মাহমুদুল হাসান

গণতন্ত্র কেবল নির্বাচন ও ভোটাধিকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ– এমন ধারণা এখন নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ছে। বাস্তবতা হলো– ভোট একটি প্রয়োজনীয় শর্ত হলেও, তা যথেষ্ট নয়। একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য হলো সক্রিয় নাগরিকত্ব।
সক্রিয় নাগরিকত্ব বলতে বোঝায় এমন এক নাগরিক ভূমিকা, যেখানে মানুষ কেবল শাসনের ফল ভোগকারী নয়, বরং শাসনপ্রক্রিয়ার অংশীদ্বার। এটি রাজনীতি সম্পর্কে জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং জানা বিষয়কে কাজে লাগিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের ইতিবাচক পরিবর্তনে যুক্ত হওয়াই এর মূল কথা।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান, ন্যায় ও সমতার পক্ষে সোচ্চার হওয়া, স্থানীয় সমস্যা সমাধানে অংশ নেওয়া– এসবই সক্রিয় নাগরিকত্বের বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশের বাস্তবতায় সক্রিয় নাগরিকত্বের গুরুত্ব বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
জনসংখ্যার চাপ, নগরায়ণ, পরিবেশগত সংকট, সেবা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক বৈষম্য– এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাষ্ট্রের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। একটি নিষ্ক্রিয় নাগরিক সমাজ গণতন্ত্রকে দুর্বল এবং শাসনব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্ন করে তোলে।
এখানে নাগরিক অংশগ্রহণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাড়া-মহল্লাভিত্তিক সভা, স্থানীয় সরকার পর্যায়ের জনসভা, কমিউনিটি উদ্যোগ কিংবা সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত আলোচনা– এসবই নাগরিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্র। এই অংশগ্রহণ সাধারণত নিচ থেকে উঠে আসে এবং নাগরিকদের নিজস্ব সমস্যা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সামনে নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা শুধু দাবি উত্থাপন করে না, বরং সমাধানের অংশ হয়ে ওঠে। পাশাপাশি জনঅংশগ্রহণ নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
যেসব সিদ্ধান্ত জনগণের জীবন ও জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলে, সেগুলো গ্রহণের সময় জনগণের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা সুশাসনের মৌলিক শর্ত। জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে নীতিগুলো হয় বাস্তবসম্মত, টেকসই এবং গ্রহণযোগ্য।
উদ্বেগের বিষয় হলো– অনেক ক্ষেত্রেই নাগরিক ও জনঅংশগ্রহণ কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে। মতামত গ্রহণ করা হলেও, তা সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয় না। ফলে নাগরিকদের মধ্যে হতাশা ও অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়, যা গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। অংশগ্রহণ অর্থবহ না হলে তা নাগরিক আস্থাকে আরও দুর্বল করে।
সক্রিয় নাগরিকত্ব ও প্রকৃত অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে একাধিকভাবে। এটি নীতিনির্ধারণের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়, রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং শক্তিশালী ও সহনশীল কমিউনিটি তৈরি করে। আর এমন সমাজ সংকট মোকাবিলায় অধিক সক্ষম হয়।
বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে নাগরিকদের নিষ্ক্রিয় থাকার সুযোগ নেই। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাননির্ভর হলেও, তার প্রাণশক্তি নিহিত নাগরিকদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয়তায়। গণতন্ত্রের ভবিষ্যত তাই একটি মৌলিক প্রশ্নের ওপর দাঁড়িয়ে– নাগরিকরা কি কেবল ভোটার হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গণতন্ত্রকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাবে?
লেখক: মানবাধিকারকর্মী ও সক্রিয়– এর প্রতিষ্ঠাতা

গণতন্ত্র কেবল নির্বাচন ও ভোটাধিকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ– এমন ধারণা এখন নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ছে। বাস্তবতা হলো– ভোট একটি প্রয়োজনীয় শর্ত হলেও, তা যথেষ্ট নয়। একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য হলো সক্রিয় নাগরিকত্ব।
সক্রিয় নাগরিকত্ব বলতে বোঝায় এমন এক নাগরিক ভূমিকা, যেখানে মানুষ কেবল শাসনের ফল ভোগকারী নয়, বরং শাসনপ্রক্রিয়ার অংশীদ্বার। এটি রাজনীতি সম্পর্কে জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং জানা বিষয়কে কাজে লাগিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের ইতিবাচক পরিবর্তনে যুক্ত হওয়াই এর মূল কথা।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান, ন্যায় ও সমতার পক্ষে সোচ্চার হওয়া, স্থানীয় সমস্যা সমাধানে অংশ নেওয়া– এসবই সক্রিয় নাগরিকত্বের বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশের বাস্তবতায় সক্রিয় নাগরিকত্বের গুরুত্ব বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
জনসংখ্যার চাপ, নগরায়ণ, পরিবেশগত সংকট, সেবা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক বৈষম্য– এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাষ্ট্রের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। একটি নিষ্ক্রিয় নাগরিক সমাজ গণতন্ত্রকে দুর্বল এবং শাসনব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্ন করে তোলে।
এখানে নাগরিক অংশগ্রহণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাড়া-মহল্লাভিত্তিক সভা, স্থানীয় সরকার পর্যায়ের জনসভা, কমিউনিটি উদ্যোগ কিংবা সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত আলোচনা– এসবই নাগরিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্র। এই অংশগ্রহণ সাধারণত নিচ থেকে উঠে আসে এবং নাগরিকদের নিজস্ব সমস্যা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সামনে নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা শুধু দাবি উত্থাপন করে না, বরং সমাধানের অংশ হয়ে ওঠে। পাশাপাশি জনঅংশগ্রহণ নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
যেসব সিদ্ধান্ত জনগণের জীবন ও জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলে, সেগুলো গ্রহণের সময় জনগণের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা সুশাসনের মৌলিক শর্ত। জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে নীতিগুলো হয় বাস্তবসম্মত, টেকসই এবং গ্রহণযোগ্য।
উদ্বেগের বিষয় হলো– অনেক ক্ষেত্রেই নাগরিক ও জনঅংশগ্রহণ কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে। মতামত গ্রহণ করা হলেও, তা সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয় না। ফলে নাগরিকদের মধ্যে হতাশা ও অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়, যা গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। অংশগ্রহণ অর্থবহ না হলে তা নাগরিক আস্থাকে আরও দুর্বল করে।
সক্রিয় নাগরিকত্ব ও প্রকৃত অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে একাধিকভাবে। এটি নীতিনির্ধারণের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়, রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং শক্তিশালী ও সহনশীল কমিউনিটি তৈরি করে। আর এমন সমাজ সংকট মোকাবিলায় অধিক সক্ষম হয়।
বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে নাগরিকদের নিষ্ক্রিয় থাকার সুযোগ নেই। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাননির্ভর হলেও, তার প্রাণশক্তি নিহিত নাগরিকদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয়তায়। গণতন্ত্রের ভবিষ্যত তাই একটি মৌলিক প্রশ্নের ওপর দাঁড়িয়ে– নাগরিকরা কি কেবল ভোটার হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গণতন্ত্রকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাবে?
লেখক: মানবাধিকারকর্মী ও সক্রিয়– এর প্রতিষ্ঠাতা
.png)

একটি বেফাঁস মন্তব্য। তারপর কয়েকটা মিম। এরপর ইনস্টাগ্রাম পেজ। দেখতে দেখতে সেই পেজই হয়ে গেল রাজপথের আন্দোলন। আড়াই মাস বয়স হওয়ার আগেই ভারতের রাজধানী কাঁপিয়ে দিল ককরোচ জনতা পার্টি—সিজেপি। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গত ১৬ মে এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্ল্য
১১ ঘণ্টা আগে
একটি টার্মিনাল বিকল হলেই কেন গোটা দেশকে এমন পঙ্গু দশায় পড়তে হবে? এর পেছনে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ভঙ্গুর চিত্রটিই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
১৩ ঘণ্টা আগে
রাজধানীসহ সারা দেশে সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি নিছক সাময়িক কারিগরি বিভ্রাটের প্রতিফলন নয়। এটি জ্বালানি খাতের গভীর কাঠামোগত দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ।
১৩ ঘণ্টা আগে
ভারতের গণমাধ্যমের জন্য এটি অস্বস্তিকর সময়। আরও স্পষ্ট করে বললে, এটি আত্মসমালোচনার সময়। অনেক বছর ধরে যে সংকট জমে উঠছিল, তার বিস্ফোরণ ঘটেছে রাস্তায়। আর সেই বিস্ফোরণের নাম ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’। নামটি অদ্ভুত। কিন্তু এর ভেতরের বার্তা অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়।
১৪ ঘণ্টা আগে