ওলিউর রহমান

দিনভর অসংখ্য ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা ও হিসাব-নিকাশের মধ্য দিয়ে কাটে আমাদের জীবন। কিন্তু নামাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন মুমিনের সামনে খুলে যায় এক ভিন্ন জগত। যেখানে তিনি একান্তে নিজের প্রতিপালকের সঙ্গে কথোপকথনে দাঁড়ান। সে মুহূর্তে অন্তরের একাগ্রতা, বিনয় ও আল্লাহমুখিতা—এসবই নামাজের প্রকৃত সৌন্দর্য।
কিন্তু বাস্তবতা বলে আমাদের অনেকেরই অভিযোগ হলো, নামাজে দাঁড়ালেই মন ছুটে যায় অন্য কোথাও। কখনো ব্যবসার হিসাব, কখনো অফিসের কাজ, কখনো পারিবারিক দুশ্চিন্তা, আবার কখনো অপ্রয়োজনীয় স্মৃতি বা কল্পনা ইবাদতের একাগ্রতাকে নষ্ট করে দেয়। ফলে নামাজ আদায় হয় ঠিকই, কিন্তু তার আত্মিক প্রশান্তি অনেকাংশে অধরাই থেকে যায়।
অথচ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সফল মুমিনদের প্রথম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাদের ‘নামাজের একাগ্রতা’ তথা খুশু। এ থেকেই বোঝা যায়, খুশু নামাজের একটি অতিরিক্ত সৌন্দর্য নয়। বরং এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
খুশু কী?
খুশু শব্দের অর্থ হলো বিনয়, নম্রতা, একাগ্রতা, মুখাপেক্ষিতা। তবে নামাযে খুশু বলতে কেবল মাথা নিচু করে দাঁড়ানো বা ধীরগতিতে রুকু-সিজদা করাকে বোঝায় না। বরং খুশু হলো হৃদয়ের বিনয়, আল্লাহর মহিমা উপলব্ধি এবং নিজের দাসত্বের গভীর অনুভূতি। যখন অন্তর আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট হয়, তখন শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও সেই বিনয় প্রকাশ পায়। তাই বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ—উভয় দিক মিলেই পূর্ণাঙ্গ খুশু গড়ে ওঠে।
খুশুর সূচনা নামাজের আগেই
অনেকে মনে করেন, তাকবিরে তাহরিমা বলার সঙ্গে সঙ্গেই নামাজে মনোযোগ তৈরি হয়ে যাবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। নামাজের ভেতরে যে একাগ্রতা চাই, তার ভিত্তি তৈরি হয় নামাজের বাইরের জীবনেই।
যে ব্যক্তি সারাদিন আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে থাকেন, চোখ-কান ও জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করেন না, অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততায় ডুবে থাকেন, তার জন্য হঠাৎ করে গভীর খুশু অর্জন করা কঠিন। আবার যিনি সচেতন জীবনযাপন করেন, হারাম থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন, জিকির ও দোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন, তার অন্তর নামাজের জন্য সহজেই প্রস্তুত হয়।
নামাজে খুশু অর্জনের কয়েকটি ধাপ
১. প্রতিটি কাজে খুশু ও সংযমের চর্চা: খুশু কেবল নামাজের ভেতরের একটি গুণ নয়। এটি একজন মুমিনের সার্বিক জীবনের বৈশিষ্ট্য। কথা বলা, চলাফেরা, লেনদেন, দৃষ্টি, আচরণ সব ক্ষেত্রেই বিনয়, সংযম ও আল্লাহ-সচেতনতার অনুশীলন নামাজে গভীর একাগ্রতা অর্জনে সহায়তা করে। যে ব্যক্তি সারাদিন আল্লাহকে স্মরণ রেখে জীবনযাপনের চেষ্টা করেন, তার জন্য নামাজে খুশু অর্জন তুলনামূলক সহজ হয়।
২. উত্তমরূপে অজু করা: অজু কেবল শরীর পরিষ্কার করার মাধ্যম নয়। এটি এক ধরনের মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতিও। ধীরস্থিরভাবে সুন্নত অনুযায়ী অজু করা, অজুর দোয়া পড়া এবং মনে এই অনুভূতি জাগানো যে আমি এখন আমার রবের সামনে দাঁড়াতে যাচ্ছি। এসব বিষয় অন্তরকে নম্র করে। এ কারণেই ইসলামে অজুর প্রতি এত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৩. নামাজে যা পড়ি তার অর্থ বোঝার চেষ্টা: যে কথাগুলো আমরা প্রতিদিন নামাজে পড়ি, সেগুলোর অর্থ জানলে একাগ্রতা অনেক বেড়ে যায়। সূরা ফাতিহার আবেদন, রুকু ও সিজদার তাসবিহ, তাশাহহুদের বাক্য— এসবের অর্থ উপলব্ধি করলে নামাজ শুধু মুখস্থ বাক্য পাঠ নয়, বরং আল্লাহর সঙ্গে এক আন্তরিক সংলাপে পরিণত হয়।
৪. ইহসানের অনুভূতি: ইহসান হলো কোনো ইবাদতকারীর অন্তরে এমন অনুভূতি জাগ্রত হওয়া যে, সে আল্লা হকে দেখছে অথবা অন্তত এই উপলব্ধি রাখা যে, সে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইহসান সম্পর্কে বলেছেন, "তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত কর যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত বিশ্বাস রাখো যে তিনি তোমাকে দেখছেন।"
এই অনুভূতি মানুষের অন্তরে জেগে উঠলে নামাজে অমনোযোগের সুযোগ অনেক কমে যায়। তখন মানুষ বুঝতে পারে সে কোনো আনুষ্ঠানিক কাজ করছে না। বরং মহান রবের দরবারে উপস্থিত রয়েছে।
৫. প্রতিটি নামাজকে জীবনের শেষ নামাজ মনে করা
নামাজে দাঁড়ানোর সময় যদি এই অনুভূতি জাগ্রত হয় যে এটাই হয়তো আমার জীবনের শেষ নামাজ, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই অন্তরে এক ধরনের গভীর একাগ্রতা ও বিনয় সৃষ্টি হয়। তখন তাড়াহুড়ো, উদাসীনতা কিংবা অমনোযোগের পরিবর্তে ইবাদতের প্রতি আন্তরিকতা বাড়ে।
মন ছুটে গেলে কী করবেন?
মন অন্যদিকে চলে যাওয়া মানুষের স্বাভাবিক দুর্বলতা। এজন্য হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং যখনই বুঝবেন মন সরে গেছে, তখনই ধীরে ধীরে সেটিকে আবার কিরাআত, তাসবিহ বা দোয়ার দিকে ফিরিয়ে আনুন। এই চর্চাই ধীরে ধীরে একাগ্রতা বাড়ায়।
শয়তানের অন্যতম কৌশল হলো মানুষকে নামাজে অমনোযোগী করা। তাই মনোযোগ ফিরিয়ে আনার প্রতিটি প্রচেষ্টাও এক ধরনের ইবাদত।
দৈনন্দিন জীবনের প্রভাব
খুশু কেবল মসজিদে অর্জিত হয় না। এটি গড়ে ওঠে ঘর, কর্মক্ষেত্র এবং দৈনন্দিন আচরণের মধ্য দিয়ে। চোখের হেফাজত, হালাল উপার্জন, সত্যবাদিতা, কম কথা বলা এবং নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত—এসব বিষয়ও নামাজে একাগ্রতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
কিছু বাস্তব করণীয়
সময় হওয়ার আগেই নামাজের প্রস্তুতি নেওয়া। ধীরস্থিরভাবে অজু করা। আজান শুনে তার উত্তর দেওয়া। প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা। নামাজের অর্থ ও তাসবিহের মর্ম বোঝা। রুকু ও সিজদায় পর্যাপ্ত সময় নেওয়া। নামাজের আগে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য বিভ্রান্তিকর বিষয় থেকে দূরে থাকা। প্রতিদিন অন্তত একটি নামাজ সম্পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে আদায় করার চেষ্টা করা।
খুশু কোনো অলৌকিক অনুভূতি নয়, আবার এটি কেবল কিছু কৌশল শিখে অর্জন করার বিষয়ও নয়। এটি ঈমান, আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর স্মরণ এবং নিয়মিত অনুশীলনের ফল। যে ব্যক্তি নিজের পুরো জীবনকে আল্লাহমুখী করার চেষ্টা করেন, তার নামাজেও সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যায়।
তাই খুশু অর্জনের প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে একটি সহজ প্রতিটি নামাজকে জীবনের শেষ নামাজ মনে করে আদায় করার চেষ্টা। এই অনুভূতি মানুষকে দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে কিছুক্ষণের জন্য মুক্ত করে মহান রবের সান্নিধ্যে নিয়ে যায়। আর সেখানেই লুকিয়ে আছে নামাজের প্রকৃত প্রশান্তি ও মুমিনের হৃদয়ের আসল শান্তি।

দিনভর অসংখ্য ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা ও হিসাব-নিকাশের মধ্য দিয়ে কাটে আমাদের জীবন। কিন্তু নামাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন মুমিনের সামনে খুলে যায় এক ভিন্ন জগত। যেখানে তিনি একান্তে নিজের প্রতিপালকের সঙ্গে কথোপকথনে দাঁড়ান। সে মুহূর্তে অন্তরের একাগ্রতা, বিনয় ও আল্লাহমুখিতা—এসবই নামাজের প্রকৃত সৌন্দর্য।
কিন্তু বাস্তবতা বলে আমাদের অনেকেরই অভিযোগ হলো, নামাজে দাঁড়ালেই মন ছুটে যায় অন্য কোথাও। কখনো ব্যবসার হিসাব, কখনো অফিসের কাজ, কখনো পারিবারিক দুশ্চিন্তা, আবার কখনো অপ্রয়োজনীয় স্মৃতি বা কল্পনা ইবাদতের একাগ্রতাকে নষ্ট করে দেয়। ফলে নামাজ আদায় হয় ঠিকই, কিন্তু তার আত্মিক প্রশান্তি অনেকাংশে অধরাই থেকে যায়।
অথচ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সফল মুমিনদের প্রথম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাদের ‘নামাজের একাগ্রতা’ তথা খুশু। এ থেকেই বোঝা যায়, খুশু নামাজের একটি অতিরিক্ত সৌন্দর্য নয়। বরং এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
খুশু কী?
খুশু শব্দের অর্থ হলো বিনয়, নম্রতা, একাগ্রতা, মুখাপেক্ষিতা। তবে নামাযে খুশু বলতে কেবল মাথা নিচু করে দাঁড়ানো বা ধীরগতিতে রুকু-সিজদা করাকে বোঝায় না। বরং খুশু হলো হৃদয়ের বিনয়, আল্লাহর মহিমা উপলব্ধি এবং নিজের দাসত্বের গভীর অনুভূতি। যখন অন্তর আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট হয়, তখন শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও সেই বিনয় প্রকাশ পায়। তাই বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ—উভয় দিক মিলেই পূর্ণাঙ্গ খুশু গড়ে ওঠে।
খুশুর সূচনা নামাজের আগেই
অনেকে মনে করেন, তাকবিরে তাহরিমা বলার সঙ্গে সঙ্গেই নামাজে মনোযোগ তৈরি হয়ে যাবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। নামাজের ভেতরে যে একাগ্রতা চাই, তার ভিত্তি তৈরি হয় নামাজের বাইরের জীবনেই।
যে ব্যক্তি সারাদিন আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে থাকেন, চোখ-কান ও জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করেন না, অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততায় ডুবে থাকেন, তার জন্য হঠাৎ করে গভীর খুশু অর্জন করা কঠিন। আবার যিনি সচেতন জীবনযাপন করেন, হারাম থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন, জিকির ও দোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন, তার অন্তর নামাজের জন্য সহজেই প্রস্তুত হয়।
নামাজে খুশু অর্জনের কয়েকটি ধাপ
১. প্রতিটি কাজে খুশু ও সংযমের চর্চা: খুশু কেবল নামাজের ভেতরের একটি গুণ নয়। এটি একজন মুমিনের সার্বিক জীবনের বৈশিষ্ট্য। কথা বলা, চলাফেরা, লেনদেন, দৃষ্টি, আচরণ সব ক্ষেত্রেই বিনয়, সংযম ও আল্লাহ-সচেতনতার অনুশীলন নামাজে গভীর একাগ্রতা অর্জনে সহায়তা করে। যে ব্যক্তি সারাদিন আল্লাহকে স্মরণ রেখে জীবনযাপনের চেষ্টা করেন, তার জন্য নামাজে খুশু অর্জন তুলনামূলক সহজ হয়।
২. উত্তমরূপে অজু করা: অজু কেবল শরীর পরিষ্কার করার মাধ্যম নয়। এটি এক ধরনের মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতিও। ধীরস্থিরভাবে সুন্নত অনুযায়ী অজু করা, অজুর দোয়া পড়া এবং মনে এই অনুভূতি জাগানো যে আমি এখন আমার রবের সামনে দাঁড়াতে যাচ্ছি। এসব বিষয় অন্তরকে নম্র করে। এ কারণেই ইসলামে অজুর প্রতি এত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৩. নামাজে যা পড়ি তার অর্থ বোঝার চেষ্টা: যে কথাগুলো আমরা প্রতিদিন নামাজে পড়ি, সেগুলোর অর্থ জানলে একাগ্রতা অনেক বেড়ে যায়। সূরা ফাতিহার আবেদন, রুকু ও সিজদার তাসবিহ, তাশাহহুদের বাক্য— এসবের অর্থ উপলব্ধি করলে নামাজ শুধু মুখস্থ বাক্য পাঠ নয়, বরং আল্লাহর সঙ্গে এক আন্তরিক সংলাপে পরিণত হয়।
৪. ইহসানের অনুভূতি: ইহসান হলো কোনো ইবাদতকারীর অন্তরে এমন অনুভূতি জাগ্রত হওয়া যে, সে আল্লা হকে দেখছে অথবা অন্তত এই উপলব্ধি রাখা যে, সে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইহসান সম্পর্কে বলেছেন, "তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত কর যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত বিশ্বাস রাখো যে তিনি তোমাকে দেখছেন।"
এই অনুভূতি মানুষের অন্তরে জেগে উঠলে নামাজে অমনোযোগের সুযোগ অনেক কমে যায়। তখন মানুষ বুঝতে পারে সে কোনো আনুষ্ঠানিক কাজ করছে না। বরং মহান রবের দরবারে উপস্থিত রয়েছে।
৫. প্রতিটি নামাজকে জীবনের শেষ নামাজ মনে করা
নামাজে দাঁড়ানোর সময় যদি এই অনুভূতি জাগ্রত হয় যে এটাই হয়তো আমার জীবনের শেষ নামাজ, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই অন্তরে এক ধরনের গভীর একাগ্রতা ও বিনয় সৃষ্টি হয়। তখন তাড়াহুড়ো, উদাসীনতা কিংবা অমনোযোগের পরিবর্তে ইবাদতের প্রতি আন্তরিকতা বাড়ে।
মন ছুটে গেলে কী করবেন?
মন অন্যদিকে চলে যাওয়া মানুষের স্বাভাবিক দুর্বলতা। এজন্য হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং যখনই বুঝবেন মন সরে গেছে, তখনই ধীরে ধীরে সেটিকে আবার কিরাআত, তাসবিহ বা দোয়ার দিকে ফিরিয়ে আনুন। এই চর্চাই ধীরে ধীরে একাগ্রতা বাড়ায়।
শয়তানের অন্যতম কৌশল হলো মানুষকে নামাজে অমনোযোগী করা। তাই মনোযোগ ফিরিয়ে আনার প্রতিটি প্রচেষ্টাও এক ধরনের ইবাদত।
দৈনন্দিন জীবনের প্রভাব
খুশু কেবল মসজিদে অর্জিত হয় না। এটি গড়ে ওঠে ঘর, কর্মক্ষেত্র এবং দৈনন্দিন আচরণের মধ্য দিয়ে। চোখের হেফাজত, হালাল উপার্জন, সত্যবাদিতা, কম কথা বলা এবং নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত—এসব বিষয়ও নামাজে একাগ্রতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
কিছু বাস্তব করণীয়
সময় হওয়ার আগেই নামাজের প্রস্তুতি নেওয়া। ধীরস্থিরভাবে অজু করা। আজান শুনে তার উত্তর দেওয়া। প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা। নামাজের অর্থ ও তাসবিহের মর্ম বোঝা। রুকু ও সিজদায় পর্যাপ্ত সময় নেওয়া। নামাজের আগে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য বিভ্রান্তিকর বিষয় থেকে দূরে থাকা। প্রতিদিন অন্তত একটি নামাজ সম্পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে আদায় করার চেষ্টা করা।
খুশু কোনো অলৌকিক অনুভূতি নয়, আবার এটি কেবল কিছু কৌশল শিখে অর্জন করার বিষয়ও নয়। এটি ঈমান, আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর স্মরণ এবং নিয়মিত অনুশীলনের ফল। যে ব্যক্তি নিজের পুরো জীবনকে আল্লাহমুখী করার চেষ্টা করেন, তার নামাজেও সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যায়।
তাই খুশু অর্জনের প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে একটি সহজ প্রতিটি নামাজকে জীবনের শেষ নামাজ মনে করে আদায় করার চেষ্টা। এই অনুভূতি মানুষকে দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে কিছুক্ষণের জন্য মুক্ত করে মহান রবের সান্নিধ্যে নিয়ে যায়। আর সেখানেই লুকিয়ে আছে নামাজের প্রকৃত প্রশান্তি ও মুমিনের হৃদয়ের আসল শান্তি।
.png)

উপমহাদেশে মুসলিম পুনর্জাগরণের অন্যতম রূপকার ছিলেন শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী। খ্রিস্টীয় আঠারো শতকের চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক দুর্যোগের সময়ে ভারতীয় মুসলমানদের চিন্তা, শিক্ষা ও নৈতিক সংস্কারে তিনি এক যুগান্তকারী বিপ্লব সাধন করেন।
২৪ জুলাই ২০২৬
সমরকন্দ মুসলিম জ্ঞানসভ্যতার ইতিহাসে এক কিংবদন্তি নাম। শতাব্দীর পর শতাব্দী এই নগরী ছিল জ্ঞান, সভ্যতা ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল কেন্দ্র। বিশাল মাদরাসার প্রাঙ্গণে প্রতিধ্বনিত হতো কুরআন ও হাদিসের দরস, খানকাগুলো মুখর থাকত আধ্যাত্মিক সাধনায়,
১৭ জুলাই ২০২৬
১৯৯৫ সালের ১১ জুলাই ছিল বসনিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দিন। তিন বছর ধরে চলা গণহত্যা এ দিনে সকল সীমা অতিক্রম করেছিল। দেশটির সেব্রেনিৎসা শহরে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৮ হাজারের বেশি মানুষ হত্যা করা হয়েছিল ১১ জুলাই। গতকাল ছিল সেব্রেনিৎসা গণহত্যার ৩১তম বার্ষিকী।
১২ জুলাই ২০২৬
গোটা আব্বাসী খেলাফতজুড়েই ছোট-বড় অনেক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আব্বাসী খলীফাগণ শিক্ষা প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তবে ছত্রিশতম আব্বাসী খলিফা মুস্তানসির বিল্লাহ ছিলেন এ ক্ষেত্রে প্রবাদতুল্য ব্যক্তিত্ব।
০৩ জুলাই ২০২৬