সালেহ ফুয়াদ

সংসদ নির্বাচন ঘিরে গড়ে ওঠা ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচিতে অনেকে যাচ্ছেন না। দুটি দল নিজ থেকেই তাদের নেতাদের না রাখতে বলছে। খেলাফত আন্দোলন এবং খেলাফত মজলিস ঘোষণা দিয়েই নিষ্ক্রিয়। এর মধ্যে ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের কর্মসূচি বর্জন করেছেন খেলাফত মজলিসের নেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সংসদ নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে আসন না পাওয়া, উচ্চকক্ষ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং আদর্শিক বিরোধের কারণে খেলাফত আন্দোলন গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের পর থেকেই ১১-দলীয় ঐক্যের মাঠের কর্মসূচিতে অনুপস্থিত। অন্যদিকে, বাছিত আজাদের খেলাফত মজলিস নির্বাচনের পরে সক্রিয় থাকলেও, সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থিতা ঘোষণা এবং নেতাদের প্রত্যাশিত গুরুত্ব প্রশ্নে দূরত্ব বজায় রেখে চলছে।
জানতে চাইলে ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘মান-অভিমান থাকতে পারে; কিছুটা ভুল বোঝাবুঝিও। উনাদের কষ্ট আছে, বক্তব্য আছে, এটা আমরা আলোচনা করে ঠিক করে নেব।’
আগের দুটি বিভাগীয় সমাবেশ ঘোষণা দিয়ে খেলাফত মজলিস বর্জন করেছিল– প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা দাওয়াত দিয়েছি। উনারা হয়তো যেতে পারেন নাই। তবে তাদের স্থানীয় নেতাকর্মীরা আমাদের সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন।’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের অংশ হয়ে অংশ নেয় কওমিধারার চার রাজনৈতিক দল। এগুলো হলো– মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আবদুল বাছিত আজাদের খেলাফত মজলিস, সারওয়ার কামাল আজিজির (গত ৮ মে প্রয়াত) নেতৃত্বাধীন নেজামে ইসলাম পার্টি ও হাবিবুল্লাহ মিয়াজীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। শুরুতে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচন করে।
ঐক্য থেকে নির্বাচন করে এককভাবে জামায়াত ৬৮ আসনে জয় পায়, যা দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। প্রথমবার অংশ নিয়ে এনসিপি ৬ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২ ও খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয় পায়। জোটগতভাবে ১১ দল মোট ৭৭ আসন পায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন। মোট ৯০ আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা রাখছে জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। সংসদের বাইরেও বিভিন্ন ইস্যুতে তারা রাজপথে সক্রিয়। কিন্তু হঠাৎ করেই ঐক্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। খেলাফত আন্দোলন জোটের কোনো কর্মসূচিতে থাকছে না। খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা সরব জোটের সমালোচনায়।
গত ২৩ জুন রাজধানীর বিজয়নগরে ১১-দলীয় ঐক্য ঢাকা মহানগরের সমাবেশে খেলাফত মজলিসের নেতারা ছিলেন। সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন দলের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী। গত ২১ জুন খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশে ছিলেন দলের আরেক নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন। তিনি ১৩ জুনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশেও বক্তব্য দেন। পরে গত ২৭ জুন এবং ১১ জুলাই দুটি বিভাগীয় সমাবেশ বর্জন করে বাছিত আজাদের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিস।
২৭ জুন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমাবেশের দিন খেলাফত মজলিসের রংপুর মহানগর সভাপতি তৌহিদুর রহমান মণ্ডল রাজু ফেসবুকে লেখেন, ‘যুদ্ধে নামার আগেই ভাগ-বাটোয়ারা, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ কৌশলের অংশ। সংসদীয় আসন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ৬৮, এনসিপি ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২, খেলাফত মজলিস ১। এছাড়া সে সময়ের ১১-দলীয় নির্বাচনী সমঝোতা ঐক্যের অন্যান্য দল জাতীয় সংসদে আসন সংগ্রহ করতে ব্যর্থ বলে জানি। নির্বাচন পরবর্তীতে মূল্যায়ন হওয়া জরুরি ছিল।’
তিনি আরও লেখেন, ‘দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে জামায়াত তাদের দলীয় মেয়রপ্রার্থী ঘোষণা করেছে। এমতাবস্থায় এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ অন্যান্য জাতীয় সংকট নিয়ে আন্দোলন করলেও, এরই ফাঁকে তারা তাদের নির্বাচনী প্রচারণা কৌশলে চালিয়ে নিচ্ছেন। যেখানে অন্যান্য দলগুলো সাক্ষী গোপাল।’
জোটের ফাটল নিয়ে ১১-দলীয় ঐক্যের শরিক এক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করে স্ট্রিমকে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনীতি পাল্টে দিয়েছে। ডাক সাইটে নেতাদের চেয়েও এনসিপির অল্পবয়সীদের গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং বাছিত আজাদের খেলাফত মজলিস এক সময় এক ছিল। বাছিতের নেতারাই অবিভক্ত মজলিসের শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন। তখনো মামুনুল হক দলে উল্লেখযোগ্য কেউ নন। কিন্তু এখন জোটে তিনিই গুরুত্ব পাচ্ছেন। যৌক্তিক কারণ থাকলেও বাছিত আজাদের অংশ এটি সহজে মানতে পারছে না।
আগামী ১৮ জুলাই ১১-দলীয় ঐক্যের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ হবে। এতে প্রধান অতিথি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বক্তা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে তিনি সমাবেশের যে পোস্টার শেয়ার করেছেন, তাতে খেলাফত মজলিস ও খেলাফত আন্দোলনের নেতাদের নাম নেই।
পোস্টারের বিষয়ে জানতে চাইলে খেলাফত আন্দোলনের নেতারা জানান, তারা আর ১১-দলীয় ঐক্যে নেই। যোগাযোগ করেও খেলাফত মজলিসের আমির আবদুল বাছিত আজাদ ও নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমির বক্তব্য পায়নি স্ট্রিম। দলটির যুগ্ম-মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল জলিল বলেছেন, ‘আমরা আপাতত জোটে সক্রিয় থাকছি না। পোস্টার-প্রচারণায় আমাদের নাম ব্যবহার করতে মানা করেছি। বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশের পোস্টারে আলোচনার ভিত্তিতেই আমাদের নাম দেওয়া হয়নি।’
এ ব্যাপারে ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘ফেসবুকে আসা পোস্টার চূড়ান্ত নয়। চূড়ান্ত হওয়ার পরে ছাপানো পোস্টারে নাম থাকবে।’ অবশ্য ঐক্য বিদ্যমান বলে জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের। তবে জোটের চলমান কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না।
কর্মসূচির দাবির সঙ্গে দ্বিমতের কারণে এই সিদ্ধান্ত কিনা– প্রশ্নে আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘ব্যাপারটা এই রকম না। দাবি-দাওয়ার সঙ্গে আমরা একমত। কর্মসূচিতে আমরা যোগ দিচ্ছিলামও। এখন বিশেষ কারণে আর অংশ নিচ্ছি না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমরা পরে জানাব।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বহুদিন আগে মামুনুল হকের বাবা শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের সঙ্গে আমরা এক দলে থেকে রাজনীতি করেছি। উনার বাবার সময়েই আমরা পৃথক হয়েছি। সুতরাং আমাদের এই অবস্থানে মামুনুল হকের ভূমিকা যুক্ত করা ঠিক হবে না।’
মান-অভিমান থাকতে পারে; কিছুটা ভুল বোঝাবুঝিও। উনাদের কষ্ট আছে, বক্তব্য আছে, এটা আমরা আলোচনা করে ঠিক করে নেব। হামিদুর রহমান আযাদ, ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল
আহমদ আবদুল কাদের আরও বলেন, ‘আমরা এখনো ১১-দলীয় ঐক্যেই রয়েছি। কিন্তু কোনো প্রোগ্রামে যাব না। মজলিসে আমেলার বৈঠকের পরে সিদ্ধান্ত জানাব।’
১৯৮১ সালে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করেন মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জি হুজুর। ‘তওবার রাজনীতির’ প্রবর্তক খ্যাতি পাওয়া হাফেজ্জি হুজুরের পরে দলটির নেতৃত্বে এসেছেন তাঁর সন্তান ও নাতিরা। দলের বর্তমান আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী সম্পর্কে হাফেজ্জি হুজুরের নাতি।
সংসদ নির্বাচনে আটটি আসনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী ছিল। এর ছয়টিতে জামায়াত এবং বাকি দুটিতে এনসিপি ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী ছিল। কোনো আসনে জয় পায়নি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। জোটে আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজীকে পর্যন্ত ছাড় না দেওয়ায় দলে তখনই ক্ষোভ দেখা দেয়। নির্বাচনের আগে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মহিউদ্দীন স্ট্রিমকে জানিয়েছিলেন, ১১-দলীয় ঐক্য থেকে চরমোনাই পীরের দল বেরিয়ে যাওয়ার পরে খেলাফত আন্দোলনও সরে গেলে ইসলামপন্থীদের নিয়ে তৈরি ইতিবাচক মনোভাবে ব্যাঘাত ঘটত। এতে বিপক্ষ শক্তি লাভবান হতো।
জানতে চাইলে সোমবার (১৪ জুলাই) খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদি জানান, তাঁরা জাতীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ইস্যুভিত্তিক কিছু কর্মসূচিতে আমরা ছিলাম। নির্বাচনে আসন সমঝোতা; ঐক্যের কোনো আলাপ ছিল না। আসন সমঝোতা না হওয়ায় আমরা এককভাবে নির্বাচন করেছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘১০ জুন কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার বৈঠক শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জোটে না থাকার বিষয় উল্লেখ করেছি।’ পরে বিজ্ঞপ্তির কপি স্ট্রিমকে পাঠান তিনি। এতে বলা হয়, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেছেন– খেলাফত আন্দোলন কোনো জোটে নেই। বিগত নির্বাচনে খেলাফত আন্দোলন এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নির্বাচনী সমঝোতা না হওয়ায় কোনো জোটে খেলাফত আন্দোলন অংশগ্রহণ করেনি। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নাম ১১-দলীয় জোটে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান হাবিবুল্লাহ।
এ ব্যাপারে ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘খেলাফত আন্দোলন যে ১১-দলীয় ঐক্যে নেই, তা তো আমাদের বলতে হবে। যে কথা আপনারা গণমাধ্যমে বলছেন, ওই কথা আমাদের সঙ্গে হয়নি। আমাদের সঙ্গে নির্বাচনের সময় সমঝোতা হয়েছে; দফায় দফায় বৈঠক করেছি। নির্বাচনের পরেও বসেছি, কথা বলেছি। গণমাধ্যমে বলার আগে তো নিজেদের মধ্যে কথা হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যাশা অনুযায়ী আসন খেলাফত আন্দোলনকে দেওয়া যায়নি এটা সত্য। কিন্তু এর অর্থ এই নয়, সমঝোতা হয়নি। নির্বাচনের পরেও তাদের স্থানীয় নেতাকর্মীরা আমাদের সভা-সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতারাও আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন। আমাদের অফিসে বৈঠকও হয়েছে। এই কারণে খেলাফত আন্দোলন অফিশিয়ালি নেই জানালে, আমরা পদক্ষেপ না নিলে, তারা মিডিয়ায় বলতে পারত।’

সংসদ নির্বাচন ঘিরে গড়ে ওঠা ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচিতে অনেকে যাচ্ছেন না। দুটি দল নিজ থেকেই তাদের নেতাদের না রাখতে বলছে। খেলাফত আন্দোলন এবং খেলাফত মজলিস ঘোষণা দিয়েই নিষ্ক্রিয়। এর মধ্যে ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের কর্মসূচি বর্জন করেছেন খেলাফত মজলিসের নেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সংসদ নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে আসন না পাওয়া, উচ্চকক্ষ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং আদর্শিক বিরোধের কারণে খেলাফত আন্দোলন গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের পর থেকেই ১১-দলীয় ঐক্যের মাঠের কর্মসূচিতে অনুপস্থিত। অন্যদিকে, বাছিত আজাদের খেলাফত মজলিস নির্বাচনের পরে সক্রিয় থাকলেও, সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থিতা ঘোষণা এবং নেতাদের প্রত্যাশিত গুরুত্ব প্রশ্নে দূরত্ব বজায় রেখে চলছে।
জানতে চাইলে ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘মান-অভিমান থাকতে পারে; কিছুটা ভুল বোঝাবুঝিও। উনাদের কষ্ট আছে, বক্তব্য আছে, এটা আমরা আলোচনা করে ঠিক করে নেব।’
আগের দুটি বিভাগীয় সমাবেশ ঘোষণা দিয়ে খেলাফত মজলিস বর্জন করেছিল– প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা দাওয়াত দিয়েছি। উনারা হয়তো যেতে পারেন নাই। তবে তাদের স্থানীয় নেতাকর্মীরা আমাদের সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন।’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের অংশ হয়ে অংশ নেয় কওমিধারার চার রাজনৈতিক দল। এগুলো হলো– মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আবদুল বাছিত আজাদের খেলাফত মজলিস, সারওয়ার কামাল আজিজির (গত ৮ মে প্রয়াত) নেতৃত্বাধীন নেজামে ইসলাম পার্টি ও হাবিবুল্লাহ মিয়াজীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। শুরুতে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচন করে।
ঐক্য থেকে নির্বাচন করে এককভাবে জামায়াত ৬৮ আসনে জয় পায়, যা দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। প্রথমবার অংশ নিয়ে এনসিপি ৬ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২ ও খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয় পায়। জোটগতভাবে ১১ দল মোট ৭৭ আসন পায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন। মোট ৯০ আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা রাখছে জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। সংসদের বাইরেও বিভিন্ন ইস্যুতে তারা রাজপথে সক্রিয়। কিন্তু হঠাৎ করেই ঐক্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। খেলাফত আন্দোলন জোটের কোনো কর্মসূচিতে থাকছে না। খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা সরব জোটের সমালোচনায়।
গত ২৩ জুন রাজধানীর বিজয়নগরে ১১-দলীয় ঐক্য ঢাকা মহানগরের সমাবেশে খেলাফত মজলিসের নেতারা ছিলেন। সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন দলের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী। গত ২১ জুন খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশে ছিলেন দলের আরেক নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন। তিনি ১৩ জুনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশেও বক্তব্য দেন। পরে গত ২৭ জুন এবং ১১ জুলাই দুটি বিভাগীয় সমাবেশ বর্জন করে বাছিত আজাদের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিস।
২৭ জুন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমাবেশের দিন খেলাফত মজলিসের রংপুর মহানগর সভাপতি তৌহিদুর রহমান মণ্ডল রাজু ফেসবুকে লেখেন, ‘যুদ্ধে নামার আগেই ভাগ-বাটোয়ারা, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ কৌশলের অংশ। সংসদীয় আসন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ৬৮, এনসিপি ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২, খেলাফত মজলিস ১। এছাড়া সে সময়ের ১১-দলীয় নির্বাচনী সমঝোতা ঐক্যের অন্যান্য দল জাতীয় সংসদে আসন সংগ্রহ করতে ব্যর্থ বলে জানি। নির্বাচন পরবর্তীতে মূল্যায়ন হওয়া জরুরি ছিল।’
তিনি আরও লেখেন, ‘দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে জামায়াত তাদের দলীয় মেয়রপ্রার্থী ঘোষণা করেছে। এমতাবস্থায় এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ অন্যান্য জাতীয় সংকট নিয়ে আন্দোলন করলেও, এরই ফাঁকে তারা তাদের নির্বাচনী প্রচারণা কৌশলে চালিয়ে নিচ্ছেন। যেখানে অন্যান্য দলগুলো সাক্ষী গোপাল।’
জোটের ফাটল নিয়ে ১১-দলীয় ঐক্যের শরিক এক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করে স্ট্রিমকে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনীতি পাল্টে দিয়েছে। ডাক সাইটে নেতাদের চেয়েও এনসিপির অল্পবয়সীদের গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং বাছিত আজাদের খেলাফত মজলিস এক সময় এক ছিল। বাছিতের নেতারাই অবিভক্ত মজলিসের শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন। তখনো মামুনুল হক দলে উল্লেখযোগ্য কেউ নন। কিন্তু এখন জোটে তিনিই গুরুত্ব পাচ্ছেন। যৌক্তিক কারণ থাকলেও বাছিত আজাদের অংশ এটি সহজে মানতে পারছে না।
আগামী ১৮ জুলাই ১১-দলীয় ঐক্যের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ হবে। এতে প্রধান অতিথি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বক্তা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে তিনি সমাবেশের যে পোস্টার শেয়ার করেছেন, তাতে খেলাফত মজলিস ও খেলাফত আন্দোলনের নেতাদের নাম নেই।
পোস্টারের বিষয়ে জানতে চাইলে খেলাফত আন্দোলনের নেতারা জানান, তারা আর ১১-দলীয় ঐক্যে নেই। যোগাযোগ করেও খেলাফত মজলিসের আমির আবদুল বাছিত আজাদ ও নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমির বক্তব্য পায়নি স্ট্রিম। দলটির যুগ্ম-মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল জলিল বলেছেন, ‘আমরা আপাতত জোটে সক্রিয় থাকছি না। পোস্টার-প্রচারণায় আমাদের নাম ব্যবহার করতে মানা করেছি। বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশের পোস্টারে আলোচনার ভিত্তিতেই আমাদের নাম দেওয়া হয়নি।’
এ ব্যাপারে ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘ফেসবুকে আসা পোস্টার চূড়ান্ত নয়। চূড়ান্ত হওয়ার পরে ছাপানো পোস্টারে নাম থাকবে।’ অবশ্য ঐক্য বিদ্যমান বলে জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের। তবে জোটের চলমান কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না।
কর্মসূচির দাবির সঙ্গে দ্বিমতের কারণে এই সিদ্ধান্ত কিনা– প্রশ্নে আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘ব্যাপারটা এই রকম না। দাবি-দাওয়ার সঙ্গে আমরা একমত। কর্মসূচিতে আমরা যোগ দিচ্ছিলামও। এখন বিশেষ কারণে আর অংশ নিচ্ছি না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমরা পরে জানাব।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বহুদিন আগে মামুনুল হকের বাবা শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের সঙ্গে আমরা এক দলে থেকে রাজনীতি করেছি। উনার বাবার সময়েই আমরা পৃথক হয়েছি। সুতরাং আমাদের এই অবস্থানে মামুনুল হকের ভূমিকা যুক্ত করা ঠিক হবে না।’
মান-অভিমান থাকতে পারে; কিছুটা ভুল বোঝাবুঝিও। উনাদের কষ্ট আছে, বক্তব্য আছে, এটা আমরা আলোচনা করে ঠিক করে নেব। হামিদুর রহমান আযাদ, ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল
আহমদ আবদুল কাদের আরও বলেন, ‘আমরা এখনো ১১-দলীয় ঐক্যেই রয়েছি। কিন্তু কোনো প্রোগ্রামে যাব না। মজলিসে আমেলার বৈঠকের পরে সিদ্ধান্ত জানাব।’
১৯৮১ সালে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করেন মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জি হুজুর। ‘তওবার রাজনীতির’ প্রবর্তক খ্যাতি পাওয়া হাফেজ্জি হুজুরের পরে দলটির নেতৃত্বে এসেছেন তাঁর সন্তান ও নাতিরা। দলের বর্তমান আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী সম্পর্কে হাফেজ্জি হুজুরের নাতি।
সংসদ নির্বাচনে আটটি আসনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী ছিল। এর ছয়টিতে জামায়াত এবং বাকি দুটিতে এনসিপি ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী ছিল। কোনো আসনে জয় পায়নি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। জোটে আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজীকে পর্যন্ত ছাড় না দেওয়ায় দলে তখনই ক্ষোভ দেখা দেয়। নির্বাচনের আগে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মহিউদ্দীন স্ট্রিমকে জানিয়েছিলেন, ১১-দলীয় ঐক্য থেকে চরমোনাই পীরের দল বেরিয়ে যাওয়ার পরে খেলাফত আন্দোলনও সরে গেলে ইসলামপন্থীদের নিয়ে তৈরি ইতিবাচক মনোভাবে ব্যাঘাত ঘটত। এতে বিপক্ষ শক্তি লাভবান হতো।
জানতে চাইলে সোমবার (১৪ জুলাই) খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদি জানান, তাঁরা জাতীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ইস্যুভিত্তিক কিছু কর্মসূচিতে আমরা ছিলাম। নির্বাচনে আসন সমঝোতা; ঐক্যের কোনো আলাপ ছিল না। আসন সমঝোতা না হওয়ায় আমরা এককভাবে নির্বাচন করেছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘১০ জুন কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার বৈঠক শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জোটে না থাকার বিষয় উল্লেখ করেছি।’ পরে বিজ্ঞপ্তির কপি স্ট্রিমকে পাঠান তিনি। এতে বলা হয়, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেছেন– খেলাফত আন্দোলন কোনো জোটে নেই। বিগত নির্বাচনে খেলাফত আন্দোলন এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নির্বাচনী সমঝোতা না হওয়ায় কোনো জোটে খেলাফত আন্দোলন অংশগ্রহণ করেনি। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নাম ১১-দলীয় জোটে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান হাবিবুল্লাহ।
এ ব্যাপারে ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘খেলাফত আন্দোলন যে ১১-দলীয় ঐক্যে নেই, তা তো আমাদের বলতে হবে। যে কথা আপনারা গণমাধ্যমে বলছেন, ওই কথা আমাদের সঙ্গে হয়নি। আমাদের সঙ্গে নির্বাচনের সময় সমঝোতা হয়েছে; দফায় দফায় বৈঠক করেছি। নির্বাচনের পরেও বসেছি, কথা বলেছি। গণমাধ্যমে বলার আগে তো নিজেদের মধ্যে কথা হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যাশা অনুযায়ী আসন খেলাফত আন্দোলনকে দেওয়া যায়নি এটা সত্য। কিন্তু এর অর্থ এই নয়, সমঝোতা হয়নি। নির্বাচনের পরেও তাদের স্থানীয় নেতাকর্মীরা আমাদের সভা-সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতারাও আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন। আমাদের অফিসে বৈঠকও হয়েছে। এই কারণে খেলাফত আন্দোলন অফিশিয়ালি নেই জানালে, আমরা পদক্ষেপ না নিলে, তারা মিডিয়ায় বলতে পারত।’

নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
৩ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলমান বন্যায় প্রাণহানি ও জনজীবনের ব্যাপক বিপর্যয়ের কারণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের জুলাই পদযাত্রা আগামী ১৫ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে ‘স্ট্যান্টবাজি ও টেন্ডারবাজিতে ওস্তাদ’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
৩ ঘণ্টা আগে
শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক এবং আন্দোলন উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেনারেল সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা। আজ মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে স্ট্রিমকে তিনি এই কথা বলেন।
৩ ঘণ্টা আগে