leadT1ad

বিএসএফ একটি খুনি বাহিনীতে পরিণত হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩: ৩৯
নাহিদ ইসলাম। ছবি : আশরাফুল আলম

সীমান্তে কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যার ১৫তম বার্ষিকীতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিএসএফকে ‘ট্রিগার-হ্যাপি’ এবং ‘নিরস্ত্র মানুষ হত্যাকারী’ বাহিনী হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘আজ বলতে দ্বিধা নেই বিএসএফ একটি খুনি বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।’

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

ফেলানী খাতুন স্মরণে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি সীমান্ত হত্যা, ভারতের আধিপত্যবাদ এবং বিগত সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেন।

পোস্টের শুরুতে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, ‘সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানী খাতুনের নিথর দেহ আজও আমাদের রাষ্ট্রীয় বিবেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাখে। ফেলানী হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, একটি দীর্ঘ, রক্তাক্ত সীমান্ত-ইতিহাসের প্রতীক। যে সীমান্তে মানুষের জীবন এত সস্তা, সেখানে মানবাধিকার কেবল কাগজে লেখা শব্দ।’

বিএসএফের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘তারা ট্রিগার-হ্যাপি, জবাবদিহিহীন এবং নিরস্ত্র মানুষ হত্যাকারী একটি বাহিনী। শত শত বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করে তারা বাংলাদেশের জাতীয় মর্যাদা ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করেছে এবং এই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তথাকথিত “বন্ধুরাষ্ট্র”-এর হাতে।’

সীমান্তে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের বেশ কয়েকজন শহীদের নাম উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম লেখেন, ‘ইতিহাসের নির্মম পরিহাস হলো “মুক্তিযুদ্ধের ঋণ” শোধ করতে হয়েছে ফেলানী খাতুন, আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ ও ওসমান হাদিদের। যা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য অমানবিক, অসম এবং অবমাননাকর।’

বিগত সরকারের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘দুঃখজনক সত্য হলো, আমাদের রাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্তে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলেও দেশের জনগণের ওপর নির্যাতন ও হত্যায় কখনো দুর্বলতা দেখায়নি। গত দেড় যুগের তথাকথিত জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতির বাস্তব চিত্র ছিল এমন: বাইরে নতজানু, ভেতরে দমনমূলক।’

সীমান্ত হত্যাকে কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ লেখেন, ‘ফেলানী হত্যাকাণ্ড কেবল সীমান্তের ঘটনা নয়; আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং জাতীয় মনস্তত্ত্বকে অধীন করে রাখার এক ধারাবাহিক আধিপত্যবাদী কৌশল। আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি যে সীমান্ত হত্যা আমরা প্রতিরোধ করবো। এর জন্য প্রয়োজন মেরুদণ্ডওয়ালা সরকার, আত্মমর্যাদাবোধের কূটনীতি এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রব্যবস্থা।’

নাহিস ইসলাম আরও লেখেন, ‘বন্ধু বা শত্রু নির্ধারিত হবে ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। যে রাষ্ট্র বা শক্তি জনগণের বিরুদ্ধে যাবে, তাকে কখনোই চিরকালীন বন্ধু মনে করা হবে না।’

স্ট্যাটাসের শেষে তিনি লেখেন, ‘ফেলানী খাতুনদের মৃত্যু আমাদের শিখিয়েছে যে মর্যাদা ভিক্ষা করে পাওয়া যায় না, মর্যাদা আদায় করতে হয়। তার স্মরণ মানে কেবল শোক নয়; তার স্মরণ মানে প্রতিরোধ, আত্মমর্যাদা এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে তোলার শপথ।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত