জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

চাঁদাবাজি অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী: ডিসিসিআই

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ৫৬
‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবগঠিত সরকারের নিকট ডিসিসিআইর প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ সুদ, ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি এবং জ্বালানি অনিশ্চয়তাকে দেশের অর্থনীতির জন্য ‘আত্মঘাতী’ বলে অভিহিত করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আর্থিক খাত, জ্বালানি, শিল্পায়ন, এলডিসি উত্তরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত দাবি তুলে ধরা হয়।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, অপরিবর্তিত পলিসি রেটের প্রভাবে ব্যবসায়ীদের ১৬-১৭ শতাংশ সুদে ব্যাংক ঋণ নিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের উচ্চহার ও ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৩ মাসে আনার সিদ্ধান্ত শিল্পখাতে চরম চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে উদ্যোক্তাদের নগদ প্রবাহ সংকুচিত হচ্ছে এবং বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। তিনি নতুন সরকারের প্রতি অসহনীয় চাঁদাবাজি দমন ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

জ্বালানি সংকট নিয়ে ডিসিসিআই সভাপতি জানান, শিল্পকারখানায় চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ নেই। অথচ নতুন শিল্প ও শিল্পকারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম প্রতি ইউনিটে ৪০ ও ৪২ টাকা বাড়ানো হয়েছে, যা উৎপাদনকে ব্যাহত করছে। এতে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও কঠিন হয়ে পড়ছে। শিল্পনীতি বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতার অভাব ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা সৃষ্টি করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয়করণ (অটোমেশন) না থাকায় ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি সরঞ্জাম ব্যয় বৃদ্ধি ও বন্দরসেবার চার্জ গড়ে ৪১ শতাংশ বাড়ানোয় ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সেবার মূল্য বাড়ানোর ফলে আমদানি-রপ্তানি খরচ বেড়েছে। এতে মূল্যস্ফীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, এ প্রক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। তাই বৈশ্বিক অস্থিরতা বিবেচনায় অন্তত তিন বছর এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত সুবিধার নিশ্চয়তা না থাকায় এ বিষয়ে পুনরায় আলোচনার দাবি জানান তিনি।

তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিসিসিআই সভাপতি জানান, দেশে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষিত তরুণ বেকার। তাঁদের জন্য উদ্যোক্তা সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি ও স্টার্ট-আপ খাতে সহজ শর্তে ঋণ নিশ্চিত করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআই’র ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মানসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত