leadT1ad

আদালতের নির্দেশনা অমান্য করায় সিইসির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেন নয়, হাইকোর্টের রুল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪: ৩২
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। সংগৃহীত ছবি

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা প্রতিপালন না করার অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, আদালতের আদেশ অমান্য করায় তাঁর বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদী প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মোহাম্মদ ইউনুছ আলী আকন্দ। তিনি নিজেই এই আদালত অবমাননার অভিযোগটি দায়ের করেছেন।

আইনজীবীর আইনি উপস্থাপনা থেকে জানা যায়, কৃষক শ্রমিক জনতা পার্টি নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আবেদন করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। কিন্তু নির্বাচন কমিশন দীর্ঘ সময়েও সেই আবেদন নিষ্পত্তি করেনি।

কমিশনের এই নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট একটি আদেশে রাজনৈতিক দলটির নিবন্ধনের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

রিটকারী আইনজীবী আদালতে অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালতের সেই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সিইসি বাস্তবায়ন করেননি। আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে আবেদনটি অনিষ্পন্ন রাখায় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে কনটেম্পট অব কোর্ট বা আদালত অবমাননার এই আবেদন দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে আজ এই রুল জারি করলেন।

আদালত থেকে বেরিয়ে রিটকারী আইনজীবী মোহাম্মদ ইউনুছ আলী আকন্দ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি একটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছিলাম। কমিশন আমার আবেদন গ্রহণ না করায় পরবর্তী সময়ে পুনরায় দরখাস্ত দিই। তাতেও সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করি।’

তিনি আরও বলেন, রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট আমার রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আবেদনটি গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই আদেশ এখনো পালন করা হয়নি। হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করায় আমি আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করি। আজ শুনানি শেষে আদালত প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না—সে বিষয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন।

নিজের রাজনৈতিক দলের বিষয়ে তিনি জানান, তার দলের নাম কৃষক শ্রমিক জনতা পার্টি এবং তিনি নিজেই দলটির আহ্বায়ক। জনসমর্থন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার দলের জনসমর্থন রয়েছে। আমি চেয়েছিলাম আসন্ন নির্বাচনে দল হিসেবে অংশ নিতে। কিন্তু নিবন্ধনের আবেদন গ্রহণ না করায় তা সম্ভব হয়নি।’

দল ছাড়াও তো নির্বাচনে স্বতন্ত্র অংশ নেওয়া যায় সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র হিসেবে বা অন্য কোনো দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা যায়, এটা ঠিক। তবে আমি নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করেই নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলাম।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত