জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

নতুন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন বৃহস্পতিবার, কেমন ছিল অন্যগুলো

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭: ৩৫
স্ট্রিম গ্রাফিক

স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১২টি নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় উদাহরণ সৃষ্টি করলেও, বড় অংশ নিয়েই রয়েছে বিতর্ক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন ঘটে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের, যেটি তকমা পেয়েছে বাংলাদেশের ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সঙ্গে জুলাই সনদের ওপর হবে গণভোট। স্বাভাবিকভাবে মনে প্রশ্ন জাগছে, কেমন ছিল আগের সব নির্বাচন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নিতে যাচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ৫১টি দলে অংশ নিচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটে দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে জাতীয় নির্বাচন হবে। এসব আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন। নারী প্রার্থী আছেন ৮০ জন। আর পুরুষ প্রার্থী ১ হাজার ৯৪৬ জন, যাদের মধ্যে দলীয় ১ হাজার ৬৯২ জন এবং স্বতন্ত্র ২৫৪ জন।

বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নেওয়ার কারণে এবারের ভোটে সবচেয়ে বেশি নির্বাচনী প্রতীক থাকছে। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলিসহ ১১৯টি নির্বাচনী প্রতীকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবারের ভোটে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতীকে ভোটে দেওয়ার পাশাপাশি, সংস্কার প্রস্তাবের ওপর ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোটও দিতে হবে।

২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘নিবন্ধন প্রক্রিয়া’ চালু হয়। ওই নির্বাচনে ৩৮ দল ভোটে অংশ নেয়। বর্তমানে ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৬০টি। এর মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত আছে। দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এর বাইরে নিবন্ধিত ৮টি দল নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেয়নি।

নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী আগামী সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম.এল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, আওয়ামী লীগ (নিবন্ধন স্থগিত), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (বিডিবি), তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও তরিকত ফেডারেশনের কোনো প্রার্থী নেই।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচেন আওয়ামী লীগসহ নিবন্ধিত ২৮টি দল ভোটে অংশ নেয়। আর বিএনপিসহ ১৬টি নিবন্ধিত দল নির্বাচন বর্জন করে। ওই নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিলেন ১৯৭০ এবং ৬৯ প্রতীকে ভোট হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনকালে হওয়া বাংলাদেশের শেষ ৩টি সংসদ নির্বাচন ছিল বিতর্কত। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি ‘আমি–ডামি’ নির্বাচন হিসেবে পরিচিতি পায়। এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারির একাদশ সংসদ নির্বাচন ‘রাতের ভোট’নির্বাচন হিসেবে পরিচিতি পায়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, আওয়ামী লীগ প্রথম, সপ্তম, নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়। অন্যদিকে বিএনপি দ্বিতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম; জাতীয় পার্টি তৃতীয় ও চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে জয় পায়। তবে, সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ ও দ্বাদশ সংসদ মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদ তার মেয়াদকাল পূরণ করে।

প্রথম নির্বাচন

স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। ওই নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসন জয় পায় আওয়ামী লীগ। তার মধ্যে ১১টি আসনে দলটির প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ১৪টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। বিরোধীদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় লীগ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল একজন করে এবং স্বতন্ত্র পাঁচ জন প্রার্থী বিজয়ী হন। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। এই সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর ছয় মাস।

দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ ২৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৪৯ দশমিক ৬৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। এতে বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। বাকি ৯৩ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ (মালেক) ৩৯টি, জাতীয় লীগ ২টি, আওয়ামী লীগ (মিজান) ২টি, জাসদ ৮টি, মুসলিম ও ইসিলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ ২০টি, ন্যাপ ১টি, বাংলাদেশ গণফ্রন্ট ২টি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল ১টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন ১ ও জাতীয় একতা পার্টি ১টি আসন হয়। ১৬টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়। এ সংসদের মেয়াদ ছিল তিন বছর।

তৃতীয় সংসদ নির্বাচন

৭ মে ১৯৮৬ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির অধীনে তৃতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিলেও বর্জন করে বিএনপি। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৫৩টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। ভোটের হার ছিল ৬০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অংশ নেয় ২৮টি রাজনৈতিক দল। জাতীয় পার্টি বাদে অন্য দলগুলো পায় ১১৫ আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭৬টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৫টি, ন্যাপ (মোজাফফর) ২টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (এনএপি) ৫টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) ৩টি, জাসদ (রব) ৪টি, জাসদ (শাহজাহান সিরাজ) ৩টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১০টি, মুসলিম লীগ ৪টি ও ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি আসন পায়। বাকি ৩২টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ১৭ মাস।

চতুর্থ সংসদ নির্বাচন

৩ মার্চ ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুইটি দলই বর্জন করে। নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে এরশাদের দল জাতীয় পার্টি। পরে ১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় এরশাদ।

এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। নির্বাচনে আটটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ১৯টি আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসে সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ)। এ ছাড়া জাসদ (শাহজাহান সিরাজ) ৩টি ও ফ্রিডম পার্টি ২টি আসনে জয় পায়। বাকি ২৫টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ২ বছর ৭ মাস।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচন

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৭৫টি দল অংশ নেয়। এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বিএনপি ১৪০টি আসনে জয় পায়। আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) ৫টি, জাসদ (শাহজাহান সিরাজ) ১টি, ইসলামী ঐক্যজোট ১টি, জামায়াতে ইসলামী ১৮টি, সিপিবি ৫টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) ১টি, গণতন্ত্রী পার্টি ১টি ও ন্যাপ (মোজাফফর) ১টি আসন পায়। বাকি ৩টি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। পরে বিএনপি-জামায়াতের ৪ দলীয় জোট ক্ষমতা যায়। আর আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকেন। সংসদের মেয়াদ ছিল ৪ বছর ৮ মাস।

ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন

১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়রির অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ ২টি দল অংশ নেয়। দলীয় সরকারের অধীনে হওয়া এ নির্বাচন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ অনেকগুলো দল বর্জন করে। বিএনপি ২৭৮টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। এর মধ্যে ৪৯টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টি ১টি আসন পায়। বাকি ১০ আসনে জয়লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এছাড়া ১০টি আসনে ফলাফল অসমাপ্ত ছিল এবং একটি আসনের নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত করা হয়। এ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১২ দিন।

সপ্তম সংসদ নির্বাচন

১৯৯৬ সালের ১২ জনু সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তত্ত্বাবধয়াক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচেন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ ৮০ দল নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ৫ শ ৭৪ জন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে জোটগতভাবে ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ৮০টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ১১৬টি, জাতীয় পার্টি ৩২টি, জামায়াতে ইসলামী ৩টি, ইসলামী ঐক্যজোট ও জাসদ (রব) ১টি করে আসন পায়। বাকি ১টি স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করে। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

অষ্টম সংসদ নির্বাচন

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ ৫৪টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। নির্বাচনে ১৯৩৯ জন প্রার্থী ছিলো। ভোট পড়েছিল ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৬২টি, জামায়াতে ইসলামী ১৭টি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১৪টি, জাতীয় পার্টি (নাজিউর) ৪টি, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) ১টি, ইসলামিক ঐক্যজোট ২টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ১টি আসন পায়। বাকি ৬টি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করে। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

নবম সংসদ নির্বাচন

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মহাজোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোটসহ ৩৮ দল অংশ নেয়। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি চালু হওয়ার পর এটি প্রথম ভোট। নির্বাচনে ১৫৬৭ জন প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ৩০টি, জাতীয় পার্টি ২৭টি, জাসদ ৩টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ২টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ১টি, জামায়াতে ইসলামী ২টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১টি আসন পায়। বাকি ৪টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করে। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

দশম সংসদ নির্বাচন

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারের অধীনে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো। নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ ১২টি দল অংশ নেয়। এতে ১৫৩টি আসনে প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৩৪টি আসনে জয় পায়। অন্য দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টি ৩৪টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৬টি, জাসদ (ইনু) ৫টি, তরীকত ফেডারেশন ২টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ২টি, বিএনএফ ১টি আসনে জয় পায়। বাকি ১৬টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করে। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪০ দশমিক ০৪ শতাংশ। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

একাদশ সংসদ নির্বাচন

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মহাজোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ নিবন্ধিত ৩৯টি দলই অংশ নেয়। নির্বাচনে ১৮৬৫ জন প্রার্থী ছিলেন। ভোট পড়েছিল ৮০ দশমিক ২০ শতাংশ। আওয়ামী লীগ ২৫৮ আসন নিয়ে টানা তৃতীয়বার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। আর ২২টি আসন নিয়ে সংসদের বিরোধী দল হয় এরশাদের জাতীয় পার্টি। বিএনপি ৬টি, গণফোরাম ২টি, ওয়ার্কার্স পার্টি-৩, জাসদ (ইনু)-২, বিকল্পধারা-২, তরীকত ফেডারেশন-১ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩টি আসনে জয়ী হন। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ নিবন্ধিত ২৮টি দল অংশ নেয়। বিএনপিসহ ১৬টি নিবন্ধিত দল ভোট বর্জন করে। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিল ১৯৭০ জন। ভোট পড়েছিল ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২২টি, জাতীয় পার্টি ১১টি আসনে জয় পায়। ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ ও কল্যাণ পার্টি ১টি করে আসন পায়। বাকি ৬২টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করে। এই সংসদ স্থায়ী হয়েছিল ৬ মাস ৭ দিন।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান, ওইদিন রাতেই রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। পরে ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত