জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

খুলনা-৩: বন্ধ পাটকল চালুর প্রতিশ্রুতিই কি জয়ের চাবিকাঠি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
খুলনা

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭: ০৭
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ও কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একসময়ের কর্মচঞ্চল এই জনপদ এখন বিষণ্ন ও বেকারত্বের অন্ধকারে নিমজ্জিত। স্ট্রিম ছবি

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং বন্ধ মিল-কারখানা চালুর বিষয়টিই হয়ে দাঁড়িয়েছে খুলনা-৩ আসনের প্রধান নির্বাচনি ইস্যু।

খুলনার শিল্পাঞ্চলখ্যাত ভৈরব নদের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসন। গত শতাব্দীর ষাটের দশকে এ অঞ্চলটি ছিল দেশের অন্যতম শিল্পকেন্দ্র। তবে সময়ের বিবর্তনে একের পর এক রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ও কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একসময়ের কর্মচঞ্চল এই জনপদ এখন বিষণ্ন ও বেকারত্বের অন্ধকারে নিমজ্জিত।

শ্রমিক অধ্যুষিত এই এলাকায় একসময় হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর থাকত। এখন সেই জৌলুস ম্লান। মিল বন্ধ হওয়ার পর অনেক শ্রমিক পরিবার গ্রামে ফিরে গেছেন, আর যারা আছেন তারা রিকশা বা ইজিবাইক চালিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

খালিশপুর প্লাটিনাম জুট মিলের সাবেক শ্রমিক আবুল বাশার বলেন, ‘এখন নামেই শিল্পাঞ্চল। কলকারখানা বন্ধ হওয়ায় বেকারত্ব আর মাদকের বিস্তারে আমাদের নাভিশ্বাস উঠেছে।’

নাসিমা বেগম নামে আরেক শ্রমিকের দাবি, ‘আমরা কাজ চাই, মিলগুলো পুনরায় চালু চাই। যিনি বাস্তব নিশ্চয়তা দেবেন, ভোট তাকেই দেব।’

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, খুলনা-৩ আসনে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনি মাঠে না থাকলেও দলটির একটি বিশাল ‘নীরব’ ভোটব্যাংক রয়েছে। সেই ভোট এবং শ্রমিকদের রায় যেদিকে যাবে, ফলাফল সেদিকেই ঝুঁকবে। এ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।

এবার বিনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রকিবুল ইসলাম বকুল, জামায়াত থেকে অধ্যাপক মোহম্মদ মাহফুজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন থেকে মো. আব্দুল আউয়াল, জাতীয় পার্টি থেকে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাসদ থেকে জনার্দন দত্ত, এনডিএম থেকে শেখ আরমান হোসেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ৪জন।

বিএনপির প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘বিগত সরকার লুটপাট করে পাটকলগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে মৃতপ্রায় এই শিল্পনগরীকে আধুনিক করে গড়ে তুলব এবং বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করব।’

জামায়াতের মহানগর আমির মোহম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকদের কাছ থেকে আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচিত হলে শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে এবং বন্ধ পাটকল চালুর বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখব।’

ইসলামী আন্দোলনের মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘অতীতে সবাই শ্রমিকদের শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা নির্বাচিত হলে শ্রমিকদের দাবি পূরণ ও মিল চালুর বাস্তব কাজ করব।’

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৩৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৬৫ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন।

দীর্ঘ দেড় দশক পর এই শিল্পাঞ্চলের ভোটাররা কি পুনরায় কর্মসংস্থানের স্বপ্ন ফিরে পাবেন? ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধই বলে দেবে খুলনা-৩ আসনের আগামীর কাণ্ডারি কে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত