বাজেটে কৃষকের ন্যায্যমূল্যের নির্দিষ্ট রূপরেখার দাবি গণসংহতি আন্দোলনের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ১৮: ৪১
গণসংহতি আন্দোলনের বাজেট আলোচনা। সংগৃহীত ছবি

জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক। গণসংহতি আন্দোলন আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় এই সংকট কাটাতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে রূপরেখার দাবিও জানিয়েছেন বিশ্লেষক ও আলোচকেরা।

শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘জনবান্ধব বাজেট: ভাবনা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এই তাগিদ দেওয়া হয়। এই প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন আব্দুর রশিদ নিলু।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোরশেদা সুলতানা বাজেট প্রণয়নে সুস্পষ্ট উন্নয়ন দর্শনের তাগিদ দিয়ে বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কিন্তু আসন্ন বাজেটে সেই দিকটি স্পষ্ট নয়।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘চলতি বাজেটে পেট্রোবাংলা ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ বিভাগ ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে। প্রায় এক লাখ কোটি টাকার এই ভর্তুকি প্রকৃতপক্ষে সাধারণ গ্রাহকদের কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে, নাকি বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যাচ্ছে—তা ভেবে দেখা দরকার।

উন্নয়নকর্মী বরকত উল্লাহ মারুফ বলেন, কৃষক যে খরচ করে ফসল উৎপাদন করেন, সেই অনুযায়ী দাম পান না। প্রকৃত অর্থে কৃষকরাই ভর্তুকি দিয়ে দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। কিন্তু কোনো সরকারই কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারেনি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা ফেলো শামীম আহমেদ শিবলী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে জ্বালানি ও সারের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে ভর্তুকির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। তবে এই চাপ যেন কৃষকের ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দামের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সারের দাম বাড়ানো বা ভর্তুকি কমানো হলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে ভোক্তাদের ওপর পড়বে। এ পরিস্থিতিতে ভর্তুকির চাপ কমাতে জি-টু-জি ভিত্তিতে রাশিয়া থেকে সার আমদানির উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে।

গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা আবু হাসান রুবেল বলেন, নতুন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক, কিন্তু টেকসই অর্থনৈতিক সংস্কার ছাড়া সেই প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়। বাজেটে সংস্কারের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।

সম্পর্কিত