leadT1ad

দখল-দূষণে মৃতপ্রায় মাথাভাঙ্গা নদী: চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থীদের পরিকল্পনা কী

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

এক সময়ের খরস্রোতা মাথাভাঙ্গা নদী এখন দখল আর দূষণে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

এক সময়ের খরস্রোতা মাথাভাঙ্গা নদী এখন দখল আর দূষণে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীটি এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের ভোটার ও নদীপ্রেমীদের প্রশ্ন—জয়ী হলে এই নদীকে বাঁচাতে প্রার্থীরা ঠিক কী পদক্ষেপ নেবেন?

সরেজমিনে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের ড্রেনগুলোর সমস্ত দূষিত পানি ও আবর্জনা সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ছে। এক সময়ের স্বচ্ছ পানি এখন কুচকুচে কালো ও দুর্গন্ধময়। এর ওপর তীরের জমি দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচানোর লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে ‘মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন’ নামক একটি সংগঠন। সংগঠনের সভাপতি ও সাবেক অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সি বলেন, ‘আমরা মানববন্ধন, সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছি। প্রশাসনকে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

নির্বাচনি প্রার্থীদের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানাব যাতে তারা নদী ও জলাশয়প্রেমী প্রার্থীদের ভোট দেন। জয়ী প্রার্থীদের কাছে আমাদের প্রধান দাবি, নদীকে দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা।’

স্থানীয় বাসিন্দা হাছান শেখ বলেন, ‘নদীর সঠিক রূপরেখা ফিরিয়ে আনা আমাদের দাবি। দেশ বাঁচাতে হলে আগে নদী বাঁচাতে হবে। জয়ী প্রার্থীরা যাতে মাথাভাঙ্গা নদীর জৌলুস ফেরাতে অগ্রাধিকার দেন, সেই প্রত্যাশা করছি।’

নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা প্রধান দুই প্রার্থী মাথাভাঙ্গা নদী রক্ষায় আশ্বাস দিয়েছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরিফুজ্জামান বলেন, ‘বিগত সময়ে নদীর সংস্কার কাজের নামে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা কেবল অর্থ লুটপাট করেছেন। আমি নির্বাচিত হলে যথাযথ বাজেটের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নদীটিকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করব।’

অন্যদিকে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ‘মাথাভাঙ্গা নদী চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রাণ। এই প্রাণকে আমরা তিলে তিলে মেরে ফেলছি। জয়ের পর আমার প্রাথমিক কাজ হবে নদীটিকে দখল ও দূষণমুক্ত করে রক্ষা করা।’

চুয়াডাঙ্গার সচেতন মানুষ ও নদীপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন নির্বাচনের ফলাফলের দিকে। নদীটি কি ফিরে পাবে তার হারানো যৌবন, নাকি লুটপাট আর অবহেলার স্রোতে হারিয়ে যাবে, সেই জবাব এখন সময়ের হাতে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত