স্ট্রিম প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া সুবর্ণা সিকদারকে (ঠাকুর) ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
সুবর্ণা ঠাকুর গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দির হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে তিনি বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় হন। এর আগে তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবেও চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।
এই মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাশিয়ানী বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘যাঁরা দীর্ঘদিন মামলা-হামলা সহ্য করে দলীয় আদর্শ ধরে রেখেছেন, তাঁদের উপেক্ষা করে অন্য দল থেকে আসা কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হতাশাজনক। দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার না করেই মনোনয়ন প্রত্যাশা করাকে আমরা অসম্মানজনক মনে করি।’
তবে দলীয় সিদ্ধান্ত হওয়ায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এই বিষয়ে সুবর্ণা সিকদার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের কমিটিতে অনুমতি না নিয়েই তাঁর নাম রাখা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের কোনো রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না বলেও জানান তিনি।
আওয়ামী-সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করলে তাঁর সহকারী দেবাশীষ বিশ্বাস স্ট্রিমকে বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায়, একটি কমিটি গঠন করতে গেলে দলকে ভারী করার জন্য ঠাকুর পরিবারের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। এটি তারই অংশ ছিল। তিনি পেশায় শিক্ষক এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁকে মাতা হিসেবে সম্বোধন করেন ও ভক্তি করেন।’

মতুয়া ভোটব্যাংককে ঘিরে কৌশল
গোপালগঞ্জের বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুবর্ণা ঠাকুর দলের কোনো পদধারী নেতা না হলেও হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য হওয়ায় মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর একটি প্রভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই বৃহৎ ভোটব্যাংককে আকৃষ্ট করতেই বিএনপি কৌশলগতভাবে তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে।
হিন্দুধর্মীয় মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক, যিনি বাংলার পিছিয়ে পড়া নমঃশূদ্র ও দলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করেছেন। গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দিতে তাঁর জন্ম হয় প্রায় দুই শতাব্দী আগে। পরবর্তীতে তাঁর ছেলে গুরুচাঁদ ঠাকুরের মাধ্যমে মতুয়া মতবাদের বিস্তার ঘটে।
মতুয়া সম্প্রদায়ের দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে তাদের প্রায় আড়াই কোটি অনুসারী রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এই সম্প্রদায়ের একটি উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক রয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে জানা গেছে, হরিচাঁদ ঠাকুরের পরিবারের বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনীতিতে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ রয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জাহাজ, বন্দর ও পানিপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শান্তনু ঠাকুর সংশ্লিষ্ট গোত্রের এবং ঠাকুর পরিবারের ঘনিষ্ঠ। গত বছরের ৮ নভেম্বর ঢাকায় ‘মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য’ একটি হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলনের আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ঠাকুর পরিবার সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাংলাদেশের অন্তত ৬০ শতাংশ হিন্দুর নেতৃত্ব দিচ্ছেন সুবর্ণা ঠাকুর। সুবর্ণার স্বামী পদ্মনাথ ঠাকুর ১৯৯২ সাল থেকে বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপিতে যোগ করেন। তাঁকে প্রধান অতিথি করে রাজধানীতে সর্বপ্রথম মতুয়া সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
রাজনীতি বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আনিসুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, এ ধরনের মনোনয়ন সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ইলেক্টোরাল প্র্যাগমাটিজম’-এর একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, যেখানে আদর্শিক সামঞ্জস্যের তুলনায় ভোটব্যাংকভিত্তিক কৌশল প্রাধান্য পায়। প্রভাবশালী সামাজিক-ধর্মীয় পরিচয়ের ব্যক্তিকে প্রার্থী করা স্বল্পমেয়াদে নির্বাচনী সুবিধা দিলেও, এটি দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি, কর্মীদের মনোবল এবং রাজনৈতিক বার্তার সামঞ্জস্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া সুবর্ণা সিকদারকে (ঠাকুর) ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
সুবর্ণা ঠাকুর গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দির হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে তিনি বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় হন। এর আগে তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবেও চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।
এই মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাশিয়ানী বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘যাঁরা দীর্ঘদিন মামলা-হামলা সহ্য করে দলীয় আদর্শ ধরে রেখেছেন, তাঁদের উপেক্ষা করে অন্য দল থেকে আসা কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হতাশাজনক। দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার না করেই মনোনয়ন প্রত্যাশা করাকে আমরা অসম্মানজনক মনে করি।’
তবে দলীয় সিদ্ধান্ত হওয়ায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এই বিষয়ে সুবর্ণা সিকদার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের কমিটিতে অনুমতি না নিয়েই তাঁর নাম রাখা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের কোনো রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না বলেও জানান তিনি।
আওয়ামী-সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করলে তাঁর সহকারী দেবাশীষ বিশ্বাস স্ট্রিমকে বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায়, একটি কমিটি গঠন করতে গেলে দলকে ভারী করার জন্য ঠাকুর পরিবারের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। এটি তারই অংশ ছিল। তিনি পেশায় শিক্ষক এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁকে মাতা হিসেবে সম্বোধন করেন ও ভক্তি করেন।’

মতুয়া ভোটব্যাংককে ঘিরে কৌশল
গোপালগঞ্জের বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুবর্ণা ঠাকুর দলের কোনো পদধারী নেতা না হলেও হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য হওয়ায় মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর একটি প্রভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই বৃহৎ ভোটব্যাংককে আকৃষ্ট করতেই বিএনপি কৌশলগতভাবে তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে।
হিন্দুধর্মীয় মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক, যিনি বাংলার পিছিয়ে পড়া নমঃশূদ্র ও দলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করেছেন। গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দিতে তাঁর জন্ম হয় প্রায় দুই শতাব্দী আগে। পরবর্তীতে তাঁর ছেলে গুরুচাঁদ ঠাকুরের মাধ্যমে মতুয়া মতবাদের বিস্তার ঘটে।
মতুয়া সম্প্রদায়ের দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে তাদের প্রায় আড়াই কোটি অনুসারী রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এই সম্প্রদায়ের একটি উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক রয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে জানা গেছে, হরিচাঁদ ঠাকুরের পরিবারের বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনীতিতে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ রয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জাহাজ, বন্দর ও পানিপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শান্তনু ঠাকুর সংশ্লিষ্ট গোত্রের এবং ঠাকুর পরিবারের ঘনিষ্ঠ। গত বছরের ৮ নভেম্বর ঢাকায় ‘মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য’ একটি হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলনের আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ঠাকুর পরিবার সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাংলাদেশের অন্তত ৬০ শতাংশ হিন্দুর নেতৃত্ব দিচ্ছেন সুবর্ণা ঠাকুর। সুবর্ণার স্বামী পদ্মনাথ ঠাকুর ১৯৯২ সাল থেকে বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপিতে যোগ করেন। তাঁকে প্রধান অতিথি করে রাজধানীতে সর্বপ্রথম মতুয়া সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
রাজনীতি বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আনিসুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, এ ধরনের মনোনয়ন সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ইলেক্টোরাল প্র্যাগমাটিজম’-এর একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, যেখানে আদর্শিক সামঞ্জস্যের তুলনায় ভোটব্যাংকভিত্তিক কৌশল প্রাধান্য পায়। প্রভাবশালী সামাজিক-ধর্মীয় পরিচয়ের ব্যক্তিকে প্রার্থী করা স্বল্পমেয়াদে নির্বাচনী সুবিধা দিলেও, এটি দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি, কর্মীদের মনোবল এবং রাজনৈতিক বার্তার সামঞ্জস্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

শিশু রামিসা হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
৩৩ মিনিট আগে
আগামী অর্থ বছরের বাজেট যেন কোনো বিশেষ করপোরেট গোষ্ঠী বা লুটেরাদের স্বার্থে না হয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে প্রণয়ন করা হয়, সেই দাবি জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
৩ ঘণ্টা আগে
রাত তিনটায় আদালত বসিয়ে যাকে ইচ্ছা তাকে সাজা দিতে চাওয়ার ইচ্ছা থেকেই বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থাকে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
৪ ঘণ্টা আগে
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
১ দিন আগে