leadT1ad

৫ বছরে এক কোটি শ্রমিক পাঠানোর লক্ষ্য বিএনপির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ১৮
বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া ছবি

পাঁচ বছরে এক কোটি জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেছে বিএনপি। এ জন্য বিভিন্ন অবকাঠামোগত এবং পলিসিগত কার্যক্রম সূচনা এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের কথা বলছে দলটি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ঘোষিত ইশতেহারে এই লক্ষ্যসহ বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণে বিস্তৃত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ইশতেহারে প্রবাসীদের সুরক্ষা এবং প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের পুনর্বাসনে অন্তত ১৩টি বড় পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।

বিএনপি বলছে, বৈদেশিক কর্মসংস্থানে বিদ্যমান সিন্ডিকেট ও অনিয়ম দূর করে স্বচ্ছ, মানবিক ও দক্ষতাভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

ইশতেহারে বলা হয়, প্রতি বছর গড়ে ২০ লাখ মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হবে এবং অভিবাসন ব্যয় ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে প্রবাসে যেতে আগ্রহীদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

প্রবাসী কার্ড ও ডিজিটাল ডাটাবেজ

ইশতেহারে প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এই কার্ডে প্রবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্য, দক্ষতা, চাকরির শর্ত সংরক্ষিত থাকবে এবং এটি ব্যাংক পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে সহজে রেমিট্যান্স প্রেরণ, অতিরিক্ত প্রণোদনা এবং দেশে ফেরত প্রবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে।

ইশতেহারে আরও বলা হয়, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, ঝুঁকিমুক্ত অভিবাসন নিশ্চিতকরণ ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুচিন্তিত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। জনশক্তি প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রতারণা ও ভোগান্তি নিরসনকল্পে ভোক্তাদের সঠিক চুক্তিপত্র ও মানিরিসিটের মাধ্যমে লেনদেন বাধ্যতামূলক করা হবে। দক্ষ শ্রমিকদের সঠিক এবং বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন প্রাপ্তির সুযোগ সম্প্রসারিত করা হবে।

একই সঙ্গে বিদেশি নিয়োগকর্তাদের আস্থা অর্জনের জন্য একটি শক্তিশালী ‘স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। যাচাইকৃত দক্ষতার ভিত্তিতে একটি ‘স্মার্ট স্কিল ব্যাংক’ বা ডিজিটাল ডাটাবেজ গড়ে তোলা হবে, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ডিজিটাল সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

মাইগ্রেশন মার্কেট রিসার্চ ইনস্টিটিউট

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ‘মাইগ্রেশন মার্কেট রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ গঠন করবে বিএনপি। এই প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা নিয়মিত গবেষণা করবে এবং সেই অনুযায়ী দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণের বাৎসরিক ক্যালেন্ডার ও কারিকুলাম তৈরি করবে।

ইশতেহার অনুযায়ী, পলিটেকনিক, টিটিসি, বিটিইবি ও অন্যান্য সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি আধুনিকায়নে আগামী অর্থ বছরেই ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে ৭ হাজার ৫০০ দেশি প্রশিক্ষকের পাশাপাশি উন্নত বিশ্ব থেকে ১ হাজার দক্ষ বিদেশি প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

বিদেশে কর্মসংস্থানের চাহিদা অনুযায়ী আরবি, ইংরেজি, জাপানিজ, জার্মান ও কোরিয়ান—এই পাঁচ ভাষার জন্য ১ হাজার ভাষা প্রশিক্ষক নিয়োগ এবং ১০০ জন নেটিভ স্পিকারের মাধ্যমে স্থানীয় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়।

প্রবাসী ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে ১০০ একর জমিতে একটি বিশেষায়িত ‘ওভারসিজ স্কিলস ইনভেস্টমেন্ট পার্ক’ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এখানে স্বল্প ভাড়া বা লিজের ভিত্তিতে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা যাবে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও আইনি সুরক্ষা

প্রবাসীরা যাতে তাদের কষ্টার্জিত আয় বৈধ পথে সহজে বাংলাদেশে পাঠাতে পারে সে জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক এক্সচেঞ্জ হাউস/ব্যাংকের সঙ্গে প্রণোদনা সুবিধাসহ দ্রুত, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য রেমিট্যান্স প্রেরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বলে ইশতেহারে বলেছে বিএনপি।

এদিকে, ইশতেহারে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আলাদা ‘লিগাল ডিভিশন’ গঠন এবং প্রধান হাইকমিশনগুলোতে ‘লিগাল উইং’ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এছাড়া বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ দূতাবাসগুলোতে পিপিপি মডেলে স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থার সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশ সাপোর্ট সেন্টার’ চালুর কথা বলা হয়েছে, যা নিগৃহীত বা প্রতারিত কর্মীদের আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনে কাজ করবে।

ওয়েলফেয়ার বোর্ডের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ওয়ান-স্টপ প্রবাসী সাপোর্ট সেন্টার’ স্থাপন এবং কেন্দ্রীয় ডিজিটাল মনিটরিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রবাসীদের অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া, কেন্দ্রীয় ই-প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশস্থ দূতাবাস, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের মধ্যে সমন্বয় করা হবে। এর ফলে প্রবাসীদের প্রতিটি অভিযোগের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে নিবিড় ডিজিটাল ফলো-আপ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে বিএনপির ইশতেহারে।

প্রবাসী সিটি ও ফেরত শ্রমিকদের পুনর্বাসন

প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী সিটি’ বা ‘ওয়েজ আর্নার্স গ্রিন সিটি’ নামে আধুনিক আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে ইশতেহারে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে চাকরি শেষে ফেরত আসা শ্রমিকদের তালিকা তৈরি করে তাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য পৃথক প্রকল্প গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

ইশতেহারে আরও বলা হয়, প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মরদেহ সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সহজ করা হবে এবং প্রবাসী নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও মানবপাচার রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত