leadT1ad

জনগণের রায়কে সম্মান না করলে গণতন্ত্রপন্থী হওয়া যায় না: জামায়াত আমির

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ১৮: ১১
বক্তব্য রাখছেন ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: স্ট্রিম

যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা কখনো গণতন্ত্রপন্থী হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি সরকারকে গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

শুক্রবার (১৯ জুন) নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, ২৪ হয়েছিল বলেই বাংলাদেশে ২০২৬ সালে একটি নির্বাচন হয়েছে। ২৪ না হলে দেশে ২৬ কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। যাঁদের রক্তের বিনিময়ে আজকের সরকার ও বিরোধী দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাঁদের যদি উপহাস করা হয়, তাহলে তা নিজেদের সঙ্গেই গাদ্দারির শামিল হবে।

গণভোট নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় জামায়াত গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার তখন ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ছিল না, বরং নীরবে ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। পরে জনরোষের মুখে পড়ে তাঁদের নেতারা গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু গণভোটে অংশ নেওয়া ৬৭ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষের রায়ের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।

জামায়াতের আমির বলেন, আমরা সংসদে নোটিশ দিয়ে ৬৫ বিধিতে আলোচনা করেছিলাম, যাতে গণভোট হারিয়ে না যায় এবং এর প্রতি সম্মান দেখানো হয়। যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা গণতন্ত্রের ধারক-বাহক হতে পারে না। এখনো সময় আছে, গণভোটের পক্ষে ফিরে আসুন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন।

সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সরকার অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকের দিকে কালোহাত, বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য উপাচার্যদের সরিয়ে দলীয় অনুগতদের বসানো এবং জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিজেদের লোক বসানোর মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল গঠন করেছিলেন। কিন্তু সেই একদলীয় শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বাংলাদেশে একদলীয় শাসন জনগণ মেনে নেবে না।

সংসদে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন এ সংস্কৃতি চালু রেখেছিল। এখন বিএনপিও সেই পুরোনো রাজনৈতিক ভাষা ও আচরণের পুনরাবৃত্তি করছে। তরুণ সমাজ এসব শুনতে চায় না। তরুণদের ভাষা ও প্রত্যাশা বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেট দেওয়া সরকারের দায়িত্ব, তবে বাস্তবায়নের দায়িত্বও সরকারের। অতীতে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলে তিনি বর্তমান সরকারকে সেই পথ অনুসরণ না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতারও সমালোচনা করেন তিনি।

তিনি তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও আলোচিত সাত খুনের ঘটনার বিচার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, নারায়ণগঞ্জের সন্তান ত্বকী হত্যার বিচার কি মানুষ পেয়েছে? নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের পূর্ণ বিচার কি হয়েছে? দফায় দফায় এই শহরকে শুধু লাশ উপহার দেওয়া হয়েছে।

সাবেক সংসদ শামীম ওসমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে অনেকে হুংকার দিয়ে বলতেন, খেলা হবে। এখন তাঁরা কার সঙ্গে খেলছেন? তাঁরা কি এখনো নারায়ণগঞ্জে আছেন? নতুন করে নারায়ণগঞ্জে কোনো গডফাদার তৈরি হোক, আমরা তা চাই না।

কর্মী সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে মেয়র প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আ্রমির মাওলানা আবদুল জব্বারের নাম ঘোষণা করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আমির।

সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনসহ জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত