বিরোধী দলের প্রশ্ন

দুদক, গুম কমিশন, পুলিশ সংস্কার বিল কেন আনা হচ্ছে না

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ৩০
সংসদ থেকে ওয়াকআউটের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধী দলের নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ সংস্কার কমিশন, গুম কমিশন বা পিএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিল কেন আনছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন রেখেছে বিরোধী দল। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ‘বিশ্বাস ভঙ্গের’ অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে পরে সংসদ প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে এই প্রশ্ন রাখেন তারা।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১২ মার্চ সংসদ চালু হওয়ার পর থেকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়েছে। অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটিও করা হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখলাম, বিরোধী দলের সদস্যদের ছাড়াই সরকারি দল নিজেদের মতো করে একটি রিপোর্ট তৈরি করেছে, যা স্পষ্টতই ‘বিশ্বাসের অমর্যাদা (ব্রিচ অব ট্রাস্ট)’।

তিনি বলেন, স্পিকার কথা দিয়েছিলেন– শুক্রবার ছুটির দিনেও রাত ১২টা পর্যন্ত আলোচনা করে সব অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করা হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, জাতির নিরাপত্তা ও নাগরিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে সেগুলোকে বাতিলের তালিকায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা প্রশ্ন তোলেন, সরকার কেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ সংস্কার কমিশন, গুম কমিশন বা পিএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো আনছে না? সরকার কেবল সেসব বিল আনছে, যাতে ফ্যাসিবাদের ধারা বজায় রাখা যায় এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করা যায়। তারা নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, অনির্বাচিত প্রতিনিধি দেখতে চায় না। কিন্তু এখন তারা নিজেরাই নিজেদের কথা রাখছে না।

জামায়াত আমিরের অভিযোগ, ৭০ শতাংশ মানুষের রায় এবং গণভোটের আকাঙ্ক্ষাকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অপমানজনক। অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে বিরোধী দল এক চুলও ছাড় দেবে না এবং সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেও সংসদে থাকতে পারিনি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ থেকে শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বিলে পরিণত করার ক্ষেত্রে বিএনপি সরকার তাদের দেওয়া ওয়াদা বারবার ভঙ্গ করছে। বিশেষ করে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ বিলটি পাসের ক্ষেত্রে চরম ছলচাতুরীর আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ৯৮টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিশেষ কমিটিতে ঐকমত্য হয়েছিল এবং কথা ছিল কোনো পক্ষই এতে আপত্তি তুলবে না। কিন্তু শুক্রবার বিলটি (জুলাই জাদুঘর) পাসের মাত্র আধা ঘণ্টা আগে কোনো আলোচনা ছাড়াই তাতে সংশোধনী আনা হয় এবং তড়িঘড়ি পাস করা হয়। এছাড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ আলোচনার সুযোগ না পেয়ে ‘ল্যাপস’ হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, সংসদ অধিবেশন আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আগামী ১৫ এপ্রিল যথানিয়মে অধিবেশন শুরু হবে।

সম্পর্কিত