জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

জাতীয় সরকার নয়, এককভাবেই ক্ষমতায় যাবে বিএনপি: রয়টার্সকে তারেক রহমান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী তারেক রহমান নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। বরং আগামী সপ্তাহে নির্বাচনে এককভাবেই বিএনপি সরকার গঠন করবে বলে আত্মবিশ্বাসী তিনি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি। নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ না করলেও তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পাব বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর গত ডিসেম্বরে প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক নির্বাসন শেষে দেশে ফেরেন ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান। তাঁর মা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হাসিনার পতনের মাধ্যম তাঁর দেশে ফেরার পথ প্রশস্ত হয়। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকা দলটি সম্প্রতি আবার সক্রিয় হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এ দুই দল একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছিল। দেশকে স্থিতিশীল করতে জাতীয় সরকার গঠনের জন্য আবারও অংশীদারত্বে আগ্রহের কথা জানিয়েছে জামায়াত। কারণ ২০২৪ সালের কয়েক মাসের অস্থিরতায় দেশের বিশাল তৈরি পোশাক শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনা পালিয়ে গিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন। এরপর থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার দেশ চালাচ্ছে।

জামায়াতের আগ্রহের বিষয়ে বিএনপির কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দলে কে থাকবে?’

তিনি বলেন, ‘আমি জানি না তারা কতটি আসন পাবে। কিন্তু তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, তবে ভালো বিরোধী দল হিসেবে তাদের পাব বলে আশা করি।’

বিএনপির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন, সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাবে বলে তাঁরা আত্মবিশ্বাসী। দলটি সরাসরি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বাকি আসনগুলো মিত্রদের ছেড়ে দিয়েছে।

বিএনপি ঠিক কতটি আসন পাবে নির্দিষ্ট করে সে সংখ্যা না জানালেও তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পাব বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’

সব মতামত জরিপেই বিএনপির বিজয়ের পূর্বাভাস করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও জরিপগুলোতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই জোটে জেন-জি (জেনারেশন জেড) নেতৃত্বে গঠিত রাজনৈতিক দলও আছে। হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে এ নেতারা উঠে এসেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুসম্পর্ক

নয়াদিল্লি হাসিনাকে আশ্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জুলাই-আগস্টে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের দায়ে গত বছর হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া ঘিরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তলানিতে চলে যায়। আর এটি চীনকে বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ এনে দিয়েছে।

জয়ী হলে ভারত থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সক্ষম বাংলাদেশের এমন অংশীদার প্রয়োজন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি সরকারে আসি, তাহলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। দেশে ব্যবসা আনতে হবে, যাতে চাকরি হয় এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হয়।’

তিনি বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়; বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ আমাদের মানুষের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব করবো।’

হাসিনার সন্তানরা দেশে ফিরে রাজনীতি করতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ‘যদি কেউ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, জনগণ যদি তাঁদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার আছে।’

আসন্ন নির্বাচনে হাসিনার দল আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তার ক্ষমতাচ্যুতির আগেই দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা এবং পরিবারের সদস্যরা বিদেশে অবস্থান করছিলেন। আবার কেউ কেউ সরকার পতনের সময়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

প্রত্যাবাসনে নিরাপদ পরিবেশ না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের থাকতে দেওয়া হবে

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও চরম দারিদ্র্যপীড়িত একটি দেশ। তার ওপর দেশটি প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। প্রতিবেশী বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারে একাধিক দমন-পীড়নের মুখে তাঁরা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। মিয়ানমারে তাঁদের বহিরাগত মনে করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর বলেছিল, নিজেদের নানান চ্যালেঞ্জের কারণে শরণার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দ দেওয়ার সক্ষমতা তাদের নেই। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তার আহ্বান জানায়।

তারেক রহমানও চান রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক। তবে তা কেবল নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হলে।

তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করব তারা যেন নিজেদের ভূমিতে ফিরতে পারে। সেখানে ফেরার জন্য নিরাপদ পরিস্থিতি থাকতে হবে। সেই নিরাপদ পরিবেশ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা এখানে থাকতে পারবে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত