leadT1ad

ইসির সঙ্গে বৈঠক

প্রার্থিতা বাছাইয়ে বৈষম্যের অভিযোগ জামায়াতের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ৩৩
ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রার্থিতা বাছাইয়ে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে বড় ধরনের বৈষম্যের অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী।

আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে বৈঠকে দলটির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ করা হয়। এ সময় দেশের বিভিন্ন জায়গার জেলা প্রশাসকরা দলীয় সিদ্ধান্তে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ করেন জামায়াত নেতারা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।

তিনি বলেন, ‘প্রার্থিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তারা (ডিসি) চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছেন। একই ধরনের ঘটনায় এক জায়গায় মনোনয়নপত্র বৈধ করা হচ্ছে, আবার অন্য জায়গায় তা বাতিল করা হচ্ছে।’

মুহাম্মদ তাহের অভিযোগ করে বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিকত্বের ঘটনায় বিএনপির আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং সিলেটের আব্দুল মালেকসহ বেশ কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। অথচ একই ইস্যুতে কুড়িগ্রামের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এক দেশে দুই রকম সিদ্ধান্ত কীভাবে হয়? আমরা এটাকে জানিয়েছি এবং প্রতিবাদ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট মামলার রায়ে তিনজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুইজনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হলেও একই মামলায়, একই কোর্টের রায়ে দণ্ডিত জামায়াতের সিনিয়র নেতা হামিদুর রহমান আজাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় দলীয় মানসিকতাসম্পন্ন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই ডিসিরা আইন নয় বরং দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ডিসিরা নেতিবাচক মানসিকতা থেকে জামায়াত নেতাদের আটকাচ্ছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে এসব দলীয় ডিসি ও এসপিদের প্রত্যাহার করে নিরপেক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে।’

সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই বলে অভিযোগ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচনি মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। একটি দলকে প্রচারণায় ব্যাপক সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো ব্যক্তিকে অনেক প্রটেকশন দেওয়া হচ্ছে। আবার একই ধরনের অন্য নেতাদেরকে সেরকম প্রটেকশন দেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচনের সময় কাউকে অতিরিক্ত প্রটোকল দিলে জনমনে ভুল বার্তা যায়। মানুষ মনে করতে পারে ওই ব্যক্তি বা দল ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসছে, যা ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রভাবিত করে। এটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে একটি দলের পক্ষ থেকে ভিজিএফ কার্ড, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এটি সুস্পষ্টভাবে নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন। ইসিকে এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।’

সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা হিসেবে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়ে মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি থাকা বাধ্যতামূলক বলে আমরা মনে করি। নির্বাচন কমিশন আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে, বিদ্যুৎ সংযোগ নেই এমন দুর্গম এলাকা ছাড়া অন্তত ৯০ ভাগ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিগত ৫৬ বছরে বাংলাদেশে খুব কমই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। আগামী নির্বাচনও যদি অতীতের মতো একতরফা বা কারচুপির মাধ্যমে হয়, তবে বাংলাদেশ অস্তিত্বের সংকটে পড়বে। একটি দল জবরদস্তি করে ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে নির্বাসনে গেছে। এখন অন্য কোনো দল যদি একই কাজ করে, তবে তারাও ভবিষ্যতে নির্বাসনে যাবে। এভাবে চলতে থাকলে দেশে কোনো রাজনৈতিক দলই আর টিকে থাকবে না। দেশের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা করতে হবে।’

তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের এই নায়েবে আমির বলেন, ‘তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক বৈঠক হয়নি। তার মায়ের মৃত্যুতে শোক জানাতে এবং সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য আমরা গিয়েছিলাম। তবে সেখানে দেশের ভবিষ্যৎ ও নির্বাচনের পরেও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

ভারতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াত আমিরের অসুস্থতার সময় ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাঁকে দেখতে এসেছিলেন। এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং তাঁদের অনুরোধেই বিষয়টি তখন প্রকাশ করা হয়নি।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত