বিবিসির প্রতিবেদন
স্ট্রিম ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালগুলোতে আবার কথা ফুটে উঠেছে। তার নাম ‘গ্রাফিতি’। গ্রাফিতি কখনো ক্রোধ, কখনো ব্যঙ্গাত্মক, কখনো কাব্যিক হয়। এগুলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের জেনজি তরুণদের আন্দোলনের প্রতিধ্বনি। ওই আন্দোলনই ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। একসময় বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি ক্রমেই স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছিলেন। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি ভারতে পালিয়ে যান।
বাংলাদেশ আকারে ছোট হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেশটিতে প্রভাব বিস্তার করতে বেইজিং ও দিল্লি—দুপক্ষই মরিয়া। বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে দেশটির তরুণদের জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা হবে। শেখ হাসিনার পতনের কয়েক দিনের মধ্যেই শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন।
জাতিসংঘ বলছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক দমন-পীড়নে অন্তত ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে। বেশির ভাগ নিহত হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে। এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বাংলাদেশের আদালত। তবে দিল্লিতে থাকা শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে অস্বীকার করেছে ভারত সরকার। দেশে আওয়ামী লীগের প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট রয়েছে; যদিও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, আওয়ামী লীগের সেই ভোট এখন নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করছে বিএনপি। অন্যদিকে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল এনসিপি জোট বেঁধেছে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে।
এমন পরিস্থিতি ভোটের মাঠে আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে সীমান্তের ওপারের দেশ ভারত। দেয়ালে দেয়ালে দেখা যাচ্ছে—‘দিল্লি না ঢাকা’ লেখা গ্রাফিতি। এমনকি নারীদের পোশাকেও লেখা হচ্ছে এই স্লোগান। তরুণদের মধ্যে ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ’ নিত্যদিনের কথাবার্তার অংশ হয়ে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম মনে করে ভারত বহু বছর ধরেই আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর, যেটা আসলে প্রায় একদলীয় নির্বাচনই ছিল।’
এই ক্ষোভের পেছনে যথার্থ কারণ রয়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ম্লান হওয়ার পেছনে ভারত অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করে তরুণ প্রজন্ম। তাদের ভারতবিরোধী হয়ে ওঠার পেছনে এটিই মূল কারণ। এর ফলাফল হচ্ছে—কয়েক দশকের মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন সবচেয়ে তলানিতে। লন্ডনের এসওএএস বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অবিনাশ পালিওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশে তীব্র ভারতবিরোধী মনোভাবের কারণে দিল্লি এখন সমস্যায় পড়েছে। পাশাপাশি ভারতের নিজের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রতিবেশী দেশটির প্রতি কঠোর, অনেক সময় শত্রুতামূলক ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে।’

শেখ হাসিনা যখন ক্রমশ স্বৈরাচারী হয়ে উঠছিলেন, সেই সময়টিতেও আওয়ামী লীগের শাসনকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিল ভারত। ভারতের এই মনোভাবকে ভালো চোখে গ্রহণ করেনি বাংলাদেশি তরুণেরা। তারা ভারতকে ‘কর্তৃত্বপরায়ণ প্রতিবেশী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ দেশের তরুণদের মনে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনগুলো দগদগে স্মৃতি হয়ে আছে। পালিওয়াল বলেন, ‘ভারত কোনো চাপ ছাড়াই, কোনো প্রশ্ন না করেই হাসিনার শাসনকে সমর্থন দিয়েছে। মানুষ মনে করে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংসের পেছনে ভারতের ভূমিকা ছিল।’
এই ক্ষোভের সঙ্গে মিশেছে সীমান্ত হত্যা, আন্তঃনদীর পানিবণ্টন, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আর ভারতীয় রাজনীতিক ও টেলিভিশন স্টুডিও থেকে আসা উসকানিমূলক বক্তব্য। সব মিলিয়ে, ভারত বাংলাদেশকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে না দেখে, বরং নিজ দেশের উঠোন হিসেবে দেখে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠী দেশটির সঙ্গে প্রতারণা করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের দুটি শীর্ষ গণমাধ্যমকে ‘ভারতের দালাল’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। এছাড়া দিল্লির পক্ষ থেকে একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে আইপিএল-এ খেলতে না দেওয়া এবং বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরাতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনাগুলো বাংলাদেশি তরুণদের মনে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত তাদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করেছে। গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে ঢাকায় আসেন এবং সেই সুযোগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভারত বিএনপির পাশাপাশি ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর একজন শীর্ষ নেতা বিবিসিকে জানান, গত এক বছরে ভারতীয় কর্মকর্তারা দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অন্তত চারবার যোগাযোগ করেছেন।
তবে ভারতের এসব কৌশল দুই দেশের তলানিতে যাওয়া সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে খুব একটা কাজে আসেনি। ডেইলি স্টার পত্রিকার পরামর্শক সম্পাদক কামাল আহমেদ বিবিসিকে বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের এই শীতল সম্পর্ক ইতিহাসে নজিরবিহীন। এর আগে দুই দেশের সম্পর্ক কখনোই এত খারাপ অবস্থায় পৌঁছায়নি।’

শেখ হাসিনার সময়ে এই সম্পর্ক ছিল ঠিক উল্টো। হাসিনার ১৭ বছরে ঢাকা দিল্লির জন্য নিরাপত্তা সহযোগিতা, ট্রানজিট, বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্র উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দিল্লি যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা বাংলাদেশি তরুণদের আরও ক্ষুব্ধ করেছে। ভারত শুধু শেখ হাসিনাকে আশ্রয়ই দেয়নি, বাংলাদেশের ওপর ভিসা ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। কামাল আহমেদ বলেন, ‘ঢাকায় যে বার্তাটি পৌঁছেছে তা হলো: বাংলাদেশিদের প্রতিবেশী হিসেবে মূল্য দিচ্ছে না ভারত। ভারতীয় রাজনীতিকরা সহসাই বাংলাদেশি অভিবাসীদের ‘‘উইপোকা’’ বলে আখ্যা দেন। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে বলে আপনি আশা করেন?’
ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘বহুমাত্রিক’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ৫৪টি নদী ভাগাভাগি করি। তারপরও ভারতবিরোধী জনমত অনেকটাই কঠোর হয়ে গেছে। বাংলাদেশিদের জিজ্ঞেস করলে কেন তারা ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে অবাধে ভোট দিতে পারেননি, অনেকেই একই উত্তর দেন: শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন—এবং তাতে ভারতের সমর্থন।’
শিক্ষাবিদ আলী রীয়াজ বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। এর কারণ হচ্ছে, সময়ের সঙ্গে সম্পর্কটি রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে না থেকে কোনো একটি দল বা ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে সীমিত হয়ে পড়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘সম্পর্ক জোড়া লাগানোর প্রধান দায়িত্ব দিল্লির ওপরই পড়ে, এবং এর জন্য ঢাকাকে পছন্দের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
বিএনপি নেতা তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদি আমিন এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়েরও একই কথা বলেন—জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে মর্যাদা দিয়ে এবং পারস্পরিক সম্মান ও বর্তমান বাস্তবতাকে মেনে নিলেই কেবল একটি গঠনমূলক ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক সম্ভব।
বিবিসি থেকে অনুবাদ করেছেন সার্জিল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালগুলোতে আবার কথা ফুটে উঠেছে। তার নাম ‘গ্রাফিতি’। গ্রাফিতি কখনো ক্রোধ, কখনো ব্যঙ্গাত্মক, কখনো কাব্যিক হয়। এগুলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের জেনজি তরুণদের আন্দোলনের প্রতিধ্বনি। ওই আন্দোলনই ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। একসময় বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি ক্রমেই স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছিলেন। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি ভারতে পালিয়ে যান।
বাংলাদেশ আকারে ছোট হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেশটিতে প্রভাব বিস্তার করতে বেইজিং ও দিল্লি—দুপক্ষই মরিয়া। বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে দেশটির তরুণদের জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা হবে। শেখ হাসিনার পতনের কয়েক দিনের মধ্যেই শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন।
জাতিসংঘ বলছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক দমন-পীড়নে অন্তত ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে। বেশির ভাগ নিহত হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে। এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বাংলাদেশের আদালত। তবে দিল্লিতে থাকা শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে অস্বীকার করেছে ভারত সরকার। দেশে আওয়ামী লীগের প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট রয়েছে; যদিও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, আওয়ামী লীগের সেই ভোট এখন নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করছে বিএনপি। অন্যদিকে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল এনসিপি জোট বেঁধেছে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে।
এমন পরিস্থিতি ভোটের মাঠে আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে সীমান্তের ওপারের দেশ ভারত। দেয়ালে দেয়ালে দেখা যাচ্ছে—‘দিল্লি না ঢাকা’ লেখা গ্রাফিতি। এমনকি নারীদের পোশাকেও লেখা হচ্ছে এই স্লোগান। তরুণদের মধ্যে ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ’ নিত্যদিনের কথাবার্তার অংশ হয়ে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম মনে করে ভারত বহু বছর ধরেই আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর, যেটা আসলে প্রায় একদলীয় নির্বাচনই ছিল।’
এই ক্ষোভের পেছনে যথার্থ কারণ রয়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ম্লান হওয়ার পেছনে ভারত অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করে তরুণ প্রজন্ম। তাদের ভারতবিরোধী হয়ে ওঠার পেছনে এটিই মূল কারণ। এর ফলাফল হচ্ছে—কয়েক দশকের মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন সবচেয়ে তলানিতে। লন্ডনের এসওএএস বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অবিনাশ পালিওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশে তীব্র ভারতবিরোধী মনোভাবের কারণে দিল্লি এখন সমস্যায় পড়েছে। পাশাপাশি ভারতের নিজের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রতিবেশী দেশটির প্রতি কঠোর, অনেক সময় শত্রুতামূলক ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে।’

শেখ হাসিনা যখন ক্রমশ স্বৈরাচারী হয়ে উঠছিলেন, সেই সময়টিতেও আওয়ামী লীগের শাসনকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিল ভারত। ভারতের এই মনোভাবকে ভালো চোখে গ্রহণ করেনি বাংলাদেশি তরুণেরা। তারা ভারতকে ‘কর্তৃত্বপরায়ণ প্রতিবেশী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ দেশের তরুণদের মনে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনগুলো দগদগে স্মৃতি হয়ে আছে। পালিওয়াল বলেন, ‘ভারত কোনো চাপ ছাড়াই, কোনো প্রশ্ন না করেই হাসিনার শাসনকে সমর্থন দিয়েছে। মানুষ মনে করে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংসের পেছনে ভারতের ভূমিকা ছিল।’
এই ক্ষোভের সঙ্গে মিশেছে সীমান্ত হত্যা, আন্তঃনদীর পানিবণ্টন, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আর ভারতীয় রাজনীতিক ও টেলিভিশন স্টুডিও থেকে আসা উসকানিমূলক বক্তব্য। সব মিলিয়ে, ভারত বাংলাদেশকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে না দেখে, বরং নিজ দেশের উঠোন হিসেবে দেখে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠী দেশটির সঙ্গে প্রতারণা করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের দুটি শীর্ষ গণমাধ্যমকে ‘ভারতের দালাল’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। এছাড়া দিল্লির পক্ষ থেকে একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে আইপিএল-এ খেলতে না দেওয়া এবং বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরাতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনাগুলো বাংলাদেশি তরুণদের মনে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত তাদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করেছে। গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে ঢাকায় আসেন এবং সেই সুযোগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভারত বিএনপির পাশাপাশি ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর একজন শীর্ষ নেতা বিবিসিকে জানান, গত এক বছরে ভারতীয় কর্মকর্তারা দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অন্তত চারবার যোগাযোগ করেছেন।
তবে ভারতের এসব কৌশল দুই দেশের তলানিতে যাওয়া সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে খুব একটা কাজে আসেনি। ডেইলি স্টার পত্রিকার পরামর্শক সম্পাদক কামাল আহমেদ বিবিসিকে বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের এই শীতল সম্পর্ক ইতিহাসে নজিরবিহীন। এর আগে দুই দেশের সম্পর্ক কখনোই এত খারাপ অবস্থায় পৌঁছায়নি।’

শেখ হাসিনার সময়ে এই সম্পর্ক ছিল ঠিক উল্টো। হাসিনার ১৭ বছরে ঢাকা দিল্লির জন্য নিরাপত্তা সহযোগিতা, ট্রানজিট, বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্র উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দিল্লি যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা বাংলাদেশি তরুণদের আরও ক্ষুব্ধ করেছে। ভারত শুধু শেখ হাসিনাকে আশ্রয়ই দেয়নি, বাংলাদেশের ওপর ভিসা ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। কামাল আহমেদ বলেন, ‘ঢাকায় যে বার্তাটি পৌঁছেছে তা হলো: বাংলাদেশিদের প্রতিবেশী হিসেবে মূল্য দিচ্ছে না ভারত। ভারতীয় রাজনীতিকরা সহসাই বাংলাদেশি অভিবাসীদের ‘‘উইপোকা’’ বলে আখ্যা দেন। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে বলে আপনি আশা করেন?’
ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘বহুমাত্রিক’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ৫৪টি নদী ভাগাভাগি করি। তারপরও ভারতবিরোধী জনমত অনেকটাই কঠোর হয়ে গেছে। বাংলাদেশিদের জিজ্ঞেস করলে কেন তারা ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে অবাধে ভোট দিতে পারেননি, অনেকেই একই উত্তর দেন: শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন—এবং তাতে ভারতের সমর্থন।’
শিক্ষাবিদ আলী রীয়াজ বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। এর কারণ হচ্ছে, সময়ের সঙ্গে সম্পর্কটি রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে না থেকে কোনো একটি দল বা ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে সীমিত হয়ে পড়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘সম্পর্ক জোড়া লাগানোর প্রধান দায়িত্ব দিল্লির ওপরই পড়ে, এবং এর জন্য ঢাকাকে পছন্দের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
বিএনপি নেতা তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদি আমিন এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়েরও একই কথা বলেন—জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে মর্যাদা দিয়ে এবং পারস্পরিক সম্মান ও বর্তমান বাস্তবতাকে মেনে নিলেই কেবল একটি গঠনমূলক ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক সম্ভব।
বিবিসি থেকে অনুবাদ করেছেন সার্জিল

মোহাম্মদপুর অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত জানিয়েঢাকা-১৩ আসনের মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, এখানে একটি দল এমন একজনকে প্রার্থী করেছে, যাঁর বাবা ছিলেন আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ী।
১ ঘণ্টা আগে
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং বন্ধ মিল-কারখানা চালুর বিষয়টিই হয়ে দাঁড়িয়েছে খুলনা-৩ আসনের প্রধান নির্বাচনি ইস্যু।
২ ঘণ্টা আগে
খুলনার কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই জনপদে এক সময়ের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এখন পরস্পরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর অদূরের উপজেলা হলেও উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার হচ্ছে এই দোহার। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করে ঢাকা-১ আসন ঘোষণা করার পর থেকে এই বঞ্চনা করা হচ্ছে বলে মনে করেন স্থানীয় ভোটারেরা। এবার দলীয় প্রধানের নির্বাচনী জনসভায় সেই বঞ্চনা পোশানোর মতো প্রতিশ্রুতি আশা করছেন তাঁরা।
২ ঘণ্টা আগে