বিএনপি-আওয়ামী লীগের চরিত্রগত কোনো পার্থক্য নেই: মঞ্জু

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬, ২২: ০৪
এবি পার্টির রাজনৈতিক কর্মশালায় কথা বলছেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। ছবি: সংগৃহীত

পরিবারতান্ত্রিক নেতৃত্ব এবং বুর্জোয়া চরিত্রে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। শুক্রবার (৮ মে) ফেনীর আমরা বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) জেলা কার্যালয়ে এক রাজনৈতিক কর্মশালায় এই মন্তব্য করেন তিনি।

মঞ্জু বলেন, ‘পরিবারতান্ত্রিক নেতৃত্ব এবং বুর্জোয়া শ্রেণি চরিত্রে বিএনপি-আওয়ামী লীগের কোনো পার্থক্য নেই। সাধারণ মানুষ দেখবে ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর কী কী পরিবর্তন এসেছে? যদি কোনো পরিবর্তন খুঁজে না পায় তবে হতাশা ও ক্ষোভে মানুষ নতুন করে ভাবতে বাধ্য হবে।‘

মঞ্জু দাবি করেন, দুর্নীতি, দলীয়করণ, সন্ত্রাস ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দিয়ে জনগণ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পার্থক্য নির্ণয় করবে।

সংস্কার ও নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে মঞ্জু বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম আগে সংস্কার, তারপর নির্বাচন। বিএনপি দেখেছে সংস্কার হলে তাদের ক্ষতি হবে, এজন্য তারা আগে নির্বাচন চেয়েছে। যদি সংস্কার হতো তবে ঋণখেলাপি ও কালো টাকার মালিকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারত না। পুরাতন সিস্টেম রয়ে গেলে পুরাতন দলেরই সুবিধা। যতক্ষণ পর্যন্ত সিস্টেম পরিবর্তন না করা যাবে, ততদিন নতুন রাজনীতির উত্থান সম্ভব না।‘

এবি পার্টির গত ৬ বছরের মূল্যায়ন করতে গিয়ে মঞ্জু বলেন, ‘নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতিতে আমরা খুব সাফল্য পাইনি। পুরোনো দলগুলোর এখনো বিকল্প হয়নি। ঋণখেলাপি, দুর্নীতিবাজ, অর্থশালী ব্যবসায়ী এবং ধর্মীয় আবেগকে স্পর্শ করতে পারে এমন দলকেই জনগণ ভোট দিয়েছে। তবে নতুনদের প্রতি মানুষের আগ্রহ এবারের ভোটের ফলাফলে স্পষ্ট। এই আগ্রহকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করলে নতুন রাজনীতির জয় অবশ্যম্ভাবী।‘

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এবি পার্টির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী শাহ আলম বাদল বলেন, ‘আমাদের মাঠে কাজ করতে হবে। সম্ভাবনা তৈরি করতে হলে দলকে গ্রামে গ্রামে পরিচয় করাতে হবে।” জেলা আহ্বায়ক মাস্টার আহসান উল্লাহও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হওয়ার ওপর জোর দেন।

কর্মশালা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আফলাতুন বাকীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ফজলুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম কামরুল, শাহ আলম শাহীন সুলতানী, মীর ইকবাল এবং নাজরানা হাফিজ অম্লানসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মী। বক্তারা বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে মানুষের অধিকার আদায়ে একতাবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন।

সম্পর্কিত