১১-দলীয় ঐক্য থেকে বেরিয়েই গেল খেলাফত মজলিস

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১৫: ৪৮
রাজধানীতে খেলাফত মজলিসের অধিবেশন। স্ট্রিম ছবি

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে খেলাফত মজলিস। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার তৃতীয় সাধারণ বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ওই অধিবেশনের পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকবে। তবে ভবিষ্যতে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন হলে বিষয়টি তারা বিবেচনা করবে।

খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরুর সইয়ে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১১ দলীয় ঐক্য ছিল মূলত নির্বাচনী সমঝোতা। নির্বাচন শেষে এর কার্যকারিতা বস্তুত শেষ হয়ে যায়। তবুও নির্বাচনের পর ১১ দলীয় কিছু কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নিয়েছিল।

এর আগে ১৪ জুলাই ‘১১-দলীয় ঐক্যে ফাটল, নিষ্ক্রিয় ইসলামপন্থি দুই দল’ শিরোনামে ঢাকা স্ট্রিম একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সংসদ নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে আসন না পাওয়া, উচ্চকক্ষ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং আদর্শিক বিরোধের কারণে খেলাফত আন্দোলন গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই ১১-দলীয় ঐক্যের মাঠের কর্মসূচিতে অনুপস্থিত। অন্যদিকে, বাছিত আজাদের খেলাফত মজলিস নির্বাচনের পরে সক্রিয় থাকলেও, সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থিতা ঘোষণা এবং নেতাদের প্রত্যাশিত গুরুত্ব প্রশ্নে দূরত্ব বজায় রেখে চলছে।

খেলাফত মজলিস ঘোষণা দিয়ে ১১ দল থেকে বেরিয়ে যেতে পারে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়। ওই সময় খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের স্ট্রিমকে বলেছিলেন, ‘আমরা এখনো ১১-দলীয় ঐক্যেই রয়েছি। কিন্তু কোনো প্রোগ্রামে যাব না। মজলিসে আমেলার বৈঠকের পরে সিদ্ধান্ত জানাব।’

আর ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ স্ট্রিমকে বলেছিলেন, ‘মান-অভিমান থাকতে পারে; কিছুটা ভুল বোঝাবুঝিও। উনাদের কষ্ট আছে, বক্তব্য আছে, এটা আমরা আলোচনা করে ঠিক করে নেব।’

এদিন সকাল ৯টায় শুরু হওয়ায় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আমিরে খেলাফত মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, মুফতি আবদুল হামিদ, যুগ্ম-মহাসচিব জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এবিএম সিরাজুল মামুন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, মুফতি আবুল হাসান এমপিসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্যান্য সদস্য ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্যরা।

অধিবেশনে প্রস্তাব গ্রহণ, শাখা ও কেন্দ্রীয় ষাণ্মাসিক রিপোর্ট পেশ, সবশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনাসহ বিভিন্ন বিষয় কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল।

Ad 300x250

সম্পর্কিত