leadT1ad

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় বিএনপি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭: ৫৮
বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া ছবি।

দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠনে বেশকিছু পরিকল্পনা নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরেছে বিএনপি। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ঘোষিত এ ইশতেহারে দেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক, উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করা বিএনপির লক্ষ্য। যেখানে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে। এ রোডম্যাপ অনুযায়ী বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ জিডিপির ০ দশমিক ৪৫ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার চেষ্টা করবে দলটি।

অর্থনীতিতে অলিগার্কিক কাঠামো ভেঙে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছে বিএনপি। ইশতেহারে বলা হয়েছে, এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের প্রকৃত অংশীদারত্ব থাকবে। ন্যায্য মূল্য বণ্টন, অর্থায়ন ও বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হবে এই এজেন্ডার মূল প্রতিশ্রুতি।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়ে বিএনপি বলেছে, ঋণ-নির্ভর অর্থনীতিকে বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরই হবে দলটির মূল লক্ষ্য। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি হবে চালিকাশক্তি।

দেশে কার্যকর ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকারও করা হয়েছে ইশতেহারে। বলা হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হয়রানি ও জটিলতা নিরসনকল্পে সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান স্টপ সার্ভিস এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল কর্মপ্রবাহ তৈরি করা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আইনের শাসন ও নিয়মভিত্তিক ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা এবং পুঁজি প্রবাহের মূল প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার মাধ্যমে দেশীয় ও বৈশ্বিকভাবে ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হবে।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) অধীনে একটি ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ চালু করা হবে, যেখানে সব অনুমোদন ও নিবন্ধন এক জায়গায় প্রদান করা হবে। কোম্পানি নিবন্ধন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং ওয়ার্ক পারমিট সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে সার্বক্ষণিক হেল্পডেস্ক ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সহজীকরণ করে তা ১০ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে।

এছাড়া, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, অযৌক্তিক কর সংস্কার ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম সহজীকরণের অঙ্গীকার করেছে দলটি। কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্প, আইটি ও ডিজিটাল সার্ভিস, ওষুধ উৎপাদন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, চামড়াজাত পণ্য, সৃজনশীল খাত (চলচ্চিত্র, সংগীত, শিল্প, ডিজাইন) এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

‘অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন’ গঠন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানখাত সংস্কার, বেসরকারি খাত উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ গঠন, ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট সম্পাদন, রপ্তানিপণ্যের বৈচিত্রায়ন ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে গুরুত্বারোপ, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে (অ্যামাজন, ই-বে, আলীবাবা) সংযুক্তি, লজিস্টিকস হাব প্রতিষ্ঠা, বন্ধ শিল্প চালুর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত