স্ট্রিম ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তেলের দাম বেড়ে নতুন করে জ্বালানি-সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করায় বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এর প্রভাবে জাপানের নিক্কেই সূচক ৩.৫ শতাংশ কমে বন্ধ হয়েছে। লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক ১.৯ শতাংশ কমেছে। অপর দিকে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়াও এই পরিস্থিতিতে বড় ধাক্কা খেয়েছে। দেশটির কোস্পি সূচক একদিনেই ৬.৫ শতাংশ কমে গেছে, যা জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতার প্রভাবকে স্পষ্ট করেছে।
ইউরোপীয় বাজারেও পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। জার্মানির ডিএএক্স ও ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচক প্রায় ২ শতাংশ করে কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্থিরতার মূল কারণ হলো হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাধা সৃষ্টি করেছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবহন হয়।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এর জবাবে ইরান জানায়, তাদের স্থাপনায় হামলা হলে পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্বালানিসংকটে পরিণত হতে পারে। তিনি বলেন, এটি ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকট এবং ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকটের সম্মিলিত প্রভাবের মতো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে যদি হুমকিগুলো বাস্তবে রূপ নেয়। জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষক সাইমন ফ্লাওয়ার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে সংঘাত আরও তীব্র হবে এবং পাল্টাপাল্টি আক্রমণ বাড়বে।
এদিকে বৈশ্বিক তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দামও ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি বিল বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বছরের শেষের দিকে গৃহস্থালি জ্বালানি খরচ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকার জরুরি বৈঠক ডেকেছে, যেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হবে।
অন্যদিকে স্বর্ণবাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। সাধারণত সংকটের সময় স্বর্ণের চাহিদা বাড়লেও এবার তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্বর্ণের দাম চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার ফলে সুদের হার বাড়তে পারে। এতে স্বর্ণ বিনিয়োগ কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা অন্যান্য খাতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে স্বর্ণ বিক্রি করছেন এবং ডলারের মূল্য বাড়ায় স্বর্ণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে গভীর প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তেলের দাম বেড়ে নতুন করে জ্বালানি-সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করায় বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এর প্রভাবে জাপানের নিক্কেই সূচক ৩.৫ শতাংশ কমে বন্ধ হয়েছে। লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক ১.৯ শতাংশ কমেছে। অপর দিকে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়াও এই পরিস্থিতিতে বড় ধাক্কা খেয়েছে। দেশটির কোস্পি সূচক একদিনেই ৬.৫ শতাংশ কমে গেছে, যা জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতার প্রভাবকে স্পষ্ট করেছে।
ইউরোপীয় বাজারেও পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। জার্মানির ডিএএক্স ও ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচক প্রায় ২ শতাংশ করে কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্থিরতার মূল কারণ হলো হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাধা সৃষ্টি করেছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবহন হয়।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এর জবাবে ইরান জানায়, তাদের স্থাপনায় হামলা হলে পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্বালানিসংকটে পরিণত হতে পারে। তিনি বলেন, এটি ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকট এবং ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকটের সম্মিলিত প্রভাবের মতো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে যদি হুমকিগুলো বাস্তবে রূপ নেয়। জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষক সাইমন ফ্লাওয়ার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে সংঘাত আরও তীব্র হবে এবং পাল্টাপাল্টি আক্রমণ বাড়বে।
এদিকে বৈশ্বিক তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দামও ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি বিল বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বছরের শেষের দিকে গৃহস্থালি জ্বালানি খরচ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকার জরুরি বৈঠক ডেকেছে, যেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হবে।
অন্যদিকে স্বর্ণবাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। সাধারণত সংকটের সময় স্বর্ণের চাহিদা বাড়লেও এবার তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্বর্ণের দাম চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার ফলে সুদের হার বাড়তে পারে। এতে স্বর্ণ বিনিয়োগ কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা অন্যান্য খাতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে স্বর্ণ বিক্রি করছেন এবং ডলারের মূল্য বাড়ায় স্বর্ণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে গভীর প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ঋণচুক্তির আওতায় যেসব শর্ত দিচ্ছে, তা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য যথোপযুক্ত (সুইটেবল) নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সরকার আইএমএফের সব কথা মানতে পারবে না।
৯ ঘণ্টা আগে
ক্রেতার কাছে ব্যাগ বিক্রি করে সাত মাসে প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা আয় হয়েছে বলে জানিয়েছে আড়ং। মুনাফায় যুক্ত না করে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ এই অর্থ পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়নভিত্তিক তিনটি প্রকল্পে ব্যয় করার কথা জানিয়েছেন।
১ দিন আগে
বাংলাদেশে তুর্কি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন।
২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমলেও দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নীতির কারণে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় মূলত বাংলাদেশ উপরে উঠেছে। আর বাজারে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম।
২ দিন আগে