জ্বালানি নিরাপত্তায় নবায়নযোগ্য শক্তির বিকল্প নেই: সিপিডি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৮: ৪৭
রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত হল ‘চতুর্থ বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরাম’। সংগৃহীত ছবি

দেশের জ্বালানি সংকট দূর করতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘চতুর্থ বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরাম’-এ এই প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বৈশ্বিক অর্থনীতি এখন অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই জ্বালানি নিরাপত্তায় নবায়নযোগ্য শক্তির কোনো বিকল্প নেই।

ফোরামে জানানো হয়, সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগের বড় অংশ সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। তবে বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চুক্তিগুলোতে কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। এর ফলে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারীর মধ্যে আস্থার সংকট কাজ করছে।

সিপিডি জানায়, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অর্ধেকের বেশি বিনিয়োগ চীনের। তাই বাংলাদেশ-চীন পারস্পরিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানো সময়ের দাবি। চীনের উন্নত ব্যাটারি ও সৌর প্রযুক্তি দেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি ৩১টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমতি বাতিল হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নেতিবাচক বার্তা পেয়েছেন। এর ফলে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

সিপিডি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অর্থ প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে বিশেষ ঋণপত্র চালুর পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতিতে দ্রুত কর ও শুল্ক ছাড় দেওয়া জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে বিশেষ অর্থায়ন তহবিল গঠন করার পরামর্শ দেয় তারা। সিপিডি আরও প্রস্তাব করেছে, অকেজো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জমি সৌর প্রকল্পের জন্য ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেয় তারা।

সিপিডি মনে করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয় নয়, বরং সরাসরি দেশের শিল্প ও রপ্তানি সক্ষমতার সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ থাকলে দ্রুত এই পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। ফোরামে চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সম্পর্কিত