leadT1ad

খুলনা-১ আসনে জামায়াতের ‘হিন্দু কার্ড’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
খুলনা

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮: ৩৩
কৃষ্ণ নন্দী ও আমীর এজাজ খান। ছবি কোলাজ: স্ট্রিম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশের নজর এখন খুলনার উপকূলীয় জনপদ দাকোপ ও বটিয়াঘাটা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসনের দিকে। দীর্ঘদিনের ‘আওয়ামী লীগ দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার এক চমকপ্রদ রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। হিন্দু ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত এই আসনে দলটি তাদের ‘হিন্দু শাখা’র নেতা কৃষ্ণ নন্দীকে মনোনয়ন দিয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই আসনের বিশাল সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক কার দিকে যাবে, তা-ই এখন মূল আলোচনার বিষয়।

এ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান। তিনি এর আগে ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়েছেন। দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই প্রার্থী বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে এবং এবারের নির্বাচনে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।’

হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং তার নামে ১৩টি মামলা রয়েছে। তিনি স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং পেশায় ব্যবসায়ী।

অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি জামায়াতের ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এসএসসি পাস এই প্রার্থীর মোট সম্পদের পরিমাণ ২০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।

জামায়াতের মতো ইসলামপন্থী দল থেকে হিন্দু প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, ‘দল আমাকে সব ধর্মের মানুষের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।’

হিন্দু প্রার্থী বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘অতীতের নির্বাচনগুলো ছিল শুধুমাত্র ক্ষমতার পালাবদলের। কিন্তু এবারের এই নির্বাচন হচ্ছে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ মুক্ত, সংস্কার এবং পরিবর্তনের নতুন বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। সুতরাং এই নতুন বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচনে আমরা সব ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধতাকে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

আসনটিতে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কিশোর কুমার রায়, ইসলামী আন্দোলনের আবু সাঈদ, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সুনীল শুভ রায় এবং জেএসডির প্রসেনজিৎ দত্ত।

খুলনা-১ আসনের ভোটার পরিসংখ্যান বলছে, এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩ হাজার ৫৪২ জন। এর মধ্যে মুসলিম ভোটার ৫১-৫৩ শতাংশ এবং হিন্দু ভোটার ৪৬-৪৮ শতাংশ। ঐতিহাসিক পরিক্রমায় এই আসনে সংখ্যালঘু প্রার্থীরাই বেশি জয়লাভ করেছেন। ১৯৯১ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত অধিকাংশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হলেও ১৯৯৬ সালের (ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনে বিএনপি জয় পেয়েছিল।

তবে ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দাকোপের বাজুয়া এলাকার কয়েকজন ভোটার বলেন, প্রার্থী কোন ধর্মের সেটা বড় কথা নয়; জামায়াতের অতীত ইতিহাস এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও শিক্ষার বিষয়টি তারা বিবেচনায় নেবেন। এছাড়া উপকূলীয় এই জনপদ নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, লবণাক্ততা এবং ভঙ্গুর বেড়িবাঁধের সমস্যায় জর্জরিত। ভোটারদের দাবি, যারা দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা দূর করে টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে, তাদেরই তারা বেছে নেবেন।

জলবায়ু সচেতনতা আন্দোলনের নেতা গোলাম মোস্তফা খান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ফরিদ রানা জানান, এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং উপকূলের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিই হবে বড় ফ্যাক্টর। অবহেলিত এই উপকূলীয় জনপদ এবার নতুন কোনো পরিবর্তনের অপেক্ষায় বুক বাঁধছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত