নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত নাটোর-১ আসন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনের ভোটাররা প্রার্থীদের যোগ্যতা, অবদান ও অঙ্গীকারের হিসাব মেলাতে শুরু করেছেন। ১৫টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রধান দাবি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
লালপুরের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কাজের অভাবে যুবকরা ঢাকা চলে যাচ্ছে। এই এলাকার পদ্মার চরে কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে বেকারত্ব দূর হতো।’
নতুন ভোটার রুহুল আমিনের দাবি, আমরা এমন প্রার্থী চাই যারা এখানে বিনিয়োগ আনতে পারবেন। একই দাবি জানিয়ে নাটোর এন এস সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দীলিপ কুমার ভদ্র বলেন, ‘পদ্মার বিস্তীর্ণ চরকে বৃহদায়তন কৃষি বা অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ আছে, যা এই অঞ্চলের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।’
ভোটারদের আরেকটি বড় প্রত্যাশা দেশের অন্যতম বৃহৎ নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলকে ঘিরে। এখানে কেবল চিনি উৎপাদন নয়, বরং শিল্প পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে শিল্পের বহুমুখীকরণ ও উচ্চতর গবেষণার দাবি তুলেছেন তারা।
উষ্ণতম এলাকা হওয়ায় এখানে তাপ সহিষ্ণু ফসল (যেমন- বিনা ধান-১৯, ব্রি ধান-৭১, গম, ভুট্টা, তরমুজ ও ভেষজ) উৎপাদনের জন্য সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ চান কৃষকরা। নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সুব্রত কুমার সরকার বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে চরাঞ্চলে আবাদ কয়েকগুণ বৃদ্ধি সম্ভব।
স্থানীয় ভোটার আব্দুল মজিদ জানান, জেলার অন্য এলাকার তুলনায় বাগাতিপাড়া অবকাঠামোগতভাবে অত্যন্ত অবহেলিত। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই এখানে প্রধান দাবি।
বাগাতিপাড়ার ভোটার মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে এবার স্থানীয় কোনো প্রার্থী নেই। তাই দেখতে হবে লালপুরের কে বাগাতিপাড়ার উন্নয়নে গুরুত্ব দেবেন।’
নির্বাচনি লড়াইয়ে এ আসনে প্রধান তিন প্রার্থী নানামুখী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, ‘নর্থ বেঙ্গল চিনিকল কেন্দ্রিক শিল্প পার্ক স্থাপন এবং পদ্মার চর নিয়ে আমার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। স্বাস্থ্য ও নাগরিক সেবায় দুর্নীতিতে আমার জিরো টলারেন্স থাকবে। আমি সরকারি বরাদ্দগুলো সরাসরি বণ্টনের ব্যবস্থা করব।’
স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘আমার অগ্রাধিকার হবে কর্মসংস্থান তৈরি করা। অতীতে আমার কর্মীরা বঞ্চিত হয়েছে। আমি এমপি হলে কোনো কর্মীকে চাঁদাবাজির মতো নোংরা কাজে লিপ্ত হতে দেব না।’
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জনগণের প্রয়োজনে আমি পাবলিক কমিটি গঠন করব। রাষ্ট্রের দায়িত্ব পেলে বেকারদের কর্মসংস্থান সবার আগে নিশ্চিত করব। ইনসাফের সাথে সরকারি বরাদ্দ বিতরণ করা হবে এবং কোনো চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না।’
নাটোর-১ আসনের ৪ লাখের বেশি ভোটার এখন অপেক্ষায়। ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে তারা এমন একজন প্রতিনিধি বেছে নিতে চান, যিনি পদ্মার চরের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে আধুনিক নাটোর গড়ে তুলবেন।