‘শাপলা চত্বরের ঘটনাকে বিএনপি প্রথম গণহত্যা চিহ্নিত করে’

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ঘটনাকে বিএনপিই প্রথম গণহত্যা চিহ্নিত করেছিল বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন। তিনি বলেন, নিশ্চয় সবার স্মরণ রয়েছে– ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের এই ন্যক্কারজনক গণহত্যার পরে বিএনপির বিবৃতিতে প্রথম এটিকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

শুক্রবার (৮ মে) শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে শাপলা স্মৃতি সংসদের ‘শাপলার শহীদগাথা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দৈনিক পত্রিকার আর্কাইভ খুঁজলে দেখবেন বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল তখনো এ বিষয়ে কোনো বিশেষণ নির্ধারণ করতে পারেনি। শুধু বিএনপি তাকে গণহত্যা বলে চিহ্নিত করেই সেদিন ক্ষ্যান্ত হয়নি, দুই দিনব্যাপী হরতালের ডাক দিয়েছিলেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। গায়েবানা জানাজা হয়েছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে।

তিনি বলেন, হত্যাকারীরা যখন এই অপরাধকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য নানা বিকৃত তথ্যের ছড়াছড়ি করতে শুরু করল, সরকারের সব ধরনের সমর্থক গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে নানা নাটক ও মিথ্যা কাহিনি প্রচার করতে শুরু করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার বয়ান দাঁড় করাল– বিএনপির নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটেছে।

জহির উদ্দীন স্বপন জানান, এই ঘটনায় প্রায় ২৫০টি মামলা দেওয়া হয়। এসব মামলার শতকরা ৯০ ভাগ আসামি বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। এই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সংসদের প্রথম অধিবেশনে শাপলা চত্বরের সব শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান ও শোকবার্তা জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান এবং শাপলা চত্বরের শহীদসহ সবার সম্মান যা যা দেওয়ার, তা যতটা সম্ভব আমরা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সংসদে এই সম্মান দেওয়ার মধ্য দিয়ে জাতির কাছে আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি– বাংলাদেশে কোনো অপরাধকে আমরা তামাদি হতে দেব না। সে অপরাধ যেই করুক না কেন।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৫ মে শাপলা আন্দোলন ছিল একটি ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রতীক। সেদিন সমাবেশ কোনো দলের ছিল না, দেশপ্রেমিক সর্বস্তরের মানুষ সেখানে অংশ নিয়েছিল।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আমরা আমাদের জাতীয় পীর ও আলেমদের কীভাবে সম্মান করি, তাঁর ওপর জাতীয়তার ভিত্তি নির্ভর করে। ২০১৩, ২০২১ ও ২০২৪– প্রতিটি সংকটে আলেম-ওলামারা দেশের জন্য জেগে উঠেছেন। যদি আমরা শহীদদের যথাযথ সম্মান দিতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে সংকট উত্তরণে কেউ জীবন উৎসর্গে এগিয়ে আসবে না।

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ১৩ দফার সঙ্গে মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু দাবি উত্থাপন করা গণতান্ত্রিক অধিকার। এই দাবিকে কেন্দ্র করে যে নির্মম দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, তা ছিল গণতন্ত্রবিরোধী।

সভাপতির বক্তব্যে মামুনুল হক জানান, শাপলার শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া বর্তমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

সম্পর্কিত