leadT1ad

বৈঠকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট, নেই ইসলামী আন্দোলন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

বৈঠকে ১১ দলের নেতারা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী সমঝোতায় আসা ১১ দলের নেতারা। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকটি চলছে। তবে এই বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেউ উপস্থিত নেই। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক দলের প্রতিনিধিরা স্ট্রিমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অবশ্য এটিকে ‘১১ দলের’ কোনো সভা বলতেই নারাজ ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ। তিনি আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) স্ট্রিমকে বলেন, ‘আজ ১১ দলের কোনো সভা আছে বলে জানা নেই। আর থাকলেও আমরা জানি না।’

এদিকে এই জোটের শরিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান দুপুরের দিকে স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের জোটের সভা চলছে, সভায় বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত আছে। ইসলামী আন্দোলনের কেউ উপস্থিত নেই।’

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরীন সুলতানা মিলিও এই তথ্য স্ট্রিমকে নিশ্চিত করেন।

এদিকে বৈঠক চলাকালেই গণমাধ্যমে একটি বার্তা পাঠান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ। তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের একবক্স নীতিকে ভিত্তি করে যে রাজনৈতিক সমঝোতার পথচলা শুরু হয়েছিল, তা জাতির মনে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। সেই পথচলায় কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হলেও সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সময় এখনো আসেনি। নেতারা বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। চূড়ান্ত কিছু বলার মতো অবস্থা তৈরি হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং অপরাপর দলগুলো আনুষ্ঠানিভাবেই জাতিকে অবহিত করবেন।’

নির্বাচনী সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে গতকাল বুধবার ডাকা সংবাদ সম্মেলন শেষ সময়ে স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সংহতি ও সহানুভূতি জানাতে গিয়ে ১১ দলের অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যাপারে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিভ্রান্তিমূলক বিভিন্ন মন্তব্য ও লেখালেখি’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই এ তথ্য উল্লেখ করে পোস্ট দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি তাঁর ‘সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের’ উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের প্রতি সবিনয়ে অনুরোধ রাখতে চাই—সত্যিই যদি আপনারা জামায়াতে ইসলামীকে ভালোবাসেন, তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ধরনের সকল কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকবেন।’

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণার স্থগিতের পরই আজ বৈঠকে বসেছে জোটের শরীক দলগুলো। বৈঠকে নেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

এর আগে গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) স্ট্রিমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ১১ দলের সমঝোতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম। তিনি জানিয়েছিলেন, শরিকদের কোনো কোনো দল শরিয়তকে অবজ্ঞা করছে, শরিকদের মধ্যে অনেকেই এমন কিছু কাজ করছে যা ইসলাম ও শরিয়াহ সম্মত না, বরং শরিয়তের সঙ্গে মারাত্মক সাংঘর্ষিক।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ ১১ দল সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে কোন দল কতটি আসনে নির্বাচন করবে এ নিয়ে এখনো সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি দলগুলো। আসন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের টানাপোড়েন চলছে। এ কারণে নির্বাচনের আর মাত্র এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকলেও ১১ দল একক প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি।

সাক্ষাৎকারে সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম ১১ দলের সমঝোতা টিকবে কিনা তা নিয়ে নিজের সংশয় প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘আমাদের মুহতারাম আমির, চরমোনাই পীর সাহেব সর্বপ্রথম ইসলামপন্থীদের ভোট এক বাক্সে নিয়ে আসার চিন্তা করেছেন— ‘যে জীবনভরা আমরা ফ্যাসিস্টদের কবলে ছিলাম, ইসলাম কোনোদিন ক্ষমতায় যায় নাই, দেখি ইসলামকে ক্ষমতায় নেওয়া যায় কিনা। এইটার চেষ্টা তিনিই করেছেন এবং প্রথম পলিসিটা তাঁর মাথা থেকেই আসছে।’

আসন সমঝোতার অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন নিয়ে বিভক্তি থেকেই এই সংশয় প্রকাশ করছেন কিনা জানতে চাইলে সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘আসলে আসন নিয়ে না। আমরা একটা পলিসি অ্যাডাপ্ট করেছি যে ইসলামকে ক্ষমতায় বসাতে চাই, ইসলাম ও শরিয়াহ অনুযায়ী চলতে চাই। সেখানে দেখা যায়, আমাদের শরিকদের মধ্যে অনেকেই এমন কিছু কাজ করতেছে, যেগুলো ইসলাম ও শরিয়াহ সম্মত না এবং শরিয়তের সঙ্গে মারাত্মক সাংঘর্ষিক। শরিয়তকে অবজ্ঞা করে তো আসলে ইসলাম হয় না। এখন নারীর অধিকার রক্ষা করতে গিয়া যদি শরিয়ত-কোরআনের বিরুদ্ধে কথা বলে যে আসেন আমরা বৈষম্য দূর করি, তাহলে সমস্যা।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত