জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গণসমাবেশের ডাক মামুনুল হকের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ১৬: ৫৫
বৈঠকে মামুনুল হক। ছবি: দলের সৌজন্যে

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গণসমাবেশের ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। আগামী ২৪ এপ্রিল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই গণসমাবেশের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে তাঁর দল।

আজ শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত বৈঠক থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খেলাফত মজলিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

ঈদের পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসমাবেশ

বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করে বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে জনগণের যে রায় সরকার পেয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যত অনীহা দেখাচ্ছে। জনগণ যখন গণভোটে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দিয়েছে, তখন তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে আদালতের দিকে দায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’

গণভোট বাতিলের লক্ষ্যে হাইকোর্টে রিট দায়েরের ঘটনা ‘জনমতের প্রতি অবজ্ঞা এবং চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী’ বলে মন্তব্য করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, ‘জনগণের রায়কে সম্মান না করে আইনি জটিলতার আড়ালে তা বিলম্বিত বা বাতিল করার চেষ্টা গোটা জাতিকে রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য করবে।’

এসময় তিনি আগামী ২৪ এপ্রিল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসমাবেশের ঘোষণা দেন বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে শেখ হাসিনার পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকারের উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, ‘অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে ও নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়েছে—বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে তাদের নাম প্রকাশ করে জাতির সামনে আনতে হবে।’ অন্যথায় দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না বলেও হুঁশিয়ারি করেন তিনি।

রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যে ‘নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং প্রমাণিত’

বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেসব অভিযোগ ও তথ্য সামনে আসছে, তা প্রমাণ করে এই নির্বাচন ছিল পরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা একটি নির্বাচন।

তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ইসলামী দলগুলোকে ইঙ্গিত করে গণমাধ্যমে স্বীকার করেছেন যে, তারা এ ধরনের কোনো দলকে মূলধারায় আসতে দেননি। এই বক্তব্য কার্যত নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি বৈঠকী সিদ্ধান্তের স্বীকারোক্তি।

মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যে এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরে বসেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে এবং জনগণের রায়কে পাল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। সুতরাং নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে জড়িত সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের ওপর চলমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্র-সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন। এই আগ্রাসন শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নয়; বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং বিশ্বশান্তির জন্য গুরুতর হুমকি।

এসময় মামুনুল হক জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই আগ্রাসন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং দখলদার ইসরাইলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগ্রাসন ও দখলদারিত্বের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে এবং ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্বের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদের পরিচালনায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমীর মুফতি সাঈদ নূর, মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আব্দুল আজীজ, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ হাদী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান, আইন বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শরীফ হোসাইন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ, সহ-বায়তুলমাল সম্পাদক ক্বারী হোসাইন আহমদ, নির্বাহী সদস্য মাওলানা আব্দুস সোবহান, মাওলানা আব্দুল মুমিন, মাওলানা ছানাউল্লাহ আমেনী, মাওলানা সাব্বির আহমদ, মাওলানা রাকীবুল ইসলাম, মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দীক প্রমুখ।

সম্পর্কিত