leadT1ad

আর কারও ঘাড়ে ভর করে ফ্যাসিবাদ আসতে দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঝিনাইদহ ও মেহেরপুর

ঝিনাইদহে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদকে কারও ঘাড়ে ভর করে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী স্কুল মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা অনৈক্য নয়, বিভক্তি নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই। ২৪-এ মানুষ যেভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, ২৬-এও ভোটের মাধ্যমে বিপ্লব ঘটাতে হবে। যদি কেউ রাজনৈতিক লেবাস পড়ে জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, তবে তাদের হাতের আঙুল ভেঙে দেওয়া হবে।’

৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ঝিনাইদহে চাঁদাবাজি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজি হারাম, কিন্তু ভিক্ষা করা হারাম নয়। যারা চাঁদাবাজি করেন, তাদের লজ্জা হওয়া উচিত। চাঁদাবাজির চেয়ে ভিক্ষা করা ভালো।’ তিনি অঙ্গীকার করেন, ক্ষমতায় গেলে তারা নিজের সম্পদ বাড়াবেন না, বরং জনগণের সম্পদ বৃদ্ধি করবেন। যারা দেশের টাকা চুরি করেছে, তাদের পেটের ভেতর থেকে তা বের করে আনা হবে এবং দেশে চিরতরে চুরি বন্ধ করা হবে।

নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘মা-বোনদের প্রতি কেউ কুদৃষ্টিতে তাকালে রাষ্ট্র তার চোখ উপড়ে ফেলবে।’

বেকারদের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা বেকার ভাতা দিয়ে কাউকে অপমানিত করতে চাই না। শিক্ষিত যুবকদের কারিগরি দক্ষতা ও প্রযুক্তিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করে মর্যাদার কর্মসংস্থান নিশ্চিত করব।’ এ ছাড়া ঝিনাইদহে মেডিকেল কলেজ স্থাপন, রেললাইন নির্মাণ ও নদী খননের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আলী আজম মো. আবু বকরের সভাপতিত্বে সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

আল্লাহর কসম জনগণের সম্পদের ওপর আমরা হাত দেব না

এর আগে দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অপর এক নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বিগত ৫৪ বছরের শাসকদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘আল্লাহর কসম রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জামায়াত জনগণের সম্পদের ওপর হাত দেবে না। আমরা জনগণের চৌকিদার হয়ে আমানত হেফাজত করব। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পদ বৃদ্ধি হতে দেব না। প্রতি বছর আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে। কেউ বলতে পারবেন না আমাদের সময় দুর্নীতি, লুটতরাজ বা ব্যাংক ডাকাতি হয়নি।’

মেহেরপুরে নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘গণভোটে “হ্যাঁ” মানে আজাদি আর “না” মানে গোলামি।’

জামায়াত আমির সবাইকে প্রথম ভোটটি ‘হ্যাঁ’-তে নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটের দিন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে এবং কেউ ভোট ডাকাতি করতে আসলে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মেহেরপুরের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছোট জেলা হওয়া সত্ত্বেও এটি চাঁদাবাজদের দখলে চলে গেছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে এই মানুষগুলোকে পুনর্বাসন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব যাতে তাদের আর চাঁদাবাজি করতে না হয়।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সাকিল এবং এনসিপির ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানাসহ অন্যরা।

উভয় জনসভাতেই ডা. শফিকুর রহমান ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত