আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ
ওলিউর রহমান

ইসলাম আবির্ভাবের আগের যুগে আরব সমাজে নারীর অবস্থা অত্যন্ত সীমিত ও বৈষম্যমূলক ছিল। পরিবারে মেয়ের জন্মকে অপমানজনক মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবিত পুতে ফেলা হতো। পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর কোনো ভূমিকা ছিল না। সম্পত্তিতে তাদের কোনো অধিকার ছিল না। নারীকে প্রায়শই কেবল যৌন সম্ভোগের সঙ্গী হিসেবে দেখা হতো।
সেই আরব জাহেলি সমাজে ইসলাম এসে নারীকে অনন্য মর্যাদায় ভূষিত করল। রাসূল (সা.) কন্যা সন্তানকে আল্লাহর রহমত বলে ঘোষণা দিলেন। পরিবারের নারীদের কাছে পছন্দনীয় পুরুষকে সমাজের উত্তম পুরুষ বলে আখ্যা দিলেন। সম্পত্তিতে নারীকে অধিকার প্রদান করা হলো। নারী শিক্ষায় উৎসাহ প্রদান করলেন স্বয়ং নবী (সা.)। এমনকি প্রাপ্ত বয়স্ক কোনো নারীকে তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে করানো যাবে না বলে কঠিন হুশিয়ারি দিলেন রাসূল সা.।
মোটকথা ইসলাম নারীকে মানবিক মর্যাদা প্রদান করল। রাসূল (সা.) এর যুগেই নারীদের কেউ জ্ঞানার্জনে মনোনিবেশ করল। কেউ যুদ্ধের ময়দানে ইসলামের পক্ষ লড়াই করল৷ কেউ ব্যবসা, সমাজসেবা ইত্যাদিকে পেশা হিসেবে বেছে নিল।
অবশ্য নারীর চলাফেরা এবং তার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ইসলাম পর্দার বিধান দিয়েছে। এবং সামাজিক ও সাংসারিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নারীকে ঘরের পরিবেশে থাকতে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
তবে পর্দা বা সংসারের দায়িত্ব পালন মানেই গৃহবন্দি থাকা নয়। আমাদের ধর্মীয় সমাজের একাংশ পবিত্র কোরআনের সূরা আহযাবের একটি আয়াতকে উদৃত করে যেভাবে প্রচার করে—'নারীরা গৃহেই অবস্থান করবে'—এটা ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা নয়। কোরআনে নারীকে ঘরের নিরাপদ পরিবেশে থাকতে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে ঠিক; তবে একই আয়াতের পরের অংশে নারীদেরকে প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার অনুমতিও প্রদান করা হয়েছে। তবে অবশ্যই পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখতে হবে৷
রাসূলের (সা.) প্রথম স্ত্রী খাদিজা (রা.) ছিলেন মক্কার সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী। মিশর, সিরিয়া পর্যন্ত তার ব্যবসার প্রসার ছিল। অপর স্ত্রী আয়েশা (রা.) ছিলেন এই উম্মতের সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তিদের একজন। অনেক সাহাবি, অনেক তাবেয়ী তার থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। আয়েশা (রা.) একটি যুদ্ধে নেতৃত্বও দিয়েছেন। অন্য এক নারী সাহাবি নুসাইবা বিনতে কাব যুদ্ধের ময়দানে নার্সিংয়ের কাজ করতেন৷
এ থেকে প্রতীয়মান হয় শিক্ষকতা, ব্যবসা, চিকিৎসা ইত্যাদি পেশায় স্বয়ং রাসূলের (সা.) পূণ্যবতী স্ত্রী এবং নারী সাহাবিগণ নিয়োজিত ছিলেন। তাহলে ইসলাম নারীকে ঘরে অবস্থান করতে বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে এটা কখনো সঠিক ব্যাখ্যা হতে পারে না৷
নারী স্বাধীনতার নামে নারীদেরকে স্বস্তা শ্রম এবং বিপণনের উদ্দেশ্যে ঘরের বাইরে আনার যে প্রয়াস; এটা যেমন নিন্দনীয়, তেমনি ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা প্রচার করে নারীদেরকে ঘরবন্দি করে রাখার ধারণাও ভালো কিছু নয়। দুই ক্ষেত্রেই সমাজের ভারসাম্য নষ্ট হবে।
নারী স্বাধীনতার বুলিতে প্ররোচিত হয়ে কেবলই কাজ করার অধিকার আদায়ের জন্য নারীরা সবাই ঘরের বাইরে বের হয়ে এলে সমাজ, সংসার মুখ থুবড়ে পড়বে। পরিবার কাঠামো ভেঙে পড়বে। তেমনি নারীর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশে বাঁধা দেওয়া হলে একজন বিপন্ন নারীর পথে বসা ছাড়া কোনো গতি থাকবে না।
এই দুই ধরনের প্রচেষ্টাই প্রান্তিকতা। একজন নারী বরং তার প্রয়োজন এবং পরিবেশ বুঝে সিদ্ধান্ত নিবে সে কখন কোন কর্মে নিয়োজিত হবে।
আমাদের দাবি হওয়া উচিত, ঘরে-বাইরে যেখানেই থাকুক, নারী যেন পূর্ণ সুরক্ষা পায়। শিক্ষাঙ্গন, কর্মক্ষেত্রেও যেন উপযুক্ত পরিবেশে নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
ইসলাম নারীকে শিক্ষা ও সম্পদের ন্যায্য অধিকার প্রদান করেছে। কিন্তু আমাদের প্রান্তিক সমাজে দেখা যায়, একজন নারী তার মোহরের টাকা বুঝে পায় না, পিতা-মাতার সম্পত্তি থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়৷ শিক্ষাঙ্গনে নারীকে হেনস্থা করা হয়। কর্মক্ষেত্রে নারীর শ্রমে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। পদে পদে নারীরা নিগ্রহের শিকার হয়। এগুলো ইসলামের বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ধর্মীয় নেতৃবর্গের উচিত সমাজে নারীর প্রতি এসব বৈষম্য রোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।

ইসলাম আবির্ভাবের আগের যুগে আরব সমাজে নারীর অবস্থা অত্যন্ত সীমিত ও বৈষম্যমূলক ছিল। পরিবারে মেয়ের জন্মকে অপমানজনক মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবিত পুতে ফেলা হতো। পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর কোনো ভূমিকা ছিল না। সম্পত্তিতে তাদের কোনো অধিকার ছিল না। নারীকে প্রায়শই কেবল যৌন সম্ভোগের সঙ্গী হিসেবে দেখা হতো।
সেই আরব জাহেলি সমাজে ইসলাম এসে নারীকে অনন্য মর্যাদায় ভূষিত করল। রাসূল (সা.) কন্যা সন্তানকে আল্লাহর রহমত বলে ঘোষণা দিলেন। পরিবারের নারীদের কাছে পছন্দনীয় পুরুষকে সমাজের উত্তম পুরুষ বলে আখ্যা দিলেন। সম্পত্তিতে নারীকে অধিকার প্রদান করা হলো। নারী শিক্ষায় উৎসাহ প্রদান করলেন স্বয়ং নবী (সা.)। এমনকি প্রাপ্ত বয়স্ক কোনো নারীকে তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে করানো যাবে না বলে কঠিন হুশিয়ারি দিলেন রাসূল সা.।
মোটকথা ইসলাম নারীকে মানবিক মর্যাদা প্রদান করল। রাসূল (সা.) এর যুগেই নারীদের কেউ জ্ঞানার্জনে মনোনিবেশ করল। কেউ যুদ্ধের ময়দানে ইসলামের পক্ষ লড়াই করল৷ কেউ ব্যবসা, সমাজসেবা ইত্যাদিকে পেশা হিসেবে বেছে নিল।
অবশ্য নারীর চলাফেরা এবং তার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ইসলাম পর্দার বিধান দিয়েছে। এবং সামাজিক ও সাংসারিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নারীকে ঘরের পরিবেশে থাকতে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
তবে পর্দা বা সংসারের দায়িত্ব পালন মানেই গৃহবন্দি থাকা নয়। আমাদের ধর্মীয় সমাজের একাংশ পবিত্র কোরআনের সূরা আহযাবের একটি আয়াতকে উদৃত করে যেভাবে প্রচার করে—'নারীরা গৃহেই অবস্থান করবে'—এটা ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা নয়। কোরআনে নারীকে ঘরের নিরাপদ পরিবেশে থাকতে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে ঠিক; তবে একই আয়াতের পরের অংশে নারীদেরকে প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার অনুমতিও প্রদান করা হয়েছে। তবে অবশ্যই পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখতে হবে৷
রাসূলের (সা.) প্রথম স্ত্রী খাদিজা (রা.) ছিলেন মক্কার সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী। মিশর, সিরিয়া পর্যন্ত তার ব্যবসার প্রসার ছিল। অপর স্ত্রী আয়েশা (রা.) ছিলেন এই উম্মতের সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তিদের একজন। অনেক সাহাবি, অনেক তাবেয়ী তার থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। আয়েশা (রা.) একটি যুদ্ধে নেতৃত্বও দিয়েছেন। অন্য এক নারী সাহাবি নুসাইবা বিনতে কাব যুদ্ধের ময়দানে নার্সিংয়ের কাজ করতেন৷
এ থেকে প্রতীয়মান হয় শিক্ষকতা, ব্যবসা, চিকিৎসা ইত্যাদি পেশায় স্বয়ং রাসূলের (সা.) পূণ্যবতী স্ত্রী এবং নারী সাহাবিগণ নিয়োজিত ছিলেন। তাহলে ইসলাম নারীকে ঘরে অবস্থান করতে বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে এটা কখনো সঠিক ব্যাখ্যা হতে পারে না৷
নারী স্বাধীনতার নামে নারীদেরকে স্বস্তা শ্রম এবং বিপণনের উদ্দেশ্যে ঘরের বাইরে আনার যে প্রয়াস; এটা যেমন নিন্দনীয়, তেমনি ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা প্রচার করে নারীদেরকে ঘরবন্দি করে রাখার ধারণাও ভালো কিছু নয়। দুই ক্ষেত্রেই সমাজের ভারসাম্য নষ্ট হবে।
নারী স্বাধীনতার বুলিতে প্ররোচিত হয়ে কেবলই কাজ করার অধিকার আদায়ের জন্য নারীরা সবাই ঘরের বাইরে বের হয়ে এলে সমাজ, সংসার মুখ থুবড়ে পড়বে। পরিবার কাঠামো ভেঙে পড়বে। তেমনি নারীর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশে বাঁধা দেওয়া হলে একজন বিপন্ন নারীর পথে বসা ছাড়া কোনো গতি থাকবে না।
এই দুই ধরনের প্রচেষ্টাই প্রান্তিকতা। একজন নারী বরং তার প্রয়োজন এবং পরিবেশ বুঝে সিদ্ধান্ত নিবে সে কখন কোন কর্মে নিয়োজিত হবে।
আমাদের দাবি হওয়া উচিত, ঘরে-বাইরে যেখানেই থাকুক, নারী যেন পূর্ণ সুরক্ষা পায়। শিক্ষাঙ্গন, কর্মক্ষেত্রেও যেন উপযুক্ত পরিবেশে নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
ইসলাম নারীকে শিক্ষা ও সম্পদের ন্যায্য অধিকার প্রদান করেছে। কিন্তু আমাদের প্রান্তিক সমাজে দেখা যায়, একজন নারী তার মোহরের টাকা বুঝে পায় না, পিতা-মাতার সম্পত্তি থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়৷ শিক্ষাঙ্গনে নারীকে হেনস্থা করা হয়। কর্মক্ষেত্রে নারীর শ্রমে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। পদে পদে নারীরা নিগ্রহের শিকার হয়। এগুলো ইসলামের বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ধর্মীয় নেতৃবর্গের উচিত সমাজে নারীর প্রতি এসব বৈষম্য রোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।

দৃশ্য-১: কোরবানির ঈদের দিন দুপুর। শহরের মহল্লাতে এসময় সমাজের নিম্ন আয়ের কিছু মানুষ মাংস সংগ্রহের জন্য বের হয়। বাসায় বাসায় ঘুরে এক টুকরো, দুই টুকরো মাংস সংগ্রহ করে দলবেঁধে। রাতের বেলায় সেই মাংস রান্না করে তারা ঈদের দিনে ভাল-মন্দ খায়।
১২ দিন আগে
জিলহজ মাস ইবাদত, ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের অনন্য এক মৌসুম। হজ ও কোরবানির মতো ইসলামের দুই মহান ইবাদত এ মাসের সঙ্গেই জড়িত। তাই মুসলিম উম্মাহর কাছে জিলহজ মাসের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ।
১৩ দিন আগে
সৌদি আরবে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামী ২৭ মে বুধবার দেশটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন হবে। সৌদি আরবের পরের দিন বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়।
২২ দিন আগে
ইউএইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস জানিয়েছে, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুসারে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আগামী ২৭ মে ঈদুল আজহা হবে। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এক দিন পর বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়।
১২ মে ২০২৬