স্ট্রিম প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘কোনোভাবে আপনাদের হাতে যদি ক্ষমতা আসে, এ দেশে সবচাইতে বেশি বিপন্ন হবে নারীরা—তার কিছু প্রমাণ রয়েছে। কারণ আপনারা তাদের পরিপূর্ণ বিকাশ চান না। তারা একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব বা রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিক, এটা আপনারা চান না।’
আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘এখন ভোট পাওয়ার জন্য আপনারা নানা ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করছেন এবং আপনাদেরই একেক জনের মুখ থেকে একেক ধরনের কথা বের হয়ে আসছে। আর প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এমন কোনো বাজে শব্দ নেই, ইতর শ্রেণির শব্দ নেই, যেটা আপনারা ব্যবহার করছেন না।’
জামায়াতের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব কি শুধুমাত্র আজকের এই যুগে মায়ের? নারীদের? পুরুষ কি সেই দায়িত্ব কিছু শেয়ার করতে পারে না? সভ্যতার এই যুগে সমাজ প্রগতি যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এই কথা বলে আপনারা এই সমাজটাকে কোথায় নিয়ে যেতে চান? কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান?’
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘নারীর যে অধিকার আমাদের সংবিধানের মধ্যেও আছে, শেখ হাসিনা নিজের মতো এটাকে এত কাটাছেঁড়া করেছেন। স্বৈরতন্ত্র ফ্যাসিবাদ কায়েমের পরেও সংবিধানে তাদের মৌলিক অধিকারের যে নিশ্চয়তা দেওয়া দরকার, সে কথাটি রয়েছে। তাহলে আপনারা ক্ষমতায় আসলে কি সেটি থাকবে না?’
বিএনপি নারী ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘জামায়াতের কোনো নারী সেই সংগঠনের প্রধান হতে পারবেন না—এটা অবশ্য আমির খুব সুস্পষ্টভাবে বলেছেন। হয়তো সংসদ সদস্য হতে পারবেন, সবকিছু হতে পারবেন; কিন্তু প্রধান পদে যেতে পারবে না। অথচ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি”, যার প্রধান ৪৪ বছর একজন নারী ছিলেন এবং যে মহিলাটি ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ একজন নারী, যিনি তাঁর বক্তব্যের এবং কর্মকাণ্ডের শুরুতেই আল্লাহর নাম ছাড়া কাজ শুরু করতেন না। তার নেতৃত্বে এ দেশের কোটি কোটি জনগণ বিএনপিকে বারবার ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে, সমর্থন জানিয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শীদের প্রতি জামায়াত নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা প্রয়োগ করে নারীদের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন রুহুল কবির রিজভী। এছাড়াও জামায়াত কর্মীর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন রাজশাহী থেকে আসা বিএনপির এক নারী কর্মী।
এ সময় রিজভী বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা নাহরিন ইসলামকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিটার বক্তব্যের ভাষা আমি দুই-তিনবার পড়েছি। এটা আমার কাছে মনে হয়েছে—পাহাড়ের গুহা থেকে সাধারণত দস্যুরা অথবা জঙ্গিরা এই ধরনের চিঠি পাঠায়। তাদের বিরুদ্ধে নানা শ্রেণির পেশার মানুষ অভিযোগ করেছে যে এরা নারীবিদ্বেষী। নারীর প্রগতি এবং তাদের পরিপূর্ণ বিকাশ তারা চায় না। আমার এখানে আমার পাশে বসে আছেন রাজশাহী থেকে আসা জামায়াত-শিবিরের দ্বারা নির্যাতিত আমাদের এক বোন। আমার পাশে বসে আছে খাদিজাতুল কোবরা; সে বট বাহিনী দ্বারা নিপীড়িত হয়েছে, সে শুধুমাত্র একটি ছাত্র সংগঠনকে সমর্থন করে।’
সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম বলেন, ‘যে পরিমাণ স্লাট শেমিং আমাদেরকে করা হয়, সেটি আসলে মুখে প্রকাশ করার মতো নয়। তারা সেই নারীদের বিরোধী যারা একটি ন্যারেটিভ তৈরি করতে পারে। তারা নারীকে ব্যবহার করে তাদের ভোট চাওয়ার জন্য, জান্নাতের টিকিট বিক্রি করার জন্য। আর ১০ দিন পরে ইলেকশন, আমাদেরকে মাথায় রাখতে হবে নারীরা কাদেরকে ভোট দেবেন। আমি আশা করব বাংলাদেশের সচেতন নারীরা যাতে এই প্রলোভনে পা না দেয়। এই মুহূর্তে নিরাপদ নই আমি, একটি নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছি। তবে আমি এটাও সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করি যে, এই ধরনের চিঠি পাঠিয়ে হুমকি দিয়ে আমার মতো নারী বা যারা আছেন, যারা আমার আশপাশে বসে আছেন অথবা গার্মেন্টসে যে মেয়েটি কাজ করেন, তাদেরকে থামিয়ে রাখা সম্ভব না।’
বিএনপির প্রচারণা করায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে রাজশাহীর পবা উপজেলা থেকে আসা বিএনপির কর্মী নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, ‘গত ১১ নভেম্বর আমাদের ৩১ দফা দাবির লিফলেট বিতরণ করার জন্য আমি প্রতিটা মহল্লায় যাই। সেদিন সন্ধ্যায় আমার বোনকে ডেকে আমরা বাজার করতে নেমেছিলাম। সেখানে জামায়াত-শিবিরের নুরুল ইসলাম আমাকে ডেকে বলে—“তুমি তো অনেক মহিলা নিয়ে কাজ করে বেড়াচ্ছো, আমাকে জামায়াতের ভোট করে দাও।” আমি উনাকে বললাম যে, আপনেদের কিসের জন্য আমি ভোট করে দিব? আমি বিএনপির ৩১ দফা দাবির লিফলেট বিতরণ করে বেড়াচ্ছি। সে তখন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমার বোনকে পায়ের জুতো খুলে ঘাড়ের ওপরে একটি বাড়ি মারে। আমার বোন চিৎকার দিয়ে কেঁদে ওঠে এবং ঘটনাস্থলে লোকজন কিছু জোটে। তারপরে আমার পেটে একটি লাথি মারে, ওখানে আমি কেঁদে উঠি, চিৎকার করি। আমি যদি ওখানে মরে যেতাম, আমার একটি বাচ্চা ছিল—সেই বাচ্চাটার দায়-দায়িত্ব কে নিত তখন? আমাদের বাবা নাই, ভাই নাই। আমরা দুটা বোন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে কাজ করে খাই। বিএনপিকে ভালোবাসি, ধানের শীষকে ভালোবাসি বলে আমরা এই নির্বাচনের সময় আগে থেকেই মাঠে নামি, কাজ করি।’
বিএনপির এই নারী কর্মীকে প্রতিদিন তার বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো নিরাপত্তা নাই। তারা ক্ষমতায় না যেতেই আমাদেরকে রাস্তাঘাটে যেভাবে নির্যাতন করছে, তাহলে তারা ক্ষমতায় গেলে তো বাংলার মা-বোনরা কোনো নিরাপত্তা পাবে না।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খাদিজাতুল কোবরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও হয়রানির অভিযোগ তুলে বলেন, ‘যখন থেকে একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হয়ে গিয়েছি, তখন থেকে আমি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের শত্রু হয়ে গিয়েছি। তাদের কাছে একমাত্র তাদের দলের নারীরাই সেরা পর্দানশীল ও যোগ্য চরিত্রসম্পন্ন; কিন্তু ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের নারীরা হচ্ছে চরিত্রহীন, অযোগ্য এবং ইসলামবিদ্বেষী। এই যে বর্তমানে যে রাজনৈতিক দল আছে, তাদের একটা স্পেশাল ফোর্স আছে—যেটাকে আমরা বলি “বট বাহিনী”। তারা আসলে কারা? তারা একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এজেন্ডা নিয়ে কাজ করে। তাদের প্রধান টার্গেট হচ্ছে বিরোধী দলের ওই সকল নারী যারা অধিকার নিয়ে কথা বলে, যারা সকলের জন্য ভয়েস রেইজ করতে চায়; তাদেরকে তারা চরিত্রহীন, অযোগ্য এবং ইসলামবিরোধী ট্যাগ দেয়। যেন সেই নারীগুলো ঘরে বসে পড়ে। এই কাজগুলো তারা নারীদেরকে মানসিকভাবে অসহায় এবং হেনস্তা করার জন্য করে।’
এ সময় তিনি ছাত্রী সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা এই যে জাকসু নির্বাচনটা করলাম, সেখানে ছাত্রী সংস্থার অনেক মেয়েরা লুকিয়ে লুকিয়ে ছবি তুলে নিজেদের মতো সেই ছবিগুলো ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশ করে। প্রশ্ন হচ্ছে—আপনারাও তো পর্দা করেন, তাহলে হলের মধ্যে মেয়েরা অবশ্যই গুছিয়ে থাকে না, সেই ছবিগুলো আপনারা কীভাবে পাবলিশ করেন? সবকিছুর প্রমাণ আছে। আপনাদের যদি এরকম কোনো প্রমাণ লাগে অবশ্যই দেখতে পারেন, কোনো সমস্যা নেই। এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে আমি ১৫ মাস জেল খেটেছি, আন্দোলন করেছি, অবশেষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলে সফল হয়েছি। যার ফলস্বরূপ পাচ্ছি স্লাট শেমিং—যা ইচ্ছা তাই। ইতিহাস সাক্ষী, যখনই ধর্মকে বা ইসলামকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা হয়েছে, নারীরা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে ছিল।’

জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘কোনোভাবে আপনাদের হাতে যদি ক্ষমতা আসে, এ দেশে সবচাইতে বেশি বিপন্ন হবে নারীরা—তার কিছু প্রমাণ রয়েছে। কারণ আপনারা তাদের পরিপূর্ণ বিকাশ চান না। তারা একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব বা রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিক, এটা আপনারা চান না।’
আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘এখন ভোট পাওয়ার জন্য আপনারা নানা ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করছেন এবং আপনাদেরই একেক জনের মুখ থেকে একেক ধরনের কথা বের হয়ে আসছে। আর প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এমন কোনো বাজে শব্দ নেই, ইতর শ্রেণির শব্দ নেই, যেটা আপনারা ব্যবহার করছেন না।’
জামায়াতের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব কি শুধুমাত্র আজকের এই যুগে মায়ের? নারীদের? পুরুষ কি সেই দায়িত্ব কিছু শেয়ার করতে পারে না? সভ্যতার এই যুগে সমাজ প্রগতি যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এই কথা বলে আপনারা এই সমাজটাকে কোথায় নিয়ে যেতে চান? কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান?’
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘নারীর যে অধিকার আমাদের সংবিধানের মধ্যেও আছে, শেখ হাসিনা নিজের মতো এটাকে এত কাটাছেঁড়া করেছেন। স্বৈরতন্ত্র ফ্যাসিবাদ কায়েমের পরেও সংবিধানে তাদের মৌলিক অধিকারের যে নিশ্চয়তা দেওয়া দরকার, সে কথাটি রয়েছে। তাহলে আপনারা ক্ষমতায় আসলে কি সেটি থাকবে না?’
বিএনপি নারী ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘জামায়াতের কোনো নারী সেই সংগঠনের প্রধান হতে পারবেন না—এটা অবশ্য আমির খুব সুস্পষ্টভাবে বলেছেন। হয়তো সংসদ সদস্য হতে পারবেন, সবকিছু হতে পারবেন; কিন্তু প্রধান পদে যেতে পারবে না। অথচ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি”, যার প্রধান ৪৪ বছর একজন নারী ছিলেন এবং যে মহিলাটি ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ একজন নারী, যিনি তাঁর বক্তব্যের এবং কর্মকাণ্ডের শুরুতেই আল্লাহর নাম ছাড়া কাজ শুরু করতেন না। তার নেতৃত্বে এ দেশের কোটি কোটি জনগণ বিএনপিকে বারবার ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে, সমর্থন জানিয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শীদের প্রতি জামায়াত নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা প্রয়োগ করে নারীদের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন রুহুল কবির রিজভী। এছাড়াও জামায়াত কর্মীর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন রাজশাহী থেকে আসা বিএনপির এক নারী কর্মী।
এ সময় রিজভী বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা নাহরিন ইসলামকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিটার বক্তব্যের ভাষা আমি দুই-তিনবার পড়েছি। এটা আমার কাছে মনে হয়েছে—পাহাড়ের গুহা থেকে সাধারণত দস্যুরা অথবা জঙ্গিরা এই ধরনের চিঠি পাঠায়। তাদের বিরুদ্ধে নানা শ্রেণির পেশার মানুষ অভিযোগ করেছে যে এরা নারীবিদ্বেষী। নারীর প্রগতি এবং তাদের পরিপূর্ণ বিকাশ তারা চায় না। আমার এখানে আমার পাশে বসে আছেন রাজশাহী থেকে আসা জামায়াত-শিবিরের দ্বারা নির্যাতিত আমাদের এক বোন। আমার পাশে বসে আছে খাদিজাতুল কোবরা; সে বট বাহিনী দ্বারা নিপীড়িত হয়েছে, সে শুধুমাত্র একটি ছাত্র সংগঠনকে সমর্থন করে।’
সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম বলেন, ‘যে পরিমাণ স্লাট শেমিং আমাদেরকে করা হয়, সেটি আসলে মুখে প্রকাশ করার মতো নয়। তারা সেই নারীদের বিরোধী যারা একটি ন্যারেটিভ তৈরি করতে পারে। তারা নারীকে ব্যবহার করে তাদের ভোট চাওয়ার জন্য, জান্নাতের টিকিট বিক্রি করার জন্য। আর ১০ দিন পরে ইলেকশন, আমাদেরকে মাথায় রাখতে হবে নারীরা কাদেরকে ভোট দেবেন। আমি আশা করব বাংলাদেশের সচেতন নারীরা যাতে এই প্রলোভনে পা না দেয়। এই মুহূর্তে নিরাপদ নই আমি, একটি নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছি। তবে আমি এটাও সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করি যে, এই ধরনের চিঠি পাঠিয়ে হুমকি দিয়ে আমার মতো নারী বা যারা আছেন, যারা আমার আশপাশে বসে আছেন অথবা গার্মেন্টসে যে মেয়েটি কাজ করেন, তাদেরকে থামিয়ে রাখা সম্ভব না।’
বিএনপির প্রচারণা করায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে রাজশাহীর পবা উপজেলা থেকে আসা বিএনপির কর্মী নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, ‘গত ১১ নভেম্বর আমাদের ৩১ দফা দাবির লিফলেট বিতরণ করার জন্য আমি প্রতিটা মহল্লায় যাই। সেদিন সন্ধ্যায় আমার বোনকে ডেকে আমরা বাজার করতে নেমেছিলাম। সেখানে জামায়াত-শিবিরের নুরুল ইসলাম আমাকে ডেকে বলে—“তুমি তো অনেক মহিলা নিয়ে কাজ করে বেড়াচ্ছো, আমাকে জামায়াতের ভোট করে দাও।” আমি উনাকে বললাম যে, আপনেদের কিসের জন্য আমি ভোট করে দিব? আমি বিএনপির ৩১ দফা দাবির লিফলেট বিতরণ করে বেড়াচ্ছি। সে তখন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমার বোনকে পায়ের জুতো খুলে ঘাড়ের ওপরে একটি বাড়ি মারে। আমার বোন চিৎকার দিয়ে কেঁদে ওঠে এবং ঘটনাস্থলে লোকজন কিছু জোটে। তারপরে আমার পেটে একটি লাথি মারে, ওখানে আমি কেঁদে উঠি, চিৎকার করি। আমি যদি ওখানে মরে যেতাম, আমার একটি বাচ্চা ছিল—সেই বাচ্চাটার দায়-দায়িত্ব কে নিত তখন? আমাদের বাবা নাই, ভাই নাই। আমরা দুটা বোন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে কাজ করে খাই। বিএনপিকে ভালোবাসি, ধানের শীষকে ভালোবাসি বলে আমরা এই নির্বাচনের সময় আগে থেকেই মাঠে নামি, কাজ করি।’
বিএনপির এই নারী কর্মীকে প্রতিদিন তার বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো নিরাপত্তা নাই। তারা ক্ষমতায় না যেতেই আমাদেরকে রাস্তাঘাটে যেভাবে নির্যাতন করছে, তাহলে তারা ক্ষমতায় গেলে তো বাংলার মা-বোনরা কোনো নিরাপত্তা পাবে না।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খাদিজাতুল কোবরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও হয়রানির অভিযোগ তুলে বলেন, ‘যখন থেকে একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হয়ে গিয়েছি, তখন থেকে আমি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের শত্রু হয়ে গিয়েছি। তাদের কাছে একমাত্র তাদের দলের নারীরাই সেরা পর্দানশীল ও যোগ্য চরিত্রসম্পন্ন; কিন্তু ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের নারীরা হচ্ছে চরিত্রহীন, অযোগ্য এবং ইসলামবিদ্বেষী। এই যে বর্তমানে যে রাজনৈতিক দল আছে, তাদের একটা স্পেশাল ফোর্স আছে—যেটাকে আমরা বলি “বট বাহিনী”। তারা আসলে কারা? তারা একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এজেন্ডা নিয়ে কাজ করে। তাদের প্রধান টার্গেট হচ্ছে বিরোধী দলের ওই সকল নারী যারা অধিকার নিয়ে কথা বলে, যারা সকলের জন্য ভয়েস রেইজ করতে চায়; তাদেরকে তারা চরিত্রহীন, অযোগ্য এবং ইসলামবিরোধী ট্যাগ দেয়। যেন সেই নারীগুলো ঘরে বসে পড়ে। এই কাজগুলো তারা নারীদেরকে মানসিকভাবে অসহায় এবং হেনস্তা করার জন্য করে।’
এ সময় তিনি ছাত্রী সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা এই যে জাকসু নির্বাচনটা করলাম, সেখানে ছাত্রী সংস্থার অনেক মেয়েরা লুকিয়ে লুকিয়ে ছবি তুলে নিজেদের মতো সেই ছবিগুলো ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশ করে। প্রশ্ন হচ্ছে—আপনারাও তো পর্দা করেন, তাহলে হলের মধ্যে মেয়েরা অবশ্যই গুছিয়ে থাকে না, সেই ছবিগুলো আপনারা কীভাবে পাবলিশ করেন? সবকিছুর প্রমাণ আছে। আপনাদের যদি এরকম কোনো প্রমাণ লাগে অবশ্যই দেখতে পারেন, কোনো সমস্যা নেই। এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে আমি ১৫ মাস জেল খেটেছি, আন্দোলন করেছি, অবশেষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলে সফল হয়েছি। যার ফলস্বরূপ পাচ্ছি স্লাট শেমিং—যা ইচ্ছা তাই। ইতিহাস সাক্ষী, যখনই ধর্মকে বা ইসলামকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা হয়েছে, নারীরা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে ছিল।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা জানাতে ইশতেহার ঘোষণা করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে ‘লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেল’-এ দলটির নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
৬ ঘণ্টা আগে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) যশোরে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। যশোর-৩ (সদর) আসন নিয়ে সংগঠনের কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।
১৬ ঘণ্টা আগে
সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকারে গেলে চার কোটি নারীকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) উপস্থাপকবিহীন এক পডকাস্টে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ৪ কোটি পরিবারের মা-গৃহিণীদের নামে এই কার্ড ইস্যু হবে।
১৬ ঘণ্টা আগে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ২০০৮ সালের মতো আবারও একটি দলকে ক্ষমতায় আনতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা নির্বাচনি কারসাজি করার চেষ্টা হচ্ছে।
১৭ ঘণ্টা আগে