হেমন্তে একই চিত্র। সেই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার অত্যন্ত নাজুক। এতে এই এলাকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লাখো যুবক-যুবতী।

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হলে চিকিৎসা পাওয়াও সহজ হবে মনে করেন হাওরবাসী। উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের মোতালিব হোসেন বলেন, ‘আমরা বেশি কিছু চাই না। আমরা হাওরবাসী চাই, ভালো একটু চিকিৎসা সেবা। গত এক যুগ ধরে আমরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছি ঠিকই, কিন্তু আমাদের ভাগ্যে উন্নয়ন হয়নি।’

হাওরের এক ফসলি এলাকার মানুষ চান, বোরো ফসল ঘরে তোলার পর নদীতে কাজ করে যাতে সংসার চালাতে পারেন। উপজেলার চিকশা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাছির বলেন, ‘আমরা এক ফসলি জমির ওপর নির্ভরশীল। একবার বোরো চাষাবাদ করে আমরা সারা বছর বেকার থাকি। তখন নদীতে বালি উত্তোলন করে চলি। বর্তমানে একটি চক্র বালু তুলতেও দিচ্ছে না। আমরা চাই নদীতে সনাতন পদ্ধতিতে বালি উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করতে।’

প্রার্থীরাও ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগের দিকে অবহেলিত জনপদের উন্নয়নে কাজ করবেন তাঁরা।

বর্ষায় নৌকা ও হেমন্তে পায়ে হাঁটা ছাড়া বিকল্প পথ নেই সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে। স্ট্রিম ছবি
বর্ষায় নৌকা ও হেমন্তে পায়ে হাঁটা ছাড়া বিকল্প পথ নেই সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে। স্ট্রিম ছবি

সুনামগঞ্জ-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী তোফায়েল আহমদ খান একজন শিক্ষক। তিনিও ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটা শুধু আমার প্রতিশ্রুতিই না। আমিও হাওর এলাকার সন্তান। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, হাওরবাসীর নানা সংকট। আমি হাওরবাসীর জন্য কিছু করতে চাই।’

হাওরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিজ্ঞা জানাচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের। তিনি জানান, হাওরবাসী এখনো স্বাস্থ্যসেবা ঠিকমতো পাচ্ছেন না। এর বাধা হলো, হাওর অধ্যুষিত ৪টি উপজেলার এক গ্রামের সঙ্গে আরেক গ্রামের যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না। ফলে স্বাস্থ্যসেবাও একেবারে নড়বড়ে। তিনি বলেন, ‘আমি এলাকার সন্তান হিসেবে বিগত দিনেও হাওরবাসীর পাশে ছিলাম। এবার যদি সংসদে যেতে পারি হাওরবাসীর স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করতে চাই।’ এছাড়া পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত তাহিরপুর উপজেলাকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি তাঁর।

দেশের সবচেয়ে বেশি হাওর অধ্যুষিত জেলা সুনামগঞ্জে। এই আসনে ভোটার রয়েছে ৫ লাখ ১ হাজার ৫৫৫ জন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত