leadT1ad

ঝিনাইদহ-৪

রাশেদ খাঁন-ফিরোজের গৃহবিবাদে ফায়দা লুটতে চায় জামায়াত

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঝিনাইদহ

সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত

সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনে নির্বাচনী সমীকরণ দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে রাশেদকে দলীয় প্রতীক দেওয়া হলেও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ তাঁকে ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে মেনে নিতে নারাজ।

এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। আর ধানের শীষের ভোট দুই ভাগ হওয়ার এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবু তালিব।

কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ও সদরের ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এবার এ আসনে ধানের শীষের দাবিদার ছিলেন সাইফুল ইসলাম ফিরোজসহ স্থানীয় একাধিক নেতা। কিন্তু রাশেদ খাঁনকে মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়, যা কাফনের কাপড় পরে মিছিল পর্যন্ত গড়ায়। যদিও হাইকমান্ডের নির্দেশে মনোনয়নবঞ্চিত হামিদুল ইসলাম ও মুর্শিদা জামান রাশেদের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন, তবে মাঠের বড় একটি অংশ এখনও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজের পক্ষে অনড়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের দাবি, স্থানীয় নেতাকর্মীদের ৮০ শতাংশই তাঁর সাথে আছে। তিনি বলেন, ‘যে আমাদের এলাকার ভোটার না, তাকে আমরা পছন্দ করছি না। আমি ভোটের মাঠে না থাকলে সব ভোট জামায়াতের বাক্সে চলে যেত। কালীগঞ্জের মানুষ এলাকাভিত্তিক নেতৃত্ব চায়।’

অন্যদিকে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খাঁন বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি নয়, ধানের শীষই এখানে মূল ফ্যাক্ট। বিএনপির যারা প্রকৃত জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করে, তারা তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবে না। এখানে অতীতেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ইতিহাস ভালো নয়।’

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদও একই সুরে কথা বলেন। তাঁর মতে, ‘সাময়িক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও বিএনপির মানুষ ধানের শীষেই ভোট দেবে। জামায়াতের ভোট জামায়াতই পাবে, বিএনপির ভোট জামায়াতের পাওয়ার সুযোগ নেই।’

তবে এই দ্বন্দ্বে সবচেয়ে বড় সুযোগ দেখছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির প্রার্থী ও উপজেলা নায়েবে আমীর মো. আবু তালিব দীর্ঘ সময় ধরে সংগঠন গুছিয়ে এখন ভোটের মাঠে সরব। বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তারা ‘নীরব বিপ্লবে’র প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভোটার মাহাবুর রহমান ও লুৎফর রহমানের মতে, বিএনপির দুই প্রার্থীর কামড়াকামড়িতে সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত, আর এই সুযোগে জামায়াত নীরবে তাদের অবস্থান সংহত করছে।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাহীনুর লিটন মনে করেন, রাশেদ খানের বাড়ি ঝিনাইদহ সদরে হওয়ায় কালীগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিএনপির ভোট ভাগাভাগি হলে আসনটি তৃতীয় শক্তির হাতে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৬১ জন। এ আসনে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি ও গণফোরামসহ একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এটি বিএনপির দখলে থাকলেও ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ আসনটি ধরে রেখেছিল। এবার আওয়ামী লীগহীন নির্বাচনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট আসনটির ভাগ্য কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত